৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪

ব্যর্থ আল্লা সফল শয়তান

লিখেছেন তানজিমা আহসান তুলি

আল্লার কোনোকিছু করতে ইচ্ছা করলে তিনি বলেন "হও", অতঃপর তা হয়ে যায় - এ কথা সত্যি হলে আল্লার নিজের ধর্ম প্রচার করতে এতো পেরেশানি কেন? কোটি কোটি ফেরেশতা, লক্ষ লক্ষ নবী, রাসুল, আলেম ওলামা, পীর-ফকির, মুহাদ্দিস, মুফাসসির... সেই সাথে শতাধিক আসমানি কিতাব নাযিল করেও আল্লা তার বান্দাগুলারে সামলাইতে পারতেছে না...! 

আকাইম্মার ঢালি এইসব ফেরেশতা আর নবী-রসুল দিয়া আল্লা তার অতি পেয়ারের বান্দাদের কী শিক্ষা দিল? এর চাইতে যদি আল্লায় বলতো, "হে আমার বান্দারা, তোরা সহীহ মুমিন হইয়া যা, তোদের আমি হেদায়েত দিয়া দিলাম!" তাইলেই তো কাজ হইতো। হুদাই ফেরেশতা, নবী-রসুল আর আসমানি কিতাবের ঝামেলা পোহাইতে হইতো না। 

এইসব পন্ডিতি করতে গিয়া আল্লা তার বান্দাদের অনর্থক কতগুলা ফেরকার মধ্যে ফালাইছে। আল্লার নিজের ধর্মের মধ্যেই শিয়া, সুন্নি, শাফেয়ী, মালেকি, আহমদি, হাম্বলী আরো কত্তো কী! হেরা একটায় আরেকটার ছায়া পর্যন্ত মাড়ায় না, বিধর্মীদের চাইতেও ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে একে অন্যরে। 

এছাড়া, দুনিয়ায় আল্লার বিরোধী ধর্মেরও তো অভাব নাই! তবে কি আল্লা তার ধর্ম প্রচারে ব্যর্থ? নিজের কর্তৃত্ব নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, ফেরেশতা দিয়া পারে না, নবী-রসুল দিয়া পারে না, আসমানি কিতাব দিয়া পারে না, তাইলে আল্লায় আবার সর্বশক্তিমান হইলো কেমনে? নবী-রসুলের জমানা শেষ হইয়া গেছে, মাগার ফেরেশতাগুলা তো ২৪/৭ রোবটের মত অ্যাকটিভ, আল্লায় তো ফেরেশতারে কইতে পারে, "হে মিকাইল, যা আমার বিরুদ্ধে যারা কথা কয়, তাগো উপ্রে ঠাডা বর্ষণ কইরা আয়।"

কয় না ক্যান? এখন দেখি আল্লার ধর্মের নামে মারেও মুসলমান, মরেও মুসলমান! আল্লায় মনোযোগ কি হুরাহুরিতে ব্যস্ত নাকি?

অন্যদিকে আযাজিল ফেরেশতা আল্লার হুকুম না শুইনা ইবলিশ নামের শয়তানে পরিণত হইয়া একাই ১০০! আল্লার মত ফেরেশতা, নবী-রসুল বা কিতাব নামের হেল্পার ছাড়াই তামাম দুনিয়া ভাইজ্যা খাইতাছে! যত্তো সফলতা সব দেখি নিঃসঙ্গ শয়তানের। আল্লায় কাজ-কাম ফালাইয়া করে কি? আল্লা তার সৃষ্টিজগৎ দেখাশোনা বাদ দিয়া করে কী? শয়তান এতো সফল কেন? আল্লা কি তবে ব্যর্থ? এইরকম ব্যর্থ আল্লার ইবাদত কইরা সফল হবার সম্ভাবনা কতটুকু?

আমি ব্যর্থ আল্লার পক্ষে নাই, সফল শয়তানের দলে। জয়তু শয়তান!

হা-হা-হাদিস – ১২০

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing

http://www.nowdownload.ch/dl/da441c35c51a0

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৪৬

লিখেছেন ওয়াশিকুর বাবু

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৯১:
আলকায়েদা, তালেবান, আইএসআইএস, বোকো হারাম ইসলামের নামে এতো সন্ত্রাসী সংগঠন মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে; মুসলিমরাও রেহাই পাচ্ছে না। তারপরও সারা বিশ্বের মুসলিমরা নীরব কেন?

দাঁতভাঙা জবাব:
এরা কেউই সহি মুসলিম না; এদের কর্মকাণ্ডের সাথে সহি ইসলামের সম্পর্ক নেই। ইহুদি-নাসারাদের মোড়ল আম্রিকা এদের তৈরি করেছে ইসলাম ও মুসলিমদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য।


কটূক্তি ৯২:
আম্রিকা-ন্যাটো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মুসলিমরা প্রতিবাদ করে কেন?

দাঁতভাঙা জবাব:
মুসলিমরা একে অপরের ভাই। একজন মুসলিমের ওপর হামলা চালানো মানে বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ওপর হামলা চালানো; ইসলাম মুছে দেবার নিশানা। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ঈমানি দায়িত্ব...

* Shantanu Adib এর স্ট্যাটাস থেকে প্রাপ্ত আইডিয়া।

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১০২



মধ্যরাতের ভিডিও - ০৫

১.
ছহী ইছলামী দাসব্যবসা। ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের বন্দী নারীদের বিক্রি বিষয়ে সংলাপ শুনুন: "নীল-নয়না মেয়ের দাম বেশি পড়বে কিন্তু!" 
http://youtu.be/LsS-8pSGBjQ
(৪.৪৮ মিনিট)

২.
ক্রিসমাসের জুতো। মাইনষে এতো ফাজিল কেমনে হয়! কমেডিয়ান Patton Oswalt-এর স্টেজ পারফরমেন্স দিয়ে বানানো কার্টুন।
http://youtu.be/iq10bz3PxyY
(৭.৪৮ মিনিট)

৩.
http://youtu.be/V51sItS_xFI
(১.২৩ মিনিট)

৪.
নুহ নবীর প্লাবনের গপ্পো স্পষ্টতই ভুয়া, তারচেয়ে বড়ো কথা - চোরের কাছ থেকে চুরি করা, যে কিনা চুরি করেছিল আরেক চোরের কাছ থেকে। মজাদার ইতিহাস।
http://youtu.be/_um69RqBpSw
(১২.৫৯ মিনিট)

