১৫ জানু, ২০১৫

'নবীপোন্দন সপ্তাহ'-এর সমাপ্তি

কোনও সমালোচনা বা ব্যঙ্গ নবীজি সহ্য করতে পারতো না। তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা বা তাকে নিয়ে কবিতা রচনার 'অপরাধে' সে আদেশ দিয়ে হত্যা করিয়েছে সেই ব্যক্তিদের। 

আর সেই পথ অনুসরণ করে তার উম্মতরা প্যারিসের স্যাটায়ারধর্মী পত্রিকা অফিসে যে-হত্যাকাণ্ড চালায়, তা নিশ্চিতভাবেই সুন্নত। ইছলামীরা খুন-হত্যা-ধর্ষণকে প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে (ব্লগের বাম পাশের কলাম 'খবর-দারি'-তে একটু নজর বোলালেই কথাটার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাবে) পরিণত করেছে। কিন্তু বাকস্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলা এই ঘটনা একটু ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দাবি করেছিল। 

তখন, ৯ জানুয়ারি তারিখ থেকে, বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই ধর্মকারীতে 'নবীপোন্দন সপ্তাহ' ঘোষণা করি। লক্ষ্য ছিলো একটাই: সাতদিনব্যাপী ধর্মকারীর সমস্ত পোস্ট হবে নবী সংক্রান্ত। 

পরে এই আইডিয়া আরও বিস্তৃত ও প্রসারিত করতে এগিয়ে আসেন শান্তনু আদিব। তিনি একটি ইভেন্ট খুলে বসেন ফেসবুকে। 

সত্যি বলতে, সাড়া পাওয়া গেছে আশাতীত। অজস্র 'কার্টুন-উন নবী' আঁকা হয়েছে এই ক'দিনে, নবীকে নিয়ে লেখা হয়েছে, ছড়া, রম্য রচনা। একজন একটি 'হামদ'-ও শেয়ার করেছেন। এছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এই মচ্ছবে যোগ দিতে পারেননি নিরাপত্তাজনিত কারণে।

নির্দ্বিধায় বলা যায়, 'নবীপোন্দন সপ্তাহ' নিশ্চিতভাবেই সফল। সবার এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অন্তত আমি আশা করিনি।

অংশগ্রহণকারী সকলকে (যাঁরা অংশ নিতে না পেরে পরোক্ষ সমর্থন যুগিয়ে গেছেন, তাঁদেরকেও) আন্তরিক ধন্যবাদ। তবে বিশেষ একজনের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তাঁর নাম - নিঝুম মজুমদার। 'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সাফল্যকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে তিনি যে-অবদান রেখেছেন, তা ধর্মকারী কোনওদিন ভুলবে না। তিনি একের পর এক স্ট্যাটাস প্রসব করে ধর্মকারীতে পাঠকসংখ্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ধর্মকারীর হয়ে রিভার্স খেলার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ তাঁর নিশ্চয়ই প্রাপ্য।

বর্তমান পোস্টের মাধ্যমে ধর্মকারীতে 'নবীপোন্দন সপ্তাহ' শেষ হলো। আবারও সবাইকে ধন্যবাদ।