২৪ ফেব, ২০১৫

ইছলাম - সর্বোচ্চ বিজ্ঞান

লিখেছেন নিলয় নীল

অনেকেই বলেন সৌদিরা নাকি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে না, আজকে দেবো তাদের গবেষণার প্রমাণ! পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে - এই তথ্যকে ভুল ‘প্রমাণ’ করেছেন সৌদি আরবের এক আলেম। নিজের গবেষণার কথা বলে তিনি দাবি করেছেন, পৃথিবী একটি নিশ্চল বস্তু, এটি নড়তে পারে না। শেখ বানদার আল খাইবারি নামে ওই ব্যক্তির এই ‘আবিষ্কার’ একুশ শতকের বিজ্ঞানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার দাবি তুলেছে।

শেখ বানদার আল খাইবারি

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের গবেষণাকর্ম সম্পর্কে বক্তব্য দেন শেখ বানদার। সে সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পৃথিবীর নিশ্চলতা সম্পর্কে বলেন। আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট এমন কথাই বলেছে। 

নিজের গবেষণা সম্পর্কে বোঝাতে শেখ বানদার বলেন, পৃথিবী নিশ্চল এবং তা নড়াচড়া করতে পারে না। যদি পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ঘুরত, তাহলে বিমান কখনই তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারত না। দেখে নিতে পারেন, ইংরেজি সাবটাইটেলসহ তার বক্তব্য

আরবের এই গবেষক প্রচলিত কোপার্নিকাসের মডেলকে খারিজ করে দিয়েছেন। বিশ্বের কোনো বিজ্ঞানই তার গবেষণার ফলকে অস্বীকার করতে পারবে না বলেও দাবি করেছেন শেখ বানদার। একই সঙ্গে নাসার চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি হলিউডের সৃষ্টি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। নাসা বা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এই আলেমের আবিষ্কারের ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। 

যাইহোক, ইসলামি শরিয়তের প্রকাশ্য দলিলগুলো অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, পৃথিবী নয়, সূর্যই আসলে পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘোরে। এই ঘোরার কারনেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমন ঘটে। আমাদের হাতে নিম্নোক্ত এই দলিলগুলোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী এমন অন্য আর কোনো দলিল নেই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘোরার দলিলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি । সূর্য ঘোরার দলিলগুলো হলো:

(فـَااِنَّ اللهَ يـأَتـيِ باِ لشَّـمـس مِن المَـشـرِقِ فَـأتِ بـِهـاَ مِـن المَغرِبِ)
“আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সুরা বাকারাঃ ২৫৮) 
সূর্য পূর্বদিক থেকে ওঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলিল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর ওপর পরিভ্রমণ করে বা সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। 

(فَـالـَمَّا رَأي الشـَّمـسَ باَزِغَـةً قَالَ هَـذََا رَبـيِّ هَـذَا أَكـبَـرُ فَـالـَمّـًا أَفَـالـَت قلَ يَاقَـومِ اِنـّي بَــرِيءُُّ مّـِمـاَّ تُـشــرٍكُــونَ (سورة النع)
“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অবস্থায় উঠতে দেখলেন তখন বললেন, এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতঃপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” (সুরা আনআ’মঃ ৭৮) 
এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয়নি, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘুরতো, তাহলে অবশ্য তা বলা হত।

(وَتَرَي الشَّمسَ اِذَا طَلَعَت تـَتَـزَا وَرُ عَـن كـَهـفِـهـِم ذَاتَ اليـَمِـينِ وَاِذَا غـَرَبـَت تـَقـرِضُهُم ذَاتَ الشـِّــمَـالِ (سورة الكهف :) 
অর্থাৎ- “তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায় (সুরা আল-কাহাফঃ ১৭)।” 
পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে, পৃথিবী থেকে নয়। পৃথিবী যদি নড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলা হতো – সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং অস্ত যাওয়া এখানে সূর্যকে নির্দিষ্ট করে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা থেকেও বোঝা যায় যে, আসলে সূর্যই ঘোরে, পৃথিবী নয়। 

(خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرضَ بِالحَقٌّ يُكَـوِّرُ اللَّيلَ علي النَّهَارِ وَيُكَوٍّرُ النَّهارَ علي اللَّيلِ وَ سَخَّارَ الشَّمسَ وَ القَمَرَ كُلُّ يَجرِي لِأَجَلٍ مُسمَّي ألَا هُوَ العَزِيزُ الغَفَّار( سورة الجمار)
অর্থ: “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল (সুরা যুমারঃ ৫)।” 
আয়াতের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর ওপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো, তাহলে বলা হতো, দিবা-রাত্রির ওপর পৃথিবীকে ঘোরানো হচ্ছে। কিন্তু বলা হয়েছে, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান।” এ দলিলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। (সংগৃহীত)

সৌদি আলেমের এই সহি আবিষ্কার নিয়ে ইতোমধ্যেই সৌদি আরবে শোরগোল পড়ে গেছে। আপনারা এখন কিসে আস্থা রাখবেন? বিজ্ঞানের বাড়াবাড়ি না সূর্যের ঘোরাঘুরি?