১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থানের দুর্ঘটনার নির্ঘন্ট

ইছলামী বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থলে হজ্বের প্রাক্কালে (যখন ইতোমধ্যে অনেক হজ্বযাত্রী সেখানে উপস্থিত) শুক্রবারে নামাজের সময় ভারী ক্রেইন ভেঙে পড়ে ১০৭ জন মুছলিমের মৃত্য ঘটেছে। তারিখটাও তাৎপর্যময় - নাইন ইলেভেন

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশী নাগরিকও আছে। মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে ধর্ষণের ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দিয়ে যে-বঙ্গসন্তান হজ্ব করতে গেছে (আল্যার কী কুদরত! হজ্ব করলে সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায়।), সে মৃতদের তালিকায় আছে কি না, তা জানা যায়নি।

এদিকে মক্কায় মসজিদ-চত্বরে নির্মাণ-কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, "এই ঘটনা ঘটেছে আল্লাহর ইচ্ছায়।" তা তো বটেই। তার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও তো নড়ে না। অতএব ক্রেইনও নিশ্চয়ই তার আজ্ঞাবাহী। এ প্রসঙ্গে ধর্মকারীর পাঠক 'টোস্টার' লিখলেন, "শুনতে যেমনই লাগুক, 'ধর্মের ক্রেন বাতাসে নড়ে' খুবই প্রাসঙ্গিক।"

এই ঘটনার "একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ একটি ক্রেইন মসজিদের ওপর আছড়ে পড়ছে এবং এই দৃশ্য দেখে আল্লাহকে ডাকতে শোনা যায় কয়েকজনকে।" আল্যা কি তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েছে? 

মমিনীয় ভাষ্য ও দাবি থেকে আমরা জানি - কাবা শরীফ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কাবার ওপর দিয়ে পাখিও উড়তে পারে না। 

বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, কাবার ছাদে কবুতর ও তার বিষ্ঠার ছবি আমরা দেখেছি। কাবায় বন্যার ছবিও ইন্টারনেটে লভ্য। এছাড়া বিবিধ দুর্ঘটনাও সেখানে একেবারেই বিরল নয়। গত চল্লিশ বছরে হজ্বের সময়ে এই জাতীয় দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় তিন হাজার মানুষ।

১৯৭৫ থেকে ২০১৫ মক্কায় ৪০ বছরে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। বিভিন্ন সময়ে একের পর এক হজ ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, সড়ক দুর্ঘটনা, বোমা বিস্ফোরণ, শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষ, ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ড এবং পদদলিত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন আফগানসহ ডজনখানেক হাজি মারা যাওয়ার ৪ বছর পর আবার সেই সেপ্টেম্বরেই পবিত্র হজের মাত্র কয়েকদিন আগে আরেক ট্র্যাজেডির জন্ম হলো। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি শুক্রবারের ক্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে।
২০০৬ সালে মক্কায় বহুতল আল-গাজা হোটেল ধসে ৭৬ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৬৪ জন। একই বছর আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান আরও ৩৪৫ জন।
২০০৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতেও শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান ২৪৪ জন হাজি। ২০০১ সালের ৫ মার্চ ৩৫ জন হাজি মারা যান ওই আল-জামারাতে একই ধরনের ঘটনায়। ওই একই জায়গায় ১৯৯৮ সালে পদদলিত হয়ে মারা যান ১৮০ জন হাজি।
১৯৯৭ সালের ১৫ এপ্রিল মিনায় তাবুতে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান ৩৪০ জন। এ ঘটনায় আহত হন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ১৯৯৪ সালের ২৩ মে ২৭০ জন মারা যান আল-জামারাতে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইন্দোনেশীয়।
এর আগে ১৯৯০ সালের ২ জুলাই মক্কায় মারা যান ১৪’শ ২৬ জন হাজি। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ও পাকিস্তানি। সুড়ঙ্গ পথে পদপিষ্ট হয়ে এই বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়। হজ ট্র্যাজেডিগুলোর মধ্যে এটিই এযাবৎ কালের সবচেয়ে বেশি প্রাণহানীর ঘটনা।
মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থানে শুধু দুর্ঘটনাই নয় বোমা বিস্ফোরণ, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষেও মারা গেছেন অনেক মুসল্লি।
১৯৮৯ সালের ৯ জুলাই মক্কায় দুইটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হন এক হাজি এবং আহত হন আরও ১৬ জন।
১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই মক্কায় ৪০২ জন হাজি নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইরানি হাজি। এ ঘটনায় আরও ৬৪৯ জন আহত হন। সৌদি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শিয়াদের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তাবুতে আগুন লেগে গেলে নিহত হন ২০০ হাজি।
ঘটনাগুলো ঘটেছে কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে! খিয়াল কৈরা!