৮ মে, ২০১৫

খন্দক যুদ্ধ -১: কী ছিল তার কারণ?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৭৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একান্ন

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬

বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদের মাস দুই পরে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা বিনা উস্কানিতে ঘাতাফান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু মুহারিব ও বানু থালাবা গোত্রের উপর হামলার অভিপ্রায়ে সুদূর নাখাল (Nakhl) পর্যন্ত গমন করার পর কী কারণে তারা তা না করে এক নিরপরাধ মহিলাকে তাঁর স্বামীর অনুপস্থিতিতে খুন করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।
বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদের পর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যে বড় আক্রমণটির সম্মুখীন হয়েছিলেন, সেটি হলো খন্দক যুদ্ধ (The Battle of the Ditch); মক্কাবাসী কর্তৃক মদিনায় শেষ আক্রমণ।
খন্দক যুদ্ধটি (পরিখার যুদ্ধ) সংঘটিত হয়েছিল ওহুদ যুদ্ধের (মার্চ, ৬২৫ সাল) দুই বছর পর; ৬২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। ইসলামে নিবেদিত প্রাণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলমান ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে:
খন্দক যুদ্ধের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন,
“বনি নাদির গোত্রের এক দল লোক!”
কারণ হলো,
“বছর দেড়েক আগে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অমানুষিক বর্বরতায় বিনা অপরাধে, ঐশী বাণীর অজুহাতে, এই লোকগুলো ও তাঁদের গোত্রের সমস্ত মানুষকে তাঁদের শত শত বছরের আবাসস্থল মদিনা থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও করায়ত্ব করেছিলেন!" (পর্ব: ৫২ ও ৭৫)।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [1] [2]
([আল-তাবারী] <ইবনে হুমায়েদ হইতে <সালামাহ হইতে<) মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে < ইয়াজিদ বিন রুমান [মৃত্যু-৭৪৭ সাল] হইতে <আল-যুবায়ের বিন উরওয়া বিন আল-যুবায়ের [মৃত্যু-৭১২ সাল] পরিবারে এক মক্কেল হইতে < আবদুল্লাহ বিন কাব বিন মালিক [মৃত্যু-৭১৫ সাল] হইতে প্রাপ্ত এমন একজন যার বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নাই; এবং মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি ও আল-জুহরী [মৃত্যু-৭৪২ সাল], ও আসিম বিন উমর বিন কাতাদা [মৃত্যু-৭৩৭ সাল], ও আবদুল্লাহ বিন আবু বকর [মৃত্যু-৭৪৭ সাল], ও আমাদের অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] নিম্নে বর্ণিত উপাখ্যানটি বলেছেন; তাঁদের প্রত্যেকেই এর কিছু অংশের অবদান রেখেছেন:
'আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে কিছু সংখ্যক ইহুদি একটি দল গঠন করে; যাদের মধ্যে ছিল সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েক আল-নাদরি, ও হুয়েই বিন আখতাব আল-নাদরি ও কিনানা বিন আবুল হুকায়েক আল-নাদরি, হাওয়াদা বিন কায়েস আল-ওয়ালি, ও আবু আমমার আল-ওয়ালি; যাদের সাথে ছিল বনি আল-নাদির ও বনি ওয়াইল (মদিনার আউস মানাত গোত্রের অন্তর্ভুক্ত) গোত্রের আরও কিছু লোক। 
তারা মক্কার কুরাইশদের কাছে গমন করে ও তাদেরকে এই বলে আমন্ত্রণ করে যে, তারা যেন তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আল্লাহর নবীর ওপর আক্রমণ চালায়, যাতে তারা তাঁর কাছ থেকে সর্বাংশে মুক্তি পেতে পারে।
কুরাইশরা বলে,
"তোমরা, ইহুদিরা, হলে প্রথম ধর্মগ্রন্থের লোক [অর্থাৎ, তওরাত] এবং তোমরা মুহাম্মদের সাথে আমাদের বিবাদের প্রকৃতি সম্বন্ধে অবহিত। আমাদের ধর্ম শ্রেষ্ঠ, না কি তার ধর্ম?”
তারা জবাবে বলে যে,
অবশ্যই তাদের ধর্ম তার ধর্মের চেয়ে উত্তম এবং এ ব্যাপারে তাদের দাবি তার দাবির চেয়ে বেশি সঠিক।

(এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ নাজিল করে:
[*যা ঘটেছিল]
৪:৫১- “তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে”।
[*অভিশাপ]
৪:৫২ – “এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের উপর লানত করেছেন আল্লাহ তাআলা স্বয়ং। বস্তুত: আল্লাহ যার উপর লা’নত করেন তুমি তার কোন সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না”। 
[*কটুক্তি]
৪:৫৩ – “তাদের কাছে কি রাজ্যের কোন অংশ আছে? তাহলে যে এরা কাউকেও একটি তিল পরিমাণও দেবে না”। - অর্থাৎ, ভবিষ্যদ্বাণী (Prophecy)
[*পূর্ববর্তীদের উপকথা]
৪:৫৪ – “নাকি যা কিছু আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য”। 
[*হুমকি]
৪:৫৫- “অতঃপর তাদের কেউ তাকে মান্য করেছে আবার কেউ তার কাছ থেকে দূরে সরে রয়েছে। বস্তুতঃ (তাদের জন্য) দোযখের শিখায়িত আগুনই যথেষ্ট”। [3] )

এই কথাগুলো কুরাইশদের আনন্দিত করে এবং তারা আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার তাদের ঐ আমন্ত্রণে সানন্দে সাড়া দিয়ে সমবেত হয় ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
তারপর ইহুদিদের ঐ দলটি কায়েস আইলান (Qays 'Aylan) এর 'ঘাতাফান' গোত্রের কাছে যায় ও তাদেরকে আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আমন্ত্রণ জানায়, ও বলে যে, তারা এই কাজে তাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে এবং এই অভিযানে কুরাইশরা নেতৃত্ব দেবে। তাই, তারাও তাদের সাথে যোগদান করে (তাবারী: তারা তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়)। 
কুরাইশরা আবু সুফিয়ান বিন হারবের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে । 
'ঘাতাফান' দল; বানু ফাযারাহ গোত্র ইউয়েনা বিন হিসন বিন হুদায়েফা বিন বদরের নেতৃত্বে, বানু মুররা গোত্র আল-হারিথ বিন আউফ বিন আবু হারিথা আল-মুররির নেতৃত্বে ও আশজা গোত্র মিসা'র বিন রুখায়েলা বিন নুওয়ায়েরা বিন তারিফ বিন সুহমা বিন আবদুল্লাহ বিন হিলাল বিন খালাওয়া বিন আশজা বিন রায়েথ বিন ঘাতাফানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে।’
আল তাবারীর (৮৩৯-৮২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: 
‘ইবনে হুমায়েদ [মৃত্যু-৮৬২ সাল] হইতে < সালামাহ [মৃত্যু-৮০৬ সাল] হইতে < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত:
প্রাপ্ত প্রতিবেদনের তথ্য মোতাবেক, যে কারণে আল্লাহর নবী খন্দক যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা হলো আল্লাহর নবী কর্তৃক বনি আল-নাদির গোত্রকে তাঁদের আবাসস্থল থেকে বিতাড়িত।’ [2] [4]

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল, আয়াত নম্বর, < ও [**] যোগ - লেখক।

The narratives of Muhammad Ibne Ishaq (704-768 AD): [1] [2]
‘([Al-Tabari:] According to Ibne Humayd – Salamah)  Muhammad bin Ishaq - Yazid b.Ruman, client of the family of al-Zubayr b. 'Urwa b. al-Zubayr, and one whom I have no reason to suspect from 'Abdullah b. Ka'b b. Malik, and Muhammad b. Ka'b al-Qurazi, and al-Zuhri, and Asim b. 'Umar b. Qatada, and Abdullah b. Abu Bakr and other traditionists of ours told me the following narrative, each contributing a part of it:

A number of Jews who had formed a party against the apostle, among whom were Sallam b. Abu'l-Huqayq al-Nadri, and Huyayy b. Akhtab al-Nadri and Kinana b. Abu'l-Huqayq al-Nadri, and Haudha b. Qays al-Wa'ili, and Abu 'Ammar al-Wa'ili with a number of B. al-Nadir and B. Wa'il (were a clan of the Aws Manat of Medina) went to Quraysh at Mecca and invited them to join them in an attack on the apostle so that they might get rid of him altogether.

Quraysh said, 'You, O Jews, are the first scripture people and know the nature of our dispute with Muhammad. Is our religion the best or is his?'

They replied that certainly their religion was better than his and they had a better claim to be in the right.

(It was about them that God sent down,

'Have you not considered those to whom a part of the scripture was given who believe in idols and false deities and say to those who disbelieve, These are more rightly guided than those who believe? These are they whom God hath cursed and he whom God has cursed you will find for him no helper' as far as His words,

'Or are they jealous of men because of what God from His bounty has brought to them?' i.e. prophecy.

'We gave the family of Abraham the scripture and wisdom and we gave them a great kingdom and some of them believed in it and some of them turned from it, and hell is sufficient for (their) burning'.) [4:51-55]

These words rejoiced Quraysh and they responded gladly to their invitation to fight the apostle, and they assembled and made their preparations.

