৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

ধর্মভূত বিতাড়নে থাবা বাবার যত পানিপড়া

থাবা বাবা হত্যার বিচারের রায়টি ন্যায়সঙ্গত হয়েছে কি না বা রায়টা ঠিক কেমন হলে সঠিকতর হতো, সে বিতর্কে না গিয়ে একটি কথা অকপটে বলি বরং: কোনও ব্লগার হত্যার বিচার বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে, সেই প্রতীতি ও প্রত্যাশা‌ই ছিলো না আমার। আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম। নিজের ধারণা ভুল প্রমাণিত হতে দেখে কিছুটা ভালো লাগছে বৈকি। বিচারের এই ধারাটা অব্যাহত থাকুক, মনে-প্রাণে চাইছি।

কিন্তু থাবা বাবাকে আর কখনও ফিরে পাওয়া যাবে না, সেই অপরিমেয় বেদনা বুকে জমে রইবে সারাটা জীবন।

আজকের এই দিনে ধর্মকারীতে প্রকাশিত থাবা বাবার লেখাগুলো পড়ে নেয়া যাক আবার।

-----------

(থাবা বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত)

সরল কিন্তু স্পষ্টবক্তা, সরস কিন্তু প্রয়োজনে শ্লেষাত্মক, বিচিত্র বিষয়ে ঈর্ষণীয় জ্ঞানের অধিকারী কিন্তু নিরহংকারী এই মানুষটিকে তাঁর পরিচিত গণ্ডির অনেকে খুব পছন্দ করতো, তবে বাকিদের চক্ষুশূল ছিলেন তিনি তাঁর অকপট স্পষ্টবাদিতার কারণে। 

মনে পড়ে, থাবা বাবা একবার ধর্মকারীর জন্য একটি ইবুক বানিয়ে দিয়েছিলেন। হায়! আর এবার ইবুক বানাতে হচ্ছে তাঁর স্মরণে। ধর্মকারীতে প্রকাশিত তাঁর ছোট-বড়ো সমস্ত রচনা, তাঁর বানানো বা অনূদিত পোস্টার-কার্টুনগুলোকে সংকলিত করে রাখা হলো।

থাবা বাবাকে হত্যা করে ধর্মান্ধরা প্রকারান্তরে বেগবান করেছে যুক্তি-প্রমাণচর্চার আন্দোলন। থাবা বাবা নেই, তবে তাঁর লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকালই। নিশ্চিতভাবেই বলা চলে, বাংলা ভাষায় ধর্মপ্যাঁদানির ইতিহাসে থাবা বাবার অনেক রচনা ও বাণী মাস্টারপিস হিসেবে গণ্য হবে। যাঁরা পড়েননি, অবশ্যই পড়ে দেখুন। যাঁরা পড়েছেন, সংগ্রহে রাখুন।

সাইজ: ১.৫ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ)
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স)

* ইবুকের জন্য সকল প্রশংসা এক ও অদ্বিতীয় কৌস্তুভ-এর। নিজের কাজকর্ম ফেলে ইবুক-নির্মাণপ্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে সময় ব্যয় করার জন্য তাঁর প্রতি অপার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। 

** পোস্টের শিরোনাম দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন।

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ২৬

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

১২৬.
জ্বীন প্রজাতি আগুনের তৈরি। নক্ষত্রগুলি আগুনের তৈরি। অতএব এক একটা নক্ষত্র হচ্ছে এক একটা জ্বীন। সূর্যও আগুনের তৈরি। তাই সূর্য একটি জ্বীন। আমরা আছি জ্বীনের আলো ও তাপতলে।

১২৭.
[মুসলিম হাদিস, নাম্বার: ৫৬৯৮]
কুতায়বা ইবনু সাঈদ সাকাফী (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে আরজ এলাকায় সফর করছিলাম। তখন এক কবি কবিতা আবৃতি করতে করতে আসতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শয়তানটাকে ধরে ফেল কিংবা (বর্ণনা সন্দেহ, তিনি বললেন) শয়তানটাকে রুখে দাও। কোন লোকের পেট পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া কবিতায় ভর্তি হওয়া থেকে উত্তম।

[মুসলিম হাদিস, নাম্বার: ৫৬৯৭]
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) সা’দ (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন ব্যক্তির পেট পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া যা তার পেটকে পটিয়ে নষ্ট করে দেয়, তা কবিতায় ভর্তি হওয়ার চাইতে উত্তম।

আমাদের মহানবীর কাছে কবিতা অপেক্ষা পুঁজ উত্তম ছিল। পৃথিবীর বড় বড় কবি যেমন, শেকসশিয়র, শেলী, কিটস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ওমর খৈয়াম প্রমুখেরা যদি অজস্র কবিতা রচনা না করে অজস্র পুঁজ ও পুঁজের নদী রচনা করতেন, কতোই না উত্তম হতো।

১২৮.
আল্ল্যা কাবাঘরে থাকে। কাবাঘরের উপর দিয়ে যখন প্লেন উড়ে যায় তখন আল্ল্যা প্লেনের যাত্রীদের পায়ের তলে পড়ে যায়।

১২৯.
কোনো এক ইতিহাস-প্রসিদ্ধ শ্বশুর
তার পুত্রবধূর সাথে পেতেছিল শয্যা।
কী লজ্জা! কী লজ্জা!

১৩০.
[সহী বুখারী হাদিস, নাম্বার ২৬১০]
হযরত ওমর ইবনে ওবায়দুল্লাহর আযাদকৃত গোলাম ও লেখক সালেম আবুন নজর বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রাঃ তাকে লিখেছিলেন যে, নবী করিম ছঃ বলেছেন, জেনে রাখো, তরবারীর ছায়ার নিচেই জান্নাত। 

ইসলামের নবীজি নিজেই বলেছেন, তরবারির নিচেই জান্নাত। এবার আপনারাই বলুন, ইসলামিস্টরা যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ খুন করে, এটা কার দোষ?

আমাদের আত্মীয়েরা – ৮৭

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

সাড়ে চার মিনিটের ভিডিও-সংকলন:

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/AHihWwPYOdg

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭০

২০৪.
এক বিপদে পড়েছি মুছলিম জঙ্গি হয়ে। ভাগ্নের জন্মদিন ক'দিন বাদেই। ১৮ বছর পূর্ণ হবে। তাকে জিজ্ঞেস করেছি:
- জন্মদিনে কী উপহার চাস? যা চাইবি, তা-ই পাবি।
সে জানিয়েছে:
- আমি চাই বেহেশতের ৭২ হুর। 
আমি পড়েছি বাটে। তাকে একটা বোমা কিনে দেয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় তো দেখছি না!

২০৫.
দুই মহিলার কথোপকথন।
- স্বামীর সঙ্গে আপনার ডিভোর্স হলো কেন?
- ধর্মীয় কারণে।
- মানে?
- সে মনে করতো, সে ঈশ্বর। আমি বিশ্বাস করতাম না।

২০৬.
আদমকে নিয়ে হাওয়া তৃপ্ত ও সুখী ছিলো কি না, তা জানা যায় না। তবে মাঝেমধ্যেই ঘুমন্ত আদমের দিকে তাকিয়ে গালে হাত দিয়ে সে ভাবতো:
- আমার একটা দুঃখ থেকে গেল। আমি কোনও পুরুষকে একটি বারও বলতে পারলাম না, "জানো, তোমার জন্যে আমি কতো পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করেছি?"

বাইবেলরঙ্গ

পাঠিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক 

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

আমার সন্তান যেন না হয় নাস্তিক

অনুবাদ করেছেন Suirauqa 

আমার সন্তানদের নিরীশ্বরবাদী ধর্মমুক্ত অবিশ্বাসী হয়ে ওঠার থেকে বিরত করবার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় কি?
আমি চাই না আমার কোনো ছেলেমেয়ে ঈশ্বরের কাছে শাস্তি পাক। 

নির্বাচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ উত্তর:

- আপনার সন্তানদের কোনোরূপ শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা করবেন না, অথবা তাদের কোনো রকম যুক্তিবাদী চিন্তাধারা, সমালোচনা বা বিজ্ঞানের সংস্পর্শে আসতে দেবেন না।

- পৃথিবী কীভাবে চলে, সে সম্পর্কে প্রতিনিয়ত তাদের মিথ্যে কথা বলুন। বেশ সত্যিকারের জ্ঞানের মত করে সাজিয়ে কিছু অর্থহীন প্রলাপবাক্য তাদের কাছে পেশ করুন, এবং এমন ভঙ্গি করুন যেন, সেটাই গভীর তত্ত্বকথা।

- তাদেরকে শেখান তাদের নিজস্ব শরীর এবং শারীরিক কাজকর্মকে ঘৃণা করতে। বুঝিয়ে দিন যে, তারা ক্ষুদ্র, দুর্বল, মূল্যহীন এবং ঐশ্বরিক কৃপায় মোক্ষলাভ না হলে তাদের জাহান্নাম ছাড়া আর গতি নেই। তাদের বলুন যে যা কিছু জীবনে আনন্দদায়ক, তার সব কিছুই ভয়ঙ্কর খারাপ, এমনকি তা নিয়ে চিন্তা করাও পাপ। তাদের একমাত্র আনন্দের উপায় হওয়া উচিত কোনো এক অদৃশ্য বন্ধুর পায়ে মাথা কোটা।

- নিশ্চিত করে নিন যে, আপনার সন্তানেরা যেন তাদের থেকে কোনো অংশে ভিন্ন সবাইকেই ঘৃণার চোখে দেখে - ভিন্ন গায়ের রঙ, দেশ, রাজনৈতিক মতবাদ, এবং সর্বোপরি ভিন্ন ধর্মমতের লোকজন। তাদেরকে ভালভাবে বোঝান যে, এ ধরনের আলাদা লোকজন আসলে দুষ্ট এবং অনিষ্টকারী - এবং যতই আসল জীবনে সে মানুষগুলি যতই অক্ষম সংখ্যালঘু হোক না কেন - আপনার সন্তানেরা যেন জানে যে, এদের আসল উদ্দেশ্য হল আপনার মত চিন্তাধারাবিশিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠদের দাবিয়ে রাখা এবং আপনাদের ওপর অত্যাচার চালানো। 

- সন্তানদের শেখান যে তাদের নিজেদের ধর্ম ছাড়া অন্য যে কোনো ধর্মই হেসে উড়িয়ে দেবার যোগ্য। প্রথম সুযোগে - মনে রাখবেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব - তাদের শেখান, তারা যেন ঠিকমত চিনতে পারে কোনটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মারাত্মক ভুল - যে, কোনো এক বদ্ধ উন্মাদ একবার মরুভূমির মধ্যে কিছু লোককে জানিয়েছিল এক হিংস্র, জিঘাংসাপূর্ণ, নরঘাতক ঈশ্বরের কথা - এবং কোনটা ঐশ্বরিক চিরকালীন সত্য।

- কঠিন ভাবে তাদের শিক্ষা দিন যে, তারা যেন কখনো নিজেদেরকে প্রশ্ন না করে - কখনোই নিজেরা চিন্তা না করে, কখনোই যেন নিজেদের জীবনটা না বাঁচে - শুধু জীবনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য একটি বিশেষ - এবং একটিই মাত্র - অর্ধশিক্ষিত ব্রোঞ্জ-যুগের উপকথাবলীর উপর নির্বিচারে, নির্দ্বিধায় ভরসা করে চলে। 

- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - এইটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় - যেকোন প্রকারে নিশ্চিত করুন যে তারা যেন বানান না করতে পারে, ব্যাকরণ এক্কেবারে না বোঝে, এবং সাধারণ ইংরেজী শব্দ অনুধাবন করতে না পারে। 

এতেই চলবে। 

সূত্র

(৩১.১০.১১ তারিখে প্রকাশিত) 

চিত্রপঞ্চক - ১৪০

সর্বমোট পাঁচটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক:
http://imgur.com/a/dt5Us


দুমুখো মোল্লারা

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় ইসলামী সভার আয়োজন করা হয়েছিলো। সভার স্থানটা ছিলো মেইন রোডের সাথেই। সভায় অনেক লোকের সমাগম হয়েছিলো। এদের মাঝে ছোট ছেলেমেয়ে সংখ্যাও কম ছিলো না।

সন্ধা সাতটা নাগাদ অদূরের মূল সড়কে দশ বছরের একটা ছেলে সেখানে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মারা যায়। ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তার।

ধর্মীয় সভা তখন শোকে নিস্তব্ধ থাকে। কিছুক্ষণ পর এক বক্তা (আমাদের মসজিদের ইমাম) স্টেজে উঠে বলতে লাগলো, "জন্ম, মৃত্য সব আল্লার হাতে। আল্লার ইচ্ছা হয়েছে, তাকে তুলে নিয়েছে। আল্লার মাল আল্লায় নিয়েছে, এতে আমাদের কারো হাত নেই। চলুন, আমরা আলোচনা শুরু করি..."

