২৫ এপ্রিল, ২০১৫

ইসলামী ইতরামি

লিখেছেন নিলয় নীল

১.
জয়নাব প্রিয়া ডালা একজন সাউথ আফ্রিকান মনোবিজ্ঞানী, যিনি সম্প্রতি তাঁর প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করেন। উপন্যাসটি প্রকাশ-অনুষ্ঠানে তিনি সালমান রুশদির প্রশংসা করেন। সালমান রুশদির প্রশংসা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সভাস্থল ত্যাগ করেন অনেকেই।

এই ঘটনার একদিন পরেই ডালাকে অপহরণ করা হয়। তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন করা হয়, ইট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। মারাত্মকভাবে আহত করে তার পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবার তখন ডালাকে পাগল বলে সাব্যস্ত করে। পরিবারের ধারণা, কোনো সুস্থ মানুষ রুশদির প্রশংসা করতে পারে না, ডালা একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ বলেই এই প্রশংসা করেছে।

ডালা এখন ডারবানের সেন্ট জোসেফ মেন্টাল হেলথকেয়ারে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পাগল, তাই তাঁকে চিকিৎসা করাচ্ছে তাঁর পরিবার। এদিকে সালমান রুশদি ডালার জন্য এগিয়ে এসেছেন, পাগল সাজিয়ে মানসিক হাসপাতালে রাখার যন্ত্রণা থেকে ডালার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক লেখক সংঘ PEN এর বরাতে জানা যায়, ডালার এমন একটি পরিবারে বিয়ে হয়েছে, যেটি ডারবানের সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। তাঁর স্বামীও জানিয়েছে, ধর্মীয় নেতারা ডালাকে যা বলে, তাই তাঁকে মেনে নিতে হবে, নিশ্চয়ই সে ধর্মের ঊর্ধ্বে নয়। 

২.
ঘটনা পাকিস্তানের পাঞ্জাবের লাহোরে, গত ১০ এপ্রিল পবিত্র জুম্মাবার। এইদিন দুপুরে একদল মুসল্লি একটি ছেলের বাইক থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে ছেলেটি খ্রিষ্টান। তারপর থেকেই তাকে মারধোর করা হয় শুধু খ্রিষ্টান হওয়ার দায়ে। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে উল্লাস করে এক পর্যায়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

কিছুদিন আগে খ্রিষ্টানদের চার্চ পুড়িয়েছিল আল্লাহার বান্দারা, ঐ ঘটনায় ২ জন আল্লাহার বান্দাকে ধরে খ্রিষ্টানরা মাইর দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই খ্রিষ্টান নিরীহ ছেলেটির উপর শোধ তোলে মুসল্লিরা। তবে ছেলেটি পরম করুণাময় আল্লাহার রহমতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে, তার শরীরের একাধিক যায়গায় মারাত্মকভাবে পুড়ে গেলেও এখন সে সুস্থতার পথে।

৩.
সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো শুরু হলো হালাল সেক্স শপ, তাও আবার পবিত্র শহর মক্কায়! এই সেক্স শপের মালিক হলেন মরক্কোর আব্দুলাজিজ আওরাগ, যার মাধ্যমে প্রথম সফল অনলাইন হালাল সেক্স শপ “এল আশিরা”র যাত্রা শুরু হয়। 

সেক্স শপ সম্পর্কে অনেকের ধারণা থাকলেও হালাল সেক্স শপ যারা ভালো বোঝেন না তাদের অবগতির জন্য সৌদি এক ধর্মনেতার উদ্ধৃতি থেকে কিছু পয়েন্ট তুলে দিচ্ছি। 
  • হালাল সেক্স শপে ব্রা প্যান্টি থেকে শুরু করে বোরকা হিজাব সবই থাকবে। 
  • সেক্স সামগ্রী স্বামী-স্ত্রীর সেক্সের জন্য ব্যবহৃত হবে। 
  • অবিবাহিত পুরুষ এবং বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী একাকী এখান থেকে সামগ্রী ক্রয় করতে পারবে না। 
  • অবশ্যই যৌনসামগ্রী ইসলামীভাবে স্বীকৃত হতে হবে। 
  • সমকামের যৌনসামগ্রী কখনোই হালাল সেক্স শপে পাওয়া যাবে না। 
  • স্বকাম সামগ্রী পাওয়া যাবে না। 
আব্দুলাজিজ আওরাগ বলেন, আমাদের প্রোডাক্ট অনুভবকে বাড়াবে, অদ্ভুত সেনসিটিভিটি তৈরি করবে, যার মাধ্যমে স্বামী স্ত্রী উভয়ই হালালভাবে যৌনসুখ উপভোগ করতে পারবে। মুসলমান মহিলারা শুধু পর্দা মেনে রান্নাঘরেই থাকবে না, তাকে হালাল ভালবাসাকেও প্রধান্য দিতে হবে। 

৪.
মেয়েটি বিধবা থাকা সত্ত্বেও গর্ভবতী হয়েছে, সাধারণত বিধবারা কিছু করলেও কেয়ারফুলি করে, যাতে গর্ভবতী হয়ে জানাজানি না হয়, তাহলে এই মেয়েটি কি ধর্ষিত হয়েছে? কে তাকে ধর্ষণ করছে? কে তাকে গর্ভবতী বানিয়েছে?

এসবের উত্তর না খুঁজেই মেয়েটিকেই একতরফা দায়ী করা হলো অবৈধ সেক্স করা ও বাচ্চা জন্মদানের জন্য। তারপর প্রকাশ্যে সহিহ উপায়ে ১০০ বেত্রাঘাত করা হলো গর্ভবতীকে। বাহ কি সুন্দর ইছলামী বিচার!!!

৫.
আইএস নেতা আবু বকোর আল বাগদাদি তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে নির্বোধ ও অশিক্ষিত বলেছেন। আল বাগদাদি আরও বলেন, মোল্লা ওমরকে আধ্যাত্মিক বা রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাস করা যায় না। অন্যদিকে তালেবান এক যোদ্ধা আইএসকে এক হাত দেখে নিয়েছেন। তালেবান আরেক নেতা বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হতে হবে, কারণ আইএস ইসলামের নামে চরম অশান্তি সৃষ্টি করছে। 

অনেক আগে এক হুজুরের মুখে শুনেছিলাম, একসময় সহিহ মুসলমানরা অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, জিহাদ করতে করতে যখন অমুসলিমদের শক্তি থাকবে না, তখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানরা জিহাদ করবে। এরপর যখন মুসলমানদেরও শক্তি থাকবে না, তখন কে সহিহ আর কে সহিহ না, এই দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে। তবে সেইদিন আসার আগেই দুই সহিহ মুসলমান পক্ষ কেন একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে? খবরে প্রকাশ, আইএস ও তালিবান একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছে! নাউজুবিল্লাহ্‌।

৬.
অবশ্যই শিশুদের হত্যা করতে হবে এবং কোনোরকম সহানুভূতি ছাড়াই। শুধু শিশু নয়, অবিশ্বাসী ও অমুসলিম নারীদেরকেও হত্যা করতে হবে কোনোরূপ মায়াকান্না ছাড়া। মানবাধিকার পরে। আগে ইসলাম, ইসলামের পথে যা যা করা প্রয়োজন, তা যতই অমানবিক হোক না কেন, তা করতেই হবে।