১৩ এপ্রিল, ২০১৫

কৌতুকুৎসের বিবর্তন

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু


১৯৮০ সাল:

দোস্ত, গোপাল ভাঁড়, নাসিরুদ্দীন হোজ্জা, বীরবলের বই থাকলে দে তো। মনটা না ভীষণ খারাপ! কৌতুক পড়লে মন ভালো হয়। 


২০১৫ সাল:

দোস্ত রে! মিরাক্কেল, চার্লি চাপলিন, দ্য থ্রী ষ্টুজেস - এইগুলার ভিডিও লিংক দে তো। এসব দেখলে আমার খুব হাসি পায়! মনডা ভালা হয়। 


২০৮০ সাল:


১.
ছেলে: মা গো, কোরান-হাদিস, গীতা, বাইবেল - এসবের বাংলা অনুবাদ থাকলে দাও তো। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসির কৌতুকের এই বইগুলো পড়তে খুব মজা লাগে। এগুলো যারা রচনা করেছে, তাদের অনেক ধন্যবাদ! তারা না থাকলে কি আর এত বিনোদন পেতাম? কী জোশ বই রে! 

২.
ডাক্তার: নিজের প্রতি যত্ন নেবেন। আর বেশি বেশি ঐশী বাণী পাঠ করবেন। এসব কিতাব পড়লে খুব মজা পাবেন, হাসি থামাতে পারবেন না! জানেন তো, মনকে হাসি খুশি রাখলে শরীরও ভালো থাকে। 

৩.
বন্ধু: দোস্ত, ছ্যাঁকা খেয়েছিস তো কী হয়েছে। মন খারাপ করিস না। বেশি বেশি ধর্মীয় বই পড়। দেখবি মনটা ভালো হয়ে গেছে। ইউসুফ-জোলেখার গল্প কল্পকাহিনী হলেও খুব রোমান্টিক! 

৪.
প্রেমিক: জানু! তোমার জন্য একটা গিফট কিনব ভাবছি। কী কিনব বলতো? 
প্রেমিকা: জাস্ট একটা আল্লামা বালালুদ্দীন রুমীর করা কোরানের বাংলা অনুবাদ! কৌতুকের বইটা দারুণ! 

৫.
শিক্ষক: তোমার প্রিয় বই কোনগুলো? 
ছাত্র: স্যার, কোরান, মহাভারত, গীতা, বাইবেল এগুলো। 
শিক্ষক: বাহ! বেশ বেশ! এগুলো আমারও খুব প্রিয়। বইগুলো প্রাচীন হলেও এবং গাঁজাখুররা লিখলেও গল্পগুলো চরম! 

৬.
বাবা: খালি ধর্মীয় গল্প কিসসা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে? সামনে তোর পরীক্ষা না? কৌতুক পড়ার টাইম অনেক পাবি। এবার একটু পাঠ্যপুস্তক পড়।