১০ মার্চ, ২০১৫

রূপান্তর (ছোটগল্প)

লিখেছেন মহা নাস্তিক

ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গে সুলেমান বলে এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান চাষা ছিল। তার অবস্থা ছিল মোটামুটি ভালো। তবে সে অতি ধর্মভীরু ছিল। হিন্দুদের সে যথারীতি ইসলামের শত্রু বলে মনে করত। তাদের বিরুদ্ধে জেহাদে সে অংশ নিত, লাদেনকে সে গুরু মানত। এখন আইসিসকে মানে। 

জেহাদে সে আত্মবলিদান দিতেই যাচ্ছিল, কিন্তু নিজের বিবি আর ছোট ছেলেটার কথা মনে করে আর পারে নি। তবে আর্থিক, মৌখিক সম্মতি সব সময়েই ছিল। গোঁড়া জেহাদী মুসলিম ছিল তার পরিবার। সে মনে করত, কাফের হিন্দু, ইহুদি, নাসারা - এরা মরে গেলে পৃথিবী শান্তির রাজ্য হয়ে যাবে।

আল্লা অলক্ষ্যে সুলেমানের ওপর হাসলেন। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সুলেমান তাজ্জব বনে গেল। কোন এক মন্ত্রবলে সে আর সুলেমান নেই, হয়ে গেছে এক হিন্দু বৈষ্ণব পণ্ডিত – নিত্যানন্দ। মাথার চুল গেছে, মুখের দাড়ি গেছে. এক পুরুষ্টু টিকি গজিয়েছে, কপালে তিলক ফোঁটা, গায়ে পৈতে, পায়ে খড়ম। 

তারপর যা হবার, তা-ই হলো। সুলেমান বা নিত্যানন্দকে তার ধর্মপ্রাণ মুসলিম বাড়ির লোক তাড়িয়ে দিল। স্ত্রী আঁশবটি নিয়ে আর ছেলে কুকরী নিয়ে মারতে এলো। সুলেমান কোনো রকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলো। মুসলমান গ্রামে হিন্দু পণ্ডিত নিত্যানন্দ ওরফে সুলেমানের জায়গা হলো না। তাকে কাফের তকমা দিয়ে গ্রামের লোক মারতে মারতে বের করে দিল। যে মৌলানার সে প্রিয়পাত্র ছিল, সেই মৌলানা তরবারি নিয়ে “নারায়ে তাকবির” হুঙ্কার ছেড়ে তাকে মারতে এলো। তার বন্ধুরা কেউ তাকে চিনতে পারল না। তারাও তাকে মারতে এলো।

গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বাঁচলো সুলেমান। হাজির হলো হিন্দু গ্রামে। এখানে সে একটা বাড়ি কিনলো আর একটা মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করলো। এখানে সবাই তাকে নিত্যানন্দ নামেই জানে। দিনগুলো ভালই কাটছিল, হঠাৎ একদিন তার গ্রামকে আক্রমণ করলো একদল মুসলিম জেহাদি। কাফের নিধনে অংশ নেয়া জেহাদীরা কেটে উজাড় করলো নিত্যানন্দর গ্রামের লোকেদের – তার বন্ধুদের, প্রিয়জনদের. নিত্যানন্দর ছেলে-বৌও মারা পড়ল তাদের হাতে - নিত্যানন্দর চোখের সামনে। বুক ফেটে গেল তার। 

জেহাদিদের হাতে পায়ে ধরতে ধরতেই হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল সুলেমানের। সে তখন বদলে গেছে। আগের মতন কট্টর মুসলিম জেহাদি নেই সে। আল্লা তার চোখ খুলে দিয়েছেন। সে বুঝতে পেরেছে ইসলামের সমস্যা কী, জেহাদের মানে কী আর কাফের কাতার মানে কী। সে আর আগের মত কাফেরদের মারতে বা কাটতে যায় না।