এর দু'বছর আগে আমরা আমাদের ক্লাবের সৌজন্যে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। সেদিন সেই অনুষ্ঠানের স্থান থেকে আড়াই কিলো দূরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মারা যায়। 

তার পরের শুক্রবারে জুম্মার খুতবাতে এই ব্যক্তিই চারিদিক কাঁপিয়ে তুলেছিলেন সেই অনুষ্ঠানের নিন্দা করে। তার বক্তব্য ছিলো, "বেশরিয়তী কাজের জন্যই এই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।" বলা বাহুল্য, শুধু তার নয়, অনেক মোল্লার বক্তব্যই এমন।

তো ইসলামী সভার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করে একজন দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করেছিলো, "এখানে যদি আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে থাকে, তাহলে দু'বছর আগের ঘটনায় যে-ব্যক্তি মারা গিয়েছিলো, সে কি আল্লার মাল ছিলো না? সে যদি আল্লার মাল হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের অনুষ্ঠানের দোষ দিয়েছিলেন কেন?"

তখন এক বিরাট হুলুস্থূল কারবার শুরু হয়ে যায়।

মোল্লারা এখন খুব রেগে আছে। ছেলেটি তো রাগের মাথায় সত্য বলে ফেলেছে, কিন্তু এর পরিণাম তো খুব খারাপ হবে।

ছেলেটিকে নিয়েই চিন্তায় আছি। কবে এমন সময় আসবে, যখন সত্য তুলে ধরলে, কারো ভণ্ডামি তুলে ধরলে কাউকে হেয় হতে হবে না, বরং তাকে সাধুবাদ জানানো হবে?

কেউ কি জানেন?

প্লেবয়: কার্টুনে ও বাস্তবে


২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ০৭

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ও ফয়সল আরেফিন দীপন সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


তাছাড়া প্রাচীন কোডসমূহের মধ্যে হাম্মুরাবির কোড দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তৎকালীন নিকট-প্রাচ্যে আরও কয়েকটি আইন সংহিতা প্রবর্তিত হয়। যেমন - হিত্তিয় আইন, অ্যাসিরিয় আইন ও মূসার আইন। তবে মূসা তার দশ আজ্ঞা ও তওরাতের অন্যান্য বিধি-নির্দেশ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে হাম্মুরাবির কোডসহ নেসিলিমের কোড বা হিত্তিয় আইন ও প্রাচীন মিশরীয় মা’আত দেবীর নামে প্রবর্তিত ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তির দ্বারাও প্রভাবিত হন।

নেসিলিমের কোড খ্রিষ্টপূর্ব ১৬৫০-১৫০০ সালের দিকে প্রাচীন হিত্তিয়দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হিত্তিয় সাম্রাজ্যে পাওয়া যায়। আধুনিক তুর্কি জাতির পূর্বসুরী হিসেবে এই হিত্তিয়দের বিবেচনা করা হয়ে থাকে। হিত্তিয়দের বর্ণনা মূসার গ্রন্থেও পাওয়া যায়।

আর খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ সালের দিকে প্রাচীন মিশরে মা’আত দেবীর অনুসারীদের নৈতিকতার উন্নয়নে একটি সংরক্ষিত নথি-ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন মিশরের ধর্ম ও নৈতিকতার উন্নয়নে যা কেন্দ্রীয় বিষয় বলে গণ্য হতো। মা’আত দেবীর অনুসারীদের মতে, বিদেহী আত্মাকে মৃত্যুপরবর্তী জগতে বিচারের সময় ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তি দিতে হবে। যেমন - আমি কোনো নর-নারীকে হত্যা করিনি, আমি খারাপ কথা বলিনি ইত্যাদি।

যদি কেউ মৃত্যুপরবর্তী জগতে মা’আত দেবী নির্ধারিত ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে পৃথিবীতে পুনর্জন্ম লাভ করবে। এ কারণে মিশরে মা’আত দেবীর প্রত্যেক অনুসারী ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তি মুখস্ত করত। আর এভাবেই মিশরে মা’আত দেবীর পূজা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। উক্ত ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তি ছিল মিশরের ইতিহাসে প্রথম লিপিবদ্ধ আইন। অধিকাংশ গবেষকের মতে মূসা তার প্রবর্তিত দশ আজ্ঞায় উক্ত ৪২ টি নঞর্থক স্বীকারোক্তির উপাদান ও ধরন অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এমন প্রতারণামূলকভাবে প্রণীত মূসার দশ আজ্ঞার স্বীকৃতি মুহম্মদের আল-কুরআনেও বিদ্যমান। যেমন:
বল, ‘আস, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যাহা হারাম করিয়াছেন তোমাদেরকে তাহা পড়িয়া শুনাই। উহা এই : ‘তোমরা তাঁহার কোন শরিক করিবে না, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে, দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করিবে না, আমিই তোমাদের ও তাহাদেরকে রিযিক দিয়া থাকি। প্রকাশ্যে হউক কিংবা গোপনে হউক, অশ্লীল কাজের নিকটেও যাইবে না। আল্লাহ যাহার হত্যা নিষিদ্ধ করিয়াছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাহাকে হত্যা করিবে না।’ তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন, যেন তোমরা অনুধাবন কর। [সূরা আনআম: ১৫১]
ইস্রায়েলের জনগণকে নাটকীয়ভাবে দশ আজ্ঞা প্রদানের পর মূসার পরমেশ্বর মূসাকে একান্তে আরও বিস্তৃত বিধি-নির্দেশ সম্বলিত সন্ধি পুস্তক প্রদান করেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, উক্ত সন্ধি পুস্তকের যাবতীয় বিধি-নির্দেশ মূসা নিজ হাতে লিখেছেন। কারণ পরমেশ্বরের নিকট থেকে সমস্ত আজ্ঞা আনার ব্যাপারে ইস্রায়েলের জনগণ মূসাকেই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছে এবং মূসার মাধ্যমে প্রাপ্ত পরমেশ্বরের সমস্ত নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালনের প্রতিশ্রুতি পূর্বেই প্রদান করেছে তারা। সেই প্রেক্ষাপটে যদি পরমেশ্বর মূসাকে নিজের সমস্ত ঐশ্বরিক নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব প্রদান করে এবং তা লিপিবদ্ধ করে পরমেশ্বর প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে থাকে, সেক্ষেত্রে মূসাকে নিজ হাতে তওরাত লিখে পরমেশ্বরের নামে চালিয়ে দেয়ার অপরাধে প্রতারক ঠাওরানোর সুযোগ নেই পূর্বেই তার প্রতি আস্থা স্থাপনকারী ইস্রায়েলি জনগণের। আর সেই সুযোগে মূসা তার কল্পিত পরমেশ্বরের বিধানসমূহ নিজ হাতে লেখার চরম স্বাধীনতা যেমন উপভোগ করেছেন, তেমনি তা স্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেন নি। যেমন:
পরে তিনি মোশীকে বললেন, ‘তুমি ও আরোন, নাদাব ও আবিহু এবং ইস্রায়েলের প্রবীনবর্গের মধ্য থেকে সত্তরজন, তোমরা মিলে প্রভুর কাছে উঠে এসো, আর দূরে থেকে প্রণিপাত কর। কেবল মোশীই প্রভুর কাছে এগিয়ে আসবে; ওরা কাছে এগিয়ে আসবে না, জনগণও তার সঙ্গে আরোহণ করবে না।’ মোশী গিয়ে জনগণের কাছে প্রভুর সমস্ত বাণী ও সমস্ত বিধিনিয়ম জানিয়ে দিলেন; সমস্ত লোক একসুরে উত্তরে বলল, ‘প্রভু যা কিছু বলেছেন, আমরা তা সবই পালন করব।' তাই মোশী প্রভুর সমস্ত বাণী লিখে রাখলেন। [যাত্রাপুস্তক ২৪: ১-৪]
যেহেতু উক্ত শ্লোকে স্পষ্ট স্বীকার করা হয়েছে যে, তওরাত মূসার নিজ হাতে লেখা, সেহেতু মূসার গ্রন্থ তওরাত ঈশ্বরের নিজ হাতে লেখা, এমন ভাবার অবকাশ আমাদের নেই। তবে তওরাত মূসার নিজ হাতে লেখা গ্রন্থ হলেও তা ঈশ্বর প্রদত্ত কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দেহ পোষণ করতে পারি। অর্থাৎ ঈশ্বর নিজ হাতে তওরাত লিখে না দিলেও তার কাছ থেকে শুনে মূসা নিজে লিখেছেন কি না ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে: আদপেই মূসার ঈশ্বর বলে কেউ আছে কি, যিনি মূসাকে ঐশী গ্রন্থ প্রদানের তাড়না অনুভব করেন?

