৩১ জুলাই, ২০১৫

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৯৮


ইছলামী শিক্ষা

ফরাসী পত্রিকা শার্লি এব্দো-য় প্রকাশিত নবী-কার্টুনের প্রতিবাদে
কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নিয়েছিল প্রায় ১০০০ মুছলিম;
ফাকিস্তানের লাহোরে রাস্তায় নেমে এসেছিল প্রায় ১০০০ মুছলিম;
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সমবেত হয়েছিল প্রায় ১০০০ মুছলিম;
ইরানে ফরাসী দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়েছিল ২০০০-এরও বেশি মুছলিম;
রাশিয়ার ইঙ্গুশেটিয়ায় একত্রিত হয়েছিল ১৫ হাজার মুছলিম;
রাশিয়ার চেচনিয়াতে আয়োজিত সভায় অংশ নিয়েছিল ৮ লক্ষাধিক মুছলিম;
...
...
...
...
...
এবং

আইসিস-এর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অর্থাৎ আইসিস ছহীহ ইছলামী নহে দাবি করে -
আয়ারল্যান্ডের এক সমাবেশে অংশ নিয়েছে টেনেটুনে ৫০ মুছলিম।
ইহা হইতে আমরা কী ইছলামী শিক্ষা পাইলাম?

একমাত্র সত্য ধর্ম আপনারটাই

উইকিপিডিয়া বলছে, বর্তমান বিশ্বে ধর্মের সংখ্যা ৪২০০-র মতো। এছাড়া মানবজাতির ইতিহাসে বিলুপ্ত হয়ে গেছে হাজার হাজার ধর্ম। তবে নিশ্চিত থাকুন, আপনার অনুসৃত ধর্মটিই একমাত্র সঠিক ধর্ম। বিলুপ্ত ও বর্তমান বাদবাকি সমস্ত ধর্মই ভ্রান্ত।

বর্তমানে প্রচলিত প্রধান সবক'টি ধর্মেই অসংখ্য শাখা-প্রশাখা-উপশাখা-পাতিশাখা। যেমন, খ্রিষ্টধর্ম বিভাজিত মাত্র ৩৩ হাজার (হ্যাঁ, ৩৩ হাজার) শাখায়, ইছলামে শাখার সংখ্যা ৫০-এরও বেশি... ইহুদি ধর্ম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্মও বহুশাখাধারী। তবে এই কথাটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক ধর্মের প্রতিটি আলাদা শাখাই একমাত্র সত্যধর্মের দাবিদার! খুব খিয়াল কৈরা!

এ নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী একটি ছোট্ট গবেষণা করেছেন। এই গবেষণায় অবশ্য শাখা-প্রশাখা-উপশাখা-পাতিশাখাগুলোকে হিসেবে আনা হয়নি।


আরও মনে রাখবেন, হাজার হাজার ভগবানেশ্বরাল্লাহর মধ্যে আপনার উপাস্য যে বা যারা, সে বা তারাই শুধু সত্য। তবে বাকিদের তালিকাতেও একটু চোখ বুলিয়ে নিলে ক্ষতি কী! এই নিন: তালিকা ১, তালিকা ২, তালিকা ৩ এবং সাড়ে আট মিনিটের ভিডিওতে চলমান তালিকা।

৩০ জুলাই, ২০১৫

যৌনকেশ, অবাধ রমণীসঙ্গম ও নাস্তিককুল

ধর্মকারীর উদ্দেশে লেখা হেইট মেইল বা হেইট কমেন্ট আমি বেজায় উপভোগ করলেও ব্লগে প্রকাশ করি না তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে বলে। ধর্মকারীর উদ্দেশ্য তো বিনোদন, কলহ নয়।

তবে মনে হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে দু'-একটির কথা বলা উচিত বিনোদনের কারণেই। এই যেমন গতকাল "মুসলিম" নিকধারী একজন খিস্তিখেউড়খচিত মন্তব্যে যা লিখলেন, তা ভদ্র ভাষায় অনুবাদ করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়:
এটা যৌনকেশ পরিত্যাগ করার সাইট। এখানে সবাই এসে যৌনকেশমুণ্ডন করে যায়। শ্যালক, অবাধ রমণীসঙ্গমের লক্ষ্যে নাস্তিক সেজেছো! 
মুসলিম সাহেব, যৌনকেশমুণ্ডনের বিধান কিন্তু নাস্তিকদের নেই, আছে মোমিন মুছলমানদের। দেখুন, সহি বুখারিতে (খণ্ড ৭, বই ৭২, হাদিস ৭৭৭) আবু হুরাইরা বর্ণনা দিচ্ছে: "আল্লাহর রাসুল বলেছেন - ফিতরার পাঁচটি নিদর্শন: খতনা করা, যৌনকেশমুণ্ডণ করা, নখ কাটা, এবং গোঁফ ছোট করে ছেঁটে রাখা।"

অতএব মোমিন মুছলমানের করিতব্য কর্মকে নাস্তিকদের ওপরে চাপানো কি ঠিক হলো? 

আর মোমিন মুছলিম আর বাকিদের মধ্যে পার্থক্য কী, জানেন তো? গড়পড়তা মোমিন মুসলিম নিচে নিয়মিত শেইভ করে, তবে ওপরে করে না। আর গড়পড়তাভাবে বাকিরা করে ঠিক এর উল্টোটা।

এখন আসা যাক অবাধ রমণীসঙ্গম প্রসঙ্গে। প্রথমে একটু হেসে নিই প্রাণ খুলে। কারণ নাস্তিক হবার এমন অপ্রতিরোধ্যরকমের আকর্ষণীয় কারণটির কথা জীবনে প্রথম শুনলাম 

মুসলিম ভাই, ইছলামেই তো ইহ- ও পরকালে অবাধ রমণীসঙ্গমের সমূহ সুযোগ আছে! নাস্তিকদের দোষারোপ করেন কেন? আপনাদের নবীই তো অবাধ রমণীসঙ্গমের অনুসরণীয় তথা সুন্নতি উদাহরণ স্থাপন করে গেছে।

বৈচিত্র্যপিয়াসী নবী গণ্ডায়-গণ্ডায় বিয়ে করেছে, স্ত্রীরা নানান বয়সী (নাতনির বয়সী থেকে শুরু করে মা'র বয়সী), নানান গোত্রের ও ধর্মের।
এছাড়া দাসী ও উপঢৌকন হিসেবে প্রাপ্ত এবং যুদ্ধবন্দী মেয়েদের সাথেও তার ছিলো বিবাহবহির্ভুত যৌনসম্পর্ক।

