১৯ জুলাই, ২০১৫

খন্দক যুদ্ধ - ৯: মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতারণার স্বরূপ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৮৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ঊনষাট

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪

খন্দক যুদ্ধে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর এক অনুসারী ও আত্মীয়া শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মদিনায় তখনও অবশিষ্ট বনি কুরাইজা গোত্রের এক ব্যক্তিকে কীভাবে উপর্যুপরি মুগুরের আঘাতে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পরেও বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কোনো মুহাম্মদ অনুসারীকে কখনো কোনো আক্রমণ বা হত্যাচেষ্টা করেছিলেন, এমন আভাস আদি উৎসের ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদের খন্দক যুদ্ধ উপাখ্যানের বর্ণনায় কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ৮৪) পর:

‘যা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন (৩৩:১০), তা হলো, যখন শত্রুর আগমন ঘটে উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি থেকে তখন আল্লাহর নবী ও তাঁর অনুসারীরা ছিলেন ভীত সন্ত্রস্ত ও সমস্যাগত। [পর্ব- ৮১]।

সেই সময় নুইয়াম বিন মাসুদ বিন আমির বিন উনায়েফ বিন থালবা বিন কুনফুদ বিন হিলাল বিন খালাওয়া বিন আশজা বিন রায়েথ বিন ঘাতাফান আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও বলে যে, সে মুসলমান হয়েছে কিন্তু তার নিজস্ব লোকের কেউই এই ব্যাপারটি জানে না ও নবী তাকে যে আদেশ ইচ্ছা করেন, তা তাকে দিতে পারেন।

আল্লাহর নবী বলেন, "তুমিই আমাদের মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি, সুতরাং যদি পার, তবে যাও ও শত্রুদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করো যাতে তারা আমাদের কাছ থেকে পিছু হটে, কারণ যুদ্ধ হলো প্রতারণা (for war is deceit)।" [3]

অত:পর নুইয়াম বানি কুরাইজা গোত্রের নিকট গমন করেন,

সেই বর্বর যুগে তিনি ছিলেন তাদের সমভাবাপন্ন এক সহচর। তাদের প্রতি তার বিশেষ ভালবাসা ও বন্ধনের বিষয়টি তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দেন। যখন তারা স্বীকার করে যে, তারা তাকে সন্দেহভাজন মনে করে না, তখন তিনি বলেন:

"কুরাইশ ও ঘাতাফান তোমাদের মত নয়। এই ভূমি হলো তোমাদের। এটি তোমাদের সম্পদ, যেখানে আছে তোমাদের স্ত্রী-পরিবার ও সন্তানেরা। তোমারা তা পরিত্যাগ করে অন্য কোথাও যেতে পারবে না।

আর কুরাইশ ও ঘাতাফানরা এসেছে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে যুদ্ধ করতে, আর তোমরা তাদেরকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছ। তাদের ভূমি, সম্পদ ও স্ত্রী-পরিবার এখানে নেই। তাই তারা তোমাদের চেয়ে আলাদা।

যদি তারা কোনো সুবিধা করতে পারে, তবে তারা তা পুরা দমে ভোগ করবে। কিন্তু যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, তবে তারা তোমাদের পরিত্যাগ করে তাদের দেশে ফিরে যাবে ও তোমার দেশের এই লোকটির সাথে তোমাদেরই মোকাবিলা করতে হবে; যা করার সাধ্য তোমাদের নে, যদি তারা তোমাদের একা ফেলে যায়।

সুতরাং, তাদের সাথে যোগদান করে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণে না তোমারা তাদের কিছু নেতৃবর্গকে জমানত হিসাবে তোমাদের হাতে জিম্মি করে রাখ, যারা তোমাদের সাথে থেকে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণে না তোমরা তার পরিসমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম হবে।"

ইহুদিরা বলে যে, এটি এক অতি উত্তম পরামর্শ।

তারপর তিনি কুরাইশদের কাছে যান ও আবু সুফিয়ান বিন হারব ও তার দলের লোকদের বলেন:

"তোমাদের প্রতি আমার ভালবাসা কেমন তা তোমরা জানো, আমি মুহাম্মদকে ছেড়ে এসেছি। সম্প্রতি আমি এমন কিছু শুনেছি, যা তোমাদেরকে অবহিত করা আমার কর্তব্য বলে মনে করি, যাতে তোমরা সাবধান হতে পারো। লক্ষ্য রাখবে, ঘটনাটি যেন গোপন থাকে।

যখন তারা বলে, তারা তা-ই করবে, তখন তিনি বলতে থাকেন, "আমার কথায় গুরুত্ব দাও, মুহাম্মদের বিপক্ষে ইহুদিরা যা করেছে, তার জন্য তারা অনুতপ্ত। ও তারা তাঁকে এই খবরটি যে বার্তা সহকারে জানিয়েছে, তা হলো:

