৩ জুন, ২০১৫

ভাগ্যবর্ষ ভরাতে মোনাজাত শবে বরাতে

লিখেছেন ক্যাটম্যান

গত রাতে শবে বরাত পালিত হয়েছে। শবে বরাত দু’টি ফারসি শব্দ। শব অর্থ রাত বা রজনী ও বরাত অর্থ ভাগ্য। শব্দ দু’টি একত্র করলে অর্থ দাঁড়ায় - ভাগ্যের রজনী। অর্থাৎ এই রাতে আল্লাহ সমস্ত মানুষের ভাগ্য লিখে রাখেন। হয়ত আল্লাহর স্মৃতিশক্তি জেলিফিসের স্মৃতিশক্তির চেয়েও ক্ষীণ। তাই তিনি স্বীয় সৃষ্টিকে কীভাবে পরিচালনা করবেন, তার সমস্ত বৃত্তান্ত ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় কুদরতি টালি খাতায় তা লিখে রাখেন এই ভাগ্য রজনীতে।

তবে দিন থাকতে রজনী কেন? রজনী বিষয়কে কেন্দ্র করে রক্ষণশীল সমাজের অনেক কবি-সাহিত্যিক সুদূর অতীতকাল হতে বর্তমান অব্দি বহু গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও গান রচনা করেছেন। কারণ সমাজটি কৃত্রিমভাবে রক্ষণশীল হলেও সমাজের মানুষগুলোর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিকভাবে বড্ড অরক্ষণশীল। তাই বাহ্যিকভাবে রক্ষণশীল সমাজের ভেতরের মানুষের অরক্ষণশীল তাড়নাকে স্থান দিতে কবি-সাহিত্যিকগণ রজনীকে বেছে নিয়েছেন। কারণ রজনীর রয়েছে আঁধারের ন্যায় কার্যকরী অবগুণ্ঠন। যে-আঁধারের আড়ালে রক্ষণশীল সমাজের কৃত্রিমতাকে উপেক্ষা করে মানুষের প্রাকৃতিক চরিত্রসমূহ নিজেদের স্বভাবসুলভ নগ্নতাকে অবলীলায় প্রকাশ করতে পারে। তেমন আকাঙ্ক্ষিত আঁধারবাহী রজনীর প্রতি রক্ষণশীল সমাজে চরম অবদমিত ও প্রাকৃতিকভাবে নগ্নতাবাদী মানবসমাজ পরম প্রীতি অনুভব করবে, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই রক্ষণশীল সমাজের ভয়ে ভীত আল্লাহরও আশ্চর্যজনক ভাবে রজনীপ্রীতি রয়েছে। রক্ষণশীল সমাজের উৎকট রক্ষণশীলতায় আল্লাহ এতটাই ভীত যে, দিনের আলোয় মানবসমাজে আনাগোনায় চরম অস্বস্তি বোধ করেন তিনি। তাই বাধ্য হয়ে তাকেও আঁধারবাহী রজনীর দ্বারস্থ হতে হয়। যেন কেউ আল্লাহর স্বরূপ উন্মোচন করতে না পারে। কারণ আল্লাহর স্বরূপ এতটাই অযৌক্তিক ও হাস্যকর যে, তা ভাবতে স্বয়ং আল্লাহও হয়ত চরম লজ্জা অনুভব করেন। তাই স্বীয় সৃষ্ট মানবসমাজের সকরুণ নৈকট্য লাভের আশায় আঁধারে অবগুণ্ঠিত রজনীকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

মুহম্মদের হাদিস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি যে, পাঁচটি রাত আল্লাহর খুবই প্রিয়। কারণ এই রাতসমূহে মুহম্মদের মাফিয়া গডফাদার আল্লাহ মুহম্মদ ও তার অনুসারীদের যাবতীয় বিষম চাহিদা পূরণ করে থাকেন। সেই রাতসমূহ হলো শবে মেরাজ, শবে বরাত, শবে কদর, ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার রাত।

