৩০ এপ্রিল, ২০১৫

৫৭ ধারার ধারাবাহিক ইতরামি

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে সুনামগঞ্জে একজনকে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কী তৎপর সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মানুভূতি রক্ষায়।

২০০৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে এক পরিবারের ১১ জন হিন্দুকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আজ ১২ বছরেও তার বিচার হয়নি।

আগামী অক্টোবরে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপরে বর্বর হামলার ৩ বছর পূর্তি হবে। 

কোনো বিচার নেই। আর নবী নিয়ে শুধু ফেসবুকে লিখলেই জেল। কোনো মসজিদ ভাঙা হয়নি। মুসলমানের বাড়ি পোড়ানো হয়নি। শুধু লিখলেই দোষ। যা শালার! কী মহান অসাম্প্রদায়িক দেশ!

পাকিস্তান একদিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। তাদের দেশে ব্লাসফেমি আইন আছে। পাকিস্তান প্রকাশ্যে ঘোষণা করে সেই দেশে আল্লাহ-নবী নিয়ে কটূক্তি করা নিষেধ। তারা বর্বর হলেও সভ্য সাজার ভেক ধরে না বাংলাদেশের মতো। 

বাংলাদেশ ব্লাসফেমি আইনের ভদ্র সংস্করণ ৫৭ ধারা রেখেছে। বাংলাদেশ সভ্য রাষ্ট্রের ভেক-ধরা অন্যতম বর্বর রাষ্ট্র। মাথার ওপরে হিজাব আর নিচে মিনিস্কার্ট পরা মডারেটদের মতো।

ইসলামিক দেশে মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এই ধর্মানুভূতিকে সম্মান করলেই আল্লাহর সেবা করা হয়ে যায়। তাই মুসলমানদের ধর্মানুভূতির হেফাজতে বাংলাদেশ তৎপর।

অতএব ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র মুসলমানদের। ইসলাম ধর্ম নিয়ে লিখলেই জেল। আর অন্য ধর্মের লোকদের পুড়িয়ে মেরে ফেললেও কোনো সমস্যা নেই।