১৮ এপ্রিল, ২০১৫

খোলা চিনির বস্তা ও মমিন মাছি

লিখেছেন সংশপ্তক অর্ক

আমি প্রায়ই চলতি পথে রাস্তায় খুব সুন্দর মডেলের গাড়ি দেখি, মোটর বাইক দেখি, রাস্তার পাশে আলীশান বাড়ি দেখি, দোকানে সাজানো সুস্বাদু খাবার দেখি। কিন্তু আমি কখনই সে গাড়ি বা বাড়ি বা খাবারকে জোর করে দখল করবার চেষ্টা করি না। আপনারাও হয়তো করেন না।

কেননা আমার ভালো লাগলেই বা লোভ লাগলেই যে তা আমি জোর করে বা চুরি করে যে কোনো কিছু দখল করতে পারি না, বা আমার তা করা উচিত নয়, এইটুকু সামাজিক বোধ ও নীতিবোধ আমার আছে। 

এটা সত্য যে, রাস্তায় পরিপাটি পোশাক পরা, বা আকর্ষণীয় পোশাক পরা কিংবা আকর্ষণীয় গড়নের কোন মেয়ে দেখলে আমার ভালো লাগে। আমি যেহেতু পুরুষ, আমার যেহেতু যৌবন আছে, সেহেতু পহেলা বৈশাখের রঙীন শাড়ি পরা ঈষৎ কোমর উন্মোচিত যুবতী দেখলে আমার ভালোই লাগে, কখনো শিহরণও অনুভব করি। 

কিন্তু তাই বলে কোনো যুবতীর শরীরে রাস্তায় বা লোকালয়ে ঝাঁপিয়ে পরবো, এমন অসভ্যতা বা অসামাজিক আমি কী করে হতে পারি? ভালো লাগলেই বা শিহরিত হলেই তা পাবার জন্য আমি যত্রতত্র ঝাঁপিয়ে পরবো? এটাই কি নীতিশিক্ষা? 

কাম, ক্রোধ, লোভ - এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যিনি না রাখতে পারেন, সে দায় তাঁর। একজন সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য মানুষ অবশ্যই এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন বলেই তিনি সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য। আমরা তাঁকেই সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য বলি, যিনি তার এই তিনটি রিপুকে পরিমাপ মত নিয়ন্ত্রণে রাখেন। 

একটা উদাহরণ দেয়া হয় প্রায়ই: চিনির বস্তা খোলা থাকলে নাকি মাছি উড়ে এসে পড়বেই। হ্যাঁ, এটা সত্য। মিষ্টি জাতীয় খাবার খোলা থাকলে মাছি উড়ে এসে সে খাবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, কিন্তু মানুষ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে না। আর তাছাড়া নারীজাতিও চিনির বস্তা নয়, পুরুষরাও মাছি মত কিছু নয়। 

মানুষ আর মাছিকে একই মাত্রায় মাপাটা আহাম্মকি। অবশ্য এই ফারাকটুকু বোঝার মত জ্ঞান যাদের নেই, সেইসব মমিন বান্দার কাছে এই আলোচনার কোনো মুল্যই থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।