২৯ এপ্রিল, ২০১৬

যৌনজ্বরাক্রান্ত ইসলাম

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করা বৈধ। ক্রীতদাসী হইল কিনে আনা দাসী। আগের যুগে বাজারে দাস-দাসী বেচাকেনা হইত। দাসদের দিয়ে কামলা খাটাত আর দাসীদের সাথে সেক্স করত। অবশ্য এই প্রথা ইসলাম আনে নাই। ইসলামের আগেও ছিল, আরব ছাড়াও অন্য অঞ্চলেও ছিল। ইসলাম এই জিনিসটার স্বীকৃতি আর বৈধতা দিয়েছে মাত্র। এখন আইএস-এর হাত ধরে ক্রীতদাসী প্রথা আবার আসছে।

ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করতে হলে আপনার তাকে বিয়াও করতে হবে না। অনেক মুমিনেরই বক্তব্য - ক্রীতদাসীকে নাকি বিয়ে করতে হয়। ফিকহের বইগুলা বলে অন্য কথা। নিশ্চিত হবার জন্য ফিকহের উপর নন্দিত গ্রন্থ মালাবুদ্দা মিনহু (লেখক সানাউল্লাহ পানিপথী) দেখতে পারেন।

একজন পুরুষ কয়টা দাসী (দাসী মানেই যৌনদাসী) রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে শান্তির ধর্মের কোনো বিধি-নিষেধ নাই। আপনি চাইলে হাজার জন, লক্ষ জন, কোটিজন রাখতে পারবেন। আল্লাহ আনলিমিটেড দাসী রাখার বৈধতা দিয়েছেন। 

ইসলাম ধর্মে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণও বৈধ। মুসলিমরা অবশ্য ইসলামের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবার ডরে ধর্ষণ শব্দটি এড়িয়ে যান। কয়দিন আগে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিপোক্রিসির বাইরে এসে সত্যটা বলে দিছিল, যেটা আমরা মিডিয়া মারফতে দেখেছি।

ধরেন, শফি হুজুর তার হেফাজতি কর্মীদের নিয়া বলিউড এটাক দিল। বলিউডের পতন হল। এখন সেখানকার নায়িকারা সব শফি হুজুর আর তার সৈন্যদের দাসী হয়ে যাবে। আর উপরেই বলেছি, ইসলামে দাসী সহবত হালাল। এখানে দাসী মানেই যৌনদাসী। তো এখন ধরেন, ক্যাটরিনা কাইফ শফি হুজুরের ভাগে পড়ল। আপনার কী মনে হয়, ক্যাটরিনা খুশি মনে হুজুরের লগে সেক্স করবে? নাকি পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে? এইটা কি ধর্ষণ না? আপনার কমন সেন্স কী বলে?

পাক আর্মি আমাদের মেয়েদের উপর হামলে পড়েছিল কেন, গেস করতে পারলেন? প্রিয় নবী বনু কুরাইজার নারীদের দাসী বানিয়েছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। (দেখুন সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া- মাওলানা মুশতাক, বিশ্বনবী- গোলাম মোস্তফা)

ইসলামে শিশুকামিতাও বৈধ। এই কুসংস্কার থেকেও নবীজি বেরোতে পারেন নাই। আয়েশাকে যখন বিয়ে করেন, আয়েশা তখন ৬, যখন আয়েশাকে ঘরে আনেন, আয়েশা তখন ৯! অবশ্য জাকির নায়েকসহ আজকালকার অনেক ডিজিটাল মুমিনরা আয়েশার বয়স ১৪/১৬ ছিল বলে দাবি করেন। তবে তাঁরা এড়িয়ে যান যে, আয়েশার বয়স যাই থাউক, ইসলামে শিশুদের বিয়ে করিয়ে দেয়ার বৈধতা আছে। আর তাই সামনে পড়লে মুমিনরা এটা অস্বীকারও করেন না। অস্বীকার করার উপায়ও তাদের নাই। তাই এখন তারা আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক তত্ত্বকে কাচকলা দেখায়ে বাল্যবিয়ে যে কতটা সায়েন্টিফিক, সেই উদ্ভট জিনিস প্রতিষ্ঠা করার ধান্দা করেন।