'আপনি কী চান যে আমরা কুরাইশ ও ঘাতাফান, এই দুই গোত্রের কিছু নেতৃবর্গকে ধরে নিয়ে এসে আপনার হাতে সমর্পণ করি, যাতে আপনি তাদের কল্লা কাটতে পারেন? তারপর ওদের বাকি সবাইকে নির্মূল করার জন্য আমরা আপনার সাথে একযোগে কাজ করবো।'

তাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনি তাদের কাছে জবাব পাঠিয়েছেন। সুতরাং ইহুদিরা যদি তোমাদের কাছে কোনো জিম্মি দাবি করে, তবে তাদের কাছে একজন জিম্মিও পাঠাবে না।"

তারপর তিনি ঘাতাফানদের কাছে যান ও বলেন:

"তোমরা আমার বংশ ও আমার পরিবার; আমার সবচেয়ে প্রিয় লোক। আমি মনে করি না, তোমরা আমাকে সন্দেহ করতে পারো।"

তারা তাতে একমত হয়ে জানা যে, তিনি সন্দেহের ঊর্ধ্বে। তারপর তিনি কুরাইশদের যে গল্পটি বলেছিলেন, তাদেরকে ও সেই একই গল্প শোনান।

হিজরি ৫ সালের সওয়াল মাসের সাবাহ রাত্রিতে আল্লাহর নবীর পক্ষে আল্লাহপাক যে-কর্মটি সংঘটিত করান, তা হলো, আবু সুফিয়ান ও ঘাতাফান গোত্রের নেতারা ইকরিমা বিন আবু জেহেল-কে কিছু লোককে সঙ্গে দিয়ে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকাদের কাছে এই বার্তাটি পাঠান যে, তাদের কোনো স্থায়ী ক্যাম্প নেই ও তাদের ঘোড়া ও উটের প্রাণহানি ঘটে চলেছে; সুতরাং তারা যেন মুহাম্মদকে সমূলে শেষ করার জন্য অবশ্যই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।

তারা জবাবে বলে যে, এই দিনটি হলো সাবাহ, যে-দিনটিতে তারা কোনো কিছুই করে না; যারা পবিত্র সাবাহ লঙ্ঘন করেছিল, তাদের কী পরিণতি হয়েছিল তা তাদের সবারই সুপরিচিত। [পর্ব-৫৬]

"তাছাড়া আমরা তোমাদের সাথে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো না, যতক্ষণে না তোমরা তোমাদের কিছু লোককে জিম্মি হিসাবে আমাদের কাছে জমানত হিসাবে রাখবে, যাদেরকে আমরা মুহাম্মদের শেষ দেখার পূর্ব পর্যন্ত ধরে রাখতে পারি। কারণ আমরা ভীত এই ভেবে যে, যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি তোমাদের বিপক্ষে যায় ও তোমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হও, তবে তোমরা অবিলম্বে আমাদেরকে এখানে এই লোকটির কাছে ফেলে রেখে তোমাদের দেশে প্রস্থান করবে, যখন আমরা একা এই লোকটির মোকাবিলা করতে পারবো না।"

বার্তাবাহক যখন তাদের এই জবাবটি নিয়ে ফিরে আসে তখন কুরাইশ ও ঘাতাফান গোত্র বলে যে, “(তাবারী: 'এখন তোমরা জানলে') নুইয়াম তোমাদের যা বলেছিল, তাইই সত্যি। সুতরাং বনি কুরাইজাকে জানিয়ে দাও যে, আমরা তাদেরকে একটা লোকও দেব না। যদি তারা যুদ্ধ করতে চায়, তবে তারা যেন বাহিরে আসে ও যুদ্ধ করে।”

বনি কুরাইজা এই খবরটি পাওয়ার পর বলে: "নুইয়াম তোমাদের যা বলেছিল তাইই সত্যি। এই লোকেরা যুদ্ধে ইচ্ছুক ও যদি তারা সুবিধা করতে পারে, তবে তারা তার সুফল ভোগ করবে; কিন্তু যদি তারা তা না করতে পারে, তবে তারা আমাদেরকে এখানে এই লোকটির মোকাবেলায় ফেলে রেখে তাদের দেশে প্রস্থান করবে। সুতরাং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে আমরা মুহাম্মদের বিপক্ষে যুদ্ধ করবো না, যতক্ষণে না তারা জিম্মি প্রদানে রাজী হয়।"

কুরাইশ ও ঘাতাফান তা করতে রাজি হয় না। আল্লাহ তাদের মধ্যে বপন করে অবিশ্বাস ও তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করে শীতরাত্রির তিক্ত শৈত্য-বায়ুপ্রবাহ, যা তাদের রান্নার সরঞ্জামকে করে তছনছ ও তাঁবুকে করে ভূপাতিত।