তন্মধ্যে শবে মেরাজের রাত মুহম্মদ ও তার উম্মতের নিকট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই মহিমান্বিত রাতে মুহম্মদ তার চাচাত বোন উম্মে হানির সাথে পরকীয়ায় মত্ত হয়ে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু মুহম্মদের কিছু বেরসিক উম্মত তার এই যৌনকেলেঙ্কারি হাতে-নাতে ধরে ফেলে। তারা মুহম্মদের লাম্পট্যের স্বরূপ উপলব্ধি করে এতটাই মর্মাহত হন যে, এর প্রেক্ষিতে লম্পট নবী মুহম্মদকে ঘৃণাভরে বর্জন করেন। এই ঘটনায় নির্লজ্জ মুহম্মদ কিছুটা বিব্রত বোধ করেন বটে, তবে অনুসারীদের মাঝে নিজের ইমেজ-সঙ্কট দূর করতে এক অনবদ্য ফন্দি আঁটেন তিনি। নিজের রাত্রিকালীন গোপন যৌনবিহার নির্বিঘ্ন করতে অনুসারী বা সাহাবিদের মসজিদে বা নিজ-নিজ ঘরে নফল ইবাদতে ব্যস্ত রাখার এক মোক্ষম কৌশল আবিষ্কার করেন যৌনরাক্ষস মুহম্মদ।

তিনি উম্মে হানির সাথে সহবতে এতটাই মাতোয়ারা ছিলেন যে, সঙ্গমসুখের উল্লাসে উন্মাদ হয়ে সুন্নতি যৌনলীলাসনময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফর্দ ধরিয়ে দিয়েছেন তার উম্মতের হাতে। সেই থেকে আজ অব্দি মুহম্মদের অনুসারীগণ চরম যৌনতৃপ্তি সহকারে সুন্নতি যৌনলীলাসনে নামাজ আদায় করে থাকেন। যদি মুহম্মদ সে রাতে উম্মে হানির সাথে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হয়ে ধরা না পরতেন, তাহলে আজ মুহম্মদের অনুসারীগণ শবে মেরাজ নামক ইবাদতের বিশেষ রাত ও যৌনলীলাসনময় নামাজের আবশ্যকীয় রীতি থেকে বঞ্চিত হতেন। কারণ মুহম্মদ প্রবর্তিত নামাজের ধরন ও মানুষের যৌনসঙ্গমের ধরন বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রায় একই রকম। যৌনসঙ্গমে লিপ্ত মানুষ যেমন চরম তৃপ্তি লাভ করে থাকে, তেমনি যৌনলীলাসনময় নামাজে লিপ্ত মুমিনগণও একইরকম চরম তৃপ্তি লাভ করে থাকে। তাই মুহম্মদ তার অনুসারীদেরকে নামাজের ন্যায় যৌনসঙ্গমময় সুন্নতি যৌনলীলাসন উপহার দিয়ে দৈনিক পাঁচবার বাধ্যতামূলকভাবে তা আমল করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

এমন বিজ্ঞানসম্মত ও চরম যৌনসুখকর প্রার্থনারীতি পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মে অতি বিরল। মুহম্মদ সেই বিশেষ রাতে উম্মে হানির যোনিপথে আল্লাহর দিদার লাভ করেন। আর মুহম্মদের নরাধম অনুসারীগণ মুহম্মদের শেখানো যৌনলীলাসনময় নামাজের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পন্থায় আল্লাহর দিদার লাভের ব্যর্থ প্রয়াস চালায়। যে কারণে নামাজকে মুমিনের মিরাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মুমিনদেরকে নামাজে ব্যস্ত রেখে নিজের অবৈধ যৌনকর্ম আড়াল করতে প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের প্রতি বাধ্যতামূলক করার ফন্দি আঁটেন ফন্দিবাজ মুহম্মদ। কিন্তু বাধ্যতামূলক নামাজের আতিশয্যে অতিষ্ঠ হয়ে মুমিনগণ মুহম্মদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসতে পারে, এমন আশঙ্কায় মুহম্মদ মুমিনদের উদ্দেশ্যে 'মাত্র' পাঁচ ওয়াক্ত বাধ্যতামূলক বা ফরজ নামাজ প্রবর্তন করেন। আর বাদবাকি সময় অসীম সওয়াব হাসিলের লক্ষ্যে নফল ইবাদতে ব্যয় করার তাগিদ প্রদান করেন। যেন মুমিনগণ কিছুতেই মুহম্মদের ওপর বিশেষ নজরদারির সুযোগ না পায়।

