২৪ মার্চ, ২০১৫

ইছলামী ত্যানা: কনটেক্সট বুঝতে হবে!

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

এছলামিক বিগ্‌গ্যানের কল্যাণে আজ আমরা সবাই জানি যে, কাফেরদের সাতটি অন্ত্র থাকে, যেখানে একজন মোছলমানের অন্ত্র থাকে একটি। 

এ ব্যাপারে একজন মোমিনের সাথে আমার কথোপকথন হয়েছিল। জনস্বার্থে তা এখানে প্রকাশ করা হলো।

আমি: হাদিসে নাকি আছে, বিধর্মীরা সাত অন্ত্রের অধিকারী। এই হাদিসের মাজেজা, শানে-নুযুল, অর্থ কিছুই তো বুঝলাম না। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের বই-পত্র সবই তো ইহুদি-নাসারাদের তৈরি, তারা পেটও কাটে ইহুদি-নাসারাদের। বইতে তো দেখি তাদের পেটের অবস্থা আমাদের মতই। একটাই মেকানিজম। তো এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? আর আমাদের পড়া সব বইগুলো যদি ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারে পূর্ণ থাকে, তাহলে আমার ভিন্ন একটা প্রশ্ন আছে। সেটা হলো, সাতটা অন্ত্রের জন্য একটা মাত্র পায়ুপথ কেমনে কাজ করে?

মোমিন: দেখুন, আপনাকে কনটেক্সট বুঝতে হবে। কোন প্রসঙ্গে এটা বলা হয়েছে, সেটা জানতে হবে। এগুলো সবই ভুল ইন্টারপ্রিটেশনের ফলাফল। আসলে এখানে মহানবী (সঃ) অন্য একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার আলোচনা করেছেন। দেখবেন, কাফেররা দুনিয়া নিয়ে মশগুল থাকে। তারা খাবার বেলায় গপ-গপ করে বেশি বেশি খায়। তাদের দেখলে মনে হয়, যেন তারা শুধু এই খাওয়ার জন্যই জন্মেছে। আমাদের মহানবী (সঃ) দিনে কখনো দুই বেলার বেশি খাননি। খাওয়া নিয়ে তিনি কখনোই ব্যস্ত ছিলেন না। এবং তিনি আদেশ দিয়ে গেছেন তাঁর উম্মতদের যেন তারাও এসব দুনিয়াবি কাজে কাফেরদের অনুসরণ না করে। আশা করি, আপনাকে বোঝাতে পেরেছি। 

আমি ছোভানাল্লাহ, ঝাঝাকাল্লাহ ইত্যাদি বলে মোমিনকে “আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহ্‌লাল কুবুর” বলে চলে এলাম। 

ব্যাখ্যা: আঙুর ফল টক। অন্যের দুম্বা, উট চরিয়ে খুব ভালো জীবিকা অর্জন করা যায় না। মোহাম্মদ ছিলো অলস ও কাজে-কর্মে ব্যাপক অনাগ্রহী। জীবনের শেষ ১০-১৫ বছর ছাড়া সে কখনোই দিনে দুই বেলার বেশি খেতে পারেনি। ইহুদিরা যখন হালাল উপায়ে কামানো জীবিকার কল্যাণে পেট ভরে খেত, তখন বৃথা বিষোদগার করা ছাড়া তার আর কিছুই করার থাকতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সবাইকে বলি, আরব দেশের এখনও যেসব জায়গা চরম রুক্ষ মরুভূমি, সেসব জায়গায় গেলেই বুঝতে পারবেন, এছলামকে বোঝার জন্য কনটেক্সট কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরকম জায়গা থেকেই এছলামের উৎপত্তি হয়েছে। আরও ভালো হয়, যদি আরবি ভাষাটা রপ্ত করতে পারেন। এছলামের ফালতু সব অহংকারের জারি-জুরি ফাঁস হয়ে পড়বে আপনার সামনেই। কিছু উদাহরণ দিই। 