যখন আল্লাহর নবী তাদের কলহের খবর জানতে পারেন ও জানতে পারেন, কীভাবে আল্লাহ তাদের মৈত্রীবন্ধন ছিন্ন করেছিল, তখন তিনি হুদাইফা বিন আল-ইয়ামানকে ডেকে পাঠান ও ঐ রাত্রিতে তাদের সৈন্যরা কী করছে, তা দেখার জন্য তাকে তাদের কাছে পাঠান।’

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।]

Resumption of the narrative of Ibne Ishaq (704-768 A.D): [1] [2]

‘As God has described, (Sura 33.10.) the apostle and his companions remained in fear and difficulty when the enemy came on them from above and below.

Then Nu'aym b. Mas'ud b. 'Amir b. Unayf b. Tha'laba b. Qunfud b. Hilal b. Khalawa b. Ashja'b. Rayth b. Ghatafan came to the apostle saying that he had become a Muslim though his own people did not know of it, and let him give him what orders he would.

The apostle said: 'You are only one man among us, so go and awake distrust among the enemy to draw them off us if you can, for war is deceit.'

Thereupon Nu'aym went off to B. Qurayza with whom he had been a boon companion in heathen days, and reminded them of his affection for them and of the special tie between them. When they admitted that they did not suspect him he said:

'Quraysh and Ghatafan are not like you: the land is your land, your property, your wives, and your children are in it; you cannot leave it and go somewhere else.

Now Quraysh and Ghatafan have come to fight Muhammad and his companions and you have aided them against him, but their land, their property, and their wives are not here, so they are not like you.

If they see an opportunity they will make the most of it; but if things go badly they will go back to their own land and leave you to face the man in your country and you will not be able to do so if you are left alone.

So do not fight along with these people until you take hostages from their chiefs who will remain in your hands as security that they will fight Muhammad with you until you make an end of him.'

The Jews said that this was excellent advice.

Then he went to Quraysh and said to Abu Sufyan b. Harb and his company: 'You know my affection for you and that I have left Muhammad. Now I have heard something which I think it my duty to tell you of by way of warning, but regard it as confidential.'

When they said that they would, he continued: 'Mark my words, the Jews have regretted their action in opposing Muhammad and have sent to tell him so, saying: "Would you like us to get hold of some chiefs of the two tribes Quraysh and Ghatafan and hand them over to you so that you can cut their heads off? Then we can join you in exterminating the rest of them.' He has sent word back to accept their offer; so if the Jews send to you to demand hostages, don't send them a single man.'

Then he went to Ghatafan and said: You are my stock and my family, the dearest of men to me, and I do not think that you can suspect me.' They agreed that he was above suspicion and so he told the same story as he had told Quraysh.

On the night of the sabbath of Shawwal A.H. 5 it came about by God's action on behalf of His apostle that Abu Sufyan and the chiefs of Ghatafan sent 'Ikrima b. Abu Jahl to B. Qurayza with some of their number saying that they had no permanent camp, that the horses and camels were dying; therefore they must make ready for battle and make an end of Muhammad once and for all.

They replied that it was the sabbath, a day on which they did nothing, and it was well known what had happened to those of their people who had violated the sabbath.

'Moreover we will not fight Muhammad along with you until you give us hostages whom we can hold as security until we make an end of Muhammad; for we fear that if the battle goes against you and you suffer heavily you will withdraw at once to your country and leave us while the man is in our country, and we cannot face him alone.'

When the messengers returned with their reply Quraysh and Ghatafan said (T. Now you know) that what Nu'aym told you is the truth; so send to B. Qurayza that we will not give them a single man, and if they want to fight let them come out and fight.

Having received this message B. Qurayza said: 'What Nu'aym told you is the truth. The people are bent on fighting and if they get an opportunity they will take advantage of it; but if they do not they will withdraw to their own country and leave us to face this man here. So send word to them that we will not fight Muhammad with them until they give us hostages.'

Quraysh and Ghatafan refused to do so, and God sowed distrust between them, and sent a bitter cold wind against them in the winter nights which upset their cooking pots and overthrew their tents.

When the apostle learned of their dispute and how God had broken up their alliance he called Hudhayfa b. al-Yaman and sent him to them to see what the army was doing at night.’

