১৩ মার্চ, ২০১৫

ওহুদ যুদ্ধ – ১৮ (শেষ পর্ব): বন্দী হত্যা!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৭১): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – পঁয়তাল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০

ওহুদ যুদ্ধে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নবী-গৌরব কীভাবে ধূলিস্যাৎ হয়েছিল এবং তিনি তাঁর সেই হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের কী কী কলা-কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের দু'টি পর্বে করা হয়েছে।

ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, ওহুদ যুদ্ধ শেষ ও হামরা আল-আসাদ অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মুহাম্মদের আদেশে তিন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।

সেই তিন ব্যক্তির নাম:

১) মুয়াবিয়া বিন আল-মুঘিরা (Muawiya bin al-Mughira),
২) আবু আজযা আমর বিন আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন উহায়েব বিন হাদিফা বিন জুমাহ (Abu Azza al-Jumahi), এবং
৩) আল-হারিথ বিন সুয়ায়েদ বিন সামিত (Al-Harith b. Suwayd b. Samit)

মুয়াবিয়া বিন আল-মুঘিরা ও আবু আজযা আল-জুমাহি হত্যাকাণ্ডের উপাখ্যান মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনায় অনুপস্থিত। কিন্তু ইবনে হিশাম, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদি তা লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে।

মুয়াবিয়া বিন আল-মুঘিরা এবং আবু আজযা আল-জুমাহি কে খুন:

ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ সাল) ও আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ সাল) বর্ণনা:

'আবু উবায়েদা বলেন:

"তাঁর সেই অভিযানের [হামরা আল-আসাদ] প্রাক্কালে, মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্বে, তিনি মুয়াবিয়া বিন আল-মুঘিরা ও আবু আযযাহ আল-জুমাহি-কে পাকড়াও করেন। মুয়াবিয়া বিন আল-মুঘিরা ছিল আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের নানা, তাঁর মা আয়েশার বাবা। সে ওহুদ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেছিল। বলা হয়, যায়েদ বিন হারিথা ও আম্মার বিন ইয়াসির তাকে হত্যা করে।

ওসমান বিন আফফানের কাছে সে আশ্রয় নেয়। ওসমান বিন আফফান আল্লাহর নবীর কাছে তার নিরাপত্তার আবেদন করে এবং তিনি তা মঞ্জুর করেন এই শর্তে যে, তিন দিন পর যদি তাকে পাওয়া যায়, তবে তাকে যেন খুন করা হয়। 

সে সেখানে তিন দিনের বেশি অবস্থান করে ও নিজেকে লুকিয়ে রাখে। আল্লাহর নবী তাঁর সেই দুইজন অনুসারীকে পাঠান ও বলেন, "তাকে তোমরা এই এই জায়গায় পাবে।" তারা তাকে সেখানে পায় ও হত্যা করে (আল তাবারী: সে মক্কায় ফিরে যাওয়ার সময় রাস্তা ভুল করে এবং তিন দিন শেষ হওয়ার পর কিছু মুসলমানের হাতে ধরা পড়ে ও খুন হয়)।'
[1][2]

‘আল্লাহর নবী আবু আজযা আমর বিন আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন উহায়েব বিন হাদিফা বিন জুমাহ-কে ও পাকড়াও করেন। আল্লাহর নবী তাকে বদর যুদ্ধে বন্দী করেছিলেন এবং সে পাঁচ কন্যার জনক ও দরিদ্র বিধায় বিনা মুক্তিপণেই তাকে তিনি এই শর্তে মুক্তি দিয়েছিলেন যে, সে আর তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না (পর্ব-৩৭)[3]

ওহুদ যুদ্ধের আগে, মক্কায় সাফওয়ান বিন উমাইয়া (Safwan b. Umayya) নামের এক নেতা তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করাতে রাজি করান এই শর্তে যে, তিনি তাকে সমৃদ্ধশালী (Enrich) করবেন; আর যদি সে যুদ্ধে নিহত হয়, তবে তিনি তার কন্যাদের করবেন সমৃদ্ধশালী। মুসলমানদের হাতে সে কীভাবে ধরা পড়েছিল, তার কোনো বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। [4][5]

সে আল্লাহর নবীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, কিন্তু তিনি বলেন, “এর পর তুই মক্কায় গিয়ে আর কখনোই যেন গালে হাত বোলাতে না পারিস ও বলিস, ‘আমি মুহাম্মদকে দুইবার ধোঁকা দিয়েছি’; যুবায়ের, তার গর্দান নাও” এবং যুবায়ের তা-ই করে।’