তবে এ-কথাও সত্যি যে, নিজে ঈর্ষণীয় ইন্দ্রিয়পরায়ণ জীবনযাপন করলেও অনুসারীদের কথা সে ভোলেনি। তাদের দিয়েছে চারটি বিয়ের অনুমতি। বোনাস হিসেবে আছে দাসী ও যুদ্ধবন্দিনীদের (গনিমতের মাল) অবাধ ভোগের অধিকার। 

এ তো কেবল ইহকালে। আর পরকালে নিশ্চয়ই আপনাদের প্রত্যেকের জন্য রহিয়াছে বাহাত্তরটি করিয়া কুমারী ও অগণ্য গেলমান।

এবার আমাদের, নাস্তিকদের, অবস্থা দেখুন। পরকালে রোস্ট হওয়াই আমাদের নিশ্চিত নিয়তি। ইন্দ্রিয়সুখলাভের কোনও সম্ভাবনা সেখানে আমাদের একদমই নেই। একমাত্র সুযোগ ইহকালে। আর তাই সেই চেষ্টা যদি আমরা করিও, তাতে এতো হিংসা করলে চলে, ভাই, যখন আপনাদের সুযোগ আছে গাছেরটা খাবার এবং তলারটাও কুড়োবার?

(প্রথম প্রকাশ: ১.৯.১০)

আগে জীবজন্তুর অধিকার, পরে ধর্ম

এই বিশ্বজগতে খাদ্যচক্র ব্যাপারটি বড়োই বর্বর ও নির্দয়। এখানে এক প্রাণী আরেক প্রাণীর খাদ্য। 


ফলে প্রকৃতিতে প্রাণীহত্যা অনিবার্য। খাদ্যের ব্যাপারে মানুষও বিভিন্ন প্রাণীর ওপরে নির্ভরশীল। এই প্রাণীগুলোকে আমাদের হত্যা করতে হয় নিয়মিত। তবে যেহেতু আমরা অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমান ও সংবেদনশীল, আমাদের উচিত প্রাণীহত্যা প্রক্রিয়াটি প্রাণীদের জন্য যথাসম্ভব কম কষ্টদায়ক করে তোলার চেষ্টা করা। উন্নত দেশগুলোয় তেমন প্রক্রিয়াই প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। 

কিন্তু কিছু ধর্মে উৎসবের নামে ও কখনও উৎসব করে প্রাণীহত্যাচর্চা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রাণীহত্যা পদ্ধতিটি হয় প্রাণীদের জন্য অবর্ণণীয় কষ্টের। প্রাণীকে হালাল উপায়ে জবাই করার ইছলামী ধারা ও ইহুদিদের ব্যবহৃত কোশের (kosher) পদ্ধতি দু'টি বর্বরোচিত বিধায় সব সময়ই সমালোচিত হয়ে এসেছে।

এবারে ডেনমার্ক হালাল ও কোশের পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রাণীহত্যা নিষিদ্ধ করেছে। মুছলিম ও ইহুদিরা যথারীতি ক্ষিপ্ত, কিন্তু ডেনমার্কের কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন,
আগে জীবজন্তুর অধিকার, পরে ধর্ম।
আরও একটি সুসংবাদ। নেপালে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত বীভৎস গাধিমাই উৎসবে প্রাণীহত্যাই নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। হিন্দুদের এই উৎসবে একদিনে এক জায়গায় কয়েক লক্ষ প্রাণী বলি দেয়ার ঐতিহ্য প্রচলিত ছিলো এতোদিন। 

এক বছর আগে প্রকাশিত গাধিমাই বিষয়ক একটি সচিত্র পোস্ট

ক্রুশের ছবি – ১৫

শুধুই ক্রুশের ছবি। অন্যদিকে তাকান নিজ দায়িত্বে...



আরো দুইখান ছবি এইখানে, তয় ইমোটা খিয়াল কৈরা!

মুসলমানদের রবীন্দ্রনাথ-বিরোধিতা

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

জন্মটা হিন্দুর ঘরে হওয়ার কারণে বাঙালি মুসলমানের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে রবীন্দ্রনাথ একটা জ্যান্ত যমদূতের নাম। বাংলা সাহিত্য মানেই রবীন্দ্রনাথ আর রবীন্দ্রনাথ মানেই বাংলা সাহিত্য, এই সত্যটা তারা জানে। তারা জানে, যতই রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক তকমা দেওয়া হোক কিংবা বলা হোক বৃটিশদের দালাল, এতে রবীন্দ্রনাথের কিছুই হয় না। বাংলা থাকলে, বাঙালি থাকলে, বাংলা সাহিত্য থাকলে রবীন্দ্রনাথও থাকবেন, এই ধ্রুব সত্যটা জেনেই এই মূর্খরা রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতায় নামে এবং এটা তারা ঈমানি দায়িত্ব হিসেবেই নেয়। বাঙালি মুসলমানের একটা বিরাট অংশ রবীন্দ্রনাথকে কবি বলেই স্বীকার করতে চান না।

অথচ বিশ্বে বাঙালিদের গৌরব কিংবা বাঙালি বলতে ইউরোপিয়ান-আমেরিকানরা যে-মানুষটিকে চেনেন, সেটা আমাদের রবীন্দ্রনাথ। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের যে বাড়িটিতে মহান নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র জন্মেছিলেন, সেই বাড়িটির বাগানে একজন মাত্র বিখ্যাত ব্যক্তির আবক্ষমূর্তি বসানো আছে। জানেন সেটা কার?

- আমাদের রবীন্দ্রনাথের। বাঙালির রবীন্দ্রনাথ।

লেখক গোলাম মুরশিদ সেই বাড়িটি ভ্রমণে গেলে উনার সহযাত্রী যে-বাঙালি মুসলমানটি ছিলেন, তিনি বলছিলেন: "সামনের বার এখানে আসলে রবীন্দ্রনাথকে সরিয়ে এখানে একটি নজরুলের মূর্তি বসিয়ে যাব।"

অথচ ঐ লোক ৩০ বছর ধরে বিলেতের বাসিন্দা। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, আর বাঙালি মুসলমান ইংল্যান্ডে গিয়েও ধর্মান্ধ থাকে!

এই শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানেরা রবীন্দ্রনাথ-বিরোধিতা করে কায়দা করে। যেমন, রবীন্দ্রনাথ গোঁড়া হিন্দু ছিলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী ছিলেন, তিনি বৃটিশদের দালালি করতেন ইত্যাদি। এসব খোঁড়া অজুহাত।

রবীন্দ্রনাথ গোঁড়া হিন্দু?