আমরা এই আলোচনায় পূর্বেও দেখেছি যে, মূসা সিনাই পর্বতের অগ্নি-ধূমময় চূড়ায় তার কল্পিত পরমেশ্বরকে দেখানোর এক মহা নাটকের আয়োজন করে ইস্রায়েলের জনগণকে সফলভাবে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হন। যদিও ইস্রায়েলের জনগণ সেদিন পর্বতচূড়ায় ঈশ্বর অথবা মূর্তিমান কিছু দেখেনি। তবুও সে ঘটনাকে ঈশ্বরের উপস্থিতি নির্দেশক ঘটনা বলে দাবি করেন মূসা। এ বিষয়ে বাইবেলে বলা হয়েছে: 
তাই যেদিন প্রভু হোরেবে আগুনের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, যেহেতু সেদিন তোমরা মূর্তিমান কিছু দেখনি, সেজন্য তোমাদের নিজেদের বিষয়ে খুবই সাবধান হও। [দ্বিতীয় বিবরণ ৪: ১৫]
বিধায় মূসার পরমেশ্বরকে ইস্রায়েলের জনগণ চাক্ষুষ দর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় এটাই প্রমাণ হয় যে, মূসার পরমেশ্বর বলে আদৌ কোনো সত্তার অস্তিত্ব নেই।

(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৩৬


ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ০৯

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮

MMonad: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মেয়েরা কী পোশাক পরবে ও কীভাবে জনসমক্ষে আসবে, সেটা স্থির করার অধিকার শুধু তাদেরই।

Ex-Moslim: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আল্যা অ্যালকোহল সৃষ্টি করে তা আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ডিনারের সময় ওয়াইন খেতে পছন্দ করি আমি।

Eiynah: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যে-নবী ভিন্নধর্মানুসারীদের সম্পত্তি/মূর্তি/উপাসনালয় ধ্বংস করে, সে অবধারিতভাবে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে সহিংস হামলা চালাতে অনুপ্রাণিত করে তার নিজের অনুসারীদের।

Abraha3am: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সূর্য পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যায় না। (সুরা ১৮:৮৬)

fl0werii: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার বাবা-মা হুমকি দিয়েছে, আমি কখনও বয়ফ্রেন্ড জুটিয়ে নিলে তারা আমাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেবে।

মুসা: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি যে-মাদ্রাসায় পড়েছি, সেখানকার সব শিক্ষক শিশুদের ধর্ষণ করতো। আমিও বাদ পড়িনি।

samir samir_mashghoul: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ শরিয়া আইন অনুযায়ী সমকামীদের হত্যা করা হয় উঁচু কোনও স্থান থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে। আমি এটা বিশ্বাস করতে পারি না।

nonrelig: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সোফিয়া আর উম কিরফার সঙ্গে মুহাম্মদের কীতি-কাহিনী পড়ার পরেই আমি ইছলামত্যাগের সিদ্ধান্ত নিই।

Salman Rasheed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যে-ভাষা আমি জানি না, সে ভাষায় দোয়া-মোনাজাত করি না।

Ahmed Shoueiry: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি কোরান ও হাদিস সত্যিই পড়েছি। এবং কোনও ভালোবাসা, সহানুভূতি আমি সেসবে পাইনি। পেয়েছি শুধু আইন, ক্রোধ আর ঘৃণা।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২১৯

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: কজমিক ডাস্ট
পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

জিহাদ ও একটি সিনেমা

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

কয়েক দিন আগে একটা হিন্দি সিনেমা দেখছিলাম, নাম — Sheen, যেখানে ১৯৯০-এর কাশ্মীরে 'আজাদ কাশ্মীর' ও শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হিন্দু পণ্ডিত ও শিখ গণহত্যা, গণধর্ষণ ও অত্যাচারের চিত্র প্রচণ্ড সাহসীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবির অধিকাংশ দৃশ্যে উঠে এসেছে চরম ইসলামী ইতরামি।

সাধারণত এইরকম ছবির শেষে দেখা যায় সত্যের বা পীড়িত মানুষের জয় হয়। তবে এই ছবিতে ফারাক এখানেই। ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায় জিহাদিদের জয় হয়েছে। স্থানীয় জিহাদি নেতার বাড়িতে পড়শি দেশের বড় বড় জিহাদি নেতারা জয়-উল্লাসে মাতে। এবং সেই চরম উল্লাসের মাঝে জিহাদি নেতারা সেই স্থানীয় জিহাদি নেতার মুসলিম বোনকে তার সামনে গণধর্ষণ করে ও প্রতিবাদ করলে জিহাদি দাদাকে হত্যা করে। ছবি শেষ।

চলুন, এই সিনেমার সূত্র ধরে আর একটু এগিয়ে যাই। ধরে নিন, সেই জিহাদি ভাই জীবিত থাকতো, তাহলেও কি তার বোনের ওপর এই পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারতো?

উত্তর: না, Never. 

ইসলামি আইনে দাসীপ্রথার যে আইন (!) আছে, তাতে 'ধর্ষণ' একটি সামাজিক বিধান।

আজকের এই বাস্তব বিশ্বেও এটা স্পষ্ট। অন্য ধর্মের কথা তো ছেড়েই দিলাম, জিহাদের আগুন থেকে মুক্তি পায় না ইসলামও। Al Qaida জিহাদের নামে কাফেরের চেয়ে ৮ গুণ বেশি মুসলিমকে হত্যা করে। তালিবান এবং ISIS-এর অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে আফগানিস্তানে ও সিরিয়ায় মুসলিম মেয়েরা আলাদা সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলে। ISIS-এর শাখা সংগঠন বোকো-হারাম মসজিদে বোমা মেরে হত্যা করে প্রার্থনারত মুসলিমদের।

উদাহরণ অগুনতি।

শেষ করবো Sheen ছবিরই একটা গানের লাইন দিয়ে — "...Aao jannat mein jahanam ka nazara dekho... "

অর্থাৎ আমাদের এই বাস্তব পৃথিবী নামক জান্নাতে কল্পিত জিহাদ নামক জাহান্নামের আগুন জ্বললে সেই আগুন থেকে মুক্তি নেই আপনারও।

হা-হা-হাদিস – ১৬১

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!


Narated By 'Amr bin Maimun : During the pre-lslamic period of ignorance I saw a she-monkey surrounded by a number of monkeys. They were all stoning it, because it had committed illegal sexual intercourse. I too, stoned it along with them.

কোরান, নাকি বাইবেল - কোনটি বেশি সহিংস

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে সহিংস গ্রন্থ কোনটি, এ নিয়ে কোনও প্রতিযোগিতা হলে তাতে প্রথম দু'টি স্থান দখল করবে কোরান ও বাইবেল। সহিংসতার বিচারে আর কোনও পুস্তকই এদের নখের যোগ্যও নয়। ফলে তৃতীয় স্থান অধিকারী বইটি থাকবে এদের অ-নে-ক পেছনে।

কিন্তু কোরান ও বাইবেলের ভেতরে কোনটি স‌হিংসতর? প্রথম স্থান দখল করবে কোন কিতাব? নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এমনও সম্ভব, দুটোকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হতে পারে। 

এবার কিছু হিসেব দেখা যাক।

কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা ৫৩২ টি। বাইবেলে - ১৩২১ টি। তার মানে কি বাইবেল জিতে গেল? না। এখন দেখতে হবে শতকরা হিসেব। কারণ কোরানের চেয়ে বাইবেল ঢের বেশি ঢাউস।

কোরানে সর্বমোট আয়াত আছে ৬২৩৬ টি, আর বাইবেলে - ৩১,১০২ টি। অর্থাৎ কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা ৮.৫৩ শতাংশ এবং বাইবেলে - ৪.২৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, শতকরা হিসেবে কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা বাইবেলের দ্বিগুণ।

তার মানে কি কোরান জিতে গেল? সেটাও ঠিক বলা যাচ্ছে না। কারণ আলোচ্য পরিসংখ্যানে হিসেবে আনা হয়নি সহি‌ংসতার মাত্রা। এবং সেই মাত্রা নির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করাও দুরূহ। যেমন, বাইবেল ও কোরানের নিচের দু'টি আয়াতের মধ্যে কোনটি বেশি সহিংস, তা নির্ধারণ করা কি সহজ?
[বাইবেল, গণনা পুস্তক ৩১:১৪-১৮] মোশি ১,০০০ সৈন্যের সেনাপতি এবং ১০০ সৈন্যের সেনাপতি, যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছিল তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। মোশি তাদের বললেন, “তোমরা কেন স্ত্রীলোকদের বেঁচে থাকতে দিয়েছো? পিযোরের বিলিয়মের ঘটনার সময় এই সব স্ত্রীলোকরাই প্রভুর কাছ থেকে ইস্রায়েলীয় পুরুষদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল এবং সেই জন্যই প্রভুর লোকদের মধ্যে মহামারী হয়েছিল। এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল। তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। 
[কোরান ৫:৩৩] যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। 
সহিংসতার প্রতিযোগিতায় যে-কিতাবটিই এগিয়ে থাকুক না কেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার এই যে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এই দুই সহিংস কিতাবে আস্থা রাখে ও বিশ্বাস করে এ জগতের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। 

* এই নিবন্ধ অবলম্বনে 

সমাপ্তির সূচনা

২০১৫ সালে 'দ্য ইকোনমিস্ট' পত্রিকায় প্রকাশিত সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্টুন:

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

আয়েশার প্রতি অপবাদ - ৬: অপবাদকারীকে পুরস্কারে ভূষিত!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১০৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮ > পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর একান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী ও পরিবার সদস্যরা তাঁর প্রিয় পত্নী আয়েশা বিনতে আবু বকরের ওপর যে-ব্যভিচারের অভিযোগ আরোপ করেছিলেন, তার সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি তাঁর আল্লাহর রেফারেন্সে অভিযোগকারীদের কাছে কী সাক্ষ্য হাজির করার আদেশ জারি করেছিলেন; এই প্রমাণ হাজির ব্যতিরেকে আয়েশার ওপর ব্যভিচারের অভিযোগ আরোপকারী দলের মুখ্য সদস্যদের তিনি কী শাস্তির হুকুম জারি করেছিলেন; তাঁর নির্দেশিত এই সাক্ষ্য উপস্থিত করে কোনো ধর্ষণ ও ব্যভিচার প্রমাণ করা কী কারণে প্রায় অসম্ভব (Almost impossible) ও বাস্তবতাবিবর্জিত একটি প্রস্তাবনা; আল্লাহর নামে তাঁর এই নির্দেশ কীভাবে তাঁর মতবাদ (শরিয়া আইন) অনুসারী সমাজের নারীদের জন্য “এক মরণ ফাঁদ” - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা গত দুটি পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা পুনরারম্ভ: [1] [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১০৪) পর:

'সাফওয়ান বিন আল-মুয়াত্তাল যখন জানতে পায় যে, হাসান বিন থাবিত তার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়েছিল ও কবিতার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তার বিরুদ্ধে ও ইসলাম-গ্রহণকারী মুদার এর আরবদের (Arabs of Mudar) বিরুদ্ধে বলে বেড়িয়েছিল, তখন সে তরবারি হাতে তার সম্মুখীন হয়। ইয়াকুব বিন উতবা আমাকে যা বলেছেন, তা হলো, সাফওয়ান তার সম্মুখীন হয় ও তার তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করে। [4] 

মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিথ আল-তায়েমি আমাকে বলেছেন: যখন সে হাসানকে আঘাত করে, তখন থাবিত বিন কায়েস বিন আল-সামমাস (Thabit b. Qays b. al-Shammas) নামের এক লোক সাফওয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও তার হাত দুটো তার গলার সাথে বেঁধে ফেলে। তারপর তাকে সে বানু আল-হারিথ বিন আল-খাযরাজ গোত্রের এক লোকের বাড়িতে ধরে নিয়ে আসে। 

আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (Abdullah b. Rawaha) তার সম্মুখীন হয় ও জিজ্ঞাসা করে, ঘটনাটি কী ঘটেছিল। সে বলে, "আমি কি তোমাকে অবাক করেছি? সে হাসান কে তার তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে; আল্লাহর কসম, সে হয়তো তাকে মেরেই ফেলতো।"

আবদুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে, সে যা করেছে, তা আল্লাহর নবী অবগত আছেন কি না। জবাবে যখন সে বলে, তিনি তা অবগত নন, তখন সে বলে যে, সে দুঃসাহসী কাজ করেছে এবং সে যেন অবশ্যই এই লোকটিকে ছেড়ে দেয়। সে তাই করে। 