নিজের অবৈধ যৌনমিলন আড়াল করার এমন নামাজীয় কৌশল খুব ফলপ্রসূ হওয়ায় মুমিনদের জন্য আরও কয়েকটি বিশেষ ইবাদত রজনী প্রবর্তন করেন মুহম্মদ। শবে বরাত সেই বিশেষ ইবাদত রজনীসমূহের একটি রজনী। যদিও মুহম্মদ ঘোষিত ইবাদতের সকল বিশেষ রজনী মুহম্মদী যৌনতায় ভরপুর। তবুও মুমিনদের উদ্দেশে শবে বরাতের কিছু ভিন্ন ফযিলতের বয়ান আছে মুহম্মদী চাপাসমগ্রে। যেমন ইবনে মাজাহ্ শরিফের এক হাদিসে শবে বরাতের মর্যাদা উল্লেখ করে বলা হয়েছে - হযরত আলী (রা.) বলেন, মুহম্মদ (ছা.) বলেছেন, যখন শাবানের মধ্যরাতটি আসবে, তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম তথা রাতভর নামাজ পড়বে এবং পরদিন রোজা রাখবে। কেননা সেদিন সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহতাআলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং ডেকে বলেন - আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিযিক প্রার্থনাকারী, যাকে আমি রিযিক দেব? আছে কি কেউ সমস্যাগ্রস্ত, যে আমার কাছে পরিত্রাণ চায়? আমি তাকে উদ্ধার করব। এভাবে আল্লাহ ফজর পর্যন্ত বান্দাহকে তাঁর কুদরতী জবান দ্বারা আহ্বান করেন।

উক্ত হাদিসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুহম্মদের আল্লাহ মুহম্মদের জন্য সুবিধাজনক প্রার্থনার আহ্বান ঘোষণা করেছেন। কারণ মুহম্মদ অবৈধ যৌনসংসর্গ স্থাপন করে যে অপরাধ করেছেন, সেইজন্য তার ক্ষমা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে আল্লাহ বলেছেন - আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আবার যৌনরাক্ষস মুহম্মদের যৌনচাহিদা পূরণ বা অজস্র নারীভোগের নিমিত্তে যৌনরিযিক নিশ্চিত করতে আল্লাহ বলেছেন - আছে কি কেউ রিযিক প্রার্থনাকারী, যাকে আমি রিযিক দিব? শবে মেরাজের রাতে উম্মে হানির সাথে যৌনসংসর্গের সময় বেরসিক সাহাবিদের নিকট ধরা পড়ে যেভাবে বেইজ্জতি হতে হয়েছিল মুহম্মদকে, তেমন বিব্রতকর সমস্যায় যেন আর পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে আল্লাহ বলেছেন - আছে কি কেউ সমস্যাগ্রস্ত, যে আমার কাছে পরিত্রাণ চায়? আমি তাকে উদ্ধার করব। 

অথচ মুমিনগন মুহম্মদের প্রেক্ষিতে উক্ত হাদিসের তাৎপর্য উপলব্ধি না করে আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অন্বেষণ করে থাকেন। শবে বরাতের ফযিলত সম্পর্কে যৌনইঙ্গিতবাহী আরও একটি হাদিস এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে আমি রসূলুল্লাহ (ছা.)-কে না পেয়ে তাঁর সন্ধানে বের হলাম। গিয়ে দেখলাম, তিনি জান্নাতুল বাকীতে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। নবীজী আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আয়েশা! ‘তুমি কি মনে কর, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমার ওপর জুলুম করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! না; আমি ধারণা করেছিলাম, আপনি হয়ত অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন। রসূলুল্লাহ (ছা.) বললেন, হে আয়েশা আজকের রাত সম্পর্কে তুমি জেনে রেখো, মহান আল্লাহ এই রাতে দুনিয়ার প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হন এবং ‘কালব’ গোত্রের ছাগপালের পশমের চেয়ে অধিক বান্দাকে তিনি ক্ষমা করেন।

‘কালব’ হচ্ছে আরবের একটি প্রসিদ্ধ গোত্র, যারা অধিক পরিমাণে বকরি লালন-পালন করত। যেহেতু তাদের বকরির সংখ্যা ছিল বেশি, তাই নবীজী তাদের বকরিপালের পশমের কথা উল্লেখ করে বুঝিয়েছেন।

