১৬ এপ্রিল, ২০১৫

ছহীহ ধর্ষবরণ উৎসব

লিখেছেন পুতুল হক

১.
সারাদিন ধরেই টিএসসির বর্বর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ছি। নিউজ লিংকের কমেন্ট আমি পড়িনি। এদেশের মানুষের গড়পড়তা মানসিকতা জানা হয়ে গেছে। রুচি হয়না ওসব পড়তে বা ওদের সাথে তর্ক করতে। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, যে নারীদের নিয়ে এসব হলো, তাঁরা কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন? নাভীর উপর শাড়ি আর হিজাব পরে বৈশাখী মেলা পরিহার করবেন, নাকি নিজের সম্মানের জন্য খোলা চুলে নিজের পছন্দমত পোষাকে বের হবেন? 

এতো কিছুর পরেও যদি মেয়েরা পুরুষের নোংরা রুচির বহিঃপ্রকাশের জন্য নিজেদের শরীর এবং পোশাককে দায়ী মনে করেন, তাহলে বলবো - তাঁরা সারাজীবন "মেয়ে মানুষ" হয়েই থাকুক। মানুষ হবার যোগ্যতা এঁদের নেই। 

আর বাংলাদেশের গড়পড়তা পুরুষদের প্রতি ঘৃণা জানাবার ভাষা আমার নেই। অবশ্য পুত্রবধূর অর্ধউলঙ্গ শরীর দেখে যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগা এবং কলে-কৌশলে তাকে বিয়ে করা ব্যক্তি যাদের চোখে মহামানব, তাদের কাছ থেকে আর যা-ই হোক, ভব্যতা আশা করা যায় না।

কিছু মেয়ে পিঠ খোলা রেখে নাভির নিচে শাড়ি পরে পহেলা বৈশাখে বের হয়েছিল। এ নিয়ে কিছু মুক্তাবালের ধারণা, তাতে নাকি দেশ "যৌনপল্লী" হয়ে গেছে, আর তাদের গায়ে হাত দেয়া জায়েজ! এদেরকে কেমনে বুঝাই কেউ ন্যাংটা হইয়া হাঁটলেও তার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার কারো নাই...

সিলেটে এক গৃহবধুকে ধর্ষণ করল এক ইমাম। কারো ধর্মানুনুভোদায় আঘাত লাগার কথা শোনা গেল না।

শাড়ি পরে কিছু মেয়ে টিএসসিতে পহেলা বৈশাখ পালন করতে করতে গেলে কিছু মুসলমান মেয়েদেরকে ন্যাংটা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করল। চাপাতির কোপ বাদেও যে এভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেটা আমরা আবার নতুন করে শিখলাম।
পোস্টার ও মন্তব্য: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

২.
এইমাত্র এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো কালকের বর্বরতা নিয়ে। এমন ভাব করলো যে, সে কিছু জানেই না। সব শুনে বলল, এসব নিশ্চই বস্তির ছেলেপেলেদের কাজ। মাথা না ঘামাতে বলল আমাকে। আমার আশেপাশে ভদ্র সুশিক্ষিত ছেলেরা যারা ছিল, সারাদিন কেউ বিষয়টা নিয়ে তেমন কোন কথাই বলেনি। সবাই এড়িয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এভাবে এড়িয়ে যাওয়াটা তো প্রকারান্তরে নীচ মানসিকতাকে সমর্থন করে যাওয়া। ঘটনাটা বস্তিতে হয়নি, হয়েছে পহেলা বৈশাখের উৎসবে, আমাদের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোল ঘেঁষে। বস্তিতে কি মানুষ থাকে না? সেখানে কি সব রকম বর্বরতা বৈধ? তাহলেতো আমাদের পুরো দেশটাই একটা বস্তি। ঘটনাটা যদি আমাকে নিয়ে ঘটতো, তাহলেও কি আমার ভাই বন্ধুরা এভাবে এড়িয়ে যেত? কে জানে! ফোন রাখার আগে বলল, মাথা গরম না করে ইজিয়াম খেয়ে ঘুমাতে। 

আমরাতো ঘুমিয়েই আছি। শান্তির ছায়া পড়ছে মাথার ওপরে, না ঘুমিয়ে উপায় কী? এরপর ঘরে ঢুকে যখন হিজাব না পরার কারণে বিবস্ত্র করবে, তখনও ঘুম ভাঙবে না।