৩ এপ্রিল, ২০১৫

যুক্তির মোকাবেলায় অসমর্থ অন্ধবিশ্বাসীরা

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

ঈশ্বর-ধারণাকে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে পরীক্ষা করার কোনো উপায় আবিষ্কৃত হয়নি বলেই এই ধারণাটি আজও অপ্রামাণ্যতার ও অজ্ঞানতার অন্ধকারেই নিমজ্জিত; আজও এর একমাত্র ভিত্তি - বিশ্বাস; ধর্ম প্রচারিত আত্মার বা পরকালের ধারণাও তাই।

ধর্মগুলো দাবি করে, তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো অভ্রান্ত এবং সেগুলো স্বয়ং ঈশ্বর প্রণীত। আর সেই সূত্র ধরে প্রতিটি ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা, বিশ্বাস ব্যবস্থা, পবিত্র স্থান, ধর্মগ্রন্থ, ধর্মানুষ্ঠান, উত্সর্গ, উৎসব, সৎকার, বিবাহ, ধ্যান, প্রার্থনা, চিহ্ন, সংস্কার, ঐতিহ্য, পুরোহিত, অনুসরণকারী... ইত্যাদি ইত্যাদি থাকে। 

মজার বিষয়টা হল এই ধর্মাচারগুলো ভীষণভাবে নির্দিষ্ট সমাজকেন্দ্রিক; অর্থাৎ আরবে প্রবর্তিত ধর্ম আরবদের প্রাচীন বিশ্বাস ও নিয়মের মাধ্যমে প্রভাবিত, ভারতে প্রবর্তিত ধর্ম ভারতীয়দের প্রাচীন বিশ্বাস ও নিয়মে প্রভাবিত, এস্কিমোদের প্রাচীন বিশ্বাস ও নিয়মে প্রভাবিত তাদের ধর্ম। 

পরকালের ধারণাও তাই। গরম দেশের কল্পিত স্বর্গের বর্ণনায় সেটা শীতল, আর শীতের দেশের স্বর্গের বর্ণনায় সেটা উষ্ণ। এই তফাতের মুল কারণ হল অন্ধ বিশ্বাসের কষ্টকল্পনা।

দীর্ঘকাল ধরে বহু সংখ্যক মানুষ কিছু বিশ্বাস করে আসছে বলেই সেটা সত্য, এমনটা ভাববার কোনো কারণ নেই। এককালে মানুষ বিশ্বাস করত - পৃথিবী স্থির ও চ্যাপ্টা আকৃতির। কিছু মুক্তচিন্তকেরা সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার সাহস দেখিয়েছিলেন বলেই আমরা প্রকৃত সত্যে আজ উপনীত হতে পেরেছি। ভিত্তিহীন পরকালের ধারণারও অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাই।

আবারও বলছি, ধর্মগুলো দাবি করে, তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো অভ্রান্ত এবং সেগুলো স্বয়ং ঈশ্বর প্রণীত। কাজেই ঈশ্বরকে বোঝা ও প্রমাণ করবার একমাত্র স্বীকৃত পন্থা হলো ধর্মগ্রন্থগুলোর সত্যতা বা অসাড়তা প্রমান করা।

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিভিন্ন গবেষণা ইতিমধ্যেই ধর্মগ্রন্থগুলোর হাস্যকর অবস্থান পরিষ্কার করেছে, কিন্তু আমাদের মানসিক দোদুল্যমানতা ও ইতস্ততায় সেই সত্যকে গ্রহণ করতে আমরা আজও দ্বিধাগ্রস্ত। এই বিশ্বাসের অন্ধত্ব ও দ্বিধার অন্যতম একটি কারণ হলো - আমাদের পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধার আধিক্য ও প্রতি পদে তাদের পদাঙ্ক অনুসরনের অবৈজ্ঞানিক প্রবণতা। খেয়াল করে দেখেছেন কি যে, হিন্দু পরিবারের সন্তান হিন্দু ধর্মকেই অভ্রান্ত মনে করে, মুসলিম পরিবারের সন্তান ইসলামকে; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাই।

মুক্তচিন্তকেরা এই অবৈজ্ঞানিক প্রবণতাকেই কুসংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধেই লড়েন, এবং সেটা প্রগতির স্বার্থেই, এবং ধর্মও সেই কুসংস্কারেরই অংশ।

যুক্তির প্রয়োগে ভ্রান্ত ধর্মীয় বিশ্বাস আহত হয় বলেই ধার্মিকেরা প্রবল প্রতাপে মুক্তচিন্তকদের বিরোধিতা করে চলে; সংখ্যায় ও দলে ভারি হওয়ার সুযোগে তৈরি করে 'ব্লাসফেমী'-র মত আইন, যুক্তির মোকাবেলায় অসমর্থ বলেই অন্ধ ধার্মিকেরা হয়ে ওঠে সহিংস আর প্রাণঘাতী।

কারণ একটাই; বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মধ্য দিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোর অভ্রান্ততা প্রমাণ আজ অসম্ভব। আর সে কারণেই ঈশ্বরও হয়ে ওঠেন অবাস্তব কল্পনাপ্রসুত একটি ধারণা মাত্র।