২২ জানুয়ারী, ২০১৬

ভণ্ড জাকির নায়েকের ভণ্ডামি: পর্ব দুই (সপ্তম অংশ)

লিখেছেন ডঃ চ্যালেঞ্জ নায়েক


সব শেষে জাকির নায়েক বলেছে, "এই একই কথা বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরা রাদের ০২ নাম্বার আয়াতে।" জাকির নায়েক "একই কথা বলা আছে" এই কথাটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে যে, কনস্টেলেশন হারকিউলিস এবং সোলার এপেক্সের কথা সূরা রাদের ০২ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সূরা রাদের ০২ আয়াতে বলা হয়েছে, (আল্লাহ) সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মানুবর্তী করেছে, প্রত্যেকটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে।

অর্থাৎ এই আয়াতে কনস্টেলেশন হারকিউলিস বা সোরার এপেক্সের কথা বলা নেই। এবং এটি দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের কথাও বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে সূর্য ও চন্দ্রের শুধু নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণের কথা। কিন্তু সেই নির্দিষ্টকাল শেষ হলে সূর্য কী করে বা কোথায় যায় সে সম্পর্কে এই আয়াতে কিছু বলা হয়নি।

এছাড়া জাকির নায়েক বলেছে, সূরা ফাতির ১৩ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, "(আল্লাহ) সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন নিয়ন্ত্রিত; প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত", সূরা লোকমানের ২৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, "(আল্লাহ) চন্দ্র ও সূর্যকে করেছেন নিয়মাধীন, প্রত্যেকটি পরিভ্রমণ করে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত", এবং সূরা আল জুমার ০৫ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, "(আল্লাহ) সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন নিয়মাধীন প্রত্যেকেই পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত।"

অর্থাৎ জাকির নায়েকের উল্লেখিত সবগুলো আয়াতেই এ কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সূর্য এবং চন্দ্র একটা নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তাহলে প্রশ্ন আসে, এই নির্দিষ্টকাল বা সময়টা শেষ হলে সূর্য ও চন্দ্র কোথায় যায়? এবং এই নির্দিষ্টকাল বা নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে সূর্য ও চন্দ্র কী করে?

এর চমৎকার উত্তর আছে খারী শরীফের হাদিসটিতে, যেখানে বলা হয়েছে, সূর্য অস্ত যাবার পর সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সেজদারত থাকে। তাহলে এই হাদিস অনুযায়ী, সূর্যের গন্তব্যস্থল হলো আল্লাহর আরশের নিচে। এবং এটি নির্দিষ্টকাল পরিভ্রমণ শেষে আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সেজদা দেয় এবং পুনরায় উদিত হবার জন্য অনুমতি চায়।

সুতরাং স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, কুরআন এবং হাদিস সূর্যের গতিশীলতা নিয়ে অবাস্তব এবং অবৈজ্ঞানিক কথা বলেছে। তার মানে কুরআন ভুল ও মিথ্যা কথা বলেছে।

অর্থাৎ কুরআন এবং হাদিসে সূর্যের পরিভ্রমণ সম্পর্কে উল্টাপাল্টা কথা বলা হয়েছে, যেটা অবাস্তব এবং অবৈজ্ঞানিক। কিন্তু জাকির নায়েক এই সব আয়াতগুলো দিয়ে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানানোর চেষ্টা করেছে। এবং এটা করতে যেয়ে সে কুরআনের আয়াতের অর্থকে সুবিধানুযায়ী পরিবর্তন করে নিয়েছে, কুরআনের ভিন্ন ও নতুন অর্থ করেছে বিজ্ঞানের সাথে মিল রেখে। এবং সব শেষে উল্টাপাল্টা কথা বলে এবং বিজ্ঞানকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করে প্রচুর মিথ্যে কথা বলেছে এবং মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। যারা জাকির নায়েকের কথাকে বিশ্বাস করেছে তারা এভাবেই প্রতারক জাকির নায়েকের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে।

কেন জাকির নায়েকের মিথ্যাচার ও প্রতারণা প্রকাশ করা উচিত? উত্তরে বলতে হবে, জাকির নায়েকের দ্বারা অগণিত মুসলমান প্রভাবিত। তারা বুঝে বা না বুঝে জাকির নায়েকের কথাগুলোকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে। কিন্তু জাকির নায়েক যে একটা মিথ্যেবাদী এবং প্রতারক সেটা জানতে পারলে অনেক মানুষ কুসংস্কার থেকে মুক্ত হতে পারবে। আবার জাকির নায়েকের কথাগুলো এবং মিথ্যেগুলো অনেক মুসলমানই তোতা পাখির মতো বারবার বলে থাকে। জাকির নায়েক কুরআনকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করতে কুরআনের নতুন নতুন অর্থ করে এবং অর্থ পরিবর্তন করে বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে নতুন অর্থ করে নতুন মুসলমানদেরকে সহজেই বোকা বানায়। এবং কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানাতে যেয়ে কুরআনের অর্থ পরিবর্তন করে কুরআনকে সংশোধন করে নতুন মুসলমান ও বোকা মুসলমানদেরকে বোকা বানিয়ে রাখে। সেজন্যই জাকির নায়েকের মিথ্যেবাদিতা এবং প্রতারণা সবার কাছেই ফাঁস করে দেওয়া সবার দায়িত্ব। আর তাই জাকির নায়েকের মিথ্যাবাদিতা এবং প্রতারণা সবার সামনে প্রকাশ করা। ফলে জাকির নায়েকের মত ভণ্ড প্রতারকদের কাছ থেকে ভবিষ্যতের মানুষগুলো সাবধান হতে পারবে এবং তাদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে উৎসাহিত করা যাবে।

জাকির নায়েকের মত মুসলমানরাই অপযুক্তি ও অপবিজ্ঞান ছড়ায়। তাই মানুষের কাছে এদের মিথ্যেবাদিতা ও প্রতারণা উন্মুক্ত করে দেওয়া সবারই প্রধান দায়িত্ব।