অতঃপর তারা আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও তাঁকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। তিনি হাসান ও সাফওয়ানকে ডেকে পাঠান। পরের জন [সাফওয়ান] বলে, "সে আমাকে এমন অপমান ও ব্যঙ্গ করেছে যে, আমি আমার রাগ সমলাতে না পেরে তাকে আঘাত করেছি।"

আল্লাহর নবী হাসানকে বলেন, "তুমি কি আমার লোকদের এই কারণে কু-নজরে দেখো যে, আল্লাহ তাদেরকে ইসলামে সামিল করেছে?" তিনি আরও বলেন, "তোমার ওপর যা ঘটেছে, সে ব্যাপারে সহনশীল হও।" হাসান বলে, "হে আল্লাহর নবী, এটি আপনার এক্তিয়ার (It is yours, O apostle)।"

এই একই সংবাদদাতা আমাকে বলেছেন যে, আল্লাহর নবী ক্ষতিপূরণ বাবদ তাকে বির-হা (Bir Ha) নামের এক জমি প্রদান করেন, আজ মদিনায় যেখানে বানু হুদায়েলা-র দুর্গ অবস্থিত। এই জমিটি ছিল আবু তালহা বিন সা'হি নামের এক লোকের, যিনি ভিক্ষা স্বরূপ এটি আল্লাহর নবীকে দিয়েছিলেন; যা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনি হাসানকে দান করেন (It was a property belonging to Abu Talha b. Sahl which he had given as alms to the apostle who gave it to Hassan for his blow); তিনি তাকে আরও দান করেন শিরিন নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসীকে, যার গর্ভে জন্ম হয় আবদুল রহমান নামের তার এক সন্তান। 

আয়েশা বলতেন, "ইবনুল-মুয়াত্তাল সম্বন্ধে তারা প্রশ্ন করেছিল ও তারা জানতে পেরেছিল যে, সে পুরুষত্বহীন (impotent); সে কখনোই কোনো নারী স্পর্শ করেনি। এই ঘটনার পর সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।"’

আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ): 
'---আল্লাহর নবী হাসানকে দান করেন বারাহ (Barah) নামক স্থানে বেইরাহ (Bayrah) নামের এক ফাঁকা জমি (যেখানে কোনো গাছ-গাছালি নেই) ও তার আশে পাশে যা কিছু আছে এবং শিরিন নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসী।’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, যে-হাসান বিন থাবিত ছিলেন আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা ও প্রচারকারী দলের তিন জন মুখ্য সদস্যের একজন - যাদেরকে মুহাম্মদের আদেশে ৮০টি করে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল (পর্ব: ১০৪), সেই হাসান বিন থাবিত-কে মুহাম্মদ শুধু যে এক বিশাল সম্পত্তি প্রদানে পুরস্কৃত করেছিলেন তা-ই নয়; তিনি তার যৌনসুখের জন্য দান করেছিলেন "শিরিন" নামের এক মিশরীয় খ্রিষ্টান দাসীকে, যে-দাসীর গর্ভে হাসান জন্ম দিয়েছিলেন এক ছেলে সন্তান। 

প্রশ্ন হলো, এই ঘটনাটি ঠিক কখন সংঘটিত হয়েছিল? আয়েশাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদ-এর বাণীবর্ষণ ও হাসান বিন থাবিত-কে শাস্তি প্রয়োগ করার আগে? নাকি তার পরে? আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত ধারাবিবরণীতে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল আয়েশাকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য মুহাম্মদ-এর বাণীবর্ষণ ও হাসানকে শাস্তি প্রয়োগ করার পর। অর্থাৎ হাসানকে অভিযুক্ত ও শাস্তি প্রয়োগ করার পূর্ব পর্যন্ত সাফওায়ন ও আয়েশাকে নিয়ে মুহাম্মদ অনুসারীদের এই রটনার কিছুই হয়তো সাফওয়ান জানতেন না। যদি তিনি তা আগে থেকেই জানতেন, তবে নিরপরাধ হাসানকে (মুহাম্মদ তখনও তাকে অভিযুক্ত করেননি) আঘাত করার জন্য সাফওয়ানের বিচার ও শাস্তি হওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছিল হাসানকে অপরাধী সাব্যস্ত করার পর, হাসানকে আঘাত করার জন্য মুহাম্মদ সংক্ষুব্ধ সাফওয়ানকে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করেননি।

কে এই শিরিন? 

মুহাম্মদ কি তাকে 'লুট' করে পেয়েছিলেন (গণিমত)? নাকি তিনি তাকে ক্রয় করেছিলেন?

উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে নিরীহ জনপদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের নারীদের ধরে নিয়ে এসে যৌনদাসীতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুহাম্মদ শিরিনকে হস্তগত করেননি, অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি তাকে কিনেও আনেননি। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী, মুহাম্মদ ইবনে সাদ প্রমুখ আদি বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ মিশরীয় সম্রাট আল-মুকাওকিস এর কাছ থেকে শিরিনকে উপঢৌকন হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ জারীকৃত ইসলাম নামক বিধানে কোনো নারীকে “লুট, ক্রয় ও উপঢৌকন” হিসেবে গ্রহণ করে তার সাথে অবাধ যৌনমিলন সম্পূর্ণরূপে বৈধ!

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৩০

কোরান কুইজ – ৮৭

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৯৭: শয়তান তথা ইবলিশের পরিচয় কী?

১. ফেরেশতা
২. জ্বিন

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

আরব দেশে নারীর দশা - ০৪

আরবিতে লেখা: "আমাদের কিছু রীতি ও ঐতিহ্য" 
Al-Yawm (Saudi Arabia), July 30, 2007

ভ্রূণের গায়ে আরবিতে লেখা: "নারী"
Al-Watan (Kuwait), September 8, 2007

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

ভণ্ড জাকির নায়েকের ভণ্ডামি: পর্ব দুই (চতুর্থ অংশ)

লিখেছেন ডঃ চ্যালেঞ্জ নায়েক


জাকির নায়েক নির্লজ্জের মতো এই কাজটি করে এবং মিথ্যা বলে মানুষের সাথে প্রতারণা করে।

এই আয়াতে ইয়াজবাহুন অর্থ কক্ষপথে ভ্রমণ করা অথবা কোনো পথে বিচরণ করা বা ভ্রমণ করা। কিন্তু জাকির নায়েক ইয়াজবাহুন-এর মূল শব্দটি এনে এই শব্দটির অর্থ পরিবর্তন করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। ইয়াজবাহুন শব্দটি সাবাহা শব্দটি থেকে আসুক আর না আসুক, এটা দিয়ে যে-অর্থটিকে প্রকাশ করা হয়েছে কুরআনে, অনুবাদের সময় সেই অর্থটিকেই অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এখন ইয়াজবাহুন শব্দটি সাবাহা থেকে এসেছে, তাই সাবাহা শব্দটির যা অর্থ, ইয়াজবাহুন শব্দটিরও সে অর্থই হবে, সেটা দাবি করা রীতিমত হাস্যকর। হস্ত থেকে যদি হস্তী শব্দটি তৈরি হয়, তবুও হস্তী (হাতি) এবং হস্ত (হাত) এক অর্থে ব্যবহৃত হবে না কোনোদিনও। ঠিক তেমনি ইমপসিবল (impossible) শব্দটি এসেছে পসিবল (possible) শব্দটি থেকে। তাই বলে কি আমি দাবি করতে পারি যে, যেহেতু ইমপসিবল শব্দটি এসেছে পসিবল শব্দটি থেকে, তাই ইমপসিবল অর্থ সম্ভব। সেটা রীতিমত হাস্যকর শোনাবে। কারণ আমরা জানি, ইমপসিবল (অসম্ভব) এবং পসিবল (সম্ভব) শব্দ দুটো পরস্পর বিপরীত অর্থ বহন করে। আর তাই ইয়াজবাহুন-এর অর্থ সাবাহা শব্দটি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। এক্ষেত্রে ইয়াজবাহুন শব্দটি সাবাহা শব্দটির অনুরূপ অর্থ প্রকাশ করলেও ইয়াজবাহুন শব্দটি দিয়ে যা বোঝায়, সেটাই ব্যবহার করতে হবে। অন্য বা ভিন্ন অর্থ এনে নতুন অর্থ করাটা হবে ভণ্ডামি বা প্রতারণা।

কিন্তু জাকির নায়েক সাবাহা শব্দটি এনেই ক্ষান্ত হয়নি, উপরন্তু সাবাহা শব্দটির অর্থকেও পরিবর্তন করে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানানোর চেষ্টা করেছে সে। জাকির নায়েক বলেছে, ইয়াজবাহুন শব্দটি এসেছে মূল শব্দ সাবাহা থেকে। আর সাবাহা দিয়ে চলন্ত কোন কিছুর গতিকে বুঝানো হয়। তবুও জাকির নায়েক ধরা খেয়ে গেছে। কারণ ইয়াজবাহুন শব্দটির বদলে যদি সে সাবাহা শব্দটির অর্থকেও ব্যবহার করে, তবুও সূর্যের নিজ অক্ষের চার পাশে প্রদক্ষিণ করা বোঝাবে না। কারণ সাবাহা দিয়ে চলন্ত কিছুর গতিকে বোঝায়। অর্থাৎ সাবাহা দিয়ে সূর্যের চলন্ত অবস্থার গতিকে বোঝাবে। সূর্য যে পৃথিবীর চারপাশে গতিশীল সেটাই বোঝাবে। কারণ জাকির নায়েক নিজেই বলেছে যে, সাবাহা দিয়ে চলন্ত কিছুর গতিকে বোঝায়। অর্থাৎ সূর্যের চলমান অবস্থার গতিকে বোঝাবে; নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিণের কথা বোঝাবে না।

চালাকি করেও জাকির নায়েকের প্রতারণা ঢাকতে পারলো না জাকির সাহেব। জাকির নায়েক বলেছে, “যদি বলা হয়, কোনো মানুষ মাটির উপরে সাবাহা করছে, তার মানে এই নয় যে, সে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এর অর্থ সে হাঁটছে বা দৌড়াচ্ছে।” এই বাক্যটিতে জাকির নায়েকের চালাকিটা দেখার মতো বটে! সে নিজেই বলেছে যে, সাবাহা অর্থ চলন্ত কিছুর গতিশীলতা। আর তাই যখন বলা হবে মানুষটি সাবাহা করছে, তখন এমনিতেই এর অর্থ হবে - মানুষটি গতিশীল আছে বা চলন্ত আছে। অর্থাৎ সে হাঁটছে বা দৌড়াচ্ছে। কারণ হাঁটা আর দৌড়ানোই হলো মানুষের ক্ষেত্রে চলন্ত কিছুর গতিশীলতা। মাটিতে গড়াগড়ি করা কোনো চলন্ত প্রক্রিয়া নয়। কারণ মাটিতে গড়াগড়ি করা মানুষের চলন্ত অবস্থা বোঝায় না। হাঁটা বা দৌড়ানো দিয়ে মানুষের চলন্ত অবস্থা বোঝানো হয়। কিন্তু জাকির নায়েক প্রতারণা করার জন্য বলছে, এখানে সাবাহা অর্থ মাটিতে গড়াগড়ি হবে না। যদি সাবাহা অর্থ চলন্ত কিছুর গতিশীলতাই হয়, তবে সেটা এমনিতেই গড়াগড়ি খাওয়া বোঝাবে না। এর জন্য এই অবান্তর কথাটির আমদানী করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু জাকির নায়েক এই অবান্তর কথাটিকে এজন্যই এখানে এনেছে, যেন তার প্রতারণা কেউ ধরতে না পারে।

