১৯ অক্টোবর, ২০১৫

নাস্তিকরা প্রাণখুলে হাসে কেন - ২

লিখেছেন সাউদ আল মুহাম্মাদ

আল-কোরআন যদি আল্লাহর বাণী হয়, তাহলে আল্লাহ যা বলেছেন হুবহু তা-ই বলতে হবে। আপনি যদি আল্লাহর কথার একটি শব্দও বাদ দিয়ে বলেন, তাহলে কিন্তু আল্লাহর অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ থাকবে না। ধরুন, আল্লাহ বলেছেন, "মানুষ, আমি তোমাদের ভালোবাসি।" আপনি যদি এই লাইনের একটি শব্দকেও বাদ দিয়ে বলেন যে, আল্লাহ আছে এবং এটাই আল্লাহর কথা, তাহলে সেটা হবে চরম মিথ্যা, প্রতারণা এবং ভণ্ডামি। মুসলিমরা কোরআনের অনুবাদ তো বিকৃত করেছেই, বিকৃত করেছে আয়াত-সংখ্যাও। কোরানের কোথায় কী বিকৃত করা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করবো।

শীয়া সম্প্রদায় দাবি করে, শুরুতে কোরানের আয়াত সংখ্যা ছিল ১৭০০০, এবং কোরানের মধ্যে বেলায়েত নামে একটি সুরা ছিল, যে-সুরায় হযরত আলি, ফাতিমা ও হাসান-হোসেনের গুরুত্ব বিষয়ে লিখিত ছিল। কিন্তু ইমাম বংশ ধ্বংসকারী মীর মোশাররফ হোসেনের 'বিষাদ সিন্ধু'-র ভাষায় কাফের আর সুন্নিদের ভাষায় তাদের কী বলে, দয়া করে নিজেরা একটু জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। তাঁরা কোরান থেকে সেগুলি সরিয়ে ফেলেন এবং কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬ টি নির্ধারণ করেন। কালে কালে কমতে কমতে ৬৬৬৬ থেকে এ পর্যন্ত কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬-এ দাঁড়িয়েছে। কমেছে ৪৩০ টি আয়াত।

এটা কি কোরানের বিকৃতি নয়? আগামীতে আরও কত কমে, তা পরবর্তীরা দেখে যেতে পারবেন। ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত অধ্যক্ষ আলি হায়দার চৌধুরীর বাংলায় অনুবাদকৃত কোরানে সুরা আনামের আয়াত-সংখ্যা ছিল ১৬৬ টি, কিন্তু বর্তমান কোরান শরিফে সুরা আনামের আয়াত সংখ্যা ১৬৫ টি। এটা কোরানের বিকৃতি কি না, ভেবে বলুন তো?

এ পর্যন্ত যত কোরান দেখেছি, তাতে সুরা ফাতিহার আয়াত-সংখ্যা ৭ এবং 'বিসমিল্লাহির রাহমানুর রহিম' সুরা ফাতিহার আয়াত নয়। কিন্তু বর্তমান অনূদিত দুটি কোরানের অনুবাদে দেখলাম, তারা সুরা ফাতিহার আয়াত সংখ্যা লিখেছে ৭ এবং 'বিসমিল্লাহির রাহমানুর রহিম'-কে তারা সুরা ফাতিহার প্রথম আয়াত হিসেবে লিখেছে, ৬ ও ৭ নং আয়াতকে একত্রিত করে ৭ম আয়াত করেছে। প্রমাণ স্বরূপ অনুবাদকৃত সুরা ফাতিহা হুবহু উঠিয়ে দিলাম। দেখে বলুন এটা কোরানের বিকৃতি কি না। যদি বিকৃতি হয়ে থাকে, তাহলে মুসলিমদের কী করা উচিত। হাসিনা সরকারের নারী নীতিমালা প্রকাশের পর যারা আন্দোলন করলেন, তাঁরাও এ বিষয়ে চুপ কেন, জানতে চাই। সুরা ফাতিহার অনুবাদও যে কত বিকৃত করেছে ও কোন কোন অনুবাদক এমন করেছে, সেটাও প্রকাশ করবো।

সুরা-ফাতিহা। মক্কাবতীর্ন।

রুকু-১, আয়াত:৭

ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤـَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ০১
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟﻠّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ০২
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলারযিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

ﺍﻟﺮَّﺣْﻤـﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ০৩
যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

ﻣَـﺎﻟِﻚِ ﻳَﻮْﻡِ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ০৪
যিনি বিচার দিনের মালিক।

ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌْﺒُﺪُ ﻭﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴْﺘَﻌِﻴﻦُ ০৫
আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

ﺍﻫﺪِﻧَــــﺎ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟﻤُﺴﺘَﻘِﻴﻢَ ০৬
আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,

ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧﻌَﻤﺖَ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢْ ﻏَﻴﺮِ ﺍﻟﻤَﻐﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴﻬِﻢْ ﻭَﻻَ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ ০৭
সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।