৫.
একটি বিজ্ঞানসম্মত ভালোবাসার গান। মানুষের মাথায় কতো আইডিয়া!
http://youtu.be/pocNl2YhZdM
(৩.৩০ মিনিট)

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪

ধর্ম কখনো আনেনি আলো

লিখেছেন অপ্রিয় ভাষ্য

"ধর্ম একদা অন্ধকারে এনেছিল আলো" - আমি কবি রুদ্র'র এই লাইনটির সাথে কোনোভাবেই একমত হতে পারছি না। আমার মতে, ধর্ম কোনোকালেই আলো আনেনি। ধর্ম বারবার অন্ধকারকে যুক্ত করেছে। ধর্ম মানুষকে অন্ধ আর মুর্খ থাকার শিক্ষা দিয়েছে। ধর্ম ঈশ্বরকে কোনো যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাস করতে বলে মানুষের আত্মমুক্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ধর্ম মানুষের চিন্তাধারাকে এক জায়গায় থামিয়ে দিয়েছে।

তখনকার আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগ থেকে মহম্মদের ইসলাম কি বেশি আধুনিক? তখনকার আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগে খাদিজারা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করত। ৪০ বছরের বিধবা খাদিজা ব্যবসার স্বার্থে ২৫ বছরের তরুন মহম্মদের চাকর রাখত। এবং পরে স্বেচ্ছায় সেই চাকরকে বিয়ে করার অধিকার রাখতো। ইসলামের যুগে এসে তা ভাবা যেত ? ইসলাম এসে কী করল? নারীর স্বাধীনতাকে অচল করে দিল, তাদের পায়ে শেকল দিল, বোরকা পরিয়ে মেয়েদের বস্তাবন্দী করল, নারীকে শষ্যক্ষেত (নারীরা হইলো শষ্যক্ষেত, তোমরা যেমন খুশি তেমন চাষ কর) উপাধি দিয়ে তাদের যৌনদাসী বানিয়ে দিল! এক অলীক জান্নাত, ৭২ হুরী আর অফুরন্ত সরাবের মিথ্যা লোভ দেখিয়ে মুমিনদের একেকটা জানোয়ার বানিয়ে দিল। তারা এখন ঐ কল্পিত বেশ্যা আর সরাবের লোভে বিধর্মীদের জবাই আর ধর্ষণ করে চলেছে। কখনো কখনো বোমা হামলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। তো এখানে ধর্ম কোনদিক দিয়ে আলো দিল?

"সতীদাহ" এক সময় হিন্দুদের ধর্মীয় প্রথা ছিল। ধর্মের প্রয়োজনেই স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর সাথে জলন্ত চিতায় ঊঠে আত্মাহুতি দিতে হত। যাতে স্ত্রীর সতীত্ব রক্ষা হয়। এতে নাকি ধর্মের ইজ্জত বাঁচে! তো প্রথাটি কি কোন ধর্মযাজক উঠিয়েছিল?

ধর্ম তো দেখছি যুগে যুগে পুরুষের সুবিধার্থে তৈরি হয়েছে। পুরুষকে প্রভু বানিয়ে বারবার উঁচুতে তোলা হয়েছে। নারীর স্বার্থে ধর্ম আদৌ সৃষ্টি হয়েছে কি? 
পতি সেবা করে সতী,
এছাড়া নাই গতি।
স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত।.....
এরকম আরো অনেক ধর্মীয় বাণী আছে পুরুষের পক্ষে। কই, আজ অব্দি কোন ধর্মীয় যাজক তো বলেনি - স্ত্রীর পায়ের নিচে স্বামীর বেহেস্ত? তো যে-ধর্মগুলো আজ পর্যন্ত নারী-পুরুষের সমতার শিক্ষা দেয়নি, সে ধর্মগুলো কখন কীভাবে আলো দিয়েছিল? ধর্ম কি বারবার মানবসভ্যতাকে পেছন দিকে টানেনি? মানুষগুলোকে স্ব স্ব ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি জানানোর শিক্ষা দেয়নি? মানুষকে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান বানিয়ে বিভক্ত করেনি? তো করলে ধর্ম অন্ধকারে কখন আলো এনেছিল? ধর্ম তো জম্মই হয়েছে অন্ধকারকে সঙ্গী করে, সে আবার আলো দেবে কী করে? 

অকালপ্রয়াত প্রিয় কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আমি 'অপ্রিয় ভাষ্য' বলছি: ধর্ম কোনো কালেই অন্ধকারে আলো দেয়নি, ধর্ম আলোর মাঝে বার বার অন্ধকার নিয়ে এসেছিল। মানবসভ্যতাকে পেছনের দিকে টেনেছিল। "ধর্ম একদা অন্ধকারে এনেছিল আলো," ২৫ বছর আগের আপনার কবিতার এই লাইনটি বা ধারনাটি ভুল ছিল। আসলে ধর্ম কোনোকালেই আলো আনেনি, এটা ভুল!

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

দ্বীনবানের দীন বাণী - ০৯

বাংলাদেশের মুছলিমদের ভেতরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়াজবাজ আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ, যে বলেছিল, "ঢাকা শহর যদি নড়ে উঠে, তাহলে উপরটা চলে যাবে এক হাজার কোটি কিলোমিটার নিচে", এবারে বলছে ইছলামে নারীর অধিকার বিষয়ে। তার ওয়াজ পড়ে/শুনে আবারও নিশ্চিত হোন: ইছলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।

ওয়াজের ভিডিও থেকে ট্র্যান্সক্রিপ্ট বানিয়েছেন নিলয় নীল

ওয়াজ ১: টাকা দিলেন আপনি, আর ধাক্কা মারে লোকে, খারাপ লাগে না?

স্ত্রী গেছে বাজারে, কতো লোক যে তাকে ধাক্কা মারলো... টাকা দিলেন আপনি, আর ধাক্কা মারে লোকে, খারাপ লাগে না? ধর্ম কাকে দেখাচ্ছেন? 

