২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হাস্যকর, খুব হাস্যকর

লিখেছেন সুহৃদ 

সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বনাশ মহান আল্যাপাক-এর সাথে সেদিন দেখা হয়ে গেল, সাথে নৃত্যরত তার তিন যুবতী মেয়ে লাত, মানাত আর উজ্জা। আমি বারবার আল্যাপাকের মেয়েদের দিকে দুষ্টু নজরে তাকাচ্ছিলাম। তা দেখে তিনি রেগে গজগজ করে বললেন, "সোজা হও!"

আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। 
তিনি ধমক দিয়ে বললেন, "এবার হাল্লা বল।"
আমি লাতের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে চিঁ চিঁ করে বললাম, "হাল্লা!"
তিনি কড়া স্বরে প্যাক প্যাক করে পুনরায় আদেশ করলেন, "হাল্লা বল।"
আমি মানাতের দিকে তাকিয়ে ঢোঁক গিলে বললাম, "হাল্লা!"
আবার কর্কশ কণ্ঠে একই নির্দেশ এল, "হাল্লা বল।"
আমি উজ্জার দিকে চুপে চুপে তাকিয়ে কাঁপা স্বরে বললাম, "হাল্লা!"

- এবার বল, তোর কী যেন প্রশ্ন ছিল? 
- হ্যাঁ, প্রশ্ন তো অনেক ছিল। এই যে মহাবিশ্ব কত বিশাল, আকাশ-বাতাস-পাহাড়-পর্বত-নদী-নালা-খাল-বিল-সাগর-মহাসাগর-গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথ-সুপারক্লাস্টার...

তিনি যোগ করলেন, "মানুষ-গরু-ছাগল-মহিষ-ভেড়া-শুয়োর-কুকুর-বেড়াল-হাঁস-মুরগি-মুসা-ইসা-মহামেদ..."
আমি বললাম, "পদার্থ বিজ্ঞানের দুর্বোধ্য সব সূত্র!"
তিনি ফোকলা দাঁত বের করে মাথা দুলিয়ে বললেন, "ম্যালেরিয়া-টাইফয়েড-আমাশয়-এইডস-সিফিলিস-ক্যান্সার-মশা-মাছি-গু-গোবর-রাজাকার..."
আমি বললাম, "হ্যাঁ, সবকিছু আপনি আপনার অপরিসীম হেকমত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কীভাবে সব সৃষ্টি করেছেন?"
তিনি তার পাকা দাড়িতে হাত বুলিয়ে গম্ভীর হয়ে বললেন, "আমি বললাম, ‘হাস্যকর, খুব হাস্যকর।’ এতেই সবকিছু সৃষ্টি হয়ে গেল।"

- কিন্তু আপনার পবিত্র বা’আল পুরানে লেখা, আপনি বলেছেন, 'কুন সে সায়ারুন, কুন ফায়াকুন, নাই মা খবিরুন, আলাইহিম চুদুরুন, সব ত্বোরা খাওপুন!'
- আর তাতেই সবকিছু সৃষ্টি হয়ে গেল? 
- হ্যাঁ, তাই তো লেখা। 
- হাস্যকর, খুব হাস্যকর, তাই না? 
- হ্যাঁ, তা তো বটেই! 
- তাহলে তো ঠিকই আছে! সমস্যা কোথায়?