আয়েশার বর্ণনায় উক্ত হাদিসে দু’টি বিষয় পরিষ্কার, তা হলো:

১. প্রায় রজনীতেই মুহম্মদ কোনো না কোনো নারীর সাথে যৌনসংসর্গে লিপ্ত থাকতেন। আর বিশেষ রজনী হলে তো কোনো কথাই নেই। তিনি যে রসূল হয়ে নিজের যৌনচাহিদা উশুল করায় ভারি ওস্তাদ, এই বিষয়ে কারও কোনো সংশয় ছিল না। তার চরিত্র ছিল ধুতুরা ফুলের মতো পবিত্র। যে কারণে মুহম্মদের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী আয়েশাও তাকে সন্দেহ করত এবং চোখে-চোখে রাখত।

২. মুহম্মদ তার উম্মতকে কালব গোত্রের ছাগপালের পশমের সাথে তুলনা করে বোঝাতে চেয়েছেন, কালব গোত্রে মোট যে-পরিমাণ ছাগল রয়েছে, মুহম্মদের উম্মতের সদস্য সংখ্যা সেই সব ছাগলের মোট পশমের চেয়েও বেশি হবে, যাদেরকে আল্লাহ এই মহিমান্বিত রজনীতে ক্ষমা করবেন।

উক্ত হাদিসে আস্থা রেখে মুহম্মদের যে সকল অনুসারী এই ভাগ্য-রজনীতে ভাগ্যের অনুকূল পরিবর্তনের অলীক আশায় অতিমাত্রায় নফল ইবাদতে ব্যস্ত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাদের ভাগ্যের অনুকূল পরিবর্তনসহ কৃত বিভিন্ন অপরাধের দায় ক্ষমা করে পরকালের যাবতীয় কুফল হতে রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। মুমিনদের চেতনার উন্নয়নে আল্লাহর বিশেষ কোনো আগ্রহ না থাকলেও তাদের ভাগ্যোন্নয়নে তার অতিশয় আগ্রহ বিদ্যমান। তাই মুহম্মদ এমন মহতী লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শবে বরাতের এত ফযিলত বয়ান করেছেন। কারণ এই মহিমান্বিত রজনীতেই পরবর্তী ভাগ্যবর্ষের যাবতীয় বিষয় নির্ধারণ হবে।

আল্লাহ গত রাতেই নির্ধারণ করেছেন:
আইএস জঙ্গিদের হাতে কতজন ইয়াজিদি নারী ধর্ষিত হবে;
কতজন নিরীহ মানুষকে ইসলামি জঙ্গিরা নৃশংসভাবে হত্যা করবে;
কতজন বালিকাকে ইসলামি জঙ্গী বোকো হারামজাদারা অপহরণ ও ধর্ষণ করবে;
ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কতজন ছাত্র-ছাত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করবে;
ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানের বর্বর হত্যাযজ্ঞের শিকার হবে কতজন স্কুলপড়ুয়া শিশু;
বর্বর শরিরা আইনের ভিত্তিতে কতজন নিরীহ নারীকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবে;
ইসলামি জঙ্গিদের খপ্পরে পড়ে কতজন নারী ও শিশু যৌনদাসীতে পরিণত হবে;
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জঙ্গিদের চাপাতির আঘাতে কতজন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, ব্লগার ও নাস্তিক নৃশংসভাবে খুন হবেন...