এরপর জাকির নায়েক বলেছে, “যদি আমি বলি যে, একজন মানুষ পানিতে সাবাহা করছে; তার মানে এই নয় যে, সে ভেসে আছে। এটার অর্থ সে সাঁতার কাটছে।” এখানেও জাকির নায়েক প্রতারণামূলক কথার আমদানী করেছে। যদি সাবাহা অর্থ চলন্ত কিছুর গতিই হয়, তবে পানিতে সাবাহা করার অর্থ এমনিতেই সাঁতার কাটা হয়। ভেসে থাকা হবে না; কারণ সাবাহা দিয়ে চলন্ত কিছুকে বোঝানো হয়। আর ভেসে থাকা মানে সেটা চলন্ত কিছুর গতিশীলতা নয়। তবে সাঁতার কাটা মানে চলন্ত কিছুর গতিশীলতা। আর তাই পানিতে সাবাহা করা মানে পানিতে সাঁতার কাটাই। কিন্তু এই কথাটাও জাকির নায়েক তার প্রতারণাকে বৈধ করার জন্য আমদানী করেছে।

এরপর জাকির নায়েক বলেছে, “একই ভাবে পবিত্র কুরআনে যখন বলা হচ্ছে 'ইয়াজবাহুন' যার মূল শব্দ সাবাহা, গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে তখন সেটা উড়ে যাওয়া বোঝায় না, নিজ অক্ষের চারদিকে প্রদক্ষিণ করা বোঝায়।” এখানে জাকির নায়েকের ভণ্ডামী বা প্রতারণাটা দেখার মতো। নিজেই সাবাহা'র অর্থ চলন্ত কিছুর গতিশীলতা বলে নিজেই এর অর্থকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে। কেন গ্রহ-নক্ষত্রের ক্ষেত্রে সাবাহা শব্দটির অর্থ বদলে যাবে? জাকির নায়েক তো বলেছে সাবাহা অর্থ চলন্ত কিছুর গতি। তাহলে গ্রহ-নক্ষত্রের ক্ষেত্রে কেন চলন্ত গ্রহ-নক্ষত্রের গতিশীলতা হবে না? জাকির নায়েক সাবাহার অর্থ বলেছে চলন্ত কিছুর গতি অর্থাৎ কোন কিছুর গতিশীলতা। তাহলে কেন গ্রহ নক্ষত্রের গতিশীলতা বা চলমানতা না বুঝিয়ে নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা বোঝাবে? তাহলে ভুলে ভরা কুরআনকে বিজ্ঞানময় হিসেবে দেখানো যাবে, এই জন্য?

লক্ষ্য করুন, সাবাহা অর্থ চলন্ত কোন কিছুর গতি বা গতিশীলতা। তাহলে গ্রহ-নক্ষত্রের ক্ষেত্রে সাবাহা শব্দটির অর্থ এমনিতেই হবে গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণ বা ভ্রমণ বা চলমান থাকা। কিন্তু জাকির নায়েক এই স্বাভাবিক অর্থটিকে না নিয়ে তার সুবিধা অনুযায়ী ভিন্ন অর্থ নিচ্ছে: নিজ অক্ষের চারদিকে প্রদক্ষিণ। নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিণ বলা হলে এটি চলন্ত কিছুর গতিকে বোঝালো না। কারণ চলন্ত কিছু হতে হলে তাকে জায়গা বদলাতে হয়। অর্থাৎ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা বোঝাতে হবে। যেমনটি মাটিতে সাবাহ করা অর্থাৎ হাঁটা বা দৌড়ানো এবং পানিতে সাবাহা করা বা সাঁতার কাটা। কারণ হাটা বা দৌড়ানো অথবা সাঁতার কাটা দিয়ে চলন্ত কিছুর গতিকেই বোঝানো হয়। তবে গ্রহ-নক্ষত্রের ক্ষেত্রেও সাবাহা অর্থ গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণ বা বিচরণ অর্থই ব্যবহৃত হবে। তবেই সাবাহা অর্থ চলন্ত কিছুর গতিশীলতা অর্থটি সঠিক হবে।

কিন্তু জাকির নায়েক সেটা না করে নিজের মত করে সাবাহার অর্থকে নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা বলে চাপিয়ে দিচ্ছে। আর কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানাচ্ছে। কারণ নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিন করা চলন্ত কিছু হলো না। একটা গাড়ির স্থির অবস্থায় চাকা ঘুরলেই সেটাকে চলন্ত বলা হয় না। সেই চাকা ঘোরাটা যখন গাড়িটিকে স্থান পরিবর্তন করাবে তখনই সেটা হবে চলন্ত অবস্থা। আর তাই গ্রহ-নক্ষত্রের নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা কোনো চলন্ত প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি স্থির প্রক্রিয়া। কারণ নিজ অক্ষের চারপাশে প্রদক্ষিন করলেও গ্রহ-নক্ষত্র স্থান পরিবর্তন করবে না। কিন্তু গ্রহ-নক্ষত্রের বৃত্তাকার পথে পরিভ্রমণ করা ব্যবহার করলেই কেবল এটি দিয়ে গতিশীলতা বা চলন্ত অবস্থা বোঝাবে।

তাই জাকির নায়েকের দাবীর মতো সাবাহা বা ইয়াজবাহুন দিয়ে কখনই নিজ অক্ষে প্রদক্ষিণ করা বোঝায় না। তাই কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানাতে আয়াতের অর্থকে পরিবর্তন করে অযৌক্তিকভাবে নতুন অর্থ করলেই তাদের দাবির মতো করে কুরআন বিজ্ঞানময় হয়ে যাবে না। কুরআনের আসল অর্থ অনুযায়ী কুরআনের এই আয়াতটিতে ইয়াজবাহুন দিয়ে সূর্যের গতিশীলতা বুঝিয়েছে; নিজ অক্ষকে প্রদক্ষিন বোঝায়নি। আর এই গতি যে গ্যালাক্সির চারপাশে বৃত্তাকারে ভ্রমণ নয় বরং পূর্ব থেকে পশ্চিমে পৃথিবীকে পরিভ্রমন করা সেটা সেই হাদিসে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। আর তাই জাকির নায়েকের ভণ্ডামি অনুযায়ী এর অর্থ পরিবর্তন করলেই কুরআন বিজ্ঞানময় হয়ে গেলো না। বরং কুরআনের ভুল প্রমাণিত হলো।

পণ্ডিতত্রয়ী

পৌরাণিক কাহিনীর চরিত্র যিশুর যখন জন্ম হয় কুমারী-মাতার গর্ভে, তখন আকাশের বুকে ফুটে উঠেছিল বিশেষ একটি তারা, যেটি দেখে পূর্বদেশের তিন পণ্ডিত (ম্যাজাই) বুঝে ফেলে, জন্ম হয়েছে রাজাধিরাজের, যে মানবজাতিকে মুক্তির পথ দেখাবে। এবং তারা দেখে তারা উপহার নিয়ে হাজির হয় যিশুর জন্মস্থলে।... মানুষ কতোটা নির্বোধ হলে এই জাতীয় বল্দার্গুতে বিশ্বাস করতে পারে!


পণ্ডিতদের উপহারগুলো এমনও হতে পারতো...

নিশ্চয়ই মুছলিমদের ইতরামির দায় ইহুদিদের

লিখেছেন জর্জ মিয়া

দেশের জঙ্গিবাদ নিয়ে কথা উঠলেই সরকারসহ প্রায় মুছলিমই বলেন, এটা ইহুদিদের ষড়যন্ত্র! ঠিক কোন দিক দিয়ে ষড়যন্ত্র, আমি বুঝতেছি না, দয়া করে কোনো মুসলিম যদি একটু বুঝিয়ে দিয়ে যেতেন, উপকৃত হতাম। 

পৃথিবীর সর্বমোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২ শতাংশ ইহুদি অর্থাৎ দেড় কোটিরও কম। ভিন্নভাবে বললে, শুধু ঢাকা শহরের মানুষের সংখ্যাই সমগ্র পৃথিবীর ইহুদিদের চেয়ে বেশি। এবং প্রতি ১ জন ইহুদির জন্য পৃথিবীতে আছে ১০০-রও বেশি মুছলিম। পৃথিবী নিজেই যেখানে সাক্ষী দেয়, এখন পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এই ইহুদি জাতিটাই এগিয়ে আছে সবার থেকে। হিটলার ও ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ খুনোখুনিও কম হয়নি। এতসব করেও তারা আজকে উজ্জ্বল দাঁড়িয়ে আছে দুনিয়াতে। শুধুমাত্র উঠে আসার চেষ্টায়। ইছলামের নবী মোহাম্মদের কাছে তার ও আল্লার সব থেকে বড় শত্রু ছিলো এই ইহুদিরা। এখানে বলতে দ্বিধা নেই, মোহাম্মদ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। সে হয়তো বুঝতে পেরেছিল যে, যদি ইহুদিরা বেঁচে থাকে, তাহলে তার আঁধার ইসলাম কখনই কোনোভাবেই প্রসারিত করা যাবে না। 

এ কারণেই ইহুদিদের একের পর এক গোত্র কচুকাটা করে গিয়েছিল সে নিজের জীবদ্দশায়। আল্লা নিজেও বলে দিয়েছে তার কিতাবে, ইহুদিদের কোনোভাবেই বন্ধুরূপে গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো মুসলিমের উপকারেও আসে, তবুও না। এখানে সব মুছলিমকে আল্লার শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে। কাফের মুশরিক, মুরতাদ ও ইহুদি এরা হচ্ছে ইছলামের প্রধান শত্রু! 

