২ মে, ২০১৫

হিজাব - অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার আর পরাধীনতার কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক

লিখেছেন পুতুল হক

খুব মন খারাপ হলো আজকে। কাপড়ের দোকানে গিয়ে দেখি, এক মা তাঁর ১৩/১৪ বছরের ফুটফুটে মেয়েকে হিজাব কিনে দিচ্ছে। উচ্ছল, হাসিখুশি, প্রাণবন্ত একটি মেয়ে, হরেক রকমের কালারফুল ক্লিপ চুলে পরেছে। রেশমের মত বেশ লম্বা চুলগুলো। এই মেয়ে কি আর কোনোদিন খোলা চুলে বিকেল বেলা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হবে? চকোলেটের কৌটতে রাখা তাঁর ক্লিপগুলো দিয়ে এখন সে কী করবে? 

শুনেছি প্রাচীনকালে মেয়েদের পায়ে বেড়ি পরিয়ে রাখা হতো। বেড়ির শব্দ তাঁর অবস্থানের কথা জানাতো, তাঁর চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু হিজাব যে কিশোরী মেয়েটির মনটাকেই বেড়ি পরিয়ে দিলো! সারা জীবনের জন্য তার স্বাধীন ইচ্ছে, বিবেক, স্বপ্ন আর শখের গলা চেপে ধরলো! কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের কাপড় মাথায় জড়িয়ে সে কোন নজরে দুনিয়াটা দেখবে? 

হিজাব কি শুধুই একটি কাপড়ের টুকরো? নাকি নোংরার মধ্যে মাথাটাই ঢুকিয়ে দেয়া? এই মেয়েটির শরীরের মালিক হয়ে গেলো বিকৃত মানসিকতার এক আরব বেদুঈন। সেই বেদুইনের ইচ্ছেমতোই মেয়েটিকে চলতে হবে। 

এই বেদুঈন ১৪০০ বছর আগে নিজের পুত্রবধূকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখে তাঁকে বিয়ে করার জন্য আসমান থেকে আসমানি বাণী নামিয়ে আনে। 
এই লোকটি ৫২ বছর বয়সে ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ে করে। 
নিজের জামাতাকে যৌনদাসী সরবরাহ করে। 
মিথ্যা বলে নিজের বউকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে সেই বিছানাতে দাসী নিয়ে যৌনতায় মেতে ওঠে। 
বিধর্মী যুদ্ধবন্দিনীর স্বামীকে হত্যা করে সেদিনই তাকে বিয়ে করে বিছানাতে তোলে। 
তাঁর দলের ডাকাতদের যুদ্ধবন্দিনী আর বিধর্মী মেয়েদের যথেচ্ছ ভোগের অনুমতি দেয়। 

এমন একটি কামুক বিকৃত লোকের আদেশে এই যুগের মা তার মেয়েকে কেমন করে হিজাব পরায়?

এই মেয়েটি জানে, তার মহানবীর মত অনুযায়ী সে কেবলই এক শস্যক্ষেত্র, যার কাজ পুরুষকে যৌনতৃপ্তি দেয়া আর তার সন্তানকে ধারণ করা? এই মেয়ে কি জানে, যে-পুরুষ তাঁর স্বামী হবে, সে যখন যেভাবে খুশি তাঁকে ভোগ করবে, নয়তো সারা রাত ধরে তাঁর্রিও আল্লাহ্‌র লানত বর্ষিত হবে? সে কি জানে, যখন খুশী তাঁর স্বামী তাকে তালাক দিতে পারবে, আবার ফিরিয়ে নিতে পারবে, শুধু মাঝখানে কিছুদিন তাকে অন্য পুরুষের সাথে শুতে হবে? সে সাজ করবে শুধু তাঁর স্বামীর জন্য। সুগন্ধি মাখবে শুধু তার স্বামীর জন্য। তার স্বামী তাকে ছাড়াও আরও তিনজন স্ত্রী রাখতে পারবে। তার স্বামীর থাকবে অনেক দাসী, যাদেরকেও সে ভোগ করতে পারবে। 

মেয়েটি এখন থেকেই নিষ্ঠার সাথে তাঁর সারা শরীর ঢেকে রাখবে। সে তার বাবা, ভাইয়ের বাধ্য থাকবে। স্বামীর সেবা করবে জীবন দিয়ে। সে খোলা চুলে বিকেলের আকাশ দেখবে না। যখন খুশি গান গেয়ে উঠবে না। তাঁর চিকন আঙুলগুলোতে আর নাচের মুদ্রা খেলা করবে না। সে বেহেস্ত যাবে। সেখানে তার স্বামীর ৭২ হুরের সর্দারনীর পোস্টটি তাঁর চাই। 

হিজাব অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার আর পরাধীনতার কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক। কেউ স্বেচ্ছায় হিজাব পরুক কিংবা সমাজ বা পরিবার তাকে পরতে বাধ্য করুক, ফলাফল একটিই। মেয়েটির ভেতরে যে-মানুষ থাকে, তাকে হত্যা করা।