১৬ এপ্রিল, ২০১৬

নারী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র ইসলামে হারাম

লিখেছেন শহীদুজ্জামান সরকার

কুরান এবং হাদিস থেকে কিছু তথ্য দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়। লক্ষ্য করুন আল-কোরআনের বাণী ও গণতন্ত্রের ধারণার মধ্যে পার্থক্য:
  • আল-কুরআন: “যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।” [২:১৬৫], কিন্তু গণতন্ত্র বলে: জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।
  • আল-কুরআন: “আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই।” [১২:৪০], কিন্তু গণতন্ত্র বলে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণ, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির। 
  • আল-কুরআন: আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের মালিক। [৩:২৬], কিন্তু গণতন্ত্র বলে, সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ।
  • আল-কুরআন: “(হে নবী) আপনি যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন, তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে|” [৬:১১৬], কিন্তু গণতন্ত্র বলে, অধিকাংশের রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
  • আল-কুরআন: “আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” [২:২৭৫], কিন্তু গণতন্ত্র সুদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে।
  • আল-কুরআন: “হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” [৫:৫১],  কিন্তু গণতন্ত্র বলে, কোনো সমস্যা নেই, যার সাথে ইচ্ছে (আমেরিকা, ইসরাইল ও অন্যান্য নাছারা দেশ), বন্ধুত্ব কর। 
আরও দেখুন:
  • “আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের মালিক, সার্বভৌমত্ব তারই।” (আল-কুরআন,৩৫:১৩)
  • “অতএব পবিত্র ও মহান সে আল্লাহ, যিনি প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি।” (আল-কুরআন,৩৬:৮৩)
  • “তুমি কি জান না যে, আসমানসমূহ ও যমীনসমূহের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন বন্ধু নেই, কোন সাহায্যকারী নেই?”(আল-কুরআন,২ঃ১০৭)
এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে - গণতন্ত্র গ্রহণ করবেন নাকি ইসলাম? কিন্তু কথা হলো, দেশকে যদি ইসলামিক করতেই চান, তাহলে গণতন্ত্র বাদ দিয়েই করতে হবে। ইসলামে গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। আর এবার দেখা যাক একটি হাদিস, যেটা বাংলাদেশের নারী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইসলামে কাফির নাস্তিক বিধর্মীকে হত্যা যেমন জায়েজ, তেমনি ভাবে নারী নেতৃত্বও হারাম।
“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে, যখন তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর হবে।” (তিরমিযী)
“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, (ইরানী) পারস্যের জনগণ কিসরার কন্যাকে (মেয়ে) তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছে, তখন তিনি বললেন, সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন করতে পারে না, যে জাতি স্বীয় কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন নারীর হাতে সোপর্দ করে।” (বুখারী ও তিরমিযী)
পরিবারতন্ত্রের প্রতি আমাদের প্রজাসুলভ দাসত্বের মানসিকতাই বর্তমানের রাজনীতির করুণ দশার পেছনে সব চেয়ে বড় কারণ। রাষ্ট্রযন্ত্র তার শাসন-দর্শন চিনিয়ে দিচ্ছে। মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হচ্ছে, নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। চাইলে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা যা খুশি করতে পারে। এমন কি যা খুশি বলতেও পারে। প্রধানমন্ত্রী তো বুঝিয়েই দিয়েছেন, কোনোমতে যদি প্রমাণ করা যায় খুন হওয়া ব্যক্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছে, নবীর চরিত্রের সমালোচনা করেছে, তাহলে তার হত্যার কোনো বিচার নেই এবং সেই হত্যাটা ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায়।

নাস্তিকেরা ধর্মের পেছনে লাগে কেন, এর সরল উত্তরটি ধর্মবিশ্বাসীদের মাথায় কিছুতেই ঢোকে না যে, ধর্ম নিয়ে নিজের ঘরের মধ্যে পুতুল-পুতুল খেলাই উত্তম। তাহলে কেউ আপনার ধর্ম ধরে টানাটানি করবে না। কিন্তু ধর্ম দিয়ে যখন দেশ চালাতে যাবেন, আইন করতে যাবেন, সামাজিক জীবনযাপনে ধর্ম দিয়ে প্রভাব খাটাতে যাবেন, রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করতে যাবেন, তখন ধর্মকে অবশ্যই সমালোচনার পাল্লায় উঠতে হবে। আর এই সমালোচনায় যদি আপনার ধর্ম ভেঙে খানখান হয়ে যায়, তাহলে এই ভঙ্গুর ধর্মটাকে এভাবে আঁকড়ে ধরে রাখার মানেটা কী?