৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ৩: The Devil is in the Detail!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮ > পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯ > পর্ব ১১০ > পর্ব ১১১ > পর্ব ১১২

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

হুদাইবিয়া সন্ধির প্রাক্কালে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কত জন অনুসারীকে সঙ্গে নিয়ে মক্কার অদূরে হদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছেছিলেন ও  তাঁরা তাঁদের সঙ্গে কীরূপ অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে এনেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের স্বরচিত জবানবন্দি কুরান ও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত সিরাত ও হাদিসের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট,  তা হলো, মুহাম্মদ প্রকাশ্যে ওমরা পালনের উদ্দেশ্য ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ন্যূনতম পক্ষে তাঁরা তাঁদের তলোয়ার, তীরধনুক ও যুদ্ধ-ঘোড়া (৪৮:২৫-"তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা--") সঙ্গে এনেছিলেন।

মুহাম্মদ তাঁর দশ বছরের মদিনা-জীবনে অবিশ্বাসী ব্যক্তি ও জনপদের ওপর যে ৬৫-১০০ টি (সূত্র ভেদে বিভিন্নতা আছে) নৃশংস হামলার সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তার সবগুলোতেই মুহাম্মদ তাঁর আগ্রাসনের দায়ভার বিভিন্ন উপায়ে আক্রান্ত জনপদবাসীর উপর ন্যস্ত করেছিলেন। "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল", "তাহারা আক্রমণের ষড়যন্ত্র করিয়াছিল", "তাহারা ইসলাম প্রচারে বাধা প্রদান করিয়াছিল", "তাহারা কটূক্তি-সমালোচনা-তাচ্ছিল্য করিয়াছিল" - ইত্যাদি, ইত্যাদি! মুহাম্মদের মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীরা গত ১৪০০ বছর ধরে সেই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চর্চা করে আসছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা এতটাই সফল যে, শুধু ইসলাম-বিশ্বাসীরাই নয়, বহু অমুসলিম জনসাধারণও অনুরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন। [1]

হুদাইবিয়া সন্ধির সময় থেকে মুহাম্মদের মৃত্যু পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহের খতিয়ান:

'হুদাইবিয়া সন্ধি' - মার্চ, ৬২৮ সাল (জিলকদ, হিজরি ৬ সাল) [2]
খায়বার হামলা (যুদ্ধ) - মে, ৬২৮ সাল (মহরম, হিজরি ৯ সাল) [3] [4]
হুদাইবিয়া সন্ধির পর প্রথম হজ - মার্চ-এপ্রিল, ৬২৯ সাল (জিলকদ, হিজরি ৭ সাল)
>> মুহাম্মদ এই হজে অংশগ্রহণ করেন। [5]
মুতার হামলা (যুদ্ধ) - আগস্ট, ৬২৯ সাল (জুমাদিউল আউয়াল, হিজরি ৮ সাল) [6]
'মক্কা বিজয়' - মার্চ, ৬৩০ সাল (জিলকদ, হিজরি ৮ সাল) [7]
হুনায়েন হামলা (যুদ্ধ) - মক্কা বিজয়ের ১২-১৪ দিন পর [8]
তায়েফ আক্রমণ- হুনায়েন হামলার পর সেখান থেকে গিয়ে সরাসরি তায়েফ আক্রমণ [9]
'তাবুকের যুদ্ধ' - অক্টোবর, ৬৩০ সাল (হিজরি ৯ সাল) [10]

মক্কা বিজয়ের পর প্রথম হজ -মার্চ-এপ্রিল, ৬৩১ সাল (জিলকদ-জিলহজ, হিজরি ৯ সাল)
Ø  মুহাম্মদ এই হজে অংশগ্রহণ করেন নাই। এই হজের প্রাক্কালে (কোনো যুদ্ধকালে নয়) মুহাম্মদের নির্দেশে আলী ইবনে আবু তালিব অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে “সুরা তওবার” বহু নৃশংস নির্দেশ ঘোষণা করেন (নিম্নে বর্ণিত)! এটিই ছিল অবিশ্বাসী মুশরিকদের সাথে ইসলাম বিশ্বাসীদের সম্মিলিত শেষ হজব্রত পালন; ইসলামী পরিভাষায় যাকে বলা যেতে পারে, "মুশরিকদের (Polytheist) বিদায় হজ!" [11]

মক্কা বিজয়ের পর দ্বিতীয় হজ - মার্চ-এপ্রিল, ৬৩২ (জিলকদ-জিলহজ, ৬৩২ সাল)
Ø  মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবার পর মুহাম্মদের প্রথম ও শেষ হজ ('বিদায় হজ') ও সেখানে তাঁর ভাষণ, ইসলামের ইতিহাসে যা বিদায় হজের ভাষণ নামে বিখ্যাত। আগের বছর হজের সময় মুহাম্মদের নির্দেশে সুরা তওবার নৃশংস নির্দেশ ও তার বাস্তবায়নের কারণে এই হজে শুধু মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরাই অংশগ্রহণ করেন। অমুসলিমদের জন্য তা ছিল নিষিদ্ধ! [12]

