১৫ এপ্রিল, ২০১৫

নিউ মদিনায় ছহীহ উপায়ে নববর্ষ পালন

লিখেছেন শান্তনু আদিব

প্রথমেই আমি বলে রাখি, আমি কিন্তু পহেলা বৈশাখ পালনের পক্ষে না। নববর্ষ যদি পালন করতেই হয় তাহলে মুসলিম জাতির নববর্ষ হচ্ছে পহেলা মুহাররাম। যেহেতু জন্মেছি এই নাস্তিক বঙ্গদেশে, তাই ইচ্ছা না থাকলেও আমাদের দেখতে হয় নববর্ষ পালন করা, অনেক সময় পালন করতেও হয়। তাই আসুন আজকে আমরা শিখি, কী করে আমাদের ইমান-আক্বীদা বজায় রেখে সহীহ হালাল উপায়ে আমরা নববর্ষ পালন করতে পারি।

১. অনুষ্ঠানের শুরু করতে হবে আযান দিয়ে। আযান দেবে আমার বাড়ির পাশের মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মাদ ইসলাম হুজুর। আযানের পরপরই সমবেত জনসাধারণ ২ রাকাত নফল নামায পড়ে নেবে। যেহেতু জামাতের সাথে নামায আদায় করা হবে, তাই মহিলারা এখানে স্বাগতম নহে।

২. রমনার বটমূলে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া যাবে না। তার বদলে শাপলা চত্বরে (আইডিয়া: ফয়সল রাফি) গাইতে হবে নাসিদ, হামদ-নাত। দরকার হলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইসলামী করন করিতে হইবে। 

৩. গার্জেন ছাড়া কোনো মহিলা বের হতে পারবে না। বয়ফ্রেন্ড, বন্ধু এসব বিদাতী কালচার ভুলে যেতে হবে। পরপুরুষের সাথে হাসাহাসি, ঢলাঢলি চলবে না। এমনকি জোরে শব্দ করে হাসতে পারবে না মহিলারা।

৪. শাড়ি, আলতা, চুড়ি এসব পরে মহিলারা বের হতে পারবে না। এতে পুরুষের বুকে ব্যথা হতে পারে, মনে কুচিন্তা আসতে পারে। তাই কালো রঙের সহীহ আরবীয় বুরখা পরে অনুষ্ঠানে আসতে হবে। আর কেউ যদি গরমের অজুহাতে বুরখা খুলে ফেলে, তাকে সহস্র দোররা মারা হবে।

৫. অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ার হিসাবে থাকিবে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির এবং আন্সারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যগণ।

৬. হিন্দু মেয়েদেরও বুরখা পরে আসতে হবে। তা না হলে দোররা তো আছেই, ভলান্টিয়ারেরা গনিমতের মাল মনে করে খেয়ে ফেলতে পারে।

৭. ইলিশা-পান্তা চলবে না। খোরমা-খেজুর, কাবাব-রুটি এসব খেয়ে বর্ষবরণ করতে হবে।

৮. শিশুপার্কের সামনে প্রতি বছর ফকির আলমগীর তার দলবল নিয়ে 'ও সখিনা' গায়, তা আর করতে দেওয়া যাবে না। তাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে সেখানে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতে হবে।

৯. বাশি, ডুগডুগি, বেলুন ইত্যাদি মেলায় বিক্রি করা যাবে না। তার বদলে নামায শিক্ষা, কায়দা, আমপারা বিক্রয় করিতে হইবে। ইসলামিক খেলনা হিসাবে কাবাঘরের মডেল, মসজিদের মডেল, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি শিশুদের কিনিয়া দেওয়া যাইতে পারে।

১০. রাস্তায় কোন নকশা করা যাইবে না। তার বদলে দেয়ালে দেয়ালে কুরান-হাদিসের আয়াতের চিকা মেরে দিতে হবে।

১১) সন্ধ্যা হলেই লোকজন যাতে আধারে কোনো বিদাতী কাজে জড়িয়ে না পড়তে পারে, সে জন্য সন্ধ্যার পরপরই কারফিউ জারি করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে মাগরেবের মধ্যেই সকলকে তাদের নিজ গৃহে ফিরিয়া যাইতে হইবে।

আমার মনে হয়, এইসব বেসিক ইসলামি নীতি ফলো করিলে পহেলা বৈশাখ সহীহ হইয়া যাইবে।

মনে রাখিবেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, যদি তাহা ইসলামি কায়দায় পালন করা হয়।

জাযাকাল্লাহ।

সালাম আলেকুম।


লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

শুভ নববর্ষ, মদিনাবাসী (বাংলাদেশী)। 

নিউ মদিনার সাফল্যের হিসেবনিকাশ:

গত বাংলা বছরের আগের বছর রাজীব হায়দার (থাবা বাবা) আর গত বছর অভিজিৎ রায় এবং ওয়াশিকুর বাবু।

বরগুনায় ১৪ হিন্দু পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ।

রামুতে হামলার তিন বছর পূর্তি হবে। আসামী হয়তো ধরাছোঁয়ার বাইরে কিংবা জামিনে বের হয়ে পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খেয়েছে।

খাগড়াছড়িতে বিজয় দিবসের দিন হামলা করে ৫০ এর বেশি আদিবাসী ঘরবাড়ি ধ্বংস কর। এই আদিবাসীরা প্রচণ্ড শীতে বসবাস করছিলেন খোলা আকাশের নিচে।

প্রতি মাসে গড়ে দুই তিনটা করে আদিবাসী মেয়ে ধর্ষণের শিকার।

নাস্তিক কোপালে কেউ কিছু বলে না, কারণ তারা নাস্তিক। সমতলের অমুসলিম হিন্দু-বৌদ্ধদের দেশছাড়া করলে চুপ করে থাকে, কারণ সবদেশেই নাকি সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়!

পাহাড়ের আদিবাসী নির্যাতনের ব্যাপারে বলা হয়, সে কিছু না। আদিবাসীদের মাঝেমাঝে এমন টাইট দেওয়া উচিত।

হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই অবশ্যই। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার! অল্প কিছু মুসলিম নামধারী মুনাফেক ইহুদিদের জন্য আপনি একটি ইসলামিক দেশ বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক বলতে পারেন না। কখনোই না। 

শুভ নববর্ষ, নিউ মদিনা। মদিনার সনদ আনার প্রয়োজন নেই। দেশটাই আস্ত মদিনা হওয়ার একটুখানি বাকি আছে। সরকার দলীয় সংগঠন ওলামা লীগ দাবি করেছে, দেশে ৯৮% মুসলিম। বাকি ২% অমুসলিম দেশ থেকে তাড়াতে পারলেই ১০০% মুসলিমের দেশ বাংলাদেশ = নিউ মদিনা।