ওকে হাট বাজার করতে হবে, কে বলেছে? ওকে মাস্টার ডিগ্রি পাশ করে কোটি টাকা ইনকাম করতে হবে, কে বলেছে? ওকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টি করেছেন বাচ্চা দেওয়ার জন্য আর স্বামীকে ভালোবাসার জন্য। আর কোনো কাজ নাই তার। 

বেগম রোকেয়া জাতির জন্য কলঙ্ক, বেগম রোকেয়া বাঙ্গালীর জন্য কলঙ্ক। এরকম যত বোকা ৩ নম্বর অশিক্ষিত নারী আছে, সব জাতির জন্য কলঙ্ক।

ভিডিও লিংক

ওয়াজ ২: আল্লাহ্‌ নারীকে সৃষ্টি করেছে স্বামীকে তৃপ্তি দেবার জন্য

এদেশের সরকারের একটা স্টাইল হয়ে গেছে, একটা অভ্যাস হয়ে গেছে যে, অফিসে নারী থাকবে, পুরুষ থাকবে। আপনি বিশ্বাস করুন, নারীকে দেশ চালানোর জন্য সৃষ্টি করা হয় নাই, নারীকে অফিস চালানোর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, নারীকে কোর্ট কাচারি চালানোর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, নারীকে প্রযুক্তির জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, শুধুমাত্র নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার স্বামীকে তৃপ্তি দেয়ার জন্য, স্বামীকে তৃপ্তি দেয়ার জন্য। 

আল্লাহ্‌ বলেছেন, হে মুসলিম মহিলা তোমরা বাড়িতে থাকো, বন্যতার যুগে, অসভ্যতার যুগে, বর্বরতার যুগে নারীরা যেভাবে রাস্তায় চলতো, সেভাবে চলো না। এভাবে রাস্তায় চলা বন্যতা, অসভ্যতা, বর্বরতা। বেগম রোকেয়া জাতিকে কবর দিয়ে গেছে, এই যুবক তুমি কটাক্ষ মনে করো না, তুমি ভুল বুঝেছ, তোমাকে আবার বুঝতে হবে, মেয়ে কেন মাঠে নামলো সমঅধিকার নিয়ে। আরে ও সমঅধিকারের কী বুঝে? অধিকার কাকে বলে? সমঅধিকার কী বুঝে ও? 

শুনুন, এমন কোনো পৃথিবীতে দেশ নেই, যে দেশের ৩ জনই নারী। আশ্চর্য বাংলাদেশ, যে দেশের বড় জনও নারী, মেঝো জনও নারী, আরে সেঝ জনও নারী। মানুষ পাগল হলেও কি এই রকম পাগল হতে হয়? আশ্চর্য দেশ! 

অথচ আল্লাহ্‌ রব্বুল আলআমীন বলেছেন, যে দেশে একজন নারীও দায়িত্বশীল হবে, সে দেশে গযব নাজিল হবে, গযব নাজিল হবে, গযব নাজিল হবে। একথা আল্লাহ্‌র নবীও বলেছেন বুখারি শরীফে। 

আমি মুসলিম চির রণবীর - মরণকে করি না ভয়, মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী। আমার উভয়ই সমান হয়। এই যুবক, তুমি মুসলিম, বাংলাদেশের ৯০ % মুসলিম, এই দেশের মাটিতে যদি হিন্দু কথা কইতে পারে, এই দেশের মাটিতে যদি ইহুদি কথা কইতে পারে, এই দেশের মাটিতে যদি খ্রিষ্টান কথা কইতে পারে, এদেশে আমি আপনারা কি হাদিসের অনুবাদ করতে পারবো না? পারি পারি পারি। 

এদেশের মাটিতে আমার হাদিসের অনুবাদ করার সুযোগ আছে, এটা ঢাকার বুকে কথা বলছি, আমি মুসলিম চির রণবীর - মরণকে করি না ভয়। আপনিও ভয় কইরেন না, মরণ একদিন হবে, আজ হোক আর কাল হোক। একে পাঁচ পয়সা দাম দিয়েন না।

ভিডিও লিংক

কিম্ভুত পোশাক, উদ্ভট রিচ্যুয়াল





ওহুদ যুদ্ধ -৯: 'নিহত মুহাম্মদ' - গুজব!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৬২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – পঁয়ত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১

ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এই ওহুদ যুদ্ধে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কীভাবে ওতবা বিন আবি ওয়াকাস নামক এক কুরাইশের পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি “তাঁর নিজের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে তাঁর অনুসারীদের জীবন বিক্রির আহ্বান জানিয়েছিলেন” তার আলোচনা আগের দু'টি পর্বে করা হয়েছে।

উক্ত আলোচনায় আমরা আরও জেনেছি যে, মুহাম্মদকে রক্ষার জন্য যুদ্ধরত মুসাব বিন উমায়ের নামক এক মুহাম্মদ অনুসারীকে খুন করেন ইবনে কামিয়া আল-লেইথি নামক এক কুরাইশ। মুসাব বিন উমায়েরকে খুন করার পর ইবনে কামিয়া আল-লেইথি মুসাবকে "মুহাম্মদ" ভেবে কুরাইশদের কাছে এই বলে খবর দেন যে তিনি মুহাম্মদকে হত্যা করেছেন।

মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন খবরটি শুনার পর মুহাম্মদ অনুসারীদের মনোবল প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

তাঁরা যখন প্রচণ্ড হতাশা ও বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত, তখন আনাস বিন আল-নাদির নামক এক মুহাম্মদ অনুসারী তাঁদেরকে আবার উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। তিনি প্রাণপণে যুদ্ধ করেন ও নিহত হন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

‘বনি আ'দি বিন আল-নাযযার গোত্রের আল-কাসিম বিন আবদুল রহমান বিন রাফি নামের এক ভাই আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] জানিয়েছেন যে, আনাস বিন মালিকের চাচা আনাস বিন আল-নাদির ওমর বিন আল-খাত্তাব ও তালহা বিন ওবায়েদুল্লাহ ও তাদের সঙ্গে অবস্থানরত মুহাজির ও আনসারদের কাছে আসেন, তারা ছিলেন বিমর্ষ।

তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, "কী কারণে তোমরা এখানে বসে আছো?"