২৯ জুলাই, ২০১৫

হা-হা-হাদিস – ১৪১

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ১৭

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

৮১.
নবীজি ও অন্যান্য মমিনেরা সবাই বেহেশতে হুরী পাবে ছহবত করার জন্য। নবীজির বিবিগণ ও অন্যান্য মমিনগণের বিবিগণ সেখানে ছহবত করবে কাহার সহিত? তাহাদের কামনা নিবৃত্ত করবে কী উপায়ে? উহারা সবাই কি বেহেশতে স্বমেহন করবে অনন্তকাল ধরে?

৮২.
মরুভূমির কালছারে ছয়লাপ এখন বাংলার মাটি। যেমন, টুপি পরিধান, গার্বেজের বস্তা পরিধান, মাইকে দৈনিক পাঁচবার মরুভূমির ভাষায় শব্দদূষণকরণ, য়াল্যাকে পাছা প্রদর্শন, কথায় কথায় মরুর ভাষায় (ছুভানাল্ল্যাহ, এলহামদুলিল্যাহ প্রভৃতি) মানুষকে গালিগালাজ ইত্যাদিতে ভারাক্রান্ত বাংলার পরিবেশ। 

এখন বাকি আছে শুধু মরুভূমির একমাত্র এগ্রিকালছারে বাংলার মাটিকে ভরিয়ে দেওয়া। মরুর একমাত্র এগ্রিকালছার হতেছে খেজুর চাষ। বাংলাদেশে তাই অন্যান্য চাষাবাদ বাদ দিয়ে শুধু খেজুর চাষ করা ফরজ। কারণ বাংলাদেশ একটি খৎনাকৃত দেশ এবং খেজুর বৃক্ষই একমাত্র মুছলমান বৃক্ষ। তাই অন্যান্য বেদ্বীন কাফের এগ্রিকালছার ত্যাগ করতে হবে, কিংবা তাদেরকে কতল করতে হবে চাপাতি দিয়ে, অথবা তাদেরকে চাপাতি দিয়ে খৎনা করিয়ে মুছলমান গাছপালা-লতাপাতায় পরিণত করতে হবে।

৮৩.
য়াল্যা, ঈশ্বর, ভগবান ইত্যাকার ভূতপূর্ব লেখকেরা সবাই লেখালেখি ছেড়ে দিলো কেন?

৮৪.
যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করে তাদেরকে আমি অগুনে পোড়াবই; যখন ওদের চামড়া পুড়ে পুড়ে ছাই হবে তার স্থানে নতুন চামড়ার সৃষ্টি করবো যাতে ওরা শাস্তি আস্বাদন করে; আল্লা অতি পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময়। 
(সুরা ৪:৫৬)

পরাক্রান্ত বিজ্ঞানময় দয়াময় য়াল্যা তার আয়াত অস্বীকারকারীদের চামড়া পুড়ে ছাই করবেন ও ছাই হওয়া চামড়ার জায়গায় নতুন চামড়া তৈরি করবেন। এই আয়াতটি পড়েই ত কাফের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক সার্জারি করতে শিখেছে। কিন্তু কাফের মুশরিকরা য়াল্যার এই অবদানকে যথারীতি অস্বীকার করে; যেমন তারা অস্বীকার করে য়াল্যার অন্যান্য নেয়ামত ও সকল আয়াতকে এমনকি য়াল্যাকেও।

৮৫.
বেহেশতে দুধের নদী আছে। কিন্তু কোনো দই নাই কেন? আমার খুব দইয়ের শখ। নদী থেকে দুধ নিয়ে দই পাতা যাবে তো?

মুছলিমদের বিয়ের উপহারের নতুন ট্রেন্ড?

২০১১ সালে ধর্মকারীতে প্রকাশিত কার্টুন

এবার ২০১৫ সালের সংবাদ। আইসিস-ভুক্ত মহিলা শরিয়া কোর্টের এক মহিলা-বিচারক তার বিয়েতে উপহার হিসেবে চেয়েছিল কোনও এক কাফেরের ছিন্ন মস্তক। তার খায়েশ পূর্ণ করার অনুমতি দেয় আইসিস-প্রধান। 

২৮ জুলাই, ২০১৫

পরিসংখ্যান তৈরির ইছলামী তরিকা

প্রথম আলোর "সারা বিশ্ব" পাতায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা একটি সংবাদে চোখ আটকে গেল। শিরোনাম: "ব্রিটেনে ইসলাম গ্রহণের হার এক দশকে দ্বিগুণ।" তথ্য উপস্থাপনার ধরনটি লক্ষণীয়। ১ যখন ২ হয়, সেটিও দ্বিগুণ, আবার ১ কোটি ২ কোটিতে পরিণত হলে সেটিও দ্বিগুণ। 

মার্ক টোয়েন তাঁর নিজের জন্ম প্রসঙ্গে স্বভাবসুলভ রসিকতার ধরনে লিখেছিলেন: I was born there in 1835. The village contained a hundred people and I increased the population by 1 per cent.

তাঁর অনুকরণে উপরোক্ত খবরের শিরোনামে "শতকরা একশো ভাগ বৃদ্ধি" বললে তা আরও বেশি গুরুত্ববহ মনে হতো। 

ওপরের খবরটির বিশ্লেষণ পড়লে ইছলামী হিসেবের ভেতরের শুভঙ্করের ফাঁকটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে ৫২০০ জন ইসলাম গ্রহণ করেছে। এখন দেখা যাক, সংখ্যাটি কীভাবে পাওয়া গেছে।

এক ইছলামী চিন্তাচৌবাচ্চা, মানে থিংক ট্যাংক, (লক্ষ্য করুন, কোনও নিরপেক্ষ সংস্থা নয়) লন্ডনের মসজিদগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা গেছে, গত বারো মাসে ১৪০০ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

একে তো সংখ্যাটি পরীক্ষিত নয়, তার ওপরে সেটি কেমন জানি সন্দেহজাগানিয়া। ঠিক ১৪০০? ১৩৯২ বা ১৪৩৮ নয়? আচ্ছা, তবু মেনে নেয়া যাক। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, পুরো ব্রিটেনে ৫২০০ জন - এই সংখ্যাটি কোনও জরিপ বা হিসেবের ফল নয়। স্রেফ কল্পনা করে নেয়া হয়েছে লন্ডনের ১৪০০-কে ভিত্তি হিসেবে ধরে। কীভাবে? তা তাদের আল্যা মালুম!