ইসলামে পুরুষের জন্য আনলিমিটেড বিয়েও বৈধ। ভ্রু কুঁচকায়েন না। কোরানে চার বিয়ে নির্দিষ্ট করে নাই। একসাথে চার স্ত্রীর বেশি রাখা রাখা নিষিদ্ধ করছে। তার মানে আপনি এখন রুমা, ঝুমা, নিমা, সুমারে বিয়া করলেন, তারপর আবার নিমা আর সুমারে তালাক দিয়া দীপা আর নিপারে বিয়া করতে পারবেন। তারপর এদের ভাল না লাগলে সব কয়টাকে তালাক দিয়া নীলা, শিলা, মিলা আর উর্মিলাকে বিয়া করতে পারবেন। ইসলামে তালাক নিরুৎসাহিত কিন্তু নিষিদ্ধ না। তালাক না দিলে ভাল, দিলে কোন সমস্যা নাই।

ইসলামে মু'তা বিয়েও বৈধ। এই মুতা বিয়ে হল হালাল পতিতাবৃত্তি। একজনকে আপনি টাকা দিয়ে এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের জন্য বিয়ে করতে পারবেন। চুক্তির সময় শেষ হলে বৌয়ের মেয়াদও শেষ। ইসলামে হিল্লা বিয়ে নামে আরেক অদ্ভুত প্রথাও আছে। এটা অবশ্য হানাফি মাজহাবের নীতি। স্বামী বৌরে তিন তালাক দিল। তারপর ভুল বুঝতে পারল, এখন বৌ ফেরত চায়। সে কী করবে? ইসলাম বলে, বৌকে একরাতের জন্য আরেক পুরুষের কাছে বিয়ে দাও। শুধু বিয়েতে হবে না, সেক্সও করতে হবে। তারপর ঐ লোক তালাক দিলে তখন তোমার বৌ নিতে পারবা। বড়ই মজার পদ্ধতি।

ইসলামে অজাচারও এক রকম বৈধ। নিজের চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই-বোনের সাথে বিয়ে বৈধ। বর্বর আরবরা এতই সাম্প্রদায়িক ছিল যে, নিজের আত্মীয় ছাড়া আর কোথাও কন্যাদান করত না। সেই কুপ্রথা ইসলামের হাত ধরে ঢুকেছে বাংলায়।

ইসলামে পালক মেয়েকে বিয়ে করাও বৈধ। (সুবাহানাল্লা বলেন) আপনি একটা মেয়েকে পেলে-পুষে বড় করলেন। মেয়ে আপনাকে আব্বা ডাকে। মেয়ে সাবালিকা হলে তারে বৌ বানিয়ে ওগো ডাক শুনতে পারবেন। আবার পালক ছেলেও বড় হয়ে তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। দারুণ না?

তাহলে আমরা আজ জানলাম, ইসলামে ১) ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স বৈধ, ২) যুদ্ধবন্দিনীকে ধর্ষণ বৈধ, ৩) আনলিমিটেড দাসীসম্ভোগ বৈধ, ৪) একসাথে চার বৌ রাখা বৈধ, ৫) পুরুষের আনলিমিটেড বিয়ে বৈধ, ৬) শিশুকামিতা বৈধ, ৭) পতিতাবৃত্তি (ওরফে মুতা বিয়ে) বৈধ, ৮) হিল্লা বিয়ে নামক কুপ্রথা বৈধ, ৯) অজাচার বৈধ, ১০) পালক মেয়ে বিয়েও বৈধ।

অথচ যৌনবিকৃতিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ধর্মের অনুসারীরা কিনা আমাদের গালি দেয়, "তোরা নাস্তিক হইছস ইচ্ছামত সেক্স করার জন্য!"

* প্রাসঙ্গিক আরেকটি রচনা: যৌনকেশ, অবাধ রমণীসঙ্গম ও নাস্তিককুল