>>> আদি উৎসের পরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, খন্দক যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ঘাতাফান গোত্রের নুইয়াম বিন মাসুদ বিন আমির নামের এক ব্যক্তি গোপনে ইসলাম গ্রহণ করে, যে-খবরটি তার পরিচিতজনদের কাছে ছিল অজানা। যখন নুইয়াম বিন মাসুদ মিত্রবাহিনী ও তার গোত্রের লোকদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে মুহাম্মদের কাছে এসে এই খবরটি তাঁকে জানান, তখন মুহাম্মদ এই বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তিটিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেন। কুরাইশ, ঘাতাফান ও বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা নুইয়াম বিন মাসুদের ইসলাম গ্রহণ, তাঁদের সাথে তার বিশ্বাসঘাতকতা, মুহাম্মদের সাথে তার সাক্ষা, তাঁদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য তার প্রতি মুহাম্মদের নির্দেশ - ইত্যাদি বিষয়ের কিছুই জানতেন না। তাঁদের এই অজ্ঞতার সুযোগে মুহাম্মদ এই প্রতারকের প্রতারণায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন যে,

"যুদ্ধ হলো প্রতারণা"[3] 

মুহাম্মদের মতবাদে অবিশ্বাসী ও তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি মুহাম্মদের প্রতারণা ও নির্দেশ যে শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, তার আলোচনা ইতিপূর্বেই করা হয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে কাব বিন আল-আশরাফকে নৃশংসভাবে খুন কোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হয়নি[পর্ব: ৪৮]। [4]

আদি উৎসে খন্দক যুদ্ধ উপাখ্যানের গত আটটি পর্বের আলোচনায় কোথাও বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা কখনো মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কোনোরূপ আক্রমণ বা হত্যা চেষ্টা করেছেন; কিংবা তাঁরা মিত্রবাহিনীকে কোনোরূপ সাহায্য-চেষ্টা করেছেন; কিংবা নুন্যতম পক্ষে তাঁরা মিত্রবাহিনীর কোনো সদস্যের সাথে কোনরূপ সক্রিয় স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগ চেষ্টা করেছেন,

“এমন সুনির্দিষ্ট একটিও দৃষ্টান্ত বা প্রমাণ (Evidence) কোথাও পরিলক্ষিত হয়নি!”

যা পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো একটি অজুহাত:  

১) "এইভাবে কাব তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে এবং তার ও আল্লাহর নবীর মধ্যে যে-চুক্তি ছিল, তা ছিন্ন করে। --" [পর্ব-৮০]।
২) "বানু কুরাইজা আল্লাহর নবীর সাথে চুক্তিভঙ্গ করে যুদ্ধে যায়।" [পর্ব: ৮৪]
৩) "--আর তোমরা তাদেরকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছ--" (পরে উদ্ধৃত)।

শুধু তাইই নয়, আমরা দেখেছি এই অজুহাতের সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র! অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণিত! এক মুহাম্মদ অনুসারী বনি কুরাইজার এক লোককে মুগুরের আঘাতে পিটিয়ে খুন করার পরেও বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিহিংসা বশে কোনও মুহাম্মদ-অনুসারীকে বিরুদ্ধে কোনোরূপ সহিংসতার আশ্রয় নেননি! [পর্ব: ৫২]।

>>> খন্দক যুদ্ধের পরে উল্লেখিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, বনি কুরাইজা গোত্রের কোনো সদস্য মিত্র বাহিনীকে সাহায্য করার জন্য কোনোরূপ যোগাযোগ চেষ্টা করেননি। বনি নাদির গোত্র-নেতা হুয়েই বিন আখতাব যেমন বনি কুরাইজা গোত্রের লোকদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করেছিলেন, অনুরূপভাবে নুইয়াম বিন মাসুদকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ বনি কুরাইজা গোত্রের নিকট প্রেরণ করেছিলেন; যেন তারা মিত্র-বাহিনীর সঙ্গে যোগ না দেয়।

বরাবরের মতই, এই ঘটনার বর্ণনায়ও বনি কুরাইজা গোত্রের কোনো লোক মুসলমানদের কোনোরূপ আক্রমণ অথবা হত্যা চেষ্টা করেছেন, কিংবা তাঁরা মিত্রবাহিনীকে কোনোরূপ সাহায্য-চেষ্টা করেছেন – এমন একটি প্রমাণ ও কোথাও পরিলক্ষিত হয়নি!

সুতরাং বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা চুক্তিভঙ্গ করে খন্দক যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন, এই দাবি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা!

"ইহা ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি!"

সদলবলে খন্দক অতিক্রমে ব্যর্থ মিত্রবাহিনীর কাছ থেকে কোনোরূপ সাহায্যের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের একান্ত নাগালের মধ্যে বসবাস করে বনি কুরাইজা গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীকে সাহায্যে করেছিলেন, এই অজুহাত যুক্তির বিচারে কী কারণে বাস্তবতা বিবর্জিত, তার বিস্তারিত আলোচনা পর্ব: ৮০-তে করা হয়েছে। 

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৫৮-৪৬০

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৮০-১৪৮৩

[3] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ২৬৭-২৬৯:
Narrated Abu Huraira: Allah's Apostle called,: "War is deceit"’.

[4] ইসলামে মিথ্যা ও প্রতারণা: