১ জানু, ২০১৬

বীভৎস নারী-খতনা ও একটি সুসংবাদ

লালন প্রশ্ন করেছিলেন:

সুন্নত দিলে হয় মুসলমান
নারীর তবে কী হয় বিধান?

তিনি, বোধ করি, জানতেন না, অনেক দেশেই মুছলিম মেয়েদেরও খতনা (Female Genital Mutilation সংক্ষেপে FGM - এর অনুবাদ হিসেবে খতনা লিখছি বটে, তবে শব্দটি সঠিক অর্থ বহন করে না। কারণ ছেলেদের খতনা হচ্ছে circumcision, আর মেয়েদের ক্ষেত্রে আরও বেশি ভয়াবহ - mutilation - অঙ্গহানি, অঙ্গচ্ছেদ) দেয়ার বর্বর ঐতিহ্য তথা পাশবিক প্রথার প্রচলন আছে। শুধু আফ্রিকাতেই প্রতি বছরে তিরিশ লক্ষ মেয়েকে এই নারকীয় প্রথার শিকার হতে হয়।

গুগলে Female Genital Mutilation লিখে সার্চ দিলে ভয়াবহ এই অপারেশনের যতো ছবি ও ভিডিওর লিংক আসে, সেসব দেখতে হলে শক্ত নার্ভের মানুষ হতে হবে। আর এই প্রথার সমর্থন যারা করে বা করতে পারে, তারা আদৌ মনুষ্যপদবাচ্য নয়।

অনেক মুছলিমই দাবি করে থাকে, এই প্রথার সঙ্গে ইছলামের কোনও সম্পর্ক নেই।... বটে! সেভাবে দেখতে গেলে মুছলমান পুরুষদের খতনা দেয়ার পদ্ধতিটিও পু্রোপুরি ইছলামী নয়। কোরানের অজস্র গাঁজাখুরি গল্পের মতো এই রীতিটিও ইহুদিদের কাছ থেকে পাওয়া। কিন্তু মেয়েদের খতনা কি সত্যিই ইছলামের সঙ্গে সম্পর্কহীন?

একটি হাদিসে (আবু দাউদ, ৪১:৫২৫১) নবীজি নিজে নিষেধ করেছে নারী-খতনার সময় কঠোরভাবে কাটাকুটি করতে। এ বিষয়ে আরও কয়েকটি হাদিস ও একটি ইছলামী তথ্যসূত্র

অবশেষে একটি সুসংবাদ:

৯০ শতাংশ মুছলিমের দেশ গাম্বিয়ায় নারী-খতনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইন প্রণয়ন করে। এর পর থেকে এই কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হবে তিন বছরের কারাবাস অথবা ১২৫০ ডলার জরিমানা।