৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

সহী-অসহী নির্ধারক মুহূর্ত

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে মুসলিম দম্পতির হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছে। হামলাকারীদের সাথে ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগসূত্র পেয়েছে এফবিআই।

এটা পুরনো এবং নিত্যনৈমিত্তিক ধাঁচের খবর। এমন খবর আমরা মোটামুটি সারা বছরই পাই।

মডরেট মুসলমানেরাও যথারীতি পুরনো ধাঁচে দাবী তুলেছে, তারা সহী মুসলমান নয়। এখানেও নতুনত্ব নেই। নিজের ধর্মের নামে ও ধর্মীয় জিঘাংসার কারণে নিরীহ মানুষ খুন করলে তারা আর মুসলিম থাকে না। তারা এক্স-মুসলিম হয়ে যায়। মনে করুন:

একজন মুসলিম বন্দুক নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন কোনো জনবহুল স্টেশনে। যতক্ষণ 'আল্লাহু আকবর' শ্লোগান দিয়ে গুলি চালিয়ে তিনি মানুষ হত্যা করেননি, ততক্ষণ তিনি মুসলমান থাকবেন। কিন্তু যেই মানুষের ওপর গুলি চালানো শুরু করবেন, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে তিনি আর মুসলিম থাকবেন না। কারণ সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই।

ইউরোপ-আমেরিকাতে এমন হামলা আরও হবে। করবেও শুধু মুসলমানেরা। কিন্তু সন্ত্রাসীদের মুসলমান বলা যাবেই না। এমন বললে মডরেট মুসলমানেরা রাগ করবে, মান-অভিমান করবে। ধরুন:

ট্রেনে বোরখা পরা তিনজন মহিলা উঠলেন। তাঁদের মধ্যে দু'জন ভালো। অন্যজন বোরখার ভেতরে একটা অস্ত্র কিংবা বোমা নিয়ে উঠেছেন অর্থাৎ জনগণের ভাষায় অসহী মুসলমান আরকি! তো বাইরে থেকে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষেরা কীভাবে বুঝবেন কে সহী আর কে অসহী মুসলমান? মুসলমানদের বেশি চেক আপ করলেও সমস্যা। সেটাও নাকি ঘৃণার প্রকাশ হয়ে যায়।

সারা বছর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ খুন করতে পারবে, কিন্তু তাদেরকে সন্দেহ করে চেকও করা যাবে না। করলে সেটা নাকি ইসলামবিদ্বেষ! বোমা হামলা করবে মুসলমানেরা, মানুষ খুন করবে মুসলমানেরা, আর চেক করতে হবে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের।

তাই সহী-অসহী নির্ণয়ের একটি মেশিন আবিষ্কার জরুরি হয়ে পড়েছে, যেটা মুসলমানদের গায়ে ছোঁয়ালেই বলে দেবে ইনি সহী মুসলমান আর উনি অসহী মুসলমান।

এই মেশিন এটাও বলে দেবে যে, এই মুসলমান ভাই অথবা বোনটির সহী মুসলমানির ভ্যালিডিটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত। তিনি বর্তমানে মোল্লাদের সাথে মিশছেন। ২০১৬ সালের যে কোনো একদিন তিনিও অসহী হয়ে পড়তে পারেন মানে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারেন।


তাহলে হয়রানি (!) থেকে মুসলমানেরাও বেঁচে যান এবং পৃথিবীটাও নিরাপদ থাকে।

সবশেষে একটা সুখবর দিয়ে শুরু করি। শান্তির ধর্ম (!) ইসলামের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে এখন কেউ 'আল্লাহু আকবর' বলে চিৎকার দিলেই লোকজন দৌড়ানো শুরু করে দেয় ভয়ে।