Then that company of Jews went off to Ghatafan of Qays 'Aylan and invited them to fight the apostle and told them that they would act with them and that Quraysh had followed their lead in the matter; so they too joined in with them (T. and agreed to what they suggested.)

Quraysh marched under the leadership of Abu Sufyan b. Harb; and Ghatafan led by Uyayna b. Hisn b. Hudhayfa b. Badr with B. Fazara; and al-Harith b.'Auf b. Abu Haritha al-Murri with B. Murra; and Mis'ar b. Rukhayla b. Nuwayra b. Tarif b. Suhma b. 'Abdullah b. Hilal b. Khalawa b. Ashja' b. Rayth b. Ghatafan with those of his people from Ashja' who followed him.’

The narratives of Al-Tabari (839-923 AD):

‘In this year the battle of the Messenger of God at the trench took place in the month of Shawal, According to Ibne Humayd <Salamah < Ibne Ishaq.
What brought on the battle of Messenger of God at the trench, according to what has been reported, was what happened because of the expulsion of Banu Al-Nadir from their settlements by the Messenger of God.’ [2]   

>>> আদি উৎসে ইসলামে নিবেদিত প্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, বনি নাদির গোত্রের একদল লোক মক্কায় গমন করেন ও কুরাইশদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন যে, তাঁরা তাদের সাধারণ শত্রু (Common enemy) মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের সাহায্য করবেন।
উত্তর আরবের ঘাতাফান গোত্রের কাছেও তাঁরা এই মর্মে সাহায্যের আবেদন জানান। খন্দক যুদ্ধের প্রায় ষোল মাস আগে এই ঘাতাফান গোত্রের লোকেরা কীভাবে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আক্রমণাত্মক হামলার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।
যেহেতু খন্দক যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের মারফত বিতাড়িত বনি নাদির (ও বনি কেউনুকা) গোত্র; আক্রান্ত মক্কাবাসী কুরাইশ সম্প্রদায় ও তাঁদের উত্তর আরব মিত্র এবং ঘাতাফান ও অন্যান্য গোত্রের সমন্বয়ে (Army of the Confederates); তাই এই যুদ্ধটিকে বলা হয় "মিত্র দলের আক্রমণ (আল-আহযাব)"
মুহাম্মদ তাঁর ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ (Psycho-biography) কুরানের সুরা আল-আহযাব-এর কিছু অংশে এই যুদ্ধ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন। এই সুরার অন্যান্য অংশে তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর পত্নীঘটিত সমস্যা, তাঁর যৌন সমস্যা (৩৩:৫০-৫২) ও তাঁর পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করার বৈধতা বিষয়ক একান্ত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা প্রসঙ্গে। (পর্ব-৩৯)।
আদি উৎসের মুহাম্মদ অনুসারীদেরই বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ইহুদি বনি নাদির গোত্র, মক্কাবাসী কুরাইশ সম্প্রদায় ও ঘাতাফান গোত্রের সম্মিলিত প্রতিশোধ ও প্রতিরোধ স্পৃহাই হলো খন্দক যুদ্ধের মূল প্রেক্ষাপট।

অর্থাৎ,

“বদর যুদ্ধ (পর্ব: ৩০-৪৩) ও ওহুদ যুদ্ধের (পর্ব: ৫৪-৭১) মতই খন্দক যুদ্ধের মূল কারণ হলো মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী, আক্রমণাত্মক ও অমানবিক কার্যকলাপে আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত অতিষ্ঠ জনপদবাসীর প্রতিরক্ষা চেষ্টা।"

(চলবে)

[*] "কুরান কার বাণী?" - এই প্রসঙ্গের আলোচনা পর্ব-১৪-তে করা হয়েছে। এই গ্রন্থের রচয়িতা তাঁর আবিষ্কৃত "আল্লাহর নামে" প্রতিপক্ষকে দিয়েছেন যথেচ্ছ শাপ-অভিশাপ (পর্ব: ১১-১২) ও হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শন (পর্ব: ২৬-২৭); তাঁর চারিপাশের মানুষদের শুনিয়েছেন পূর্ববর্তীদের উপকথা (পর্ব: ১৭) এবং করেছেন নিজেই নিজের যথেচ্ছ গুণগান ও প্রশংসা (পর্ব: ১৯)।

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৪৫০

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৬৩-‌১৪৬৫ 

[3] ইবনে কাথিরের (১৩০১-১৩৭৩ সাল) কুরান-তাফসীর

[4] সালামাহ বিন আল ফাদল আল আবরাশ (মৃত্যু ১৯১ হিজরি, ৮০৬ সাল) ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের ছাত্র। (পর্ব-৪৪)।