২৭ এপ্রিল, ২০১৫

খণ্ড খণ্ড চিন্তা-ভাবনা

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

১.
বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। কারো পহেলা বৈশাখ নিয়ে কোন ধর্মীয় গোঁড়ামি নেই। শুধু মুসলিমদের কেন ফতোয়া আসে? পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের উৎসব, পহেলা বৈশাখে গেলে ঈমান চলে যাবে, হেনতেন!

কোনো বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান তো বলে না পহেলা বৈশাখে গেলে তাদের ধর্ম নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি শহরে যেসব আদিবাসী (অবাঙালি) আছেন, তাঁরাও পহেলা বৈশাখে আসেন। কারো তো ধর্ম নিয়ে মাথাব্যথা ওঠে না। শুধু মুসলিমদের কেন সবকিছুতেই ধর্ম নিয়ে চুলকানি?

লন্ডনে ব্যারিস্টারি পাশ করা, অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি করা, বাংলাদেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা মুসলিমেরা কীভাবে বলে, পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের উৎসব, এসবে গেলে ধর্ম নষ্ট হয়ে যায়! এদের আপনি অশিক্ষিত বলবেন কীভাবে? শুধু মোল্লারা ফতোয়া দেয়, এই অজুহাতই বা কীভাবে দেখাবেন?

গ্রামাঞ্চলে অমুসলিমদের ওপরে হামলা হলে তখন মডরেট খচ্চর মুসলমানেরা যুক্তি দেখায় - অশিক্ষিত ধর্মান্ধ মুসলিমেরা এসব করে। শিক্ষিত মুসলিমেরা করে না। যখন এসব উচ্চশিক্ষিত ছাগলেরা ছাগলামি করে, বলে - তারা সহী মুসলিম নয়! সব ইহুদি নাসাদাদের ষড়যন্ত্র!

"আপনি আগে বাঙালি নাকি মুসলিম?" - কত্ত বড় প্রশ্ন! কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান ধর্মের ধর্মগুরুরা তো এই ফতোয়া দেয় না। শুধু ইসলাম ধর্ম থেকে কেন ফতোয়া আসে?

‪# ‎অফটপিক‬: যে-ব্যক্তি এই প্রশ্নগুলো করবেন, অবশ্যই তাঁকে ইসলামবিদ্বেষী এবং সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেবে অনেকে। শুধু প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারবে না।

২.
"ধর্ষণ করে যে - সে ধর্ষক।"

"ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করে যে - সে ছুপা ধর্ষক।"

"যে ইনিয়ে বিনিয়ে বলবে, আসলে মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য হলেও পোশাকে শালীনতা রাখা উচিত - সে সবচেয়ে ভয়ংকর ধর্ষক।"

৩.
কোরবানির ঈদে পাল্লা দিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে গরু কিংবা উট যখন কেনা হয়, তখন টাকা অপচয় হয় না। এটা বিলাসিতাও না। টাকা অপচয় হয় শুধু পহেলা বৈশাখে ৫০০ টাকায় পান্তা ইলিশ খেলে! কী বুঝলেন?

একদল ছুপা ছাগলের পাল ইনিয়ে বিনিয়ে এটার বিরোধিতা করে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। পান্তাও বাঙালির ঐতিহ্য। তো পান্তা-ইলিশ নিয়েই কেন শুধু অপচয় চলে আসছে?

আপত্তিটা আসলে পান্তা ইলিশে নয়। আপত্তি বৈশাখি মেলাতেই। আপত্তি বাঙালি ঐতিহ্যে। পান্তা-ইলিশ এখন মেলার অন্যতম আকর্ষণ। সেটাকে বন্ধ করতে পারলে মেলারই একটা অংশ বন্ধ করা যায়।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে জামাতি-হেফাজতিদের সেই আপত্তি কিন্তু আসলে ফুলে নয়। আপত্তি শহীদ মিনারে। ফুলই যদি না দেয়, তাহলে মানুষ শহীদ মিনারে যাবে কেন? শহীদ মিনার তো আর মোনাজাতের জায়গা না কিংবা কনসার্টের জায়গা না। মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেই যায়। ফুল দেওয়ার এই প্রথাটা বন্ধ করতে পারলে শহীদ মিনারটাও চাপা পড়ে যায়।

লাখ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনা অপচয় না। রোজায় ২০ টাকার বেগুন ৫০০ টাকায় কেনা অপচয় না। যেন বেগুন ছাড়া ইফতার সহী হবে না। কুরানে লিখা আছে!

ঈদের ৫০০ টাকার শার্ট ২০০০ টাকা দিয়ে কিনলে অপচয় হয় না। পচা ময়দার সেমাই ২০০ টাকা দিয়ে কিনলেও অপচয় হয় না। অপচয় শুধু বৈশাখি মেলাতে। আসলে অপচয়-টপচয় কিছুই না। ছাগল বলেন বা আরিফ ভাঁড় হোসাইনের মতো সুশীল বলেন, তাদের চুলকানি বৈশাখি মেলাতেই।

৪.
"যেসব মেয়েরা পর্দা করে না তারাই ধর্ষনের স্বীকার হয়।" - মোল্লা ছাগল।

"দেখুন, ধর্ষণ সমর্থন করার কিছু নেই। তবে মেয়েদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও শরীর ঢেকে চলা উচিত।" - মডরেট ছাগল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে: মাদ্রাসায় যেসব বালক মোল্লাদের বলাৎকারের শিকার হয়, তারা কি পর্দা করে না বলে ধর্ষিত হয়? 

৫.
টিএসসিতে হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে মেয়েকে জানোয়ার ধার্মিকেরা নগ্ন করে ফেলল পোশাক তাদের পছন্দ হয়নি বলে। ইসলামি দেশে এ কেমন পোশাক!

বইমেলায় হাজার মানুষের ভীড়ে লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে মারা হল তিনি নাস্তিক বলে। ইসলামি দেশে নাস্তিক কোপানো জায়েজ।

সরকার দলের সংগঠন ওলামা লীগ দাবী জানাচ্ছে ৯৮% মুসলিমের দেশে শিক্ষানীতি ইসলামিক করার। অমুসলিমেরা শিক্ষক বেশি হচ্ছে, অমুসলিমদের লেখা বইয়ে জায়গা পাচ্ছে বেশি। এতে তাদের আপত্তি। এমন সাম্প্রদায়িক উস্কানির পরেও কারো কোনো প্রতিবাদ নেই। থাকুক না কয়েকটা ইসলামি দল!

নীলফামারিতে পোস্টার ছাপিয়ে হুমকি দিয়ে হিন্দুদের ভারত চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হলো। তারপর মন্দিরে আগুন দেওয়া হলো।

৯০% মুসলিমের দেশ বলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চায় তারা। একটা পরিপূর্ণ এবং আদর্শ ইসলামিক রাষ্ট্র দাবি করে। তাদের সেই আশা পূরণ হচ্ছে। 

নাস্তিকদের কোপানো হচ্ছে, পোশাকে বোরকা-হিজাব না থাকলে কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে, পোস্টার ছাপিয়ে হুমকি দিয়ে রীতিমত ঢাকঢোল পিটিয়ে হিন্দুদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে। সরকারও ৭২-এর অসাম্প্রদায়িক সংবিধানের ঘোষণা না দিয়ে ইসলামিক মদিনা সনদের ঘোষনা দিচ্ছে। একটা পরিপূর্ণ আফগানিস্তানের দিকে বাংলাদেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অভিনন্দন বাংলার মদিনাবাসী!