আর এ কথাও সত্য, ইছলাম গ্রহণকারীদের একটি বড়ো অংশ মোছলমান ভাই-বেরাদরদের অমুসলিম স্ত্রী, যারা বিয়ের সময় মসজিদে গিয়ে "লা ইলাহা" পড়ে নামেমাত্র মুছলিম হয়। এছাড়া জেলখানার কয়েদিদের মধ্যেও ধর্মান্তরিত হয়ে নূরের পথে আসে অনেকে। তাদের অনেককেই বলপ্রয়োগ করে বা ভীতিপ্রদর্শন করে মুসলমান বানানো হয়। কেউ কেউ মুসলমান হয় আলাদা সুবিধালাভের জন্য। সাম্প্রতিক এক খবর পড়ুন: সিরিয়াল কিলার ইছলাম গ্রহণ করেছে মশলাযুক্ত খাবারের লোভে।

পক্ষান্তরে, ইছলামত্যাগীদের সংখ্যা বাড়ছে আশাব্যঞ্জক গতিতে, যদিও সে কথা মূলধারার পত্রিকায় আসে না বড়ো একটা। অবশ্য তাঁদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা দুষ্কর, কারণ তাঁরা সচরাচর সরব এবং প্রকাশ্য নন। ইছলাম ত্যাগকারীকে হত্যার বিধান ইসলামে আছে জেনেও প্রাণের ঝুঁকি নিতে চাইবে ক'জন? তবু দুঃসাহসী কিছু প্রাক্তন মুছলমান নিজেদের পরিচয় গোপন রাখছেন না। প্রবণতাটি শুভ।

(৭.১.১১ তারিখে ধর্মকারীতে প্রকাশিত।)

কোরান কুইজ – ৬৯

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৭৮: বদর যুদ্ধের সময় নবীকে সাহায্য করেছিল কতোজন ফেরেশতা?

১. তিন হাজার
২. এক হাজার

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় - ১৩

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



ইছলামী ইতরামি

১. জুম্মাবারে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২০ জন নিহত! তবে মমিন ও বামাতিদের জন্য একটু সংশোধনী: গাজায় নয়, ইয়েমেনে এবং হামলা করেছে ইসরায়েল নয়, চৌদি আজব।

২. ফ্রান্সের জনসংখ্যার ৮ থেকে ১০ শতাংশ মুছলিম। তবে সে দেশের কারাগারে মুছলিমরা বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ - শতকরা ৭০ জন। স্পেনে অবস্থা আরও ভয়াবহ: সেখানেও কয়েদিদের শতকরা ৭০ জন মুছলিম, তবে মূল জনসংখ্যায় মুছলিমের সংখ্যা মাত্র ২.৩ শতাংশ। বস্তুত পশ্চিম ইয়োরোপের প্রায় সব দেশেই সংখ্যালঘু মুছলিমরা জেলখানায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০০৯ সালের একটি বিশদ পরিসংখ্যান

৩. মুছলিম-মুছলিম ভাই-ভাই, আর তাই ইছলামী ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ সুন্নি-মোল্লা বলেছে, "শিয়াদের আমরা ভেড়ার মতো করে জবাই করবো, ইনশাল্যা।" ছোট্ট ভিডিও

৪. ইছলামীদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিশোরী আত্মঘাতী বোমারু ক্যামেরুনে হত্যা করেছে ২০ জনকে। নাইজেরিয়ায় ১০ বছর বয়সী আরেক কিশোরীর আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছে ১৪ জন

৫. আইসিস-এর সম্ভাব্য ৩০ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মস্কোতে।

৬. মুছলিমরা আল্যার ওপর আস্থা একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। নইলে কেন ধর্ম, ঐশী কিতাব, নবী-রছুল, পবিত্র স্থান, উপাসনালয়ের সমালোচনাকে আন্তর্জাতিকভাবে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানালো চৌদি আজব? সেক্ষেত্রে তো ভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি প্রত্যক্ষ আঘাত হানার কারণে নবীজিই হবে সবচেয়ে বড়ো আসামী এবং ইহুদি-খ্রিষ্টানদেরকে কুৎসিতভাবে অপমান করা আয়াত সমৃদ্ধ কোরানকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

৭. কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেনের হালাল ভার্শন - ইছলামী এক্সপ্লোডেড চিকেন

৮. ইছলামের বিধান অনুযায়ী উঁচু জায়গা থেকে সমকামীদের নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করার চর্চা বজায় রেখেছে আইসিস। এবং এবারেও মডারেট মুছলিমদের দল শিশুদের নিয়ে উপভোগ করেছে এই দৃশ্য।

৯. সোমালিয়ায় ইছলামী দল আল-শাবাব হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ১২ জনকে।

২৭ জুলাই, ২০১৫

ঊর্ধ্বগগণে


এই কার্টুনে ধর্মকারীর নাম থাকলেও অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি কৌস্তুভ-এর

খন্দক যুদ্ধ – ১০ (শেষ পর্ব): মিত্রবাহিনীর প্রত্যাবর্তন!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৮৬) ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ষাট

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫

নুইয়াম বিন মাসুদ বিন আমির নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী কীভাবে তার নিজ জাতি-গোত্র ও মিত্রবাহিনীর লোকদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে গোপনে মুহাম্মদের কাছে এসেছিলেন; স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নুইয়াম-কে কীভাবে বনি কুরাইজা, কুরাইশ ও ঘাতাফান গোত্রের লোকদের প্রতারিত করার নির্দেশ সহকারে নিযুক্ত করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, "যুদ্ধ হলো প্রতারণা"; মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে তাঁর এই অনুসারী কীভাবে তাঁদেরকে প্রতারিত করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৮৫) পর:

‘মুহাম্মদ বিন কাব বিন আল-কুরাজির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াজিদ বিন যিয়াদ আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] বলেছেন:

কুফার এক লোক হুদাইফাকে জিজ্ঞাসা করে, "আপনি কি সত্যিই আল্লাহর নবীকে দেখেছেন ও তাঁর সহকারী ছিলেন?" যখন তিনি জবাবে বলেন, “হ্যাঁ”, তখন সে তাকে জিজ্ঞাসা করে, তাঁরা কীভাবে জীবনযাপন করতেন। তিনি জবাবে বলেন যে, তাদের জীবনযাপন ছিল কঠিন। [3]

সে [লোকটি] বলে, "আল্লার কসম, যদি আমরা তাঁর সময়ে বসবাস করতাম, তবে আমরা তাঁকে মাটিতে পা রাখতে দিতাম না, তাঁকে ঘাড়ে করে বহন করতাম।"
হুদাইফা বলেন, ‘আমি এখনও দেখতে পাই যে, আমরা আল্লাহর নবীর সঙ্গে খন্দক যুদ্ধের সেই সময়, যখন তিনি রাত্রির কিছু অংশ নামাজে কাটান ও তারপর আমাদের দিকে ঘুরে বসেন ও বলেন,

"তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে উঠে যাবে ও মিত্র বাহিনীর সৈন্যরা কী করছে তা দেখে এসে আমাদের জানাবে?”-আল্লাহর নবী শর্ত রাখেন, সে যেন ফিরে আসে- আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবো, যেন সে আমার সাথে বেহেশতের সঙ্গী হয়।" [4]

একজন লোকও উঠে দাঁড়ায় না, কারণ তারা ছিল খুবই ভীত, ক্ষুধার্ত ও তখন শীত ছিল প্রচণ্ড। যখন কেউই উঠে আসে না, তখন আল্লাহর নবী আমাকে ডাকেন, আর তাঁর সেই ডাকে আমাকে উঠে আসতে হয়।

মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা কী করছে, তা দেখার জন্য তিনি আমাকে যেতে বলেন ও বলেন যে, এখানে প্রত্যাবর্তন করার পূর্বে আমি যেন কোনকিছু না করি (অর্থাৎ, নিজে আগ বাড়িয়ে যেন সে কিছুই না করে)।

তাই আমি বাইরে বের হই ও সেখানে গিয়ে তাদের সৈন্যদের সঙ্গে মিশে যাই, তখন ঝড়-বায়ু ও আল্লাহর সৈন্যরা (God's troops) তাদের সাথে এমনভাবে মোকাবিলা করছিল যে, তাদের না ছিল কোনো রান্নার পাত্র, না ছিল আগুন, না ছিল কোনো অক্ষত তাঁবু। [5]

আবু সুফিয়ান উঠে দাঁড়ায় ও বলে, "হে কুরাইশ, তোমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের পাশের লোকটিকে লক্ষ্য করে দেখো, কোন লোকটি তোমাদের পাশে বসে আছে।"

তাই আমি আমার পাশের লোকটিকে জিজ্ঞাসা করি, সে কে; সে বলে, সে মুক। 

তারপর আবু সুফিয়ান বলে, "হে কুরাইশ, আমাদের কোনো স্থায়ী তাঁবু নেই; অনেক ঘোড়া ও উট মরণাপন্ন; বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা ভঙ্গ করেছে তাদের ওয়াদা ও আমরা শুনেছি তাদের অস্বস্তিকর রিপোর্ট। তোমরা দেখতে পাচ্ছ বাতাসের প্রচণ্ডতা, যা আমাদের রান্নার সরঞ্জাম, কিংবা আগুন, কিংবা তাঁবু - কোনোকিছুই অবশিষ্ট রাখে নাই। স্বচ্ছন্দ বোধ করো, কারণ আমি ফিরে যাচ্ছি।"

তারপর সে তার বেঁধে রাখা উটের কাছে যায়, তার পর চড়ে বসে ও তাকে আঘাত করলে উটটি তার তিন পায়ের পর ভর করে উঠে দাঁড়ায়; আল্লাহর কসম উটটি পুরাপুরি দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত বাঁধন মুক্ত হয় না।

যদি আল্লাহর নবী আমাকে তাঁর কাছে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত হতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি ইচ্ছা করলে একটি তীরের আঘাতে তাকে খুন করতে পারতাম। 

'আমি আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে আসি যখন তিনি তাঁর কোন এক স্ত্রীর র‍্যাপারের (wrapper) পর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। যখন তিনি আমাকে দেখতে পান, তখন তিনি আমাকে তাঁর পায়ের কাছে গিয়ে বসার সুযোগ করে দেন ও র‍্যাপারটির এক প্রান্ত আমার দিকে ছুড়ে দেন; তারপর আমার তার উপর বসা অবস্থাতেই তিনি রুকু ও সেজদায় যান (তাবারী: 'এবং আমি তাঁকে বিরক্ত করি');  যখন তিনি নামাজ শেষ করেন, আমি তাঁকে খবরটি জানাই।

যখন ঘাতাফানরা জানতে পায় যে, কুরাইশরা কী করেছে, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের নিজেদের দেশে প্রত্যাবর্তন করে।'

সেই দিন সকালে আল্লাহর নবী ও মুসলমানরা খন্দক পরিত্যাগ করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন।’

(অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।)

মুহাম্মদের অভিশাপ:

সহি বুখারী: ভলুম ৮, বই নম্বর ৭৫, হাদিস নম্বর ৪০৫: 
আলী ইবনে আবু তালিব হইতে বর্ণিত: খন্দক যুদ্ধের দিন আমরা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ছিলাম। আল্লাহর নবী বলেন, "আল্লাহ যেন তাদের (কাফেরদের) সমাধি-স্থল ও বাড়ি-ঘর (সহি মুসলিম: "অথবা, পাকস্থলী") আগুনে পূর্ণ করে, কারণ তারা আমাদের এত ব্যস্ত রেখেছিল যে আমরা সূর্যাস্তের আগে মধ্যবর্তী নামাজটি আদায় করতে পারিনি; সেই নামাজটি ছিল 'আছর  নামাজ'।" [6] [7]
(অনুবাদ– লেখক।)

>>> আদি উৎসের ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় খন্দক যুদ্ধের সংক্ষিপ্তসার: [8]

বেদ্বীনবাণী - ৪৩


২৬ জুলাই, ২০১৫

ধর্মীয় চোখে ঋতু পরিবর্তন

লিখেছেন লাইট ম্যান

মেয়েদের ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া প্রতিটি সুস্থ সবল নারীর জন্য। যদিও তারা এই সময় শারীরিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করে, তার মানে এই নয়, তারা সম্পূর্ণ পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। কিন্তু এই স্বাভবিক প্রক্রিয়াটিকে অস্বাভাবিক ঘৃণ্য, নিষিদ্ধ ও দূষিত বলে গণ্য করে প্রায় সমস্ত পবিত্র ধর্মীয়গ্রন্থ।

