৮ এপ্রিল, ২০১৬

বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি

রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইছলাম গ্রহণ করতে গিয়ে প্রকারান্তরে ধর্মনিরপেক্ষতা নামের মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিকে খৎনা করে ত্যাগ করেছে যে-ভূখণ্ডটি, যে-বদ্বীপ এখন আবৃত মদিনা সনদের নিবিড় আলিঙ্গনে, সেই রাষ্ট্রের কাছে নাস্তিক-মুরতাদ-কাফেরহত্যার মতো হালাল, ফরজ ও সুন্নত বিষয়ে কৈফিয়ত চাওয়াটাই তো ধৃষ্টতা!

বাংলাস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তা স্পষ্টভাবেই প্রকাশ করেছেন। নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "ব্লগে আপত্তিজনক লেখা লিখেছে কি না, তা দেখার প্রয়োজন আছে।" অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডটি ইছলামী মতে যায়েজ হয়ে থাকলে তা গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচনাযোগ্য ঘটনা নয়। হক কথা। ইছলামের নবীর সমালোচনাকারীদের হত্যার কয়েকটি সুন্নতী নিদর্শনের কথা তো আমরা জানিই:

১. নবী ও তার অনুসারীদের আগ্রাসী নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মৌখিক প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছিলেন বলে ১২০ বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ ইহুদী কবি আবু আফাককে নবীর আদেশে হত্যা করে তার অনুসারীরা।

২. আবু আফাক-কে হত্যার পর আসমা-বিনতে মারওয়ান তাঁর বিদ্বেষ প্রকাশ করলে নবীর নির্দেশে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত নিরস্ত্র এই জননীকে নৃশংসভাবে খুন করে নবীজির এক চ্যালা। ঘাতক যখন এই জননীকে খুন করে, তখন এই হতভাগা মা তাঁর এক সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যুষে খুনী তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর সাথে একত্রে সকালের নামাজ (ফজর) আদায় করে।

৩. কাব বিন আল-আশরাফ নামের এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাজের নিন্দা করা শুরু করেন ও বদর যুদ্ধে যাদেরকে খুন করার পর লাশগুলো গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন কবিতা আবৃতির মাধ্যমে। তাঁকেও নির্দয়ভাবে খুন করে নবীর উম্মতেরা

এছাড়া কাফের হত্যার স্পষ্ট আদেশ দেয়া আছে কোরানেই (২:১৯১, ৫:৩৩, ৮:১২ ইত্যাদি); অতএব তা ফরজও বটে। আর তাই ইছলামী দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভুল কিছু বলেননি।
আপত্তিকর লেখা লিখলেই কি হত্যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে? এই প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
"আমি সে কথা বলতে চাইনি...আগের যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে তাদের ব্লগ যদি দেখেন, এভাবে মানুষের ধর্মে আঘাত দেওয়া, বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া, পৃথিবীর কোনো দেশেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।"
পৃথিবীর কোনো দেশেই? সত্যি?... যাই হোক, মানুষের অজ্ঞতায় হাসতে নেই। তিনি তো স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রী, পর রাষ্ট্রগুলোর খবর রাখতে তিনি বাধ্য নন নিশ্চয়ই। আর তাছাড়া এই দেশটিকে নিয়ে গর্ব করার নতুন একটি উপাদান আবির্ভূত হয়েছে তো: