৩১ জানু, ২০১৫

নারী কেন ধর্মমুগ্ধ

লিখেছেন পুতুল হক

একজন নারীর জন্য বেহেস্তের জীবনের চাইতে পৃথিবীর জীবন অনেক বেশী সম্মানের। পৃথিবীতেও সে পুরুষের অধীন দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, কিন্তু এখানে এই অবস্থার পরিবর্তন দাবী করতে পারে, সমঅধিকার চাইতে পারে, স্বাধীনতা চাইতে পারে। কল্পনার বেহেস্তে সেই সুযোগটুকুও নেই। 

বেহেস্তে পুরুষ কি স্বাধীন? কাজকর্ম না করে শুধু মদ খেয়ে আর সেক্স করে তাঁরা কতদিন থাকতে পারবে! চরম কামুক পুরুষও স্বাভাবিক অবস্থায় ভাবতে পারে না সে দিনরাত শুধু সেক্স করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে! অথচ এর লোভেই নাকি তাঁরা বেহেস্তে যেতে চায়! 

মেয়েদের ধার্মিক হবার পেছনে পরকাল যতটা কাজ করে, তাঁর চাইতে বেশী কাজ করে পৃথিবীতে তাঁদের অস্তিত্ব। একটা ধার্মিক মেয়েকে চরম আস্তিক-পুরুষ, নাস্তিক-পুরুষ সকলেই পছন্দ করে। এর কারণ পুরুষের আধিপত্যের প্রতি তাঁদের নিঃশর্ত সমর্পণ। যে মেয়ে যত বেশী ধার্মিক, সে মেয়ে ততবেশী অপ্রতিবাদী, পরাধীনতাপ্রিয়, পুরুষ তথা মনিবের প্রতি বিশ্বস্ত। হিজাব যার প্রতীক। 

আধুনিকা উঠতি বয়সী মেয়েদের হিজাবি হবার প্রবণতা লক্ষ্য করবার মত। এ পর্যন্ত যতজনের সাথে কথা বলেছি, তাঁর নির্যাস হচ্ছে: এই ফ্রি মিক্সিং আর পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবেও তাঁরা "বখে" যায়নি, এখনো তাঁদের সতিচ্ছদ পর্দা অক্ষত আছে তাঁর প্রমাণের জন্য হিজাব ধারণ।

ইতিহাস বলে, রাজা যে ধর্ম অনুসরণ করে, তাঁর প্রজারাও সাধারণত সেই ধর্ম মানতে বাধ্য হয়। মনিব যদি আস্তিক হয় তাঁর অধীনে নাস্তিক হয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। অবমাননা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার তাহলে নারীর নিত্যদিনের প্রাপ্য হতো। 

খুব সফল আর সক্ষম নারীরাও তো ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচার করেন, তাঁদের কী হবে? তাহলে তাঁদের এতদিনের অর্জন ধ্বংস করে দেয়া হবে। আর নয়তো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে। জন্মের পর থেকেই যাঁদের মগজের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় "তুমি দুর্বল, তুমি পরাজিত", তাঁদের লড়াই করার উৎসাহ আর কতো থাকে?