২৩ মে, ২০১৫

ধর্মপ্রবণতা ও ধর্ষণের হার কি সমানুপাতিক?

লিখেছেন আবু জাহেল (Version 2)

১. খবর: ১.৫ বছরের শিশু ধর্ষণ!
ইসলামী আইনের যে পরিবর্তন দরকার: জন্মের পরপরই বোরখা পরাতে হবে।

২. খবর: আর্জেন্টিনায় নিজ কন্যাকে আটকিয়ে রেখে পিতার বছরের পর বছর ধর্ষণ!
ইসলামী আইনের যে পরিবর্তন দরকার: এখন থেকে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় যেমন বাবা, ছেলে সবার সামনেই বোরখা পরতে হবে!

৩. খবর: মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বারা ছেলে শিশুর যৌন হয়রানি!
ইসলামী আইনের যে পরিবর্তন দরকার: এখন থেকে নারীদের পাশাপাশি ছেলেদেরও বোরখা পরা দরকার। কারণ ছেলেরা ধর্মযাজক দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে!

৪. খবর: রাখাল বালক দ্বারা গরু এবং গৃহপালিত পশু ধর্ষণ!
ইসলামী আইনের যে পরিবর্তন দরকার: এখন থেকে গরু গাধা ছাগল সবকিছুরেই বোরখা পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে!

বি : দ্র : প্রতিটি খবরই সত্যি। 

#

১. শাড়ি পরা অবস্থায় ধর্ষণ।
মুমিনের প্রতিক্রিয়া: শাড়ি একটি অশালীন পোশাক! আজ যদি ওরা বোরখা-নিকাব পরতো, তবে ধর্ষণ হতো না।

২. বোরখা পরা অবস্থায় ধর্ষণ!
মুমিনের প্রতিক্রিয়া: বোরখা পরলেও মূলত বোরখা কিছুটা টাইট ছিল। এছাড়া এখনকার মেয়েরা ফ্যাশান করার জন্য বোরখা পরে! এসব চকচকে বোরখা পরলে ধর্ষণ হতেই পারে!

৩. ঢিলেঢালা এবং সাদা কালো বোরখা পরা অবস্থায় ধর্ষণ!
মুমিনের প্রতিক্রিয়া: আসলে শুধু বোরখা পরলেই হবে না। রাস্তায় উচ্চস্বরে হাসা এবং আঁকাবাঁকাভাবে হাঁটলেও তা একজন পুরুষকে আকর্ষণ করতে পারে, তাই ধর্ষণ হওয়াটাই স্বাভাবিক!

বি. দ্র. একমাত্র নারী এবং তার পোশাকই ধর্ষণের প্রধান কারণ। ধর্ষক মোটেও দায়ী নয়, কারণ সে নারীর অশালীন পোশাক এবং অঙ্গভঙ্গির কারণেই উত্তেজনা অনুভব করেছিল মাত্র!

আবু জাহেলীয় তালিম:
ইউরোপ আমেরিকার সকল পুরুষ হইলো ধ্বজভঙ্গ! এসব দেশে অনেক Nudist Area, Nudist Sea Beach এমনকি রাস্তায় ও অনেক সময় অর্ধ বা সম্পূর্ণ নগ্ন নারী-পুরুষ ঘুরতে দেখা যায়! কিন্তু তাতেও কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে না! এদের, মনে হয়, কোনো ধন (ঈমানদণ্ড) বলতে কিছু নাই! এ জন্য ধর্ষণ করে না!

#

বাংলাদেশে বোরখা না পরলে ধর্ষণ করা জায়েজ! মুমিনদের বক্তব্য অনেকটা এইরকমই!

আর ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাংলাদেশের নারীরা যদি স্বল্পবসনা হয়, তবে প্রতিদিন বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০ লক্ষ নারী ধর্ষিত হবে। কারণ এসব নারীদের ধর্ষণ করা ফরজ। ধর্ষিত না হইলে তো এসব নারীরা শিক্ষা পাবে না! তাই এদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্যই ধর্ষণ করা মুমিনদের জন্য ফরজে কিফায়া হয়ে যাবে।

#

যারা ভাবেন সৌদি আরবে কোনো ধর্ষণ হয় না। তারা একবার পড়ে নিতে পারেন!

