৬ জানু, ২০১৬

"বাঙালি মুসলমান এটা একটা রোগের নাম"

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

বাঙালি মুসলমানের একটা বিরাট অংশ ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙালি হত্যা করেছে, সেটা বিশ্বাস করবে না, কিন্তু ৫ মে রাতে ঢাকায় হাজার হাজার হেফাজতে ইসলাম কর্মী হত্যা করেছে, সেটা বিশ্বাস করবে।

বাঙালি মুসলমান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ৩০ লক্ষ বাঙালি প্রাণ হারিয়েছেন, সেটা বিশ্বাস করবে না, কিন্তু মিয়ানমারে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা খুন করা হচ্ছে, ফিলিস্তিন-ইন্ডিয়াতে হাজার হাজার মুসলমান হত্যা করা হচ্ছে, এইসব গপ্পো ঠিকই বিশ্বাস করবে।

শুধু বিশ্বাস করেই ক্ষান্ত হবে না, হাস্যকর ফটোশপ করা সেই ছবিগুলো অনলাইনে প্রচারও করবে। আর চোখের সামনে ৭১-এর কোনো গণহত্যার ছবি কিংবা মুক্তিযুদ্ধের পোস্ট পড়লে এড়িয়ে যাবে আর বলবে, "তুই শালা আওয়ামী লীগ!"

তারা দেশের সমতলে অমুসলিম নির্যাতনের সময় খাস মুসলমান, আর পাহাড়ে আদিবাসী নির্যাতনের সময় খাস বাঙালি!

তারা খেলায় পাকিস্তান সমর্থনের সময় খেলার সাথে রাজনীতি মেশায় না, খেলার সাথে মুক্তিযুদ্ধ মেশায় না। তখন তারা নিখাদ ক্রীড়াপ্রেমী!

আর ইন্ডিয়ার খেলা থাকলে ইন্ডিয়াকে গালি দেওয়ার সময় তারা খেলার ভেতরে তিস্তার জল নিয়ে আসে, ফেলানির লাশ নিয়ে আসে। তখন তারা দেশপ্রেমিক এবং খেলার সাথে রাজনীতি মেশায়।

এই বাঙালি মুসলমানেরা রাতে পতিতালয়ে যায়, আর দিনের বেলায় মোল্লাদের সাথে নিয়ে পতিতালয় ভেঙে ফেলার আন্দোলনে নামে। নৈতিক অবক্ষয় (!) রোধে তাদের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসনীয়।

এই বাঙালি মুসলমানেরা মদ খাবে, জুয়া খেলবে, মেলায় গিয়ে পুতুল নাচের আড়ালে অশ্লীল নাচ দেখবে। এত কিছুতে তাদের ধর্ম যায় না। শুধু পহেলা বৈশাখ এলেই তাদের ধর্ম মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। পহেলা বৈশাখ হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি!

এই হিপোক্রিট বাঙালি মুসলমানদের জন্যই হুমায়ুন আজাদ লিখে গেছেন:

"বাঙালি মুসলমান এটা একটা রোগের নাম।"