বাইবেলে আছে:
যে স্ত্রী রজঃস্বলা হয় সে সাতদিন অশৌচ থাকবে, যে তাকে স্পর্শ করে সেও সন্ধ্যা পর্যন্ত অশুচি থাকবে এবং অশৌচ কালে যে পুরুষ তার সাথে শোয় ও তার রজঃ যদি পুরুষটির গায়ে লাগে, সে পুরুষও সাত দিন অশুচি থাকবে।
(লেবীয় পুস্তকঃ ১৫)
কোরানে আছে:
লোকে তোমাকে রজঃক্ষরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তুমি বল তা অশুচি। তাই রজঃক্ষর কালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন করবে, আর যতদিন না তারা পবিত্র হয় তাদের কাছে যেও না
(কোরানঃ ২:২২২)
হিন্দুধর্মে আছে আরো কঠোর বিধি-নিষেধ। যেমন, ঋতুকালে নারী অস্পৃশ্য থাকবে। তাকে কেউ স্পর্শ করবে না। সে এমনভাবে থাকবে যাতে ভোজনরত কোনো ব্রাহ্মণের চোখে না পড়ে। ক্ষরণের প্রথম দিনে সে নারীকে গণ্য করা হবে চণ্ডালী, দ্বিতীয় দিনে ব্রহ্মঘাতিনী, তৃতীয় দিনে রজকী। তাকে কোনো ধর্মীয় সামাজিক অনুষ্ঠানে ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না।

হিন্দু পরমপুরুষ মনুর মতে:
রজস্বলা নারীতে যে পুরুষ সঙ্গত হয় তার বুদ্ধি, তেজ, বল, আয়ু ও চক্ষু ক্ষয় পায়।
(মনু সংহিতা ৪:৪১)
সব ধর্মই নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা।

(১৪.১০.১০ তারিখে প্রথম প্রকাশিত) 

ইসলামী দেশের স্বপ্নদ্রষ্টারা

লিখেছেন পুতুল হক

ছয় বছর আগে বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামে তালিকাভুক্ত শিবির কর্মী ছিল তিনজন। বর্তমানে সে সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে দুইশত তেপান্ন জনে। শুধু নামাজ পড়া বা রোজা রাখার জন্য কোনো ইসলামী দলের সমর্থক হতে হয় না। এরকম ধর্মীয় রাজনীতিক দলের সমর্থক বা কর্মী মানুষ তখনই হয়, যখন সে চায় সেই ধর্মের বিধিবিধান অনুসারে দেশ পরিচালিত হবে। ইসলাম যে ধর্মের খোলসে একটি রাজনৈতিক মতবাদ, সেটা মোটামুটি সবাই জানেন। কাজেই মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব এবং অধিকার শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা। এ বিষয়টি তাঁরা গোপন করে না।

মুহাম্মদ শুধুমাত্র একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে দশ বছরেও যখন সফলতার মুখ দেখতে পারেনি, তখন সে মদিনায় হিজরত করে। সেখানে সে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা এবং সম্পদের মালিক হয়। তারপরেই তার প্রচারিত ধর্ম প্রসার লাভ করতে থাকে। 

আমি আজকে সেসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাকে ভাবায় বাংলাদেশে প্রতি বছর শতকরা কত ভাগ হারে লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে ইসলামী দেশের স্বপ্ন দেখার কাতারে? বাংলাদেশে শিক্ষার হার বাড়ছে (প্রকৃত শিক্ষা নাকি তথাকথিত শিক্ষা, সে আলোচনা নয়), বলা হয়। দেশে মোবাইল ফোন, টিভি মানুষের ঘরে ঘরে। প্রায় প্রতি স্তরের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আধুনিক জীবনে পুরোপুরি অভ্যস্ত হবার পরেও তবে কেন এ দেশের মানুষ ধর্মান্ধ রাজনীতির ফাঁদে পা দেয়?

এক জোড়া পোস্টার


শিক্ষা- ও সভ্যতাবিমুখ ইছলামের নবী

লিখেছেন রহমান পৃথু

মুহাম্মদ কোনো শিক্ষক, জ্ঞানী, ডাক্তার, কবি-সাহিত্যিকদের সহ্য করত না।

সে তাঁর জীবদ্দশায় শিক্ষক, শিক্ষিত, মুক্তমনা, ভিন্ন মতাবলম্বী, কবি, তাঁর মতবাদ সম্পর্কে প্রশ্ন ও সন্দেহ পোষণকারী অবিশ্বাসীদের হত্যা করে। হাদিস ও কুরানে এ বিষয়ে নির্দেশনা ও তথ্য আছে।

সে অন্য কোনো গ্রন্থশিক্ষা ও তার চর্চা নিষিদ্ধ করে। যেমন - মুহাম্মদ কবিতা ও সাহিত্য, গান, বাজনা, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, ছবি, চলচ্চিত্র, নাটক, অভিনয়, যাদু, ম্যাজিক, সংস্কৃতি বিষয়ক শিক্ষা ও চর্চা - এ বিষয়ে সবকিছু নিষিদ্ধ করে যায়। এখনো তা নিষিদ্ধ আছে।

এমনকি ইসলামের বাইরে কোনো মুক্ত ও উদার সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষা, ইসলামকে সমর্থন করে না এমন টেকনোলজি ও চিকিৎসা বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ - এসবই ইসলামে নিষিদ্ধ।

মুহাম্মদ ও তাঁর খলিফারা কুরানকেই শিক্ষার একমাত্র গ্রন্থ মনে করত। কুরানের শিক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষা নাই। মুসলমানরা এখনো তা-ই করে। কুরানের বাইরে কোনো শিক্ষা মুহাম্মদ ও তাঁর খলিফারা সহ্য করত না।

এখনো মুসলমানেরা দাবি করে - সব বিজ্ঞান ও শিক্ষা কুরানে আছে।

২৫ জুলাই, ২০১৫

দ্বীনের কাজ, গুনাহর কাজ


ডাস্টবিন থেকে কুড়আনো চিন্তা - ০৩

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

৭.
ইসলামে হস্তমৈথুন করা হারাম।
ওদিকে কুরানে বলা হয়েছে: স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শষ্যক্ষেত্র, তাকে তোমরা যেভাবে খুশি ব্যবহার কর।
এখন হস্তমৈথুন যদি বউকে দিয়ে করায়ে নিই, সেটা কি যায়েজ?

