৩১ আগস্ট, ২০১৫

পেঁয়াজ সংকটের ঐশী কারণ

লিখেছেন ক্যাটম্যান

সম্প্রতি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সংকটে পড়েছেন দেশীয় ভোক্তারা। শুধু তাই নয়, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার পেঁয়াজ ভোক্তাদের মাঝেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পশ্চাতে কী কারণ নিহিত আছে, তার অনুসন্ধানে সরকার ও বাজার বিশ্লেষকগণ রীতিমত গলদঘর্ম হচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কেউ কেউ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কয়েকটি কারণ সনাক্ত করেছেন বটে, যেমন - (১) অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ। (২) বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারতে পেঁয়াজের সংকট। (৩) রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে ভারতীয় পেঁয়াজের টনপ্রতি রপ্তানি মূল্য ৪২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলারে নির্ধারণ। (৪) আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি। এতসব কারণ থাকা সত্ত্বেও সরকার পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেমন - টিসিবিকে পেঁয়াজ আমদানির নির্দেশ দান, বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের চালান দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, পেঁয়াজ আমদানিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সহজে ঋণপত্র খোলার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া ও বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি করা। কিন্তু এতসব উদ্যোগ গ্রহণ করা সত্ত্বেত্ত পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার এখন পর্যন্ত ব্যর্থ।

পেঁয়াজ এই উপমহাদেশের মানুষের আবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য হওয়ায় বছরের প্রায় সময় পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উপমহাদেশ জুড়েই সংবাদের শিরোনাম হয়। এমনকি ভারত উপমহাদেশীয় দেশসমূহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবেও পেঁয়াজকে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদগণ পার্থিব লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজকে কার্যকরী হাতিয়ার বিবেচনা করলেও ধর্মবাদীগণ পারলৌকিক লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজকে প্রতিকূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। তাই ধর্মবাদীগণের বিবেচনায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অন্যত্র বিদ্যমান। সরকার পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যত প্রকার কারণ সনাক্ত করুক না কেন, ধর্মবাদীগণের বিবেচনায় - এর পেছনে মূলত ঐশ্বরিক কারণ বিদ্যমান। তাই পেঁয়াজ শুধু সাধারণ ভোক্তা ও রাজনৈতিক নেতাদেরই আলোচনার বিষয়বস্তু নয়, একইসাথে তা ইসলাম ধর্মের প্রভু আল্লাহরও আলোচনার বিষয়বস্তু। কারণ ইসলাম ধর্মের প্রভু আল্লাহ পেঁয়াজের ঝাঁজাল গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাকে নিকৃষ্ট দ্রব্যের কাতারভুক্ত করেছেন, একইসাথে তার ভক্ত ও অনুসারীদেরকে পেঁয়াজ ভোগে নিরুৎসাহিত করেছেন। এমনকি যারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পেঁয়াজ ভোগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে, তাদেরকে আল্লাহ অভাব-অনটনের ন্যায় লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির হুমকি প্রদান করেছেন। আল-কুরআনে পেঁয়াজ বর্জনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে -
স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মূসা! আমরা একই ধরনের খাবারের ওপর সবর করতে পারি না, তোমার রবের কাছে দোয়া করো যেন তিনি আমাদের জন্য শাক-সব্জি, গম, রসুন, পেঁয়াজ, ডাল ইত্যাদি কৃষিজাত দ্রব্যাদি উৎপন্ন করেন।’ তখন মূসা বলেছিল, ‘তোমরা কি একটি উৎকৃষ্ট জিনিসের পরিবর্তে নিকৃষ্ট জিনিস নিতে চাও? তাহলে তোমরা কোন নগরে গিয়ে বসবাস করো, তোমরা যা কিছু চাও সেখানে পেয়ে যাবে।’ অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছলো যার ফলে লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটন তাদের ওপর চেপে বসলো এবং আল্লাহর গযব তাদেরকে ঘিরে ফেললো।
[সূরা বাকারা, আয়াত ৬১]
উক্ত আয়াতের শিক্ষা হলো: মূসার সম্প্রদায় ঈশ্বর প্রদত্ত একঘেয়ে খাবারের প্রতি বিরক্ত হয়ে তা থেকে নিস্তার পেতে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের প্রতি আগ্রহ ব্যক্ত করে। শাকসবজি, গম, রসুন, পেঁয়াজ ও ডালের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের ব্যাপারে তারা মূসার মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকট আবদার করে। আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী আমরা জানি যে, শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যপ্রাণ ও আঁশ বিদ্যমান, গম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, রসুন ও পেঁয়াজ যথেষ্ট ভৈষজিক গুণসম্পন্ন এবং ডাল আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মূসার সম্প্রদায়ের দাবিকৃত খাবারসমূহের এত এত গুণ থাকা সত্ত্বেত্ত আল্লাহ এগুলো ভোগের চরম বিরোধী। তাই তিনি এগুলোকে ঈশ্বর প্রদত্ত একঘেয়ে উৎকৃষ্ট খাবারের বিপরীতে নিকৃষ্ট খাবার বলে আখ্যায়িত করেছেন। এবং এগুলো পেতে চাইলে কোনো এক নগরে গিয়ে বসবাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি ঈশ্বরের একঘেয়ে রুচির বিরোধিতা করায় লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটন মূসার সম্প্রদায়ের ওপর চেপে বসেছিল এবং আল্লাহর গজব তাদের ঘিরে ফেলেছিল।