মুহাম্মদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ - জুন, ৬৩২ সাল।

>>> ইসলামের ইতিহাসে "হুদাইবিয়া সন্ধি" এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিপূর্বে কুরাইশদের বিরুদ্ধে যাবতীয় আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ দাবি করেছেন যে, তাঁর মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে “তাহারা অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিল”; বনি কেইনুকা গোত্র ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত লোককে তাঁদের শত শত বছরের ভিটেমাটি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে (উটের পিঠে বহনযোগ্য পরিমাণ জিনিসপত্র নেয়ার অনুমতি প্রদান) উচ্ছেদ করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট করার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন (পর্ব: ৫২-৫৩); বনি কুরাইজা গোত্রের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে খুন, তাঁদের সমস্ত নারী ও শিশুদের বন্দী করে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তর এবং তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট করার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন - ঠিক তেমনিভাবে মুহাম্মদ হুদাইবিয়ার দশ বছরের সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করার পর মাত্র দুই বছরের মাথায় তা ভঙ্গ করে কুরাইশদের বিরুদ্ধে অতর্কিত আগ্রাসী হামলার মাধ্যমে মক্কা বিজয় এর বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন (বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে)। মুহাম্মদের হামলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, কোনোরূপ আগাম ঘোষণা ছাড়াই অবিশ্বাসী জনপদের উপর অতর্কিত হামলা করা! মক্কা বিজয়ও এই বৈশিষ্ট্যের ব্যতিক্রম ছিল না।

কুরাইশ মুশরিকদের (polytheist) বিরুদ্ধে বিজয়ী হবার পর মুহাম্মদ তাঁদের সাথে একত্রে হজব্রত পালন করতে অস্বীকৃতি  প্রকাশ করেন। তাই তিনি এই হজে নিজে অংশগ্রহণ না করে আবু বকরের নেতৃত্বে তাঁর প্রায় ৩০০ জন অনুসারীকে মক্কাবিজয়-পরবর্তী এই প্রথম হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় পাঠান। আবু বকর তাঁর দলবল নিয়ে রওনা হবার পর মুহাম্মদ তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবু তালিব-কে সুরা তওবার প্রথম ৩০-৪০টি আয়াত (নির্দেশ) সহ হজব্রত পালনের জন্য এই নির্দেশ সহকারে প্রেরণ করেন যে, আলী যেন উপস্থিত ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের (মুশরিক) উদ্দেশে তাঁর এই নির্দেশগুলো ঘোষণা করেন। মুহাম্মদের নির্দেশে আলী ইবনে আবু তালিব হিজরি ৯ সালের জিল-হজ মাসের ১০ তারিখে (মার্চ ১৯, ৬৩১ সাল) আরাফার ময়দানে উপস্থিত মুশরিক ও ৩০০ জন মুসলমানদের সামনে সেই নৃশংস নির্দেশগুলো ঘোষণা করেন! [13] [14]

আলী ইবনে আবু তালিব মারফত ঘোষিত মুহাম্মদের সেই নির্দেশগুলোর কিছু নমুনা:

৯:১- “সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।"

৯:২ – “অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকালআর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।" 

৯:৩ – “আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও”। 

৯:৪- “তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন”। 

৯:৫- “অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”।  

৯:৬- “আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না”। 

৯:৭-মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন”। 

৯:৮-কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী”। 

৯:১২ – “আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে”।

৯:১৩-১৪- “তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। (১৪) যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন”।

৯:১৭-১৮-মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। (১৮) নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে”।          

৯:২৮-২৯ – “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (২৯) তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে”।       

>>> সুরা তওবার এই নির্দেশগুলোর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে। ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মক্কা বিজয়ের ১২ মাস পরে মুহাম্মদ তাঁর এই নির্দেশে কুরাইশদের বিরুদ্ধে হুদাইবিয়া চুক্তি ভঙ্গের অজুহাত আবারও উত্থাপন করে তাঁদের বিরুদ্ধে নৃশংস আদেশ জারি করেন। তিনি তাঁর মতবাদে দীক্ষিত হওয়ার জন্য চার মাসের আল্টিমেটাম জারি করেন! সুরা তওবার এই নির্দেশগুলোই হলো তাঁর অনুসারীদের প্রতি মুহাম্মদের সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরা। নাজিলের সময়ের ক্রমিক মান অনুসার এটি ১১৩ নম্বর সুরা; কুরানের সর্বশেষ সুরা হলো সুরা নছর (বর্তমান কুরানের ১১০ নম্বর) যাতে কোনো নির্দেশ নেই (পর্ব: ১০৫)।

