১ ডিসেম্বর, ২০১৫

নাস্তিকতা রোধে প্রধান মুমিনীয় কর্তব্য

লিখেছেন সুবহ মহাপাতক

আগে ভাবতাম, নাস্তিক লেখকদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। পরে গভীরভাবে ভেবে দেখলাম, আসলে আল্যার জীবনেরও নিরাপত্তা নেই।

জঙ্গিদের টার্গেট মুক্তমনা নাস্তিকরা। বঙ্গদেশের ইসলামি সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে মুক্তচিন্তার লেখকদের খুন করে। "আল্ল্যা গু হাগ ভর" ধ্বনি তুলে যখন ব্লগারদের কোপায়, তখন তাদের ভাব দেখে মনে হয়, প্রতিটি কোপে গলগল বের হওয়া রক্ত যেন জান্নাতের মালের থুক্কু মধুর নহর। জিহাদীদের হামলা এড়াতে নাস্তিক লেখকরাও চোখ-কান খোলা রাখতে চেষ্টা করেন, সতর্ক থাকেন, সাবধানে চলাফেরা করেন। তবে এর মানে এই নয় যে, শুধুমাত্র নাস্তিক লেখকদের প্রাণের নিরাপত্তা নেই।

নাহ! শুধুমাত্র নাস্তিক লেখকদের কুপিয়ে ইসলাম রক্ষা সম্ভব নয়। শান্তির ধর্মের অনুসারীরা কুপিয়ে কুপিয়ে নাস্তিক মারবে, আর শালার প্রকাশকেরা নাস্তিকের বই ছাপিয়ে যাবে? তাহলে তো কষ্ট বৃথা। এবার প্রকাশক খুন করতে হবে। তবেই আর কোনো প্রকাশক নাস্তিকদের লেখা কুফরি কিতাব প্রকাশ করার ধৃষ্টতা দেখাবে না।

এবার শান্তিকামীরা প্রকাশক হত্যা করতে শুরু করল। তারা প্রকাশকদের এমন স্টাইলে মারতে শুরু করল, যেভাবে তারা খুন করত কাফেরদের।

নাহ! ইসলাম প্রচার তবু গতি পাচ্ছে না। লোকেরা তবু নাস্তিকদের কিতাব পড়ছে। এবার নাস্তিকের বই যারা বিক্রি করবে, তাদের মারতে হবে...

এভাবেই খুন হতে থাকবে একে একে লেখক, প্রকাশক, বই বিক্রেতা, পাঠক...

ধ্যাত্তেরি! এত এত ইসলামের শত্রুদের মারা হচ্ছে, তবু নাস্তিতকা কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে। এর কারণ কী? এবার কারে মারতে হবে?

জিহাদীরা কষ্ট করে ইসলামের হেফাজত করছে, আর শালার আল্লা আকাশে বসে বসে নাস্তিকতার প্রচার বাড়াচ্ছে?! 

আল্লার ইচ্ছে ছাড়া তো কিছুই হয় না। নাস্তিকদের আল্লাই সৃষ্টি করছে। এ হতে দেয়া যায় না। এটা আল্লার ষড়যন্ত্র। আল্লা ইসলামের প্রধান শত্রু। একে আগে মারতে হবে। নইলে ইসলাম রক্ষা সম্ভব নয়।

হে মুমিন ভাইয়েরা! আসুন আল্যা নামের নিকৃষ্ট ইসলামের শত্রুকে, নাস্তিক ব্লগার সৃষ্টিকারীকে কতল করে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করি।