১৭ ফেব, ২০১৫

জিহাদে শহীদ - একটি হুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

লিখেছেন পুতুল হক

উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত বাবা-মা'র ছেলের মধ্যে জিহাদের মনোভাব দেখে জিজ্ঞেস করলাম, কেন জিহাদ করতে চাও? প্রথমে এড়িয়ে যেতে চাইলো। তারপর একটু একটু করে যখন বলা শুরু করলো, আমি হতবাক হয়ে পড়লাম! প্রথমেই বলল, "জিহাদ হলো মুখতাসিরু তরিকিল জান্না।" 

এরপর সে কোরআন, হাদিস আর বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে প্রমাণ করছিল, জিহাদ কতোটা প্রয়োজনীয়! সে যে হাদিসগুলোর উল্লেখ করেছিলো, ঘরে এসে তাঁর প্রমাণ পেয়ে গেলাম। যেমন:
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন:
প্রিয়তম নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম? নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- যে আল্লাহর পথে জীবন ও সম্পদ দিয়ে জিহাদ করে
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, প্রিয়তম নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর পথে জিহাদের ময়দানে মুসলিম বাহিনীর হিফাজতের দায়িত্বে এক রাত চৌকিদারি করা ক্বদরের রাত্রে কাবা শরীফে হাজারে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে সারারাত ইবাদাত করার চেয়ে বহুগুণে উত্তম। (বুখারী-অধ্যায় আফাযালুন নাসি মুমিনুন মুজাহিদুন)
নবী মোহাম্মদের আরও একটি ঘটনা সে উল্লেখ করল, সহীহ বুখারীর এক রিওয়ায়েতে উল্লেখিত হয়েছে:
একজন লোক এসে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আগে ইসলাম গ্রহণ করব নাকি জিহাদে অবতীর্ণ হবো? রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগে ইসলাম কবুল কর, তারপর জিহাদ কর। লোকটি কালেমা তাইয়্যিবা পাঠ করল এবং কিছুক্ষণ পর লড়াইরত অবস্থায় শাহাদাত লাভে ধন্য হলো। আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পবিত্র হাতে তাকে কবরে রাখেন। কিন্তু কবরে রেখেই তিনি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দ্রুত কবর থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ দেখে সাহাবীগণ হতচকিত হয়ে গেলেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন- হে আল্লাহর রসূল! কবর আযাবের কোন আলামত দেখেই কি আপনি তড়িঘড়ি করে কবর থেকে বেরিয়ে এলেন? প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে আশ্বস্ত করে বললেন- না কোন আযাব নয়। বরং তার জন্য নির্ধারিত জান্নাতের হুরগণ পৌঁছে গিয়েছিল। এজন্যই পর্দা রক্ষার্থে আমি দ্রুত বের হয়ে এসেছি (সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি)। (আত-তারগীব ওয়াত্‌ তারহিব-কিতাবুল জিহাদ)
ইসলাম কবুল করার পর সে এক ওয়াক্ত নামায অথবা একটা সিজদা করেনি। শুধুমাত্র জিহাদের বরকতে সে পেলো উচ্চতম স্থান। শুধু কি তাই? পরবর্তীতে তার বংশধরদের মধ্যে যারা ইসলাম কবুল করবে, সে তাদের জন্য সুপারিশ করবে। কারণ - 
আবূ দ্দারদা (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলে শুনেছি, শহীদ তার পরিবারবর্গের সত্তর জনের জন্য সুপারিশ করার অধিকার পাবে। (আবূ দাউদ, আত-তারগীব ওয়াত্‌ তারহিব ২য় খণ্ড ৪৩৯ পৃষ্ঠা)। 
ভারতে ইসলামের প্রথম পর্যায়ে ধর্মান্তরিত নব্য মুসলমান কেন উগ্র জিহাদি হয়েছিলো, তাঁর অন্যতম কারণ এরূপ হাদিসের ছড়াছড়ি।

আরও একটি হাদিসে আছে:
এক সাহাবী বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। তার মা উম্মে হারিস প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছুটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ছেলে যদি জান্নাতবাসী না হয় তবে আমি বিলাপ করে কাঁদব। এ কথা শুনে প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাকে বলেনঃ ওয়া ইন্না ইবনাকা আসাবাল ফরদাউসাল আলা। কি বলছ তুমি! সে তো এখন জান্নাতুল ফিরদাউসে অবস্থান করছে। (বুখারী ১ম খণ্ড ৩৯৪ পৃষ্ঠা)। জিহাদে শহীদ হবার পর আল্লাহ মুহূর্ত বিলম্ব করেন না শহীদকে প্রতিশ্রুত পুরস্কার দেবার জন্য
নিয়মিত এই সমস্ত হাদিস শুনলে মুসলমান ছেলের পক্ষে কি সম্ভব জিহাদকে খারাপ বলা বা অপ্রয়োজনীয় বলা? জিহাদ বাদ দিলে ইসলামের আর থাকে কি? ইসলাম মানে ঘরে বসে বা উপাসনালয়ে বসে আল্লাহ্‌র ধ্যান করা নয়। ইসলাম মানে সারা বিশ্বে আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠা করা। একারণে জিহাদকে অন্য যেকোনো আমলের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জিহাদের পথে বের হবার সময় এমনকি জুম্মার নামাজও বাদ দেয়া যায়। মুসলমানের জন্য প্রথমে জিহাদ তারপর অন্য আমল। ইসলামের শান্তি মানে এটাই।