তারা বলে, "আল্লাহর নবী নিহত হয়েছেন।"

জবাবে তিনি বলেন, "তাহলে এরপর জীবিত থেকে তোমারা আর কী করবে? উঠে দাঁড়াও এবং আল্লাহর নবী যেভাবে নিহত হয়েছেন, তোমরাও সেইভাবে তোমাদের জীবন উৎসর্গ করো।"

তারপর তিনি শত্রুর সম্মুখীন হন এবং নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান।

আনাস হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হুমায়েদ আল-তাওয়িল আমাকে বলেছেন, "ঐ দিন আমরা আনাস বিন নাদিরের গায়ে ৭০ টি কাটা চিহ্ন (তাবারী: 'এবং তরোয়ালের খোঁচা') দেখেছিলাম এবং তার বোন ছাড়া অন্য কোন লোকই তাকে শনাক্ত করতে পারে নাই; সে তাকে শনাক্ত করেছিল তার আঙ্গুলের মাথাগুলো দেখে (তাবারী: 'আঙ্গুলের বৈচিত্র্য দেখে')।"

"আল্লাহর নবী নিহত হয়েছেন" প্রচার হওয়ার পর ছত্রভঙ্গ লোকজনদের যে-ব্যক্তিটি আল্লাহর নবীকে প্রথম চিনতে পারেন, তিনি হলেন কাব বিন মালিক, যা আল-জুহরী আমাকে জানিয়েছেন।

কাব বলেন, "তাঁর হেলমেটের অন্তরালে আমি তাঁর চোখের মৃদু ঝিলিক দেখে চিনতে পারি এবং আমার গলার সবটুকু জোর দিয়ে বলে উঠি, "হে মুসলমানেরা, সাহস রাখো, এই যে এখানে আল্লাহর নবী।"

কিন্তু আল্লাহর নবী আমাকে চুপ থাকতে ইশারা করেন।

যখন মুসলমানেরা আল্লাহর নবীকে চিনতে পারেন, তারা তাঁকে গিরিসঙ্কটের (সংকীর্ণ উপত্যকার) দিকে নিয়ে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর, ওমর, আলী, তালহা, আল-যুবায়ের, আল-হারিথ বিন আল-সিমমা এবং আরও অন্যান্য।

যখন আল্লাহর নবী গিরিসঙ্কটের মুখে পৌঁছেন, আলী তার ঢাল আল-মিহারসের (উহুদ প্রান্তে অবস্থিত এক কূপের নাম) পানি দিয়ে পূর্ণ করে তা আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসেন।

কিন্তু আল্লাহর নবী সেই পানি পানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন, কারণটি ছিল তার পচা অরুচিকর গন্ধ। তবে, তিনি সেই পানি দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডলের রক্ত ধৌত করেন এবং তা তাঁর মাথার উপর ঢেলে দেয়ার সময় বলেন,

"আল্লাহর প্রচণ্ড ক্রোধ তার ওপর, যে তার নবীর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত করেছে।" 

সা'দ বিন আবি ওয়াকাসের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সালিহ বিন কেইসান আমাকে জানিয়েছেন যে, সা'দ বিন আবি ওয়াকাস প্রায়ই বলতেন,

"আমি কখনোই ওতবা বিন আবি ওয়াকাসকে খুন করার চাইতে অন্য কাউকে খুন করতে বেশি আগ্রহী ছিলাম না।

আমি জানি যে, সে ছিল অসৎ প্রকৃতির এবং তার লোকেরা তাকে ঘৃণা করতো। তাকে ঘৃণা করার জন্য এটাই আমার জন্য যথেষ্ট যে, আল্লাহর নবী বলেছেন, 'আল্লাহর প্রচণ্ড ক্রোধ তার ওপর, যে তার নবীর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত করেছে।'"' [1][2]

>>> ওতবা বিন আবি ওয়াকাস ছিলেন সা'দ বিন আবি ওয়াকাসের নিজের ভাই। ওতবা মুশরিক রূপেই মক্কাই অবস্থান করেন ও বদর যুদ্ধে কুরাইশদের খুন, বন্দী ও অপমানের প্রতিশোধ নিতে ওহুদ যুদ্ধে অংশ নেন। আর তাঁর ভাই সা'দ ছিলেন সবচেয়ে গোড়ার দিকের মুহাম্মদ অনুসারীদের একজন, মুহাম্মদের আদেশে হিজরত করেন মদিনায়।

মুহাম্মদের দীক্ষায় সা'দ এখন তার সহোদর ভাইয়ের কল্লা কাটার জন্য অতিশয় আগ্রহী! নিজের সহোদর ভাইকে ঘৃণা করার জন্য এখন তার এটুকুই যথেষ্ট যে মুহাম্মদ বলেছেন, "আল্লাহর প্রচণ্ড ক্রোধ তার ওপর, যে তার নবীর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত করেছে।"

মুসাব বিন উমায়েরের ও আবু আজিজ বিন উমায়ের এবং মুহেইয়িসা ও হুয়েইয়িসার উপাখ্যানেও আমরা এই একই দীক্ষার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছি (পর্ব-৩৫ ও ৪৯)।

ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা!

>>> নবীর প্রতি ভালবাসা এবং ইসলাম প্রচার ও প্রসারের প্রয়োজনে যে কোনো ব্যক্তিকে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করা প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসীর ইমানী দায়িত্ব, তা সে পিতা-পুত্র অথবা ভাই-ভগ্নী যেইই হোক না কেন! কুরান, হাদিস ও ‘সিরাতের’ আলোকে এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা পর্ব-৩৬ এ করা হয়েছে।

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হাতে-কলমে তাঁর অনুসারীদের এই শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে তাঁর অনুসারীরা বদর যুদ্ধেই সর্বপ্রথম এই শিক্ষার ব্যবহারিক প্রয়োগ (Practical application) ও বাস্তবায়ন করেন (পর্ব-৩৩)!

যুদ্ধক্ষেত্রে ওতবা বিন আবু ওয়াকাসের হাতে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে "আল্লার নামে" মুহাম্মদের অভিশাপ বর্ষণ খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। যে কোনো সাধারণ মানের মানুষই এমত পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড উত্তেজিত ও রাগান্বিত হয়ে তার আঘাতকারীকে অভিশাপ বর্ষণ করতেই পারেন।

কিন্তু,

আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি মক্কা ও মদিনার স্বাভাবিক পরিবেশে, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ তাঁর বাণী ও কর্মকাণ্ডের মৌখিক সমালোচনাকারীকে "তাঁর আল্লাহর নামে" বিভিন্নভাবে অভিশাপ বর্ষণ করেছেন।

মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ (Psychobiography), ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল, কুরানই তার সাক্ষ্য বহন করে আছে। এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা পর্ব ১১ ও ১২ তে করা হয়েছে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৩৮১-৩৮২