ঠিক কোন কারণে এরা শত্রু, সেটা বুঝতে গেলে আমাদের ঘুম থেকে জাগা দরকার। কয়েক দিন আগে খবরে দেখলাম, আমেরিকায় নাকি মুছলিমদের প্রবেশ করতে বেশ বেগ পেতে পোহাতে হচ্ছে। ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। বুঝতেছি না, মুছলিম ভাই-বোনেরা কেন এসব ইহুদি-নাসারা দেশে পাড়ি জমায়। ইছলামী স্রষ্টা আল্লা ও তার বার্তাবাহকের নিষেধ থাকার পরেও কেন যাচ্ছে? এটুকু বুঝতে একটু হাদিসের সিরাতের দিকে এবার চোখ বোলাতে হয়:
সাহাবী আবু হুরায়রাহ (রা) হতে বর্ণিত:
তিনি বলেন: রসুল (সা) বলেন: কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষন না মুসলমানরা ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ করবে। তখন মুসলমানরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যে কোন ইহুদি কোন গাছ বা পাথরের পেছনে লুকিয়ে থাকলে সে গাছ বা পাথর বলবে: হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দাহ! এই যে ইহুদি আমার পিছনে লুকিয়ে আছে। আসো তাকে হত্যা করো। কিন্তু গারক্বাদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরেকে কিছুই বলবে না। [বুখারী, হাদীস নাং-২৯২৬, মুসলিম, হাদীস নং-২৯২২,]
সাহাবী আবু উমামাহ্ (রা) হতে বর্ণিত:
তিনি বলনে: রসুল (সা) একদা আমাদের সামনে আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার অধিকাংশই ছিলো দাজ্জাল সম্পর্কে। তিনি দাজ্জাল থেকে আমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। দাজ্জালের আবির্ভাব, ইসা (আ) এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা নিয়ে তিনি আলোচনা করলছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন: একদা ইসা (আ) বলবেন: (বাইতুল মাক্বদিসের) দরোজা খোলো। তখন দরজা খোলা হবে। তার পেছনে থাকবে দাজ্জাল এবং দাজ্জালের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহুদি। তাদের প্রত্যেকেই থাকবে তলোয়ারধারী এবং মোটা চাদর পরিহিত। দাজ্জাল যখন ইসা (আ) কে দেখবে তখনই সে চুপসে বা গলে যাবে যেমনভাবে গলে যায় পানিতে লবণ এবং সে ভাগতে শুরু করবে। তখন ইসা (আ) বলবেন: তোমার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটি কঠিন মার রয়েছে যা তুমি কখনো এড়াতে পারবে না। অতঃপর ইসা (আ) তাকে পূর্ব দিকের লুদ্দ নামক গেইটের পাশেই হত্যা করবেন। আর তখনই ইহুদিরা পরাজিত হবে। এ দুনিয়াতে আল্লহা তাআলার যে কোন সৃষ্টির পিছনে কোন ইহুদি লুকিয়ে থাকলে আল্লাহ তাআলা সে বস্তুকে কথা বলার শক্তি দিবেন এবং বস্তটি তার সম্পর্কে মুসলমানদেরকে বলে দিবে। চাই তা পাথর,গাছ,দেয়াল কিংবা যে কোন পশুই হোক না কেন। কিন্তু গারক্বদ নামক গাছটি। সে তো তাদেরই গাছ। তাই সে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদেরকে কিছুই বলবে না। [ইবনু মাজাহ হাদীস নং-৪০৭৭]
এছাড়াও আমরা আরও দেখি, আবু আফাক নামের ১২০ বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ ইহুদি কবি এবং কোলের সন্তানকে স্তন্যপান অবস্থায় আসমা বিনতে মারওয়ান নামের পাঁচ সন্তানের এক জননীকে পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে অমানুষিক নৃশংসতায় কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল নবীর নির্দেশে। প্রতারণার আশ্রয়ে রাতের অন্ধকারে কাব বিন আল-আশরাফকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। প্রতারণার আশ্রয়ে খাদ্যের সাহায্য চেয়ে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে হত্যার নজিরও আছে ইছলাম ধর্মের একেবারে শুরুতেই। হ্যাঁ, ঐ লোকগুলিকে হত্যা করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল নবী মোহাম্মদ ও তার সাহাবীরা। এবার চলুন বর্তমান দেখি:

কিছুদিন আগে আইএস-এর উত্থান, সিরিয়াসহ বেশ কিছু আরব এলাকায় হত্যাযজ্ঞ চালানো, ইহুদিদের দেশে মুছলিমদের অনুপ্রবেশ, সে দেশের মানুষের টাকায় খেয়ে-পড়ে সেসব মুছলিমগন এখন আল্লার ইবাদতে মশগুল, ইন্টারনেটে আল্লা-নবীর বাণীও প্রচার করছে তারা। আল্লাহর ইচ্ছায় ইহুদি-নাসারারটা খেয়ে-পড়ে আরামেই আছে; খুব আয়েশেই আছে বাস্তুহারা সেসব মুছলিমরা। এর পরে কী দেখলাম? ফ্রান্সে আত্নঘাতী বোমা হামলা! ইছলামের জন্মই হয়েছে এভাবে। যে পাতে খাবে, সে থালা ফুটা করে বলবে "না'রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর"!

দেশে জঙ্গিদের বেশ আনাগোনা, ইতিমধ্যে মুরতাদ-নাস্তিক, হত্যা করেছে তারা। হাদিস-সিরাত গ্রন্থানুযায়ী বলা যায় যে, নবী মোহাম্মদের ইছলামী প্রচার-প্রসার মতবাদের সাথে খাপ খায় না, এমন যে কোনো মতের লোকই হতে পারে খুন মুছলিম জিহাদিদের হাতে!

এখানেও রব উঠেছে "কোন জঙ্গি নেই, সব ইহুদিদের চক্রান্ত।" বুঝতে বাকি নেই, কোন দিকে ইঙ্গিত করছে এসব বক্তা। কথার প্রেক্ষিতে একটা কথা বলা যায়: মুছলিমরা এতই গর্দভ যে, মুছলিমরা শুধু ইহুদিদের ফাঁদে পা দিয়ে মানুষ মারে। কিন্তু ইছলামী দলিল তো তা বলে না, ইছলামী দলিল সরাসরি বলে মানুষ হত্যার কথা। তবে মুছলিদের এখন অবশ্যকর্তব্য ইহুদিদের বিনাশ না করে টিকিয়ে রাখা। নইলে নিজেদের বর্বরতায় দায় মুছলিমরা কার কাঁধে চাপাবে?

নিজেরে যখনই আবাল মনে হবে - ০৮

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

বাংলাদেশে পাকিস্তানের ফিরে আসা

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

২৫ শে মার্চ গণহত্যার শুরুর আগে পাকিস্তানি জেনারেল নরপশু টিক্কা খান নির্দেশ দিয়েছিল, "বাঙালি মেয়েদেরকে ধর্ষণ করো, তাদের সম্পত্তি লুট করো, আর পুড়িয়ে দাও সবকিছু।"

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিল যে দানব নিয়াজী, সেও সৈন্যদের যৌন উস্কানিমূলক ব্রিফিং দিয়ে ধর্ষণে উৎসাহিত করতো এভাবে: "গত রাতে তোমার অর্জন কী, শেরা(ব্যাঘ্র)?" চোখে শয়তানের দীপ্তি নিয়ে জিজ্ঞাসা সৈনিকদের করতো সে। অর্জন বলতে কয়জন নারীকে ধর্ষণ করেছে, সেটা বোঝাতো। নিয়াজী নির্লিপ্তভাবে ধর্ষণের পক্ষে যুক্তি দিতো, "সৈন্যরা বাস করবে, যুদ্ধ করবে এবং মরবে পূর্ব পাকিস্তানে আর যৌনক্ষুধা মেটাতে যাবে পশ্চিম পাকিস্তান, এটা তুমি আশা করতে পারো না। পারো?"

এটা ছিল বাঙালি মেয়েদের প্রতি পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গি। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নয়টি মাস পাকিস্তানিরা তাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখিয়েছে বিভীষিকাময় ধর্ষণের মাধ্যমে।
সমগ্র ঢাকা শহর থেকে শহর থেকে বালিকা, কিশোরী, যুবতী এমনকি মাঝবয়সী নারীদেরকে ধরে নিয়ে এসে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জড়ো করা হয়। সাথে সাথে তাঁদের কাপড়, পোশাক খুলে নিয়ে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে উন্মত্ত পশুর মতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সৈনিক থেকে অফিসার সকল পদবীর লোকেরা সাথে সাথে যার যাকে ইচ্ছা ধর্ষণ করতে শুরু করে। কোন মেয়ে প্রতিবাদ করলে তৎক্ষণাৎ তাদের যোনি এবং গুহ্যদ্বারের মধ্যে বন্দুক, বেয়নেট ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে তাঁদের দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। এসব দেখে আর বাকি মেয়েরা কথা বলার সাহস করে নি।
মেয়েদের ঠোঁট, বুকের স্তন, মাংস দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিতে শুরু করে তারা। অনেক মেয়েই ঠিক সেখানেই প্রাণ হারায়। পাকিস্তানিদের বর্বরতার সীমা পরিমাপ করা যায় না। একটা উদাহরণ দিই, "অনেক ১০-১২ বছর বয়সের মেয়েকে উপর্যুপরি ধর্ষণের কারণে মেয়েগুলো অধিকাংশই প্রায়ই প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়ে যায়। যখন পাকিস্তানি সৈন্যরা বুঝতে পারলো এই ছোট মেয়েগুলো আর সুস্থ হবে না এবং ভবিষ্যতে এদের আর ধর্ষণ করা যাবে না তখনি তারা ঐ মেয়েদের পা দুইদিকে টেনে দেহটাকে ছিঁড়ে দুইভাগ করে ফেলে।"
আর এখন গ্যালারিতে বাংলাদেশের মেয়েরা মুখে পাকিস্তানের পতাকা এঁকে নাচে। পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান দেয় দর্শকেরা। পাকিস্তানি সৈন্যরা মুখে মাইক্রোফোন নিয়ে বলে,"দর্শকদের সমর্থন দেখে মনে হচ্ছিলো যেন আমরা নিজেদের ঘরের মাটিতে খেলছি। বাংলাদেশ আমাদের সেকেন্ড হোম।" এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে?

আরেকদল আসে ইতিহাস শেখাতে। এরা জামাত শিবিরের কাজিন - আমাদের বিপ্লবী বামাতি ভাইয়েরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে পাকিস্তানিদের ঘৃণা করা নয়! সব পাকিস্তানি এক নয়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে: তো ৭১-এ দীর্ঘ নয় মাস বাঙালিদের ওপর এই নির্যাতন চালানোর সময় সাধারণ পাকিস্তানিদের প্রতিবাদ বা ভূমিকা কী ছিল? এখনকার পাকিস্তানিদের বাংলাদেশ এবং বাঙালিদের নিয়ে মন্তব্য কী? রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান কখনও ক্ষমা চেয়েছে কি? সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্ট শোক প্রস্তাব পাশ করে।

সেই পাকিস্তান আর পাকিস্তানিদের জন্য এই কার্ল মার্ক্স আর লেনিনের মুখোশ পরা ভণ্ডদের প্রেম উপচিয়ে উপচিয়ে পড়ে। একটু খবর নিয়ে দেখেন, বাপ-দাদা কেউ না কেউ কট্টর জামাতি, আর তারা নিজেরাই কট্টর ধর্মান্ধ। শুধু বাম রাজনীতির একটা মুখোশ পরে বসে আছে প্রগতিশীলতার ভান ধরার জন্য। এটা রক্তে মিশে থাকা পাকিস্তান প্রেম।

নাটোর থেকে ভারত নিয়ে যাওয়ার সময় এক যুদ্ধবন্দী পাকিস্তানি সৈন্য চিৎকার করে করে বলছিলো, "হাম ফির আয়েঙ্গে, ফির আয়েঙ্গে।"

কতভাবেই না ফিরে আসা যায়। সশরীরে ফিরে আসতে হয় না। আসলেই তারা ফিরে এসেছে। ক্রিকেটপ্রেমের আড়ালে পাকিস্তান প্রেমের মধ্যে দিয়ে, উদারনীতির মাধ্যমে জামাত-শিবিরের মার্ক্সবাদী ফরম্যাট বামদের পাকিস্তান-প্রেমের মধ্যে দিয়ে, সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে দিয়ে, উগ্র ধর্মান্ধতার মধ্যে দিয়ে, ধর্মরক্ষার প্রয়োজনে প্রগতিশীল মানুষ খুনের মধ্যে দিয়ে।

নিজে একটু কান পেতে শুনুন, পাকিস্তানি সৈন্যটির "হাম ফির আয়েঙ্গে.....আয়েঙ্গে" চিৎকার আপনি নিজেও শুনতে পাবেন। বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে অনুভব করতে পারবেন পাকিস্তানের উপস্থিতি।

যিশু - কাল্পনিক চরিত্র

সর্বমোট তিনটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক:
http://imgur.com/a/iR67c

বাইবেলের যিশু কখনও এই ধরাধামে ছিলো, এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কোথাও পাওয়া তো যায়ই না, তদুপরি তার জন্ম, মৃত্যু, পুনরুত্থানসহ অনেক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যিশু-পূবর্বর্তী কিছু কল্পিত ঈশ্বর-দেবতার জন্ম, মৃত্যু, পুনরুত্থানসহ অনেক কর্মকাণ্ডের এতো বেশি সাদৃশ্য যে, যিশুকেও তাদেরই মতো একজন বলে ধরে নেয়াটাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ০৮

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭

Ali A. Rizvi: ‏আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোরান বায়োলজিটাও ঠিকমতো জানে না। ওতে বলা আছে, বীর্য নাকি বুকের কোন এক অংশ থেকে আসে।

sup: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সম্মান আমার প্রাপ্য, কিন্তু নারীর প্রতি ইছলামের আচরণ খুবই অসম্মানজনক।

Shah: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাদের এই পৃথিবী, প্রকৃতি এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের প্রবল স্পৃহা আমার। কিন্তু ধর্ম সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে সক্ষম নয়।

শাহাদত: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ছোটবেলায় আরবি পড়ানোর হুজুর আমার প্যান্টে হাত ঢুকিয়ে আমাকে তার কোলে বসানোর চেষ্টা করেছিল।

Eiynah: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ শরিয়া আইনের শাসনের ভেতরে বড়ো হয়ে ওঠা বলতে কী বোঝায়, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি।

Sohail Ahmed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার পুরুষাঙ্গের আগা কেটে নেয়া হয়েছে!

