৩ মে, ২০১৫

ইছলাম ব্যবহারের রকমফের

লিখেছেন রহমান পৃথু

১.
আমার এক তুর্কী সহকর্মী। শিক্ষিত, উদার। মদ-টদ খায়। নারীসঙ্গ করে। বিদেশী নারীদের সাথে নাচতে পছন্দ করে। এত দিন ভাবতাম, ও নাস্তিক।

কিছুদিন দেশে ছিলাম। ফিরে এসে ওর বাড়ি গিয়ে দেখি, বউকে হিজাব পরিয়েছে। দুটো ছোট টিন এজেড মেয়ের মাথায় হিজাব। নিজের মুখে ছোট ছোট দাড়ি।

একটু জানতে চেষ্টা করলাম। নিজের ধর্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে, তা নয়।

তার একটি কথায় আমার কাছে ব্যাপারটি পরিষ্কার হল। কথাটি হচ্ছে: "আমি চাই না আমার বউকে অন্য কেউ নিয়ে যাক। মেয়েদের গায়ে অন্যরা হাত দিক।"

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই চেতনা থেকে আমি অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী পরিবারকে হঠাৎ ধার্মিক সাজতে দেখেছি। এমন কি বাংলাদেশেও পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নারীদের বশে রাখার জন্য - একই কারণে - ইসলামকে ব্যবহার করে।

২.
একটা প্রশ্ন প্রায়শই শুনতে হয়, "তুমি কি মরবা না? তুমি যে আল্লাহ বিশ্বাস কর না। কবরে গেলে টের পাবা।"

এরা খুব সরল, তাই পাল্টা প্রশ্ন করি না। যদিও সুযোগমত এরা সবাই ভয়ঙ্কর। তবুও কোনো কোনো মুসলমানকে পাল্টা দুষ্টু প্রশ্ন করি, "তুমি কী করে জান আল্লাহ আছেন?"

ওরা বলে আলো, তাপ, চাঁদ, সূর্য, আকাশ, বাতাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির কথা।

আমি বলি, ওসব তো পদার্থের ধর্ম। গুণ। প্রকৃতি। আল্লাহ থাকলে কেন পদার্থের বাইরে এসে বলছেন না, "এই দেখ আমি।"

আল্লাহ থাকলে তিনি লুকিয়ে থাকবেন কেন? কী এমন দায় পড়েছে তাঁর - মানুষের কাছে সত্য গোপন করার?

ওরা হাস্যকর যুক্তি দেয়, "মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য লুকিয়ে আছেন। তিনি নামাজ চান। প্রার্থনা চান।"

এ যুক্তি - শুধুই অসৎ ধান্দাবাজ মানুষের ব্যবসা। উপার্জনের উপায়।

বলি, "মুসলমানদের কোনো প্রার্থনা, মুনাজাত ও নামাজ আল্লাহ শুনেছেন, কবুল করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ আছে? তাহলে ইহুদিদের কাছে মুসলমানরা হারত না। প্যালেস্টাইন স্বাধীন হত। জর্জ বুশ দুইবার প্রেসিডেন্ট হত না, সাদ্দামের ফাঁসি হত না। কেউ দেখেনি মৃত্যুর পর জীবন আছে। পরকাল অর্থাৎ কবরে মানুষ শাস্তি পায়। কেউ ফিরে এসে বলেনি। দেখেনি। মুহাম্মদ বা মুহাম্মদের নিকটের কেউ। মৃত মানুষ ছাই মাটি যা-ই হোক, পুনরায় জীবিত করা হবে - এ শুধুই কল্পনা। আচ্ছা, আল্লাহ যে এত শক্তিশালী, তিনি একখানা ইট এক ইঞ্চি উঁচু করে দেখাতে পারেন?"

ওরা কেউ আমার কথায় বশীভূত হয় না, নিঃশ্বাস ফেলে। কষ্ট পায়।

তখন মনে হয়, কষ্ট দেব না।