আমি শুনেছি, সায়েদ বিন আল-মুসায়েব হইতে বর্ণিত আছে যে আল্লাহর নবী তাকে বলেন, "বিশ্বাসীদের উচিত নয় যে, তারা একই সর্প দ্বারা দুইবার দংশিত হয়। হে আসিম বিন থাবিত, এর কল্লা কেটে ফেল," এবং সে তা-ই করে। [1][6]

আল-হারিথ বিন সুয়ায়েদ বিন সামিত কে খুন:

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

'আল-হারিথ বিন সুয়ায়েদ বিন সামিত ছিল এক মুনাফিক। সে মুসলমানদের সাথে ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যখন সৈন্যরা যুদ্ধ শুরু করে তখন সে আল মুজাধধার বিন ধায়াদ আল-বালায়ি-কে আক্রমণ করে ও হত্যা করে। 

তারপর সে মক্কায় কুরাইশদের সাথে যোগদান করে। তখন আল্লাহর নবী ওমরকে হুকুম করেন যে, যদি সে তাকে ধরতে পারে ,তবে সে যেন তাকে খুন করে। কিন্তু সে তাকে [ওমর] এড়িয়ে মক্কায় পলায়ন করে।

তারপর সে তার ভাই আল-জুলাসের কাছে এই কামনা করে খবর পাঠায় যে, তাকে যেন ক্ষমা করা হয়, যাতে সে তার লোকজনদের সাথে মিলিত হতে পারে। আল-আব্বাসের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] বলা হয়েছে যে, এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ নাজিল করে,

৩:৮৬ - 'কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।' [7]

ইবনে হিশামের (মৃত্যু ৮৩৩ সাল) বর্ণনা:

‘আল-হারিথ বিন সুয়ায়েদ যে কারণে আল মুজাধধার কে হত্যা করেছিল তা হলো আউস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত বিচ্ছিন্ন লড়াই গুলোর একটিতে সে তার পিতা সুয়ায়েদ কে খুন করেছিল।

যখন আল্লাহর নবী তাঁর কিছু অনুসারীদের সাথে ছিলেন, তখন হঠাৎ আল-হারিথ মদিনার একটি বাগান থেকে রক্তের দাগ লাগা পোষাকে বের হয়ে আসে। আল্লাহর নবী ওসমান কে তার কল্লা কাটার হুকুম দেন। অন্যেরা বলে, সেটি ছিল একজন আনসার, যে এই কাজটি করেছিল।’ [8]

[এই আঠারটি পর্বে বর্ণিত ওহুদ যুদ্ধের সকল তথ্যসূত্র (References) ইসলামের ইতিহাসের আদি-উৎসের (Primary Sources of annals of Islam) ইংরেজি অনুবাদ থেকে সরাসরি অনূদিত: অনুবাদ, লেখক। (9)]

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।] 

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪৩১ http://books.google.com/books?id=efOFhaeNhAwC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[2] অনুরূপ বর্ণনা: “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২)
ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ৩৩২-৩৩৪

[3] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৩১৭

[4] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক পৃষ্ঠা ৩৭০

[5] Ibid আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৮৫

[6] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৬১৮, পৃষ্ঠা ৭৫৭

[7] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, ৩৮৪

[8] Ibid “সিরাত রসুল আল্লাহ”, ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৬০৭ - পৃষ্ঠা ৭৫৫-৭৫৬

[9] ওহুদ যুদ্ধের বর্ণনার আদি-উৎস:

Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক পৃষ্ঠা ৩৭০-৩৯১;

Ibid আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৮৪ -১৪৩১;

“কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির” – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), অনুবাদ এস মইনুল হক, প্রকাশক কিতাব ভবন, নয়া দিল্লি, সাল ২০০৯ (3rd Reprint), ISBN 81-7151-127-9(set), ভলুউম ২, পার্ট-১, পৃষ্ঠা-৪২-৪৯;

“কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ১৯৯-৩৩৪;

ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ সাল):

“Do not leave this place--”
Volume 5, Book 59, Number 375:
Volume 4, Book 52, Number 276

The companions of the Prophet were divided into two groups
Volume 5, Book 59, Number 380:
Volume 3, Book 30, Number 108:

Broken canine tooth- ‘Allah's Wrath has become severe’
Volume 5, Book 59, Number 400-403:

'Who will go on their (i.e. pagans') track?' He then selected seventy men (Q: 3:172)
Volume 5, Book 59, Number 404:

Ansar had more martyrs than any body else - seventy on the day of Uhud:
Volume 5, Book 59, Number 405:

কুরান: সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩:১২১-১৭৯

ইবনে কাথিরের (১৩০১-১৩৭৩ সাল) কুরান তফসীর

তাফসীর যালালীন (১৪৫৯-১৫০৫)
http://www.altafsir.com/Tafasir.asp?tMadhNo=0&tTafsirNo=74&tSoraNo=3&tAyahNo=121&tDisplay=yes&UserProfile=0&LanguageId=2