নিকৃষ্ট খাবার পেঁয়াজ-রসুনকে কেন্দ্র করে এমন তাৎপর্যময় শিক্ষা আল-কুরআনে থাকা সত্ত্বেত্ত বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় তা মানতে নারাজ। মুসলমানেরা আজীবন ইহুদি ধর্ম ও সংস্কৃতির চরম বিরোধিতা করে এলেও পেঁয়াজ রসুন-ভোগের প্রশ্নে তারা মূসার ইহুদি সম্প্রদায়ের ন্যায় ঈশ্বরবিরোধী। আল-কুরআনে পেঁয়াজ-রসুনকে ঈশ্বর ঘোষিত নিকৃষ্ট জিনিস হিসেবে জানলেও মুসলমানগণ তা উৎকৃষ্ট জিনিস হিসেবেই ভোগ করে থাকেন। পেঁয়াজ-রসুন ভোগের প্রশ্নে মুসলমানগণ আল-কুরআনের শিক্ষার বিরোধিতা করে মূলত আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ কুফরির সামিল। এই বিবেচনায় শাকসবজি ও পেঁয়াজ-রসুন ভোগকারী মুসলিম সম্প্রদায় মূলত মুসলিম বেশধারী কাফের। তাই মূসার ঈশ্বর যেমন পেঁয়াজখেকো ইহুদি সম্প্রদায়কে ঈশ্বরবিরোধিতার অপরাধে অভাব-অনটন দ্বারা শাস্তি দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি একই অপরাধে বর্তমান মুসলিম সম্প্রদায়কেও ঈশ্বরের হুকুম অমান্যের শাস্তি দিচ্ছেন মুহম্মদের আল্লাহ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশে পেঁয়াজীয় গজব নাজিল করেছেন তিনি। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলার মুমিনকুলকে ঐশ্বরিক হুকুম অমান্যের শাস্তি দিচ্ছেন তিনি। যেন তারা চড়া মূল্যে পেঁয়াজ খরিদ করে অভাব-অনটনে নিপতিত হয়। উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ ক্রয় করে তারা যেন দারিদ্র্যপীড়িত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ অধঃপতন ও লাঞ্ছনা যেন তাদের ঘিরে থাকে। তাই আল-কুরআনে প্রদত্ত উক্ত অভিশাপ বাস্তবায়নের নিমিত্তে হঠাৎ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র ও ঐশ্বরিক কারণ।

এক্ষেত্রে অভিশপ্ত পেঁয়াজ বর্জনের মাধ্যমেই শুধু আল্লাহ প্রদত্ত উর্ধ্বমূল্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সরকারের আশু কর্তব্য হলো: মুমিন মুসলমানদের অস্তিত্ব ও ঈমান রক্ষার্থে অবিলম্বে পেঁয়াজের উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। অর্থাৎ ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজকে বাংলার জমিনে চিরতরে নিষিদ্ধ করা। যেন আর কোনো মুমিন পেঁয়াজের ঝাঁজাল গন্ধে আসক্ত হয়ে পেঁয়াজীয় গজবের শিকার না হয়। অথচ মদিনা সনদের ধ্বজাধারী বর্তমান আওয়ামি সরকার আল-কুরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের কোনো উদ্যোগই যে সফল হবে না, সে বিষয়ে তারা একেবারেই ওয়াকিবহাল নয় হয়ত। যদি সরকার আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়ও, সেক্ষেত্রে তা হবে আল্লাহর সাথে শিরকের সামিল। আর শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনও ক্ষমা করেন না। তবে ঈমানবিরোধী সরকারের এমন অবিমৃষ্যকারিতায় বাংলার জাতীয় মুমিন মুসলমানদের বসে বসে আঙ্গুল চুষলে হবে না। নিজেদের দূষিত ঈমানকে শুদ্ধ করতে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই মুহূর্তে তাই বাংলার ছদ্মবেশী মুমিন মুসলমানদের আশু কর্তব্য হলো: ঈমানবিধ্বংসী পেঁয়াজ বর্জন করে নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা এবং মুসলমানের ছদ্মবেশ পরিত্যাগ করে খাঁটি মুসলমান হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানো। নইলে পেঁয়াজবিদ্বেষী আল্লাহর পেঁয়াজীয় গজবে খোদাদ্রোহী মুসলমানগণের ধ্বংস অনিবার্য।