৮.
আমার বাচ্চা ছেলে অংক করতে গিয়ে আটকায়ে গেছে।
জিজ্ঞেস করলাম:
- কোন অংকটা পার না, আব্বু ?
ছেলে মুখস্থ বলে দিল:
- বই নম্বর ২, চ্যাপ্টার নম্বর ৪, অংক নম্বর ৯, পৃষ্ঠা নম্বর ৮৭।

আজকেই টিভি চ্যানেলের লিস্ট থেকে Peace TV-কে সরাতে হবে। আমি বাসায় না থাকলে বউ সারাদিন এসব হাবিজাবি দেখে।
ছেলেটাও এসব শিখতেছে।

৯.
- হুজুর আর খেজুরের পার্থক্য কী?
- একজনের বিচি দুইটা।

কোলাজলজ্জাহীন

ছবিটা ফটোশপিত, তবে এর পেছনে একটি ঘটনা আছে। পোপের প্যারাগুয়ে ভ্রমণের সময় তাকে দেখতে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার এই মডেল, তাঁর পরনে ছিলো ঠিক এই পোশাক। কিন্তু পোপের নজরে পড়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।


২৪ জুলাই, ২০১৫

NASA-তে জরুরি ভিত্তিতে একজন কোরান বিশেষজ্ঞ বাঙালি ইউনানী কবিরাজ আবশ্যক

লিখেছেন জীবন মায়া

মহাকাশ গবেষণার সর্বোচ্চ সংস্থা নাসা আজ সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা জরুরি ভিত্তিতে একজন কোরান বিশেষজ্ঞ বাঙালি ইউনানী কবিরাজকে মহাকাশ গবেষণার কাজে নিয়োগ দেবে। এতে একদিকে যেমন নাসার শত শত বিজ্ঞানীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে, তেমনি অন্য দিকে কোরানের বিভিন্ন আয়াত গবেষণা করে ব্ল্যাক-হোল, সুপারনোভা, পালসার, গ্যালাক্সি ইত্যাদি সম্পর্কেও অগ্রিম তথ্য পাওয়া যাবে। এতে করে বিলিয়ন ডলার খরচ করে মহাকাশযান পাঠিয়ে গবেষণা করার আর প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র যেখানে মহাকাশযান পাঠালে দুনিয়া ও আখেরাতের অশেষ নেকী হাসিল হবে, বেছে বেছে সেসব জায়গাতেই পাঠানো হবে।

পদের নাম: মহাকাশ গবেষক (আধ্যাত্মিক কায়দা)
যোগ্যতা:
১) বাংলাদেশের যে কোনো ইউনানী বিশ্ববিদ্যালয় হতে MBBS (মা-বাবার বেকার সন্তান অথবা মোমবাতি বড় সাইজ) ডিগ্রী থাকতে হবে।
২) যে কোনো ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "ফাজিল" পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে। কোরানের যেসব আয়াতে মহাকাশ বিষয়ক কথা-বার্তা আছে, সেগুলোর নির্ভুল ব্যাখ্যা জানতে হবে।

বাড়তি যোগ্যতা: তালগাছ সংক্রান্ত বিতর্কে যে কোনো মূল্যে তালগাছ ছিনিয়ে আনার পারদর্শিতা থাকতে হবে।

বেতন-ভাতা: আকর্ষণীয়। (সাথে দুইজন পার্থিব হুর পি.এ. হিসেবে দেওয়া হবে)।

সতর্কতা: কোরানের ভুল-ভাল ব্যাখ্যা দিলে তার পশ্চাৎদেশে উচ্চমাত্রার দাহ্য পদার্থ বেঁধে (মহাকাশযানের মত) মহাকাশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সে প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী আছে, তা স্বচক্ষে দেখে আসতে পারে।

আগ্রহীরা সত্বর যোগাযোগ করুন।

খবরের সূত্র: এখানে ক্লিক করুন। এর ৫৭ নং কমেন্ট।

* ৬.১১.১০ তারিখে ধর্মকারীতে প্রকাশিত।

পূর্ণিমা-অমাবস্যায় ব্যথা - হিন্দু কুসংস্কার

লিখেছেন শতদল ঘোষ 

হিন্দুদের অন্যতম বড় কুসংস্কার হল এই 'পূর্ণিমা-অমাবস্যায় শরীরে ব্যথা'।

প্রায় সমস্ত হিন্দু বাড়িতে এই সমস্যাটা আজও প্রবল...

অনেক হিন্দুই বলে, এটা বিজ্ঞান। এটা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের উত্তর চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব, তাই এই ব্যথা হয়।

বাড়িতে Arthritis রোগী থাকলে তো কথাই নেই, এই ব্যথা হবেই...


আসুন, এই সমস্যাটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা জেনে নিই।

এই রোগগুলোকে বলে Psychosomatic Diseases.

সহজ ভাষায় 'মনোরোগ' (Psycho) ও 'শারীরিক অসুস্থতা' (Soma)-র মিশ্রণ।

এই রোগ মনে ৯৫% এবং শরীরে ৫%।

এই রোগের ওষুধ 'ওষুধের দোকানে' পাওয়া যাবে না, যাবে 'সোনার দোকানে'।

ওষুধগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম জানি না, তবে বাজারে এগুলোর নাম - 'চুনি, পান্না, মুক্ত, গোমেদ, ইত্যাদি...

এসবের প্রকৃত মূল্য ৫০০০ হলে মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে ঢাল করে ৫০,০০০ - ৬০,০০০ এ বিক্রি হয়।

তবে এই রোগের চিকিত্সা বিনামূল্যেও করা সম্ভব।

মনের জোর এবং অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করুন, আপনিও পাবেন এই রোগ থেকে মুক্তি...

ভেবে দেখুন, ব্যাপারটা যদি Scientific-ই হবে, তাহলে ব্যথা শুধু হিন্দুদের হয় কেন?

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৯৭



সুন্নতি ঢিলা-কুলুফের বেবোহার

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

আরব অঞ্চল আমরার নিকটবর্তী হইবার কারণে উভয়ের সংষ্কৃতির কিসু কিসু বেফারে মিল দেকতে ফাই। তাই ত আরব ধর্ম এই অঞ্চলে ধোপে টিকার একটা প্লট ফায়। ইউরোফ এ ফায় না।

ইসলাম যেসব বিষয় লিয়ে কতা বলে, তার সাথে ভারতিয় উফমহাদেশের লোকেদের জীবন ঘনিষ্ট অনেক বেফার জড়িত। ইসলাম ধর্ম সবচেয়ে সাংঘাতিক ফেরেশান হয় একটা রাস্তা নিয়া; নারীদের প্রস্রাবের রাস্তা ও মলত্যাগের মধ্যবর্তী এইটা এমুন এক রাস্তা, যার নাম 'জোনাঙ্গ'।

ঠিক একই তরিকায় ভারতিয় উফমহাদেশেও কুমারিত্ব নিয়া প্রাসিন কাল থিকা দেব দেবিদের বড়ই টেনশন। নয় কি?

যে ধর্ম সতিত্বের বেফারে এত সংবেদনশীল, সে ধর্মের লোকেরা কেনো শিব লিঙ্গ লিয়ে এত আরাদনা করে! আইচ্ছা, শিব লিঙ্গের ফূজা কি কেবল নারীরা করে? কেননা সমকামি পুরুশেরা অ ত শিবের যন্ত্রটির গুণ গাওয়ার কতা! তাই না?