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক:  আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৪০৬-১৪০৯

ইছলামী শান্তির প্রচার ও প্রসার



২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

নাসারা জেনানার সাথে বাৎসিৎ

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

এক নাসারার সাথে আমার কতা হল সেদিন। বাৎসিৎ শ্যাশে তিনি আমাগের মসজিদের জন্য কিসু টাকা দান খরলেন।

কতা শুরু হইবার কিসুক্কন ফর তাকে আমি বললুম, "মুসলিম হই যাও, অনেক শান্তি লাইগবে, দেখিও।"

সে বলে, "হিহি তোমাদের কথা শুনি আমার শুদু হাসি ফায়, কারণ তুমরা আমাদিগকে কত সহজে তোমাগের ধর্মে কনভার্ট হইতে দাওয়াত দিয়া ফেল! অথচ, আমরা যদি তোমাদেরকে খ্রিষ্টান হইতে বলি,তখন তোমরা সহ্য ত কোইত্তে ফারই না, বরঞ্চ ষাঁড়-এর মত তেড়ে আসো হাহাহা।"

"আমরার ধর্ম ত শান্তির ধর্ম, সহজ সরল ধর্ম। আর জগতের সব ধর্মই ত মিথ্যা। তাই সাদা দিলে বলি ফেলি" - এ কথা বলি আমি তার মুখের দিকে দেখি যে, তার চুখ-মুখ শক্ত হই গেসে। এবং সে বলা শুরু কারসে:

"এই যে তুমি বলছ আমার ধর্ম মিথ্যা এইটা কিন্তুক 'ধর্মাবমাননা'; অবশ্য মুসলিমরা সংকির্ন গতবাঁধা এক শিক্ষার মইধ্য দিয়া যায় সারা জিবন। তাই তোমাদের বুঝে আসবে না এসব। শুনো মুয়াজ্জিন, আমাকে কাজের প্রয়োজনে এক সময় সৌদি আরব যেতে হয়। যেখানে কাজ করতাম, এক প্রকার তাদের চাপেই তখন আমি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হই। কিন্তু অচিরেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। এক সময় দেশে ফিরে যাই।"

আমি জিকগেস করলুম, "তারফর?"

তখন সে বলে, "আর কি, এখন সপ্তাহে একদিন চার্চে যাই। ভাল চিন্তা ভাল কাজে সময় কাটাই। জব করি।"

তারফর আমি তাকে বললুম, "দেকলে ত, এই যে তোমি বোইলচ, এখন তুমি বালো সিন্তা খরো, ভাল খাজ করো - এইগুলান কি এমনে এমনে হইসে! ইসলামই ত তুমায় এসব দিয়াসে, কারণ ইসলাম গ্রহনের ফর কিসু দিনের জন্য হলে অ ত তুমি ইসলামের ছুঁয়া ফেয়েসো।তাইলে? আইচ্ছা সে যাই হক, এখন আমায় বলো, কেনো তুমি মহান সত্য সহজ ধর্মটি ছাড়ি সোলি গেলে। বোইলবে কি?

আমার প্রশ্নে মনে হইল সে কতা খুঁজি ফাইতেসে না, যেন আল্লহ রাব্বুল আলামিন তার ভিতর থিকা সব কথা কাড়ি নিয়া গেলেন।কিন্তুক অবশেশে সে মুখ খুলল, "আহ! ইসলাম এমুন এক ধর্ম, চব্বিশ ঘন্টা যেন আমায় এইটা নিয়া ফড়ি থাকতে হবে; এইটা করো ঐটা করো, আরবি শিখতে একজন হুজুর রাখো এইবার, মাথা ঢাকো, কপাল ঢাকো, আংগুল ঢাকো, এক চোখ ঢাকো like you have to do this, you have to do that, শুদু যে এইগুলা, তা ত নয়, কোরান শরিফের জায়গায় জায়গায় ইহুদি খ্রিষ্টানদের প্রতি ঘৃনাবাক্য, যেন ইশ্বর নয়, কোনো মানব ইহুদি খ্রিষ্টানদের সাথে ঝগড়া করছে। এখন অনেক শান্তিতে আছি। ভাল থাকি,ভাল চিন্তা করি। মুক্তভাবে নিশ্বাস ফেইলতে ফারি।"

অতফর, যখন আমু বুঝি ফেইললাম, এই নারীর দিলে আল্লাহ মোহর মারি দেছেন, তখন আমি অন্য লাইনে যাই। মসজিদের জন্য আল্লাহরবাস্তে টেকা সাই তার কাসে। সে না করল না, মুনে হয় ডরাইসে। টাকা দিয়া হাইশতে হাইশতে অন্য দিকে সোলি গেল।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৭৫

বানিয়েছেন: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম


প্রসাদের স্বাদ

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশন। ভার্সিটি পড়ুয়া এক পরিচিত নিয়ে গেল। রামকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে অনুষ্ঠান চলবে। সব ধোয়া-মোছা চলছে। গেট দিয়ে ঢুকেই বাম দিকে প্রাইমারি স্কুল। তার সামনে বিশাল দু'টি বকুল ফুলের গাছ। স্কুলের সামনে গিয়ে আরেকটু বাম দিকে এগিয়ে গেলেই গাছ দু'টির আড়ালে পূর্বদিকে দোতলা বিল্ডিং - নিচতলায় লাইব্রেরি; ওপরের তলায় অডিটরিয়াম। অডিটরিয়ামে জড়ো হয়েছে চারুকলার কয়েকটি ছেলে। পরিচিতের পরিচিত। অনুষ্ঠানের মঞ্চ এবং অন্যান্য সাজসজ্জার দায়িত্ব এদের। একজন আঁকাআঁকি করে দিল, ওদের সাথে সেসব কাটাকাটিতে লেগে গেলাম। 

এভাবে কয়েক রাতে কাজ মোটামুটি শেষ। অনুষ্ঠানের আগের রাতে মেইন গেট বন্ধ হলে রাতভর চলল পুরো পথ জুড়ে আলপনা আঁকার কাজ। এর মধ্যে এক ব্রহ্মচারীর সাথে পরিচয় হয়ে গেল। বয়স কম। তখনো মহারাজ হননি। আমাদের কাজে তাঁর খুব আগ্রহ। কাজের সময় খোঁজ-খবর নেন, এটা-সেটা জিজ্ঞেস করেন, গানবাজনা জানেন, বড় মহারাজের সাথে সাথে থাকেন বেশিরভাগ সময়। ধর্ম নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই। যদিও কেন এই পথে এসেছেন, অনেক জিজ্ঞেস করেও উত্তর পাইনি। জিজ্ঞেস করলে শুধুই হাসতেন। নাম-পরিচয় কিছুই বলতে চাননি। হাসি ঠাট্টার মধ্যে দিয়ে বেশ ভালোই পরিচয় হয়ে গিয়েছিল।

