১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ধর্মগুলোর নাস্তিকাতঙ্ক

ধর্ম মানেই ব্যবসা, ধর্ম মানেই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। ফলে ধর্মগুলো যতো সুশীলতার ভানই করুক না কেন, এক ধর্ম সব সময়ই অন্য ধর্মের প্রবল শত্রু। ইতিহাসে সংঘটিত অগণ্য ধর্মযুদ্ধই এর প্রমাণ। অবশ্য শুধু ধর্মে-ধর্মে নয়, একই ধর্মের দু'টি ভিন্ন গোত্রের মধ্যেও যুদ্ধ ও সহিংসতার নিদর্শন আছে বর্তমান সময়েও।

তাই সমস্ত ধর্মের ঐক্য - এটা সম্পূর্ণভাবেই অলীক একটি ধারণা। তত্ত্বগতভাবে সম্ভবপর হলেও বাস্তবায়ন একেবারেই অবাস্তব। 

না, ভুল হলো। একটি বিষয়ে ধর্মগুলোর ঐক্য কিন্তু রীতিমতোই সম্ভব। সেটা হচ্ছে: 'নাস্তিক ঠেকাও/হটাও/খেদাও' উদ্যোগ। এ ব্যাপারে ধর্মগুলোর গলাগলির উদাহরণ বিরল নয়।


এই যেমন, মিসরে মুছলিম ও খ্রিষ্টান ধর্মগুরুরা নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার ঘোষণা দিয়েছে। সে দেশে তরুণ-যুবকদের মধ্যে নাস্তিক্যবাদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতায় তারা এতোটাই আতঙ্কিত যে, ধর্মীয় ভেদাভেদ পাশে ঠেলে কমন শত্রু নাস্তিকদের উত্থান রোধ করতে তারা একাট্টা হয়েছে। এ নিয়ে একটি কনফারেন্সের অয়োজনও করেছিল তারা

এদিকে আরেকটি সংবাদে দেখা যাচ্ছে, মিসরে নাস্তিকদের সংখ্যা নাকি সাকুল্যে ৮৬৬ জন! সমগ্র আরব জাহানের দেশগুলোর মধ্যে মিসরেই সবচেয়ে বেশি নাস্তিক। ৩২৫ জন নাস্তিক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো! ইয়েমেনে নাস্তিক আছে ৩২ জন! 

এগুলো মনগড়া কোনও সংখ্যা নয়, বরং সরকারী উদ্যোগে নাস্তিকশুমারীর ফল বলে দাবি করা হয়েছে। বাস্তবতার বিচারে হাস্যকর হলেও ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য সুস্বাদু এই ফলটিই খাওয়ানো হচ্ছে সরকারীভাবে।

হিসেব কষলে দেখা যায়, মিসরে পুরো জনসংখ্যার শতকরা ০.০০১ জন নাস্তিক। আরও বোধগম্যভাবে বললে - প্রতি এক লাখে একজন নাস্তিক। কী বিপুল সংখ্যা! ধর্মবাজদের ভীত হয়ে ওঠারই কথা! মিসরে প্রবল পরাক্রমশালী ইছলাম (শতকরা ৯০ জন) এককভাবে নাস্তিক্যবাদ রোধ করতে পারবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় বলেই আলিঙ্গনে জড়িয়েছে খ্রিষ্টধর্মকে (শতকরা ৯ জন)।