ইসলাম নামক মতবাদের আল-নাসিখ ওয়া আল-মনসুখ (Al-Nasikh wa al-Mansukh) নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে মদিনায় নাযিল-কৃত এসব কঠিন থেকে কঠিনতম আদেশ ও নিষেধ মুহাম্মদের মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা জীবনে নাযিলকৃত আপাত সহনশীল আদেশ ও নিষেধকে বাতিল করে দিয়েছে (পর্ব: ২৭)।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, "The devil is in the detail", যার বাংলা অর্থ এভাবে করা যেতে পারে যে,
"সত্যতার যাচাই হয় ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায়!" মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহর রেফারেন্সে দাবি করছেন যে, কুরাইশরাই প্রথম হুদাইবিয়া চুক্তি ভঙ্গ করেছিলেন, তাই তিনি তাঁদের আক্রমণ ও পরাস্ত করে মক্কা বিজয় করেছিলেন। হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি কে প্রথম ভঙ্গ করেছিল, তা জানার জন্য প্রয়োজন এই সন্ধি-পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহের গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা। তাই আমি আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত সিরাত ও হাদিস-গ্রন্থ এবং মুহাম্মদেরই স্বরচিত গ্রন্থ কুরানের আলোকে বনি কুরাইজা গণহত্যা ঘটনা-প্রবাহের মতই (পর্ব: ৮৭-৯৫) হুদাইবিয়া সন্ধি পরবর্তী সময়ের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহ পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা করবো, যাতে উৎসাহী মুক্তচিন্তার পাঠকরা আদি উৎসে বর্ণিত সেই তথ্য-উপাত্তের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুহাম্মদের দাবির সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারেন। একই সাথে, মুহাম্মদ অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা কীভাবে আদি উৎসে বর্ণিত এই সব ঘটনাপ্রবাহের তথ্যবিকৃতির মাধ্যমে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমান ও অমুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তারও  কিছুটা  সম্যক ধারণা তাঁরা পেতে পারেন।

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মদিনা জীবনে অবিশ্বাসী ব্যক্তি ও জনপদের ওপর মুহাম্মদের হামলার খতিয়ান:

[2] 'হুদাইবিয়া সন্ধি: “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৯৯-৫১০ http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

“তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫২৯-১৫৫৪ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

“কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৫৭১-৬৩৩ http://www.britannica.com/biography/al-Waqidi
ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ২৮১-৩১১

[3] খায়বার হামলা (যুদ্ধ): Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫১০-৫৩৩; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৭৬-১৫৯১; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৩৩-৭২২, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩১১-৩৫৫

[4] খায়বার: মদিনা থেকে ৯৫ মাইল দূরবর্তী একটি স্থান। ঐ সময়ে সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসীরাই ছিলেন ইহুদি, যারা ছিলেন প্রধানতঃ কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী।

[5] হুদাইবিয়া সন্ধির পর প্রথম হজ: Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৩০-৫৩১; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৯৩-১৫৯৭

[6] মুতার হামলা (যুদ্ধ):  Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৩১-৫৪০; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬১১-১৬১৯; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৭৫৫-৭৬৯, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৭২-৩৭৮

[7] 'মক্কা বিজয়': Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৪০-৫৬১; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬১৯-১৬৪৮; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৭৮০-৮৭৫, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৮৪-৪২৮

[8] হুনায়েন হামলা (যুদ্ধ): Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৬৬-৫৯৭; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৮৮৫-৯২৩, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৩৫-৪৫২
“তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী, ভলুউম ৯, (The Last Years of the Prophet) – translated and Annotated by Ismail K. Poonawala [State university of New York press (SUNY), Albany 1990, , ISBN 0-88706-692—5 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬৫৪-১৬৭০ ১৬৭৫-১৬৮৬ http://books.google.com/books?id=XxG8BsHNw-MC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false
[9] তায়েফ আক্রমণ: Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৮৭-৫৯২; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬৭০-১৬৭৫; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯২৩-৯২৯, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৫২-৪৬০

[10] 'তাবুকের যুদ্ধ': Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৬০২-৬১৪; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬৯৩-১৭০৬; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯৮৯-১০২৫, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৮৫-৫০২

[11] মক্কা বিজয়ের পর প্রথম হজ: Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৬১৭-৬২৪; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৭২১-১৭২৪

[12] মক্কা বিজয়ের পর দ্বিতীয় হজ ('বিদায় হজ'): Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৬৪৯-৬৫২; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৭৫১-১৭৫৬; Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ১০৮৮-১১১৫, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৫৩২-৫৪৫


[14] আরাফা অথবা আরাফাত: মক্কা শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরবর্তী এক সমতলভূমি, বাৎসরিক হজ-যাত্রীদের প্রধান অনুষ্ঠান স্থলের একটি।