১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হানিলতা সেন

জীবনানন্দ দাশ-এর বনলতা সেন কবিতার প্যারোডি লিখেছেন নাস্তিকথন

হাজার বছর ধরে আমি ডাকাতি করিতেছি হেজাজের পথে,
উত্তপ্ত মদিনা থেকে নিশীথের অন্ধকারে উহুদ বদরে
অনেক লুটেছি আমি; কোরায়জা মোস্তালিকের ধূসর জগতে
মক্কায় ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি অতৃপ্ত প্রাণ এক, ঘরেতে ৬৫ পার খাদিজা ছিলেন,
আমারে ঈমানদণ্ড-শান্তি দিয়েছিল মেরাজের হানিলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার বেহেস্তের কারুকার্য; অতিদূর মরুভূমির ’পর
উট হারিয়ে যে-বেদুইন হারায়েছে দিশা
ধূসর বালির দেশ যখন সে চোখে দেখে বালিচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি চেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
খেজুর বিচির মতো চোখ তুলে মেরাজের হানিলতা সেন। 

সমস্ত মেরাজ শেষে জিকিরের শব্দের মতন
সকাল আসে; জিহ্বায় হানির গন্ধ চোখদুটো নীল;
হিজরের সব সাহাবা জেগে গেলে খোঁজাখুঁজির করে আয়োজন
তখন ফাঁদি কল্পগল্প - আসমান ভ্রমণের রঙে ঝিলমিল;
বুড়ি বউয়ের ঘরে ফিরি - আমি নবী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার হানিলতা সেন।