১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অভিজিৎ রায়: মৃত্যুউত্তর প্রথম জন্মদিন

'মুক্তমনা' ব্লগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে বাংলায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকৃত পথিকৃৎ অভিজিৎ রায়ের জন্মদিন আজ। আপাদমস্তক মানবতাবাদী, যুক্তিমনস্ক, সংস্কৃতিমনা, অত্যন্ত সুলেখক ও অতি ভদ্রজন ছিলেন তিনি।

তাঁর অগণ্য অসাধারণ লেখার ভেতরে কেন জানি একটি লেখার কথা আমার বিশেষভাবে মনে পড়ে। ভীষণ আলোড়িত হয়েছিলাম সেটি পড়ে। নিখুঁত তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে বিবেকানন্দের তথাকথিত মহাপুরুষত্ব ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি স্ববিরোধী বিবেকানন্দ নামের সেই লেখাটিতে। তখন বিবেকানন্দের খসে-পড়া ধুতি সামলাতে প্রাণপাত করেছিল তার কিছু ভক্ত। পরে অভিজিৎ রায়কে লিখতে হয়েছিল ফলো-আপ: স্ববিরোধী বিবেকানন্দ – কিছু সমালোচনার জবাবে

মনে পড়ে, মিডিয়াসৃষ্ট "মহতী" নারী মাদার তেরেসার ভণ্ডামির স্বরূপ উদঘাটন করার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৪ সালে তাঁকে লিখেছিলাম, "এই কাজটা আপনার চেয়ে ভালো কেউ পারবে না।" তিনি স্বভাবসুলভ রসিকতা করে উত্তর দিয়েছিলেন, "আপনেরা কোথাওই ভালা কিছু দেখতে পান না। মাদার টেরেসার মত দেবীর লাহান পাবলিকের মধ্যেও দোষ খুঁইজা বাইর কছেন।" তিনি লিখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ও উত্তর দিয়েছিলেন এই বলে, "কিন্তু সময় লাগবে। বই পত্তর যোগার করতে হবে..."

হায়, আমরা অতীব প্রয়োজনীয় ও গুরুত্ববহ সেই লেখা থেকে বঞ্চিত হলাম। এবং অজস্র পাঠক মিডিয়াসূত্রে প্রাপ্ত মাদার তেরেসার ভ্রান্ত ভাবমূর্তিটিই লালন করে চলবে। কেবল অভিজিৎ রায়ই পারতেন সবচেয়ে কার্যকরীভাবে তাদের এই ভ্রান্তিমোচন করতে।

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে আমাদের। শিক্ষাবিদ্বেষী, সভ্যতাবিমুখ, বর্বর ইছলাম ধর্মের চাপাতিচর্চার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। মৃত্যুর পরে কারুর স্থান শূন্য থাকে না বলে যে-কথাটির প্রচলন আছে, সেটি আসলে ভুল। অভিজিৎ রায়ের মতো সুশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান, বিদগ্ধ ও প্রতিভাধর মানুষের স্থান পূরণ হয় না।

তাঁকে আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি আজ।

সবগুলো পোস্টার বানানোর কৃতিত্ব সামিনা চৌধুরী এ্যানি-র