১১ মে, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ১৫

লিখেছেন পুতুল হক

৫৬.
আমরা সবাই কমবেশি জানি যে, মোহাম্মদকে নবুয়তির পূর্বে 'আল-আমীন' ডাকা হত। নবী হবার আগ পর্যন্ত তিনি মিথ্যা কথা বলতেন না, আমানতের খেয়ানত করতেন না, চুরি করতেন না, অন্য কোোন খারাপ কাজ করতেন না। তখন তিনি ছিলেন নিঃসঙ্গ, দুর্বল। এতো ভালো একজন মানুষ হবার পরেও তিনি তখন নেতা হতে পারেননি। তাঁর বয়স চল্লিশ পেরলে তিনি মিথ্যা বলতে শুরু করলেন, খুনোখুনি শুরু করলেন, অন্যের সম্পদ জোর করে দখল করা শুরু করলেন। তখন তাঁকে নবী ডাকা শুরু হল। তিনি হলেন পৃথিবীর নেতা।

৫৭.
যাঁরা বিদ্বান হিন্দু, তাঁরা 'হিন্দুধর্ম' বলেন না, বলেন 'সনাতন সংস্কৃতি।' হিন্দুধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলো সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আছে বলেই ইজ্জত বাঁচাতে এই পন্থার অবলম্বন। মুসলমানরা যেমন বলে: জঙ্গিবাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। সব ভণ্ড!

৫৮.
সৌদি আরবের পুরুষের অনেক কুরুচি বিকৃত মানসিকতার কথা শোনা যায়। সেখানকার মেয়েরা এখনো মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। তবে তাঁদের মধ্যেও বিকৃতি একেবারে কম নেই। যে কারণেই হোক কিংবা যেভাবেই হোক, তাঁরা নষ্ট সৌদি সমাজের অর্ধাংশ। 'হিজাব' সৌদি সংস্কৃতির একটি প্রতীক। আমি হাজারবার বলেছি, লক্ষবার বলবো - হিজাব আমাদের পোশাক নয়। ধর্মের কারণে কেউ যদি মাথার চুল ঢেকে রাখতে চায়ও, তা সে দেশীয় পদ্ধতিতে করতে পারে। সৌদি নারীদের অনুকরণের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা পশুপালক যাযাবর বেদুঈন নই। আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। আমাদের ফলবান বৃক্ষ রসালো ফল দেয়। আমাদের পূর্বপুরুষ তলোয়ার ছুঁয়ে দেখেনি। জারিসারি, ভাটিয়ালি, বাউল, কীর্তন, যাত্রাপালা আমাদের রক্তে মিশে আছে। আমরা কাউকে পাঁথর ছুঁড়ে খুন করতে পারি না। দিনান্তে গরম ভাতের সাথে একটুখানি তরকারি না হলে আমাদের চলে না। শীতে আমের গাছে মুকুল এলো কি না, বর্ষায় কদম গাছের খোঁজে তৃষ্ণার্ত চোখে এদিক ওদিক ঘোরা, হঠাৎ কৃষ্ণচুড়ার দিকে চোখ পড়তেই বসন্তের কথা মনে পড়া - এই হলাম আমরা। আমরাই পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, চৈত্রসংক্রান্তি, ভাপা পিঠা, খেজুরের রস, নাড়ু-বাতাসা। অন্যের পোশাক ধার করবার প্রয়োজন আমাদের নেই। আমাদের নিজস্ব পোশাক আছে।

৫৯.
যাকাতের টাকা তুলে, রাস্তায়-রাস্তায় ভিক্ষা করে, মসজিদে চাঁদাবাজি করে টাকা তুলে মসজিদ নির্মাণ করা হয় সেই মসজিদ থেকে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করার জন্য।

৬০.
অনেক সময় মসজিদে গ্রেনেড হামলার খবর প্রথমে শুনে ভেবেছিলাম একটা বুঝি ধামাকা লাগলো, জুম্মাবার শানদার হয়ে উঠলো। কিন্তু কখনও কখনও... এ কী? আত্মঘাতী হামলাকারী মুমিন নাকি মরেনি! ওদিকে... 

বাহাত্তুর হুর কাঁদতে কাঁদতে বুক ভাসায়, মুমিন তুমি আসলা না। 
গেলমানের সরু কোমর মোচড় খায়, মুমিন তুমি আসলা না। 
নবী করিম সাল্লাহুওয়ালাইহিওয়াসসালাম কপাল কুঁচকে ভাবে, সব গ্রেনেড ফাটলো, শুধু মুমিন তুমি ফাটলা না। 
রাগে আল্লাহর আরশ কাঁপে থরথর, মুমিন তুমি পারলা না। 

আমি বলি কি, আপনারা মাইন্ড করবেন না। এটাও ইহুদি-নাসারার ষড়যন্ত্র। ওদের দুর্বল ট্রেইনিং-এর কারণে মুমিন নিজে মরতে পারলো না। চিন্তাইয়েন না। মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী। গাজী ভাই নিশ্চয়ই পরেরবার সফল হবে এনশাল্লাহ।