উদাহরণ ১: আমি ব্যক্তিগতভাবে মরুভূমিতে ছিলাম বহুদিন। সূর্য ওঠার প্রায় ১ ঘন্টা পর থেকে বিকেল পর্যন্ত কী পরিমাণ মাছি যে আপনাকে ছেঁকে ধরতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। যেখানে মানুষ কিংবা অন্য কোনো প্রাণীও থাকে না, সেখানেও মাছি থাকে। শুধু এক মিনিটের জন্যও কোথাও বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন না, মাছির ভনভন উপদ্রবের জন্য। পানির চরম অভাব যেখানে বাস্তবতা, সেখানে আপনার খাওয়ার পানিতে বাথরুমের মাছি এসে বসলেও আপনাকে সেই পানিই খেতে হবে। সেই পানি খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হলে মানুষ স্বভাবতই এমন কারও কাছে প্রতিকার চায়, যার সাথে সৃষ্টিকর্তার (কাল্পনিক) যোগাযোগ আছে। এ জন্যই হাদিস চলে আসে, “মাছির এক পাখায় আছে জীবাণু, আর অন্য পাখায় আছে তার প্রতিষেধক।” এ কারণেই এছলামে বলা আছে, পানি কিংবা দুধে মাছি পড়লে সেই মাছিকে ওই পানীয়তে পুরোপুরি ডুবিয়ে তারপর বাইরে ফেলে দিয়ে সে পানীয় পান করার জন্য। 

উদাহরণ ২: বেশির ভাগ মরুভূমির (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে) মাটির নিচে পানির স্তর (বাংলাদেশের তুলনায়) বেশ কাছাকাছি থাকে। পানি পেতে হলে একটাই কাজ, মাটি খুঁড়তে হবে। কোনো শর্টকাট নেই এখানে। তো আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ অলস হন, তাহলে খাবার পানির চাহিদা মেটার পর আর পানি তোলার ইচ্ছা আপনার না থাকারই কথা। ঠিক তখনই আপনি তায়াম্মুম জাতীয় কোনো উদ্ভট কাজ করবেন, নিজেকে পবিত্র দাবি করার জন্য। শখের বশে অনেকেই বাংলাদেশে তায়াম্মুম করে। আমি মরুভূমির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক দিন ধরে হাত-মুখ না-ধোয়া মানুষকে দেখেছি বালু দিয়ে তায়াম্মুম করতে। চরম বিবমিষা জাগানো দৃশ্য। এটা দেখার পরে আমি সিদ্ধান্তে এসেছি, যে এরকম উপায়ে পবিত্র হওয়া সম্ভব মনে করে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত। 

সংক্ষেপে আরও কিছু উদাহরণ: 

১. মরুভূমিতে বাতাস চরম শুষ্ক হওয়ায় বড় পাগড়ি-আলখাল্লা পরা সেখানে বাঁচার অন্যতম শর্ত। সেটাই এখন আমরা কর্তব্য মনে করে পালন করি। 

২. মুখ আর দাঁত পরিস্কার করার জন্য তখন গাছের ডাল ছাড়া আর কিছু ছিল না। সেটাকে আমরা এখন সুন্নত মনে করি। 

৩. ১৪০০ বছর আগের আরবে নিয়মিত গোত্রে-গোত্রে যুদ্ধ, যাযাবর জীবনযাপন ইত্যাদির জন্য সমাজে পুরুষের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান ছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবিবাহিতা/বিধবা নারীদের তখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিবাহিত পুরুষের দ্বিতীয়/তৃতীয় স্ত্রী হওয়া ছাড়া কিছু করার ছিল না। এটাকে এখনও মোছলমানরা কর্তব্য মনে করে। 

এইসব কিছু এমন একটা কনটেক্সটকে সামনে আনে, যেখানে একদল মূর্খ নতুন একটা ধর্ম বানানোর সময় কল্পনাও করতে পারে নি যে, তাদের চেয়ে আলাদা সমাজ বা প্রকৃতি বা পরিবেশে বাকি দুনিয়ার মানুষ বাস করতে পারে।