৮ অক্টোবর, ২০১৫

অজ্ঞ নবীর অন্ধ অনুসারীরা

লিখেছেন পুতুল হক

পৃথিবীর এক এক অঞ্চলে মানুষের খাদ্যাভাস এবং পোশাক-পরিচ্ছদ এক এক রকমের। অঞ্চলভেদে মানুষ এসব ঠিক করে নেয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ দু'বেলা ভাত খায় এবং অধিকাংশ দিন এটা হয় মাছ-ভাত। মরুভূমির মানুষ বা বরফের দেশের মানুষ মাছ-ভাত পাবেও না, খাবেও না। পোশাকের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। 

তবুও কখনো কখনো কোথাও কোথাও গেলে মনে হয় “এ আমি কে আমি? কোথায় আমি?” যেমন ধরুন, গেলাম কোনো ডাক্তারের চেম্বারে। সেখানে বসে আছি ঘন্টা দুয়েক। হঠাৎ আমার মনে হতে থাকে, আমি কে? বা আমি কোথায়? আমাকে বাদ দিয়ে বাকি সব মেয়েকে দেখছি বোরকা পরতে, চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। গরমে এখন দেশের মানুষ সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর এর মধ্যে তারা হাতে-পায়ে কালো মোজা পরে আছে। তারা কি আমার দেশীও নয়? তারা কি মাছভাত খায়? 

চারিদিক ভালো করে দেখি, নাহ্‌ তো, আমি দেশেই আছি, মোটা ফাইল নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করছি। তবে কি এতো এতো বিদেশী মেয়ে একই ডাক্তার দেখাতে এসেছে? কিন্তু তারা তো সবাই বাংলায় কথা বলছে। কেউ থাকে একই শহরে কেউ বা ভিন্ন শহরে, কিন্তু সবাই বাঙালি। তবুও তাদেরকে আমার বিদেশী বলে মনে হয়!

নবী মোহাম্মদ যা কিছু খেয়েছে, যা কিছু পরেছে, যা কিছু বলেছে, তা তৎকালীন আরব সমাজকে কেন্দ্র করে। তার প্রিয় খাবারের তালিকায় আরবের বাইরের অন্য কোন খাবারের কথা কি আছে? তার পোশাক কি আরবের বাইরের অন্য কোনো কিছু ছিল? সব ক্ষেত্রেই উত্তর হচ্ছে - “না”। 

সে যদি পাকা আম খেতো, আমি নিশ্চিত - তার কল্পিত বেহেস্তে আমবাগান থাকতো, আর সেখানে সারা বছর হিম সাগর, ল্যাংড়া বা আম্রপালি আম পাকা পাকা ঝুলে থাকতো। বেহেশতে এতো সুমিষ্ট পানির নহর, কিন্তু কোথাও কৈ মাছ, ইলিশ মাছ নেই। নবীর যে মাছ খাওয়ার অভ্যাসই ছিল না! কিছু যদি খেয়ে থাকে, সেটা সাদামাটা সামুদ্রিক মাছ আর সেসব নিয়ে তার বা সেখানকার মানুষের কোনো মোহ ছিল না। কিন্তু মাছ নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতা কখনোই যাবে না।

২০১৫ সালে পৃথিবীটা কেমন হবে, সে সম্পর্কে মোহাম্মদের কোনো ধারণাই ছিল না। সে জানতো না, পৃথিবীটা গোল, এক দেশে দিন হলে আরেক দেশে রাত রাত হতে পারে, এতো বড় পৃথিবী আর কোটি কোটি মানুষ একে অপরের কতো কাছাকাছি হতে পারে। কিন্তু মোহাম্মদ এটা জানতো, সে এমন একটি উম্মতের বাহিনী তৈরি করবে, যারা তার সব অজানা সত্ত্বেও তাকে সব সময়ের জন্য প্রয়োগযোগ্য করে যাবে। তারা বাংলাদেশের ভ্যাপসা গরম আবহাওয়াতেও বোরকা ও হাতে-পায়ে মোজা পরে থাকবে, জমিজমা বেচে হজ্ব করে আসবে, টানাটানির সংসারেও মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ দান করবে, আম না খেয়ে “খেজুর পাক” খাবে।