৮ মে, ২০১৬

নবীজির বিরুদ্ধে কয়েকটি অপপ্রচার

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

মহানবী (সঃ) ১৩ বিয়ে করেছিলেন, এটি একটি বানোয়াট কথা। তিনি মাত্র একটা বিয়েই করেছিলেন। সেটা হল খাদিজা (রাঃ)-কে বিয়ে। বাকি সব বিয়ের কথাই আসলে অপপ্রচার। নবী খাদিজাকে বিয়ে করেন তারপর খাদিজার মৃত্যুর পর বিপত্নীক জীবন যাপন করেন। 

হ্যাঁ, অনেক সীরাত গ্রন্থে তার ১৩ বিয়ের কথা আছে, এগুলো সবই ইহুদিদের টাকা খেয়ে লেখা। 

আমাদের নবী ছয় বছর বয়সী আয়েশাকে বিয়ে করেছেন বলে যে-গুজব ছড়ানো হয়, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নাস্তিকরা এসব বানিয়ে বানিয়ে লেখে। নবীজি আয়েশা নামের কাউকে বিয়ে করেননি। 

তারপর ধরুন যয়নবের কথা। বলা হয় যে, মুহম্মদ তার পালকপুত্র যায়েদের স্ত্রীকে দেখে পছন্দ করে ফেলে। যায়েদ এটা জেনে স্ত্রীকে তালাক দেয়, যাতে মুহম্মদ বিয়ে করতে পারেন। এই যে এই গল্পটাও আসলে বানোয়াট। এসব গল্প নাস্তিকরা বানায়। তারা গোপনে স্কাইপ-মিটিংয়ে মিলিত হয়ে এসব গল্প বানিয়ে নবীর জীবনী বলে প্রচার করে। নবীজি কখনোই এসব করেননি।

তারপর ধরুন রায়হানার কথা। ইহুদিদের টাকা খেয়ে মুসলিম স্কলাররা লিখে গেছে যে, রায়হানার স্বামী, পিতা আর ভাইকে মুহম্মদ খুন করে রায়হানাকে বিয়ে করেছিলেন। খুব হাস্যকর অভিযোগ। আরে ভাই, বইয়ে লিখা থাকলেই কি সব সত্যি হয়ে যায়? বিএনপির আমলে স্কুলের বইয়ে লেখা ছিল জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক। তাই বলে কি এটাই সত্য হয়ে গেল? রায়হানা নামের কাউকেও নবীজি বিয়ে করেননি। হাদিসে আছে, সীরাতে আছে, তো কী হয়েছে? এসব সীরাত-টিরাত নাস্তিকদের ষড়যন্ত্রে লেখা।

তারপর ধরুন দাসী মারিয়া কিবতিয়ার কথা। তাকে নাকি সওদা (রাঃ) নবীজির সাথে ইয়ে করতে দেখে ফেলেছিলেন। তারপর তিনি সেটা সবাইকে বলে দেন। এটাও বাজে কথা। মূর্খরা এসব বলে। আরে বাবা, প্রিয় নবীর ঘরে সওদা কোথা থেকে আসবেন? সওদা আবার কে? মুর্খরা বলে সওদা নাকি ১৩ স্ত্রীর একজন। আরে মুর্খ নাস্তিক, নবী তো বিয়েই করেছেন একটা। খাদিজা ছাড়া তার আর কোনো বউই ছিল না, সেখানে সওদা আবার কে! যত্তসব বোকার মত কথা!

নাস্তিকদের এসব অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। নবীজি কোন ৬ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করেননি, মারিয়া নামের কারো সাথে বা সওদা নামের কারো সাথে বিছানায় লীলা করেননি, রায়হানা নামের কারো বাপ-ভাই-স্বামীকে খুন করে তাকে বিয়ে করেননি।

তার ব্যাপারে যারা এসব প্রচার করে, তারা মিথ্যুক। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তির ধর্মে যারা কালিমা লেপন করে, তাদের প্রকাশ্য শিরোশ্ছেদ করার দাবি জানাই।