১৮ এপ্রিল, ২০১৬

দেশে কোনো জঙ্গি নাই

লিখেছেন ইমরান মন্ডল

আইসিস-এর বাংলাদেশের প্রধান আবু ইব্রাহীম আল হানিফ এদেশে আইসিস-এর ঘাঁটি গড়ার আশা প্রকাশ করেছে আর নাস্তিক-মুরতাদদের হুমকি দিয়ে বলেছে, "নাস্তিক-মুরতাদদের গলা কাটার জন্য আমাদের সৈন্যরা চাকু ধার দিচ্ছে।" এদের লক্ষ্য - বাংলাদেশে শক্ত ঘাঁটি গড়ে ভারত, মায়ানমারে ইসলাম প্রচার করা এবং মুসলিম হত্যা-নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়া।

নাস্তিক, মুক্তমনা হত্যার পরে কথিত এই আইসিস হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আসছে বিগত কয়েক বছর ধরে। আর ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার চেতনায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নাস্তিক ব্লগার হত্যা হলে কথিত আইসিস-এর মত নিজেও একটা বিবৃতি দিতেন। তিনি বলতেন, "দেশে কোন জঙ্গি নেই।"

নাস্তিক হত্যার পর এই একই বাক্য আমাদের দেশের নেতা-মন্ত্রীরাও আওড়াতো। এদের অনেকেই আবার নাস্তিক হত্যার জন্য নাস্তিককেই দায়ী করত, যেন লেখালেখির কারণে কাউকে হত্যা করা যায়েজ। যদিও আইসিস প্রতিটি হত্যার পর দায় সময় স্বীকার করে নিয়েছে, তবুও দেশে কোনো জঙ্গি নেই এবং হত্যার সঠিক তদন্ত হয় না। বিচারও হয় না! বরং এতে বিরোধী দলের চক্রান্তের গন্ধ খুঁজে পায়। পায় ক্ষমতা হারানোর গন্ধ। 

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সহজ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি লেখালেখির কারণে কেউ নিহত হয়, তাহলে তার দায় সরকার নেবে না। বর্তমানে সরকার হেফাজত ইসলাম, জামাত ইসলামের কাছে বন্দী। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আওয়ামি লীগ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে, সাধারণ মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগ নিচ্ছে। 

এর ফলে বাড়ছে সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্ষণ ব্যাপকভাবে। শেখা হাসিনা হয়তো ভুলে গেছেন যে, ইসলাম শুধু একটা ধর্ম নয়, একটা রাজনৈতিক আদর্শ। বহির্বিশ্বে তাকালেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আলকায়দা, আইসিস, বোকো হারাম এরা প্রতিনিয়ত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে যাচ্ছে। আর তার মূলে রয়েছে ইসলামিক আদর্শ, কোরান-হাদিসে যা স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা আছে। মোহাম্মাদের প্রচারিত ইসলাম ধর্মে আজীবন জিহাদ করার কথা উল্লেখ আছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হয়তো ভুলে গেছেন ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার কথা, নারী নেতৃত্ব হারাম ফতোয়া দিয়ে আপনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টার কথা। আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল কারা? ইসলামের অনুসারী, ইসলামিক আদর্শের লোকরা। আর এখন মুক্তমনা নাস্তিকরা আপনার শত্রু। এদের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না, মৃত্যুর দায় নিতে পারবেন না। এদের লেখা আপনার অনুভূতিতে আঘাত করে। 

আপনার বক্তব্য নাস্তিকহত্যাকে বৈধতা দেয়। প্রশয় দেয় ইছলামী জঙ্গিবাদকে। আর তাই এখন আইসিস-এর মত বিশ্বসন্ত্রাসীদের দল দেশে ঘাটি গড়তে চায়। আপনার সাথে গলা মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করে: "মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই, দেশে কোনো জঙ্গি নাই।"