এরকম গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয় শবে বরাতের এই মহিমান্বিত রজনীতে নির্ধারণ করবেন মহান আল্লাহ। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বরাতে করাত চালিয়ে কাটছাঁট করার কোনো ক্ষমতা রাখে না নিরীহ প্রগতিশীল মানুষেরা। শুধুমাত্র আল্লাহর প্রিয় ধর্মোন্মাদ মুমিনগণ শবে বরাতের এই বিশেষ ইবাদত রজনীতে অতিরিক্ত ইবাদত পালনের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য ইচ্ছামত নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখেন। এ কারণে মুমিন-মুসলমানদের নিকট শবে বরাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে এ রাতের মর্যাদা রক্ষায় মুমিন-মুসলমানদের কিছু নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। শবে বরাতের ফযিলত জ্ঞানশূন্য অনেক অর্বাচীন মুসলিম তরুণ অতি পূণ্যলাভের আশায় এই রাত উদযাপন করতে আতশবাজি ও পটকা ফুটিয়ে থাকে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে আল্লাহ খুবই বিরক্ত হন। কারণ এই রাতে আল্লাহ দুনিয়ার প্রথম আকাশে অবতরণ করে তার প্রিয় গোলামদের আহ্বান করেন। কিন্তু সেই আহ্বানের শব্দ অর্বাচীন মুমিনদের ফোটানো পটকার অতি আওয়াজকে ছাপিয়ে আল্লাহর প্রিয় গোলামদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। তাছাড়া উর্ধ্বাকাশে নিক্ষিপ্ত আতশবাজি ছুটে গিয়ে নিকটবর্তী আকাশে অবস্থানকারী আল্লাহকে সজোরে আঘাত করে। এতে আল্লাহ প্রচণ্ড শূলবেদনা অনুভব করেন। অতি উৎসাহী মুসলমানদের নিকট এমন দুর্বিনীত আচরণ আল্লাহ কখনও প্রত্যাশা করেন না। বিধায় অর্বাচীন মুমিনদের জন্য আশু কর্তব্য হলো - এমন গর্হিত কাজ করা হতে বিরত থাকা, যা শবে বরাতের ভাবগাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করে।

শবে বরাতের এত তাৎপর্য সত্ত্বেও আরও একটি বিষয়ে মুসলিম অভিভাবকদের নিজেদের স্বার্থেই গভীর মনোযোগ দান একান্ত আবশ্যক। অনেক তরুণ এই বিশেষ রাতে বিভিন্ন মসজিদে ঘুরে ঘুরে ইবাদতের বাহানায় গভীর রাত অব্দি বাড়ির বাহিরে কাটানোর স্বাধীনতা লাভ করে। অভিভাবকগণ ভাবেন, তাদের সন্তানেরা সারা রাত জেগে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত আছে। অথচ সেই সুযোগে অনেক মুসলিম তরুণ ধূমপান, মদ্যপান ও গঞ্জিকাসেবন সহ নানারকম মাদকসেবনে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের নিকট শবে বরাতের রাত মানে শরাব পিনে কা রাত। আর এজন্য তারা অধিকাংশ সময় বেছে নেয় সুবিধাজনক নির্জন স্থান। ফলে নানারকম ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে তাদের। আবার অনেক নিরীহ তরুণ একটু খোলা হাওয়ায় বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে দূরে। তখন সেই এলাকার লোকজন ওই সকল নিরীহ তরুণকে টুপিধারী ডাকাত ভেবে গণপিটুনি দেয়।

এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের ১৮ জুলাই শবে বরাতের রাতে। ঢাকা জেলার সাভারে, আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাত জন বন্ধু শবে বরাতে ইবাদত ক্লান্ত হয়ে একত্রে খোলা হাওয়ায় বেড়াতে গিয়েছিল ওই গ্রামে। কিন্তু গ্রামের দুর্বিনীত জনতা ওই সকল নিরীহ তরুণকে টুপিধারী ডাকাত ভেবে আক্রমণ করে বসে। গ্রামবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই ছয় তরুণ নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। গ্রামবাসী হয়ত ভেবেছিল, মুসলমানদের প্রিয় নবী মুহম্মদ ছিলেন একজন ডাকাত সর্দার। আর সাহাবিগণ ছিল মুহম্মদের অনুগত টুপিধারী ডাকাত। তাহলে শবে বরাতের গভীর রাতে গ্রামে হঠাৎ আবির্ভূত ওই সকল টুপিধারী তরুণ হয়ত ডাকাত নবী মুহম্মদের অনুসারী আদর্শ ডাকাত। তাই তারা ডাকাত নবী মুহম্মদের অনুসারীদেরকে ডাকাত মনে করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। নিরীহ তরুণেরা শবে বরাতের ইবাদত শেষে শব হয়ে বাড়ি ফেরে। তাই মুসলিম অভিভাবকদের জন্য এই সময়ের সঠিক কর্তব্য হলো - শবে বরাতের অভিশাপ থেকে নিজেদের সন্তানদেরকে রক্ষা করতে শবে বরাত উদযাপন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা। কারণ যে শবে বরাত জীবিত মানুষকে শব-এ পরিণত করে, তেমন ইবাদত রজনী মানুষের জন্য কিছুতেই কাম্য হতে পারে না।