১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আল্লার ঘর ভিক্ষানির্ভর

লিখেছেন জর্জ মিয়া

রাস্তায় মোড়ে মোড়ে, বাসে-লঞ্চে আল্লার নাম নিয়া মসজিদের উন্নয়ন বা তৈরির কথা বলে টাকা নেয়া হয়। 

মসজিদ তো আল্লার ঘর, নাকি? অবশ্য ঐ ঘরে সে খায় না ঘুমায়? নাকি কাউরে ঘুম পাড়ায়? সেটা কেউ এখনো জানে নাই। আর কোনো মাধ্যম দিয়া জানাও যায় নাই।

আল্লা নাকি সর্বশক্তিমান! তা আল্লা নিজের ঘর নিজে না বানায়া তার বান্দাদের কেন রাস্তায় নামায়ে ভিক্ষা করায়, আর কেনই বা মানুষের কাছে এভাবে টাকা তোলে? এই টাকা দিয়া যদি একটা ভুখারে এক বেলা খাবার খাওয়ানো যায়, তাতে কি আল্লার খুব বেশি ক্ষতি হয়?

কেউ কেউ বলে, দুইটাই করতে হবে।

আমি বলি কেন রে বাপু? তোমার আল্লার ঘর তারে নিজেরেই বানাইতো কও না গিয়া। হুদাই গরীবের হকের উপরে কেন উনি ভাগ বসান?

মাঝে মাঝে এও দেখা যায়, অনেকেই বলে, মাদ্রাসা হইলো নবীজির ঘর। সেইখানেও টাকা দেয়া লাগতাসে মানুষের। কে হিন্দু, কে মুসলিম - কোনো বাছবিচার নাই। যারে সামনে পায়, তার কাছেই টাকা চাওয়া শুরু করে। আচ্ছা ভাই, এই যে হিন্দু বা ইহুদি অথবা নাস্তিকের কাছ থেকে মসজিদ-মাদ্রাসার জন্য টাকা চাও, তারা যদি সে টাকা দ্যায়, তোমার আল্লা কি সেটা কবুল করবে?

কবুল-টবুল করবে কি না জানি না, তবে তোমার আল্লা এখানে তোমার মাধ্যমে নাস্তিক, কাফের, মালাউনের কাছেই হাত পাতলো। তোমার আল্লা কি এতই ছোটলোক?

আর মাদ্রাসার কথা বলতে গেলে তোমরা যে কথায় কথায় কও, মাদ্রাসা নবিজির ঘর, তা, বাজান, কোন মাদ্রাসায় তোমার নবীজি থাকেন, এখন আর কোন মাদ্রাসায় পড়েছিলেন ?

যদি কও, এইখানেই নবীজির আদর্শানুসারে ছাত্রদের শিক্ষা দেয়া হয়, তবে আমার চাই না এ শিক্ষা।

যে-শিক্ষা মানুষ মারার কথা বলে, যে-শিক্ষা মানুষদের মধ্যে হিংসা ছড়ায়, যে-শিক্ষায় মানুষ বর্বর হয়ে ওঠে, যে-শিক্ষায় মতের বিরুদ্ধে গেলেই চাপাতি চালায় বিনা দ্বিধায়, যে-শিক্ষা বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের মনে করে ভোগ্যপণ্য, সে-শিক্ষা আর যে-ই হোক না কেন, কোনো বিবেকবান মানুষ চাইবে না। এইটা বিচার করতে নাস্তিক হওয়া লাগে না। সাধারণ চোখে দেখলেই তোমার ধর্মের হিংস্র রূপটা বেরিয়ে আসে।

চরমোনাইর ইসলাম আর ছারছিনার ইসলাম এক না। আনসারুল্লার ইসলাম আর আটরশির ইসলাম এক না। শাহ জালালের ইসলাম আর হেফাজতের ইসলামও এক না। এসব বুঝতে নাস্তিক হওয়া লাগে না।

তবে এসব দেখে দেখেই মানুষ নাস্তিক হয়।