অনুষ্ঠানের সময়টাতেও কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাউল গানের আসর বসলেই দৌড়ে যেতাম। চারুকলা, ভার্সিটি থেকেও অনেকে আসত। অনুষ্ঠান দেখতাম, আড্ডা হত। ওই ব্রহ্মচারী মহারাজের সাথে দেখা হলেই জোর করে ভেতরে নিয়ে প্রসাদ না খাইয়ে ছাড়তেন না। 

এরপর থেকে মহারাজের সাথে দেখা হতেই চেঁচিয়ে বলতাম, মহারাজ, প্রসাদ দেন। মহারাজ প্রসাদ দিতেন। একবার সেই সাথে কী মনে করে সত্যজিতের "গণশত্রু" সিনেমার গল্প শুনিয়েছিলেন। মনে আছে সেদিনই স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে এই সিনেমার ভিডিও ক্যাসেট কিনে এনে ভিসিআর-এ দেখেছিলাম। - হঠাৎ জলবাহিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালে রোগী বাড়ছে, মারাও যাচ্ছে অনেকে। ডাক্তার ভেবে পাচ্ছেন না হঠাত এমন কেন হলো। তারপর জল পরীক্ষা করে বুঝতে পারলেন, এটা ছড়াচ্ছে মন্দিরের "চরণামৃত" থেকে - সাধারণ মানুষের বিশ্বাস মন্দিরের যে চরণামৃত, তাতে তুলসিপাতা দিলেই শুদ্ধ এবং দেবতার আশীর্বাদে পবিত্র হয়ে যায়। একদিকে সাধারণ মানুষের এই বিশ্বাস এবং ধর্মানুভূতি, অন্যদিকে মন্দিরকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যবসায়ীদের ধর্মব্যবসা - ডাক্তার একা কিছু করতে পারলেন না!... যৌবনে সত্যজিতের ধর্ম পচিয়ে অনেক মেসেজ আছে, আর এই সিনেমাটা তার শেষ বয়সের দিকের। বয়সের সাথে বিপ্লব যে শেষ হয়ে যায়নি, নিজে যে অনেকের মত পচে যাননি, তারই এক অনবদ্য চিত্রায়ণ "গণশত্রু"; জানি, এ মুভি কাউকে আবার দেখতে বলার অপেক্ষায় রাখে না।

সেদিন প্রসাদ-প্রসাদ করার এত পাগলামি করার পরে মহারাজ এই গল্প কেন বলেছিলেন, সেটা পরে বুঝেছিলাম। তারপর থেকে আর প্রসাদ খেতে চাইনি, কোনোদিন খাইওনি। যদিও সত্যি সত্যি বলছি, প্রসাদ খেতে কিন্তু সাংঘাতিক লাগত।

এরকমই সাংঘাতিক লাগে ইসকনের আয়ের উৎস জিজ্ঞেস করে ভক্তদের মিউমিউ উত্তর: জানেন, অনেক গরীব-দুখীরা শুধু ইসকনের কারণে তিনবেলা খেতে পারছে, গরীবদের জন্য এরা অনেক কিছু করছে...হেন তেন। (শুধু শুধুই কি আর বলি - হরে কৃষ্ণ হরে হরে, গাধারা সব ইসকন করে!) তো একজন বলল, স্টিভ জব পর্যন্ত ইসকনের প্রসাদ খেত (প্রমাণ হিসাবে ইসকনের লিঙ্কও দিল!); আর ঠিক তখনই বুঝলাম স্টিভ জবের ক্যান্সারটা কোথা থেকে হয়েছিল! 


(জাস্ট কিডিং, আমার কাছে প্রমাণ হিসেবে কোনো লিঙ্কটিঙ্ক নেই।)

এক জোড়া কার্টুন


অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: কৌস্তুভ, ধর্মকারী নয়

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ০২

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ) 

৬.
গান-বাদ্য শুনতে ভালো
ধর্মগুলো ধুনতে ভালো।

৭.
সেদিন এক ঈমান্দার লোক এসেছিল আমার বাসায়। কিছুক্ষণ গল্পগুজব করার পর সে আমাকে বললো:
- নামাজ পড়বো, একটু ব্যবস্থা করে দাও তো। 
আমি তাকে বললাম:
- আপনি অসভ্য অশ্লীলতা করবেন, আর আমি তার ব্যবস্থা করে দেবো? 
সে তাজ্জব হয়ে বললো: 
- কী সব বাজে বকছো? আমি নামাজ পড়বো। নামাজ হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম এবাদত। শুধুই আল্লার এবাদতের জন্য আল্লা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর তুমি বলছো, অসভ্যতা, অশালীনতা? তুমি আমাকে নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছ, জানো কত পাপের কাজ করেছ তুমি? 
আমি বললাম:
- আমি নিজের টাকায় মদ কিনে নিয়ে যদি আপনার বাসায় বসে খেতে চাই, আপনি আমাকে তা করতে দেবেন কি? 
সে মরুর বালির মত তেতে উঠে ঝাঁজালো কণ্ঠে বললো:
- আমার বাসায় আমি তোমাকে হারাম জিনিস খেতে দেবো? মদ খেতে দেব? 
আমি বললাম:
- আপনি নামাজের নামে আল্লাপাককে পাছা দেখাবেন, এটা কি অসভ্যতা নয়? আপনি আমাকে সামান্য একটা পানীয় পান করতে দেবেন না, আমি আপনাকে এমন অসভ্য কাজ কীভাবে করতে দেই আমার সামনে?

৮.
গরু হিন্দুদের মাতাপিতা, তাই ওরা গরুর মাংস খায় না। মুছলমানেরা শুয়োরের মাংস খায় না। বলেন তো দেখি, মুছলমানদের মাতাপিতা কে?

