১৩ মার্চ, ২০১৫

বন্যা আহমেদ: "আমি নীরব থাকবো না"

ইছলামী জঙ্গিদের হাতে নিহত অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ, যিনি বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন, একটি সাক্ষাৎকার (বাংলা অনুবাদ এখানে) দিয়েছেন বিবিসি-র ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে। তিনি সাধ্যমতো সেই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন, গত বেশ কিছু বছরে বাংলাদেশে ধর্মান্ধতার শেকড় কতোটা গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে পরম বিস্ময় ও মুগ্ধতার কথা এই যে, ভয়াবহতম দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়া বন্যা আহমেদ সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করার আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি নীরব থাকবেন না। অভিজিতের আদর্শ প্রচারে ও প্রসারের কাজে তিনি আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হবেন।

বিবিসি-কে দেয়া তাঁর সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার শুনুন:


এদিকে Center for Inquiry নামের বিশ্বখ্যাত সংগঠনের মাধ্যমে অভিজিৎ হত্যার বিচারের দাবি বিশ্বব্যাপী জোরদার করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বন্যা আহমেদ।

ধর্মকারীর কথা:

আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি ছাড়া প্রবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুছলিমদের এই দেশে এই হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত বিচার হবে - এমন আশা করার কোনও ভিত্তিই আসলে নেই। হুমায়ুন আজাদ ও থাবা বাবা হত্যার ঝুলে-যাওয়া বিচার, আসামীদের জামিন পাওয়ার ঘটনা আশাবাদ জাগায় না। ওই বিচারগুলোর প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে না। কারণ গড়পড়তাভাবে মুছলিম জনমত ইছলাম-সমালোচকদের হত্যাকারীর বিচারের বিপক্ষে।

এরা মনে করে, ধর্মের সমালোচনা করেছিলেন বলে হুমায়ুন আজাদ, থাবা বাবা ও অভিজিতের হত্যাকাণ্ড নায্যতা পেয়েছে। বস্তুত এই কুৎসিতচিত্ত, নির্মগজ, বিবেকহীন, বর্বর অমানুষগুলোর (এদের প্রত্যেকেই ধর্মবিশ্বাসী) মানসিক সমর্থন পেয়ে পুষ্ট ইছলামী জঙ্গিরা তাই এতো বলীয়ান, তাই তাদের এতো প্রবল দাপট। সত্যি বলতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রত্যক্ষ দায় জঙ্গিদের হলেও পরোক্ষ ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়ভার এড়াতে পারে না ধর্মবিশ্বাসীদের এই দলও।

তবে সংখ্যায় বিপুল এই মানবতাবোধবিবর্জিত, অন্ধকার-করোটিধারী গোষ্ঠীকে অখুশি করে অভিজিৎ হত্যার বিচার করতে সংশ্লিষ্ট কোনও মহল আন্তরিকভাবে উৎসাহী হবে না বা যথাযথ উদ্যোগ নেবে না। এটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আটক করার ব্যাপারে প্রশাসনের গড়িমসি ও কালক্ষেপণের প্রবণতা লক্ষ্য করে।

তবু বুকে আশা বাঁধি: যদি কোনও ক্ষমতাবান বা ক্ষমতাবতীর সুমতি ও বোধোদয় হয় কোনওদিন!