Yas: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাকে আমার নিজের মা বলেছে, আমাকে মেরে ফেলা দরকার, কারণ মা যা বিশ্বাস করে, আমি তা বিশ্বাস করি না।

mynameismyown: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ শৈশবে আমার মগজ ধোলাই করা হলেও বড়ো হয়ে নিজে চিন্তা করতে শেখার সঙ্গে সঙ্গে আমি ইছলাম ত্যাগ করেছি।

Imad Iddine Habib: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ একবার আমি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, কোরান হচ্ছে পুরুষের মস্তিষ্কপ্রসূত ফ্যান্টাসি, তখন পুলিশ আমার বাসায় এসে আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছিল।

Ahmed Ahmedaa1000: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ "আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য..." (কোরান ৮:৪১)

ফ্যাশনের হাওয়া

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

দু'টি প্যারোডি

লিখেছেন নাস্তিকথন


নবীরে নবী, কোথায় যাস?
ক্বাবার ভিতর পালব হাঁস।
হাঁস কী হবে?
বেচব কাল,
তলোয়ার আর কিনব ঢাল।
ঢাল কি হবে?
বদর বাঁকে
কাফেলা ধরব ঝাঁকে ঝাঁকে।
(গনিমতের) মাল কী হবে?
বেচব হাটে,
কিনব দাসি পাটে পাটে।
নিজে নেব সাফিয়া দাসি
জবাই দিব ৩ টা খাসী।

#


আমাদের ছোটো নবী চলে হেজাজ বাঁকে
রমজান মাসে নবী অনাহারে থাকে।
বার হয়ে ঘর থেকে পথ চলে নারী
দুই বুক উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

নারী দেখে দণ্ডটা নড়ে দেয় বাধা
জোব্বাটা ভিজে যায় থকথকে সাদা।
জিকজিকির করে সেথা চ্যালাদের ঝাঁক,
রাতে শুনি হুক্কা হুয়া সাবাহার হাঁক।

ইছলামী শিশুশিক্ষা


"বোরকার মধ্যে একেকটা সাক্ষাৎ শয়তান!"

লিখেছেন ভবঘুরে বিদ্রোহী

আজই সন্ধ্যায় একটি জরুরি প্রয়োজনে কোম্পানীঘাট ম্যাটাডর প্লাস্টিক ফ্যাক্টরীঘেষা মসজিদসংলগ্ন ছোট্ট ব্রিজটি যখন পায়ে হেঁটে পার হচ্ছি, দাড়ি-টুপি-পাগড়ি-পাঞ্জাবি পরা ইয়াবড় এক হুজুরকে উচ্চস্বরে বলতে শুনলাম, "রোরকা পরা একেকটা সাক্ষাৎ শয়তান!"

ঈশ্বর-শয়তান অনুসন্ধানরত, স্বেচ্ছানিযুক্ত এক সদস্যবিশিষ্ট অভিযাত্রীদলের প্রধান হিসাবে ঈশ্বরের সহোদর শয়তান দর্শনের হঠাৎ এমন সুযোগ পাওয়ায় আমার যারপরনাই কৌতূহল বেড়ে গেলো। অথচ ডানে-বামে সামনে আশেপাশে দৃশ্যমান বোরকাপরা এমন কোনো শয়তানের অস্বাভাবিক তেমন কোনো কর্মকাণ্ডই অধম ভবঘুরের খোলা চোখে ধরা পড়লো না।

আমি অগত্যা ঘাঢ় কাত করে আড়চোখে পেছনে তাকালাম, হুজুর পাগড়িওয়ালা আশেপাশে তাকিয়েই হয়তো উচ্চস্বরে এমন বিকট বিদ্রূপাত্মক মহামন্তব্যখানা করছেন, তার চোখ তো আর শয়তান অধরা নয়। কিন্তু সে তো ততোক্ষণে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে গ্রীবা উঁচিয়ে দ্রুতপদে ছোট্ট কালভার্ট ব্রিজ পেরিয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছে গেছে।

আমি দেখলাম, ব্যস্ত রাস্তায় আশেপাশে বোরকা-পরা দু'-চারজন যে নেই, এমন নয়, বোরকা ছাড়াও নানাবয়সী নানা পোশাকে নানা পেশার পথচারী মেয়ে বা মহিলারা হতবাক হয়ে একে অন্যের দিকে অজানা অপরাধে অসহায়ের মতো তাকাচ্ছে; কে কী বলবে পঞ্চাশোর্ধ বাপসম এই নারীবিদ্বেষী অতিধার্মিক পাগড়িওয়ালা কাঠমোল্লা পুরুষটাকে? আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় আমারও আর কিছু বলার অবশিষ্ট আগ্রহ রইলো না। তাছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আর কতো জায়গাই বা এমন আগ্রহ দেখাবো, সেটাও তো নিষ্ফলা। দেশজুড়ে এদের সংখ্যাও তো এড়িয়ে যাওয়ার মতো নগণ্য নয়।

কিন্তু যেটা আমার চোখে একদম এড়ায়নি, শিল্পকারখানায় ডিউটিশেষে সন্ধ্যায় কর্মফেরত ঘরমুখো ক্লান্তশ্রান্ত মেয়েগুলো, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় বোরকা পরা সত্ত্বেও এই সব পিতৃবয়সী ওলওয়ালা কাঠমোল্লা পাগড়িওয়ালাদের কুরুচিকর মন্তব্য থেকে যদি নিজেরা রেহাই না পায়, তবে সেখানে টিনএজার বখাটে ছোকরাদের কথা কী বলবো! দিনশেষে কর্মক্লান্তি নিয়ে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে নিজেদের মাঝে সারাদিনের জমানো রাজ্যের কথা, কিছুটা চটুলতা, চঞ্চলতা, খুনসুটি, ভাবনা লেনদেন করার মতো খুদে অবকাশটুকু ছাড়া ওরা তো আর এক মুহূর্তও ফুরসৎ পায় না, শহরতলীর দিকে আবাস হবার সুবাদে সেটা আমার চোখে নিত্যকার স্বাভাবিক চেনা চিত্র। ঘরে ফিরতেই তো একগাদা নিজস্ব কাজ, বাজার করা, রান্নাবান্না, সংসার গোছানো, ঘুম, ভোর হলেই তো ফের কাজের ধুম, ফের ব্যস্ততা। তার মাঝে নিজেকে নিয়ে আলাদাভাবে এতোটুকু ভাবনার সময় কোথায়? সারাক্ষণ অন্যের পোশাকে সুঁই-সুতো কাটিং স্যুইং মাননিয়ন্ত্রনে ব্যস্ত থেকে দিনশেষে নিজের পোশাকি মান নিয়ন্ত্রনের সুযোগটাই বা কোথায়?

এই রতিগ্রস্ত মতিভ্রষ্ট বুড়োভামের ভীমরতিতে ভাবনার তীব্র আক্ষেপ - ঠিক কেন যে শয়তানগুলো বোরকা পরেছে, বোরকা পরাটাই যেন অপরাধ, বোরকা না পরে প্যান্টশার্ট কিংবা বিকিনি পরলেও একই অপরাধই হতো। অপরাধ হলো - কেন যে শয়তানগুলোকে অনাব্রু বস্ত্রহীন আলাদাভাবে দেখতে পেলো না, কেন যে শয়তানগুলো নিজের মতো করে হলো না, তাতে সদামগ্ন সাক্ষাৎ শরাব-হুর-গেলমান নিয়ে বিশ্রী হুড়োহুড়ি গড়াগড়ি কল্পনারত উম্মত্যের পাঞ্জাবীর পকেট ফুঁড়ে সকলের অগোচরে ঈমানদণ্ড মজবুতকরন হাতমৈথুন কম্মটিও সেরে নিতে পারতো, আহারে বেচারা বড্ড বেকায়দাগ্রস্ত পাগড়ীওয়ালা! 

উল্লেখ্য যে, আমাদের মহানবীজিও কিন্তু একদিন রাস্তাধরে হেঁটে যাওয়া এমনই এক পরনারী দেখে নিজের ঈমানদণ্ড কোনোভাবে সামলাতে না পেরে দ্রুত নিকটস্থ এক স্ত্রীর ঘরে গিয়ে পরিপূর্ণ তৃপ্ত হয়ে ফিরে এসে উপস্থিত সহচরদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যেও কারও যদি অন্য নারী দেখে এমন সহবত উম্মাদনা জাগে, তবে দ্রুত তোমাদের স্ত্রীদের কাছে যাবে। কারণ পরনারী আসে শয়তানের বেশে, আর ফিরেও যায় সে শয়তানের বেশে। যেমন, অন্দরে অধিকৃত এমন একজন শয়তানের কাছে গিয়েই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শেষ নবী নিজ ঈমানদণ্ড ঠাণ্ডা করে মাত্রই ফিরেছেন। অন্দরের সেই মহিলা সম্পর্কে আমারও পরনারী লাগে।

আর কতো বলবো যে, ইসলামই নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। দেখুন, বোরকা হিজাবের মধ্যে না কি একেকটা সাক্ষাৎ শয়তান!

ওহ! কারা যেন আবার পইপই করে বলে বেড়ান, বোরকা-হিজাব হলো নারীর প্রতিরক্ষামুলক সহীহ শরীয়তি পোশাক। কিন্তু এই বোরকা-হিজাব কিন্তু বখাটে বদ মুমিনের চোখে আদৌ কোনো নিরাপত্তা ঠুলি পরাতে পারলো, না পারলো নারীকে বিদ্রূপের হাত থেকে আদৌ রক্ষা করতে? তো এই নারীবিদ্বেষী হুজুরদের কামাতুর লোলুপ কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে, আমার মতো আশেপাশে দাঁড়ানো নপুংসকদের নীরব দৃষ্টিপাতে থুতু মেরে নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে সহীহ শরীয়তি বোরকা হিজাবের পাশাপাশি বামপায়ের সহিহ শরীয়তি হাওয়াই চপ্পলখানা সময়ে অসময়ে কখন যে, হাতে তুলে নেয়াই জরুরি মনে করে বসে, বলা তো যায় না। তখন আবার কেউ আগ বাড়িয়ে ফতুয়াইয়েন না, পাঞ্জাবি-পাগড়ির মধ্যেই একেকটা সাক্ষাৎ...! অাওজুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম!