কতা হোসসিলো ইসলামি সংষ্কৃতিবান্দব আমাগের এই অঞ্চলের সংষ্কৃতির বেফারে।

দিখা যাইচ্ছে, আরবিয় খাদ্যভ্যাসের সঙ্গে বাঙ্গালিদের খাবার দাবার এর তেমন মিল না থাইকলেও মল ত্যাগের ফরবর্তি ফ্রক্রিয়ার সাথে মিল আছে।

আর লোকেই ত বলে, মলত্যাগের অভ্যাস সভ্যতার নিদর্শন বহন খরে।

২৩ জুলাই, ২০১৫

অ-স্বাভাবিক ও মেটালিক তাবলিগ


পাঠিয়েছেন রিফাত ঊর্মিল

মুমিনীয় ঈমানদণ্ডের রহস্যময় আচরণ

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল

দেওয়ানবাগীরা যখন নবী-রাসুলের চাইতে উঁচু "স্ট্যাটাসের" দাবি করে,

দেওয়ানবাগী যখন অন রেকর্ড ভিডিও-ক্যামেরা মাইকের সামনে দাবি করে যে, সে তার ছেলেকে জেল থেকে ছোটানোর জন্য আল্লাহকে "জোর করে" পদক্ষেপ নিইয়ে নেয়,

দেওয়ানবাগী যখন অন ভিডিও সবার সামনে দাবি করে যে, মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা তাকে বিবাহ করার জন্য আবার জন্ম নিয়েছে এবং তার স্ত্রী হলো মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমা...

... তখন মুমিনের ঈমানদণ্ড খাড়া হয় না। দেওয়ানবাগী লাখে লাখে অনুসারী পায়।

তখন কেউ দেওয়ানবাগীর কল্লায় চাপাতি অ্যাপ্লাই করে না,

তখন মুমিনের "ধর্মীয় নুনুভূতিতে" আঘাত লাগে না।

কিন্তু যখন কেউ ব্লগে কোরান-হাদিস-সিরার রেফারেন্স ঘেঁটে তথ্য-প্রমাণসহ বলে যে, মুহাম্মদ ৯ বছরের শিশু আয়েশাকে fuck করেছিলো,

যুদ্ধবন্দী অবলা নারীদের ধর্ষণ করেছিলো...

... তখনই মুমিনের মুমিনদণ্ড দাঁড়ায়,

তখনই সে ধর্মীয় নুনুভূতিতে আঘাত পায়।

সেই ব্লগারের কল্লায় চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

কিন্তু মাইক দিয়ে ওয়াজ স্টাইলে ভাষণ দিয়ে যখন দেওয়ানবাগী ইমপ্লাই করে যে, সে মুহাম্মদ-কন্যা ফাতিমাকে fuck করছে, তখন তাদের ধর্মীয় নুনুভূতিতে আঘাত লাগে না।

চিত্রপঞ্চক - ১২৬

পাঠিয়েছেন ক্যাটম্যান





২২ জুলাই, ২০১৫

বিধর্মী গাছ আম গাছের বদলে খেজুর গাছরে জাতীয় গাছ করার দাবি

লিখেছেন টেলি সামাদ 

দ্বীনের নবী মুস্তফা সঃ বলেছেন, দুনিয়ায় মমিন মুসলমান গাছ থাকলে ঐ একটাই আছে, আর তা হইল খেজুর গাছ। কি, কথা বিশ্বাস হইতেছে না? এই দ্যাখেন: 
Narrated by Ibn 'Umar:
The Prophet (may the peace and blessings of Allah be upon him) said, "There is a tree among the trees which is similar to a Muslim (in goodness), and that is the date palm tree."
(Bukhari, Vol.7 (65): 359)
উয়েল, এরপরও আর কী কথা থাকতে পারে? মহানবী যা বলেছেন, তাই ফাইনাল। উনার উপ্রে কথা নাই। জোরে বলেন, সুবাহানাল্লা।

৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ঢিলা কইরা দিতেছে। জাতীয় গাছ ঘোষণা করছে। তাও করছে আম গাছ নামের কোন এক বিধর্মী ইহুদী নাসারা গাছরে। এইটা উচিত হইছে? আপনেরাই কন!


দ্বীনের নবী মুস্তফা যেখানে বইলা দিছেন খেজুর গাছের মত মমিন মুসলমান গাছ আর নাই, সেইখানে এরম বিধর্মী একটা গাছরে জাতীয় বৃক্ক করন মানে সোজা মুনাফেকি করা। এইটার একটা জেহাদী ব্যাবস্থা নিতেই হবে। 

তারপর দেখেন হুজুরে পাক সঃ আরও বলেছেন, " খেজুর গাছ লাগাইলে দুইন্নায় আর কেউ ক্ষিদাপেটে থাকব না" (জুরে বলেন সুবাহানাল্লা)।


ক্ষিদা ও দারিদ্রমুক্ত বিশ্বের জন্য এর থেকে ভাল সমাধান আর কী হইতারে, আপনেরাই কন!

আর এই খেজুর গাছ তো যেই সেই গাছ না স্বয়ং আল্লাহ পাক ভেহেস্ত থেইকা ডাইরেক এই গাছ দুইন্নায় পাঠাইছে।

The messenger (peace upon him) says "Honor our aunt, the palm, it was created from clay from which Allah created Adam (peace upon him) No other tree is more honorable than the palm for Allah as he created it under Mariam, the daughter of Omran.

মানে হইতেছে, আদম আঃ যেরম মানব জাতির পিতা ভেহেস্ত থেইকা ডাইরেক দুইন্নায় আইছে, খেজুর গাছও সেরম গাছ জাতির পিতা ভেহেস্ত থেইকা ডাইরেক দুইন্নায় আইছে। 

এরম একটা পবিত্র মমিন গাছরে জায়গা না দিয়া জালিম সরকার আম গাছের মত মুনাফিক মুশরিক ইহুদী-নাসারা গাছরে জাতিয় গাছ ঘোষণা দিয়া চরম নাফরমানি কাম করছে। এইটার একটা বিহিত করনই লাগব।

তাই আসেন মমিন মুসলমান ভাইয়েরা, খেজুর গাছরে নিয়া একটা জেহাদ করি। এই জালিম সরকারের মুনাফেকির দাত ভাঙ্গা জবাব দিতেই হবে।




নাড়ায় তাকবীর ... ... ... ... ... ... ... ... ...

* ৯.৩.১১ তারিখে প্রথম প্রকাশিত।