সৌদি আরব এমন এক দেশ, যেখানে কোনো নারী বোরখা ছাড়া রাস্তায় বের হন না। এবং নিয়ম কোন নারী বের হলে অবশ্যই তার সাথে একজন পুরুষ অভিভাবক থাকতে হবে! এমনকি অবিভাবক তার ছেলেও হতে পারবে!

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি কম খরচে শ্রমিক নেয়ার চুক্তি করে! যার বেশিরভাগই গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন টক শো-তে বারবার একটা কথা উঠে আসছিল - এই নারীরা ওখানে নিরাপদ থাকবে কি না! কারণ গৃহকর্মীরা নীরবেই সৌদি আরবে প্রতিনিয়তই ধর্ষণের শিকার হয়। আর এর কোনো বিচার হয় না। একবার একজন সৌদি ফেরত নারীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল, সেখানে তিনি বলেছিলেন কীরকম অমানুষিকভাবে তাকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করেছিল বাপ-বেটা সবাই মিলে।

সৌদি আরবে শরিয়া আইন চলে। শরিয়া আইন অনুয়ায়ি ধর্ষিতাকে ৪জন সাক্ষী দেখাতে হবে। কারণ শরিয়া অনুযায়ী ফিজিক্যাল এভিডেন্স বড় নয়। বড় ব্যপার সাক্ষী। আর ধর্ষণ রাস্তাঘাটে হলে ৪ জন সাক্ষী পাওয়া যেতে পারে! কিন্তু ধর্ষণ তো বেশিরভাগই নির্জন জায়গায় হয়! একজন নারী কীভাবে ৪ জন সাক্ষী যোগাড় করবে? আবার চাইলে ৪ জন মিথ্যা সাক্ষী দিয়েও একজন নারীকে ফাঁসানো সম্ভব! আহা কী যুগোপযোগী আইন!

২০০৯ সালে সৌদি গেজেট প্রকাশ করেছিল, একজন ২৩ বছরের অবিবাহিত নারীকে জেনা করার অপরাধে ১০০ বেত্রাঘাত করার হুকুম দেয়া হয়েছিল! অথচ ওই নারী ছিলেন গণধর্ষণের শিকার এবং ফলস্বরূপ তিনি সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন। ধর্ষণকারীদের শাস্তি তো হয়ইনি বরং ধর্ষিতাকেই শাস্তি পেতে হয়েছিল, কারণ তার কাছে তো ৪ জন সাক্ষী ছিলো না!

২০০৬ সালে কাতিফ রেইপ কেস সৌদি আরবের আরেক লজ্জা। এক শিয়া কিশোরী ও তার পুরুষ সঙ্গীকে ৭ জন মিলে ধর্ষণ করেছিল। তবে এইবার কিন্তু ধর্ষকদের শাস্তি হয়েছিল! মজার ঘটনা অন্য জায়গায়! ধর্ষকের পাশাপাশি ভিক্টিম ২ জনকেও শাস্তি দিয়েছে আদালত ৬ মাসের জেইল এবং ৯০ বেত্রাঘাত! কারণ ওই নারী কেন গাড়িতে তার অনাত্মীয় বন্ধুর সাথে বসেছিলেন, এজন্যই তাদের এই শাস্তি! তাদেরই বেশি দোষ!

সৌদি আজবে প্রতিনিয়তই ধর্ষণ হচ্ছে, তবে কোনো ধর্ষিতাই পুলিশকে রিপোর্ট করার সাহস করে না, পাছে ৪ জন সাক্ষীর অভাবে নিজেকেই জেনা করার অপরাধে শাস্তি পেতে হয় বা মৃত্যুবরণ করতে হয়!