যিশুজন্মবৃত্তান্ত

সর্বমোট তিনটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক: 
http://imgur.com/a/FGggf

২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

ইছলাম: ধর্মীয় রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক ধর্ম? - ৭

লিখেছেন জর্জ মিয়া

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬

বোধ করি, আবু লাহাবের এই মেনে না নেয়ার কারণেই একজন মেষপালক থেকে সে হয়ে ওঠে এক সব ধরনের প্রথা-তথা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নীতিবিদ্রোহী। গ্রাম্য ভাষায় একটা প্রবাদ আছে:, ‘কচু গাছ কাটতে কাটতেই ডাকাতে রূপান্তিরত হওয়া।’ নবী মোহাম্মদের বেলায় এ কথাটা একেবারে শতভাগ প্রযোজ্য। তৎকালীন এই প্রথাবিরোধী মানুষটি ছিলেন সামাজিক দিক থেকে নিচু স্তরের মানুষ। আমি জানি না, নবী মোহাম্মদ তাদের (কুরাইশ) সমগোত্রের হলে কী হতে পারতো। তবে এ কথাটা বলা যায়, সম্ভবত, এই নিচু ‘স্তরের মানুষ’ বলেই কুরাইশদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। অন্য দিক থেকে ভাবলে এ-ও বলা যায়, কুসংস্কারকে পুঁজি করে কুরাইশরা বেদুইন, পৌত্তলিকদের থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের বিপক্ষে দাঁড়ানোতে নবী মোহাম্মদ অবশ্যই প্রশংসাপ্রাপ্ত হতেন, যদি না তিনি নিজেই ব্যবসায়ী বনে গমন করতেন। আমরা ইছলামী গ্রন্থেই ৩৬০ মূর্তির কথা উল্লেখ পাই। এগুলে উচ্ছেদ করে, অচ্ছুৎ ঘোষণা করে তিনি যদি আর এক অলীক ঈশ্বরকে না নিয়ে আসতেন, তাহলে তাকে সে প্রশংসার দাবিদার হিসেবে সাব্যস্ত করা যেতে পারতো। 

আমরা এও দেখি, অনেকেই মুছলিমদের ঈশ্বর আল্লাহর সপক্ষে বলে থাকেন যে, ঈশ্বরের এই নামটি ইছলামের আবির্ভাবের আগে কোথাও ছিলো না। এখানে উল্লেখ্য, উপরোক্ত ৩৬০ মূর্তির মধ্যেই একটা মুর্তি ছিলো, যার নাম আল্লাত। এ ব্যাপারে ইরানে নবী মোহাম্মদকে নিয়ে বানানো চলচ্চিত্র 'দ্য মেসেজ' (১৯৭৭) দেখে নিতে পারেন, যারা হাদিস-কোরান ঘাঁটতে বিরক্ত বোধ করেন। ইউটিউবে বাংলায় ডাবিং করা পুরো এই ছবিটাই পাবেন আগ্রহীগণ দেখতে চাইলে। এখানেও সেই একই কথা পরিষ্কারভাবেই বলা আছে।

যাই হোক, ধীরে ধীরে নবী মোহাম্মদ তার ইছলামী ঝাণ্ডা দেখানোর কাজ শুরু করেন। কুসংস্কারকে পুঁজি করেই। বলতে গেলে সেই কুসংস্কারকে আরও বেশি গভীরভাবে মানুষের মনে প্রোথিত করেছেন নবী মোহাম্মদ। অনেক স্কলার দাবি করেন এ কথার বিপরীত। নানা গুণে গুণান্বিত করতে চান তাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা কীভাবে সঠিক ও সত্য হতে পারে? কিংবা তাদের দাবির ভিত্তিই বা কী?

ব্যাপারটা বুঝতে একটু জন্মের শুরুর দিকে যাওয়া যাক প্রথমেই।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। [সুরা বাকারা: ২৩]
এই আয়াতের আল তাবারির মন্তব্যটা একটু দেখে নিই আমরা। “নব্যুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে মক্কায় একবার লোকমুখে কথা রটলো যে, আল্লাহ মোহাম্মদ আন্মে এক ব্যক্তিকে তার প্রেরিত রসুল হিসেবে পাঠাবেন এবং পূর্ব ও পশ্চিমে যা কিছু আছে তার সবই ঐ ব্যক্তির আয়ত্তে আসবে। সে সময় মক্কায় ৪০ জন নারী গর্ভবতী ছিলেন। গর্ভবতী প্রত্যেক মা চাচ্ছিলেন তার শিশু সেই রসুল হোক। তাই শিশু জন্মের সাথে সাথে নাম রাখলেন মোহাম্মদ।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল তাবারির এই নবী কাহিনীকে প্রথমে সত্য ধরে নিই। তাহলে বলা যায় যে, আরবের লোকেরা কেন তার নবী হওয়াকে পরবর্তীতে স্বীকার না করে উলটো তার দন্ত মোবারক ফেলে দিলেন? তাড়িয়ে দিলেন আল্লাহর রাসুলকে? কী এমন খারাপ কাজ করেছেন, যার কারণে আরবের শ্রেষ্ঠ পুরুষকে এভাবে পলায়ন করতে হলো? একই যায়গায় আলী দস্তী প্রশ্ন করেছেন এভাবে: মক্কার ইতিহাসে কখনো জানা যায় না যে, ৫৭০ সালে মাত্র ৪০ জন নারী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং প্রত্যেকেই তার শিশুর নাম রাখেন মোহাম্মদ। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, সে সময় মোহাম্মদ তার সমবয়সী একই নামধারী চল্লিশজন খেলার সাথী পেয়েছিলেন?

আবার যদি ওপরের ঘটনাকে মিথ্যে বলে ধরে নিই, তাহলেও আছে বিপত্তি! আল তাবারি কোন কারনে এমন মিথ্যে তথ্য লিপিবদ্ধ করলেন? কীই বা তার উদ্দেশ্য ছিলো - নানা গুণে গুণান্বিত? যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লার রাসুলকে মিথ্যে কথার ফুলঝুরি দিয়ে কেন গুণান্বিত করতে হবে? তার কি গুণের ঘাটতি ছিলো? নাকি স্বয়ং আল্লাই চেয়েছেন তার রসুলকে মিথ্যে বুলি দিয়ে উপস্থাপন করতে, যা তিনি আল তাবারির মত নবী-জীবনীকারককে দিয়ে সেটা পূরণ করেছেন?

পষ্ট কইরা লেখা - ২৩

বাঙালির পাকি-চেতনা ও ইসলামী চেতনা এক সুতোয় বাঁধা

লিখেছেন পুতুল হক

ইদানীংকালে পাকিপ্রেমীদের সংখ্যা কি বেড়ে গেছে? নাকি আমিই এতদিন খেয়াল করিনি এদেরকে? কিংবা এরা পরিবেশ পেয়েছে নিজেদের পাকিপ্রেমকে প্রকাশ্যে আনবার? শাহবাগ যখন উত্তাল, তখন অনেককে বলতে শুনেছি, তারা বাংলাদেশের পক্ষে, সব খুনের বিচার চায়, কিন্তু এতোদিন পরে রাজাকারদের ফাঁসি দেবার কী দরকার? এরা নাকি সব বৃদ্ধ হয়ে গেছে। 

কী আজব এই দেশের মানুষ, নিজ দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার চাইতে অক্ষম! ময়লা বর্ণের ছোটোখাটো আকারের বাঙালিদের পাকিদের খুবসুরাত রূপের প্রতি একটা আকর্ষণ সব সময় ছিল। তেমনই দুর্বলতা ছিল উর্দুর প্রতিও। আমি কয়েকটি পরিবারকে চিনি, তাঁরা গর্বের সাথে বলে যে, তাঁদের পরিবারে এখনো উর্দুর চল আছে। 

পশ্চিম-পাকিস্তান পূর্ব-পাকিস্তানকে নীচ নজরে দেখেছে। এদেশের মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতিকে ঘৃণা করেছে। অথচ এই আমরা এখনো পাকিস্তানীদেরকে শ্রেষ্ঠতর, মহৎতর ভাবি। বাণিজ্যমেলায় পাকিস্তানী স্টলে আমাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, ওদের দেশের পণ্যের জন্য আমরা কতটা লালায়িত। পাকিস্তান থেকে পৃথক হয়েছে ঠিকই কিন্তু ওদের প্রতি প্রেম অনেক বাংলাদেশীর মধ্যে প্রবল মাত্রায় বর্তমান। পাকিস্তানের জন্য একটা পজিটিভ এবং শ্রেষ্ঠতর ভাবনা আমাদের মনে গেঁথে দেয়া হয়েছে। ওরা আমাদের চাইতে সুন্দর, উর্দুতে কথা বলে... আহা...

আমাদের কাছে ওদের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিকটি হচ্ছে, ওরা আমাদের চাইতে অধিক মুসলমান। আরবি হরফে উর্দু লেখা হয়। আমাদের পূর্বপুরুষ ছিল চাঁড়াল। আমরা নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে নিম্নবর্ণের মুসলমান হয়েছি। ওরা হচ্ছে খানদানি মুসলমান। ওদের দেশের ক্রিকেটারদের আমরা মাথায় করে নাচি। এদেশের তরুণীদের স্বপ্নে সৌদি প্রিন্সগুলা না এলেও পাকি ক্রিকেটারগুলা হানা দেয়। আজকাল পকিস্তানী চ্যানেল দেখে পাকি খাবার রান্না শেখা হচ্ছে কিছু আশরাফ বাংলাদেশী মুসলমান পরিবারে। কাজেই ওরা আমাদের লাথি দেবে, আর আমরা পশ্চাতের কাপড় তুলে ধরবো। পৃথিবীতে আর কোনো জাত আছে, যারা স্বেচ্ছায়, সানন্দে ও সোৎসাহে অপমানকারীর পা চেটে দেয়? 

পশ্চিম আর পূর্বের দুই ভূখণ্ডকে এক করে যখন পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র গড়া হয়, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইংরেজ গভর্নর বলেছিলেন, এই দুই অঞ্চল একসাথে পঁচিশ বছরের বেশি টিকবে না। এর কারণ দুই অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, জীবনাচার কিছুই মেলে না। মেলে না পোশাক, আহার, স্বভাব। 

তাতে কী! আমরা জোর করে মিল করবো। কাবুলি পরবো, লম্বা কুর্তি পরবো। ওদের চুমোয় চুমোয় ভরিয় দিয়ে বলবো, আমাদের শত জনমের প্রেম কেউ ভাঙতে পারবে না। যতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হোক না কেন, এর চাইতে অনেক বড়, অনেক শক্তিশালী ইসলামী চেতনা। ইসলামী চেতনার মোড়কে আসে পাকিস্তানী চেতনা। ইসলামী চেতনার শেকড়ে সার দিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি করে পাকি-চেতনা মুছে ফেলা কখনোই সম্ভব নয়।