২০ জানু, ২০১৫

বৌদ্ধশাস্ত্রে পিতৃতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১৭


স্বামীই হচ্ছে নারীর অলংকার, নারীর আচ্ছাদন। যে নারীর স্বামী নেই, সে নগ্ন। বৌদ্ধধর্মের ত্রিপিটক আমাদের এই শিক্ষাই দেয়। তৎকালীন সমাজের প্রবল পিতৃতন্ত্রের কাছে অসহায় প্রতিটি নারী। পুরুষ নারীর আশ্রয়দাতা, নারীর অন্ন-বস্ত্রসহ সবকিছু পুরুষের দানের ওপর নির্ভর করে। পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতাবলয়ে স্বামী/পিতা/ভ্রাতা বা পুত্রের দয়ার ওপর একজন নারী বেচে থাকে।

স্বামী যে নারীর আচ্ছাদন তার প্রকৃত দৃষ্টান্ত আমরা খুঁজে পাই বৌদ্ধশাস্ত্র ত্রিপিটকের ৬৭ নম্বর জাতকে। এই জাতকের নাম উৎসঙ্গ জাতক। এই জাতকের বর্তমানবস্তুতে জানা যায়, ডাকাত হিসেবে সন্দেহ করে ভুল করে রাজা তিন চাষীকে রাজদরবারে ধরে আনেন। তিন চাষীর মধ্যে একজনার স্ত্রী খবর পেয়ে রাজদরবারে ছুটে আসেন। তিনি এসে রাজার কাছে আবেদন করেন: “আমায় আচ্ছাদন দান করুন, আমায় আচ্ছাদন দান করুন।”

রাজা তার পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিলে সে রাজাকে জানায়, “স্বামীই নারীদের প্রকৃত আচ্ছাদন। যাহার স্বামী নেই, সে সহস্র মুদ্রার আচ্ছাদন পরিধান করলেও নগ্না।” (for a husband is a woman's real covering, and she that lacks a husband--even though she be clad in garments costing a thousand pieces--goes bare and naked indeed.) বিধবা নারীরা সবাই নগ্ন এই দাবী করে সেই নারী বলেন:
নগ্না জলহীনা নদী,
নগ্ন অরাজক দেশ
বিধবা রমণী নগ্না,
কি বলিবো তাহার ক্লেশ?
ভ্রাতা বন্ধু দশজন
পারে কি রক্ষিতে তায়?
বিধবার দুঃখ হেরি
পাষাণ ফাটিয়া যায়।
রাজা জানতে পারেন যে, ঐ তিন কৃষক হলো নারীটির স্বামী, ভ্রাতা ও পুত্র। নারী তাদের সকলের মুক্তি দাবি করলো এবং তারা নির্দোষ বলেও দাবি করলো। অবশেষে বিচারে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয় এবং রাজা তাদের সবাইকে ছেড়ে দেন।

ওপরের জাতক কাহিনী থেকে নির্মম কিছু পিতৃতান্ত্রিক সত্য ফুটে ওঠে। পুরুষ ছাড়া নারীর কোনো গতি নেই - এই কুৎসিত মিথ্যেটা নারীর মুখ থেকে ফুটিয়ে তোলাই উৎসঙ্গ জাতকের অন্যতম কৃতিত্ব।


(চলবে)