২৬ জুলাই, ২০১৫

শিক্ষা- ও সভ্যতাবিমুখ ইছলামের নবী

লিখেছেন রহমান পৃথু

মুহাম্মদ কোনো শিক্ষক, জ্ঞানী, ডাক্তার, কবি-সাহিত্যিকদের সহ্য করত না।

সে তাঁর জীবদ্দশায় শিক্ষক, শিক্ষিত, মুক্তমনা, ভিন্ন মতাবলম্বী, কবি, তাঁর মতবাদ সম্পর্কে প্রশ্ন ও সন্দেহ পোষণকারী অবিশ্বাসীদের হত্যা করে। হাদিস ও কুরানে এ বিষয়ে নির্দেশনা ও তথ্য আছে।

সে অন্য কোনো গ্রন্থশিক্ষা ও তার চর্চা নিষিদ্ধ করে। যেমন - মুহাম্মদ কবিতা ও সাহিত্য, গান, বাজনা, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, ছবি, চলচ্চিত্র, নাটক, অভিনয়, যাদু, ম্যাজিক, সংস্কৃতি বিষয়ক শিক্ষা ও চর্চা - এ বিষয়ে সবকিছু নিষিদ্ধ করে যায়। এখনো তা নিষিদ্ধ আছে।

এমনকি ইসলামের বাইরে কোনো মুক্ত ও উদার সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষা, ইসলামকে সমর্থন করে না এমন টেকনোলজি ও চিকিৎসা বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ - এসবই ইসলামে নিষিদ্ধ।

মুহাম্মদ ও তাঁর খলিফারা কুরানকেই শিক্ষার একমাত্র গ্রন্থ মনে করত। কুরানের শিক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষা নাই। মুসলমানরা এখনো তা-ই করে। কুরানের বাইরে কোনো শিক্ষা মুহাম্মদ ও তাঁর খলিফারা সহ্য করত না।

এখনো মুসলমানেরা দাবি করে - সব বিজ্ঞান ও শিক্ষা কুরানে আছে।

কয়েক দিন আগেও পর্যন্ত পশ্চিমা চিকিৎসা ও শিক্ষা মুসলমানদের জন্য হারাম ছিল। মুসলমানরা এত দিন পর্যন্ত তা মেনে এসেছে। কিন্তু ইহুদিদের কাছে মার খাওয়ার পর পাশ্চাত্য শিক্ষা তাদের কাছে এখন হালাল মনে হয়।

রোগ সারাতে পারে, এমন লোকদের খোঁজ পেলে মুহাম্মদ তাদেরকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে হত্যা করত। এখনও যেভাবে যাদুকরদের হত্যা করা হয়।

আরব দেশে এজন্য কোনো কবি সাহিত্যিক, বই পুস্তক, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও মানুষের অধিকারের জন্য কোনো সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।

বাগদাদে ও পারস্যে মধ্যযুগে যারা বিজ্ঞান চর্চা করেছেন, তাঁরা সবাই ইসলামের বিরুদ্ধে গিয়ে গ্রীক ও রোমানদের বইপুস্তক অনুবাদ করে তা চর্চা শুরু করেছিলেন। তাঁরা সকলেই ইসলামবিরোধী বা নাস্তিক ছিলেন। যেমন - ইবনে সিনা।

হাদিসে আছে, মুহাম্মদ মৃত্যুর আগে ইহুদি নারীর বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয় এবং সে ফেরেশতাদের চিকিৎসা ও কুরানের শরণাপন্ন হয়। মানুষ তাঁকে অবিশ্বাস করতে পারে, এই ভয়ে সে স্থানীয় কোনো হেকিম বা ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া থেকে বিরত থাকে। ফলে বিষের প্রতিক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ভোগার পর ৬৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

১৪০০ বছর আগের মুহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত এরূপ শাসনব্যবস্থাকে যারা আদর্শ মনে করতে পারে - তাঁদেরকে আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে করি।