৯. 
অমুছলিম নারীরা সব সময়ই মুছলিমদের জন্য গনিমতের মাল। ওদের সম্ভোগ করা হালাল মুছলমানদের। নবীজির মা আমিনা ও নবীজির খালা, ফুফুরা সবাই অমুছলিম ছিল। ছহী ইছলাম অনুযায়ী তাই নবীজির মা খালা ফুফু এরা সবাইই মুছল্লিগণের জন্য হালাল গনিমতের মাল। অতএব হে মুছল্লি ভাইয়েরা, তোমরা সকলে মিলেমিশে নবীজির মা আমিনা ও নবীজির খালা ফুফু এইসকল গনিমতের মালদের আনলিমিটেড ভাবে সম্ভোগ, ভোগ ও উপভোগ করতে থাকো। এনজয়। তোমরা য়াল্ল্যার কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

১০.
মমিনা ও মমিন পরস্পরের মধ্যে খাদ্য-মাছি সম্পর্ক। মমিন নামক মাছিরা শুধু একটু ফাঁক-ফোঁকর খোঁজে মমিনা নামক খাদ্যদের খেয়ে ফেলতে। মমিনা নামক খাদ্যরা তাই নিজেদের আপাদমস্তক ময়লার মতো বস্তায় মুড়ে রাখে।

বেহেশতের গেটে ব্ল্যাকার




স্যাটানিক ভার্সেস: নবীর শিরক

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

মুমিনদের দাবি, আল্যা "সত্য অস্বীকারকারীদের" হৃদয়ে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন; তাদের দিলেও মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে তারা শিরক করেই অভ্যস্ত এবং তারা কাফির; আবার কিছু মানুষ শয়তানের প্ররোচনায়ও শিরক করে ও কাফির হয়, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি গুনাহ, কবিরা গুনাহ, যা আল্যা কখনই ক্ষমা করেন না। 

অথচ ইসলামের ইতিহাসই প্রমাণ যে, কথিত শয়তানের প্ররোচনায় ইসলামের নবী নিজেই একবার শিরক করেছিলেন:
ইসলামের প্রথম যুগে, মুহাম্মদ যখন ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন, তখন পৌত্তলিকদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কারণে সংখ্যালঘু মুসলমানেরা মক্কায় নানাভাবে নিগৃহীত হয়; এমনকি নব্য মুসলমানদের অনেকেই আবিসিনিয়ায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন নিজ নিজ প্রাণ বাঁচাতে। 
হতাশ, কাতর, বিষাদগ্রস্ত ও ম্রিয়মাণ মুহাম্মদ টিকে থাকার সংকল্পে মরিয়া হয়ে কাবায় দাঁড়িয়ে এক আপোষকামী আয়াত উচ্চারণ করেন, যাতে তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী আল্লাহ’র পাশাপাশি তার অপর তিন কন্যা লাত, উজ্জা এবং মানাতকে উপাস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেন; কোরানে এই তিন দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায় সুরা আন-নাজামে [৫৩/১৯-২২] 
নিজ নিজ ঈশ্বরের সম্মানসুচক এই ঘোষণা কুরাইশদের রাগ ও ক্ষোভকে প্রশমিত করে, যার ফলশ্রুতিতে তারা মুহাম্মদ ও মুসলমানদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 
আবিসিনিয়া ফেরত মুসলমানেরা অবাক বিস্ময়ে মুহাম্মদকে চেপে ধরে একেশ্বরবাদ থেকে সরে এই শিরক করার কারণ জানতে চাইলে মুহাম্মদ চরম শঠতার পরিচয় দিয়ে এই কৈফিয়ত দেন যে, শয়তান তার জিহ্বায় ভর করার কারনেই তিনি পূর্বোক্ত সুরাগুলো বলেছিলেন। 
পরবর্তীকালে জিব্রাইল নতুন করে “ওহী” নিয়ে আসে এবং শয়তানের আয়াতগুলো বাতিল ঘোষিত হয়; সুরা হজ্জ [২২/৫২-৫৩] -এ এই ভুল স্বীকার করা হয়েছে। 
প্রাসঙ্গিক ভাবেই যৌক্তিক প্রশ্নগুলো হচ্ছে:

১. স্যাটানিক ভার্সেস বা শয়তানের আয়াতগুলো যদি শিরকের পরিচয় বহন করে, তবে তবে কি মুহাম্মদও এক পর্যায়ে নবুয়ত থাকা সত্ত্বেও কাফিরে পরিণত হয়ে যাননি? 

২. এরকম আর কয়টি সুরা শয়তানের প্ররোচনায় নাজেল হয়েছিল? মুহাম্মদ যে আরও বারকয়েক শয়তানের খপ্পরে পড়েছিলেন, সে বিষয়ক সহি হাদিসও তো বর্তমান।

৩. কুরআনকে যারা অভ্রান্ত, অবিকৃত, লওহ মাহফুজে সংরক্ষিত এবং খোদ আল্লাহকে তার সংরক্ষক বলে মনে করেন, এই ঘটনাটি কি তাঁদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর নয়? 

৪. আল্যা কেন শিরককারী মুহাম্মদকে ক্ষমা করে তাঁরই নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলেন? তাঁর মানে কি তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি নিজেই ভঙ্গ করেন? তিনি কি তবে পক্ষপাতমূলক দ্বিচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ? তিনি কি তবে আস্থার যোগ্য নন? একবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তিনি আবারও যে তা করবেন না তার নিশ্চয়তা কি? 

৫. সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:

কোরআন বলে,
এ কিতাবের অবতরণ বিশ্বপালনকর্তার নিকট থেকে এতে কোন সন্দেহ নেই।
[সূরা সেজদাহ ৩২/২] 
বলুন: যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।
[সূরা বনী ইসরাঈল ১৭/৮৮]
এই দুইটি আয়াত কি এই ঘটনায় ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয় না? 

কারণ শয়তানের আয়াত বলে কথিত সেই আয়াতগুলো অপরাপর আয়াতের মতই একই ভাবে নাজেল হয়েছিল এবং অনুরূপ সুরা বলেই স্বীকৃত হয়েছিল।

বেদ্বীনবাণী - ২৬



২৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

কে বলে ইসলামে বিজ্ঞান নাই: স্বাস্থ্যবিদ্যা

লিখেছেন শান্তনু আদিব

আমাদের আলোচনার এই পর্বে কথা বলব স্বাস্থ্যবিদ্যা নিয়ে। কি করিলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না বরং ভালো হইবে তা শিখিব ইসলামের আলোকে। সাথে এও শিখিব কি করে ঘরে বসে কবিরাজি করা যায় তাও নিজে নিজে। এগুলো মেনে চলিলে আমাদের আর যেতে হবে না ইউনানি হেকিমি দাওয়াখানায়। তাহলে আমাদের আলোচনা শুরু করি বন্ধুরা...

তথ্য ১:
নামাযের সময় আকাশের দিকে চাইলে চোখ অন্ধ হয়ে যায়।
(Sahih Bukhari 1:12:717)
তাফসীর: কারণ আমাদের সালাত গ্রহণের জন্য আল্লাফাক নিজে আকাশে বসে থাকেন। আপনারা সবাই জানেন, আল্লার নুরের কী পাওয়ার। এই পাওয়ারে পাহাড় পুড়ে সুরমা হয়ে গিয়েছিল। সেই পাওয়ারের নুরের দিকে তাকাইলে আপনার চোখ কেমন করিয়া ভালো থাকিবে বলেন দেখি?

তথ্য ২:
জাগতিক জিনিসপত্রের প্রতি ভালবাসা থাকিলে আপনার চোখ অন্ধ হইতে পারে।
(Abu Dawud 41:5111)
তাফসীর: রাসুলকে ভুলে কেউ যদি জাগতিক জিনিসপত্রের দিকে ভালুবাসা দেখায়, আল্লা তখন কী করবে আপনাকে? আপনার ভালুবাসার জিনিস-এর দিকে আর তাকাতে না পারেন, তখন আল্লা রাগ করে চোখ কানা করে দেয়।

তথ্য ৩:
দোজখের ওমের কারণে জ্বর আসে।
(Sahih Bukhari 7:71:619)
তাফসীর: যখন কোনো মানুষের মনে পাপ বাসা বাধে, তখন আল্লাফাক রিমাইন্ডার হিসাবে দোজখের ওম জ্বররূপে শরীরে দিয়া দেন, আর বলিতে চান, হে বান্দা, তুমরা পাপ চিন্তা করিয়ো না। রাসুল (সঃ) অবশ্য সাথে এর নিদানও দিয়া দিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, জ্বর আসিলে পানি দিতে। এ ব্যাপারে নাস্তিকদের মেডিকেল সাইন্স ও জ্বরের সময় পানি দেবার কথা বলে।

তথ্য ৪:
মাসিকের কাপড়ে পানি দুষিত হয় না।
(Sahih Muslim 1:66)
তাফসীর:
নিশ্চয়ই নবী মহিলাদের দিয়েছেন সর্বোচ্চ সম্মান।

তথ্য ৫:
পানির বদলে মাটি অথবা ধুলো দিয়ে পবিত্র হওয়া যায়, মুসলমানেরা যাকে বলে তায়াম্মুম।
(Sahih Bukhari 1:7:334)
তাফসীর:
ধুলার অপর নাম জীবন। পানি দিয়ে শুচু করলে যেই ফলাফল পাইবেন, হাগুর পরে ধুলো দিয়ে শুচু করিলেও সেই একই ফলাফল পাইবেন।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৩২



ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ১০

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

৯১.
- সবাই ধর্মের ছায়াতলে আসার আহ্বান জানায়। ক্যান, ধর্মে কি রৈদ নাই? (জল্লাদ মিয়া)
- উহু, ছায়া নয়, সায়া, এবং সেটা একমাত্র ইসলামেরই আছে। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

৯২.
- ইছলামি জলসা আর স্টার জলসার মধ্যে পার্থক্য কী? (Mahmud Reza)
- সতীনের মতো। একসাথে দেখা যায় না। (Prabir Acharjee)

৯৩.
- হজ্জের সময় মুমিনরা মাথা ন্যাড়া করে কেন? (Shiji Sejuti)
- চুরি করলে যে কারণে মাথা ন্যাড়া কইরা দেয়! (ইমরান হাসান নীহার)

৯৪.
- কুরান ধরতে এবং পড়তে হলে অজু করতে হয়, তাই না? ছোটবেলায় একবার হুজুর আমার চামড়া তুলে ফেলছিলো ওজু না করে ভুলে কুরান ধরায়। যাহোক, যেটা বলতে চাই, আমি এখন অনলাইন কুরান পড়তেছি, আমার কম্পিউটারেও একটা কুরান সেইভ আছে, এই জন্য কি আমাকে ওজু করতে হবে? আর কম্পিউটারে সানি লিউনের কিছু অ্যাকশান ভিডিও আছে - একই ড্রাইভেই, শুধু ফোল্ডার ভিন্ন। এই জন্য আমি কী করতে পারি? সহি তরিকা কী? (তৌফিকুল আমিন হ্যাভেন)
- শফী খেজুরের পানিপড়া কম্পিউটারের উপর বিসমিল্লাহ বলে তিন বার ছিটান। তার পর বলগ দিয়া ইন্টারনেট চালান। (Abu Hena)

৯৫.
- আল্যায় সাকার, নাকি নিরাকার? ((দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- হুনছি, আল্যায় নিরাকার, তয় আরশে বসার জইন্ন তার পাছা আছে। (Saddam Hossain)
#
- sukcer! (Sohhan Agniveer)
#
- আল্যায় রাজাকার। (Jhony Jaman)

(এই প্রশ্নোত্তরটি 'আস্তিক vs নাস্তিক আয় না দেখি পারিস কেমন হেঁহেঁ' নামের পেইজ থেকে নেয়া)

৯৬.
- যা এখনো পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি, তাও কি কুরানে আছে? (Gouranga Malakar)
- হ্যাঁ, অবশ্যই আছে, তবে সেটা খুঁজে পাবেন শুধুমাত্র আবিষ্কার হওয়ার পরেই। (Neon Seven)

৯৭.
- আস্তিকরা যদি এই দুনিয়ায় নাস্তিকদের কল্লা কাটতে চায় , তাইলে আল্লায় আবার বিচার করবে কেমনে? (চিরন্তন সত্য)
- আস্তিকরা তো আর বিচার করে না, বিচারের সম্মুখীন করে মাত্র! (Mahmud Reza)
#
- নাস্তিক্কের বিচার করার জন্য আল্লা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছে আস্তিককে। (Shiji Sejuti)

৯৮. 
- ট্যাটু করা আর মেহেদী লাগানোর মধ্যে তফাত কী? ট্যাটু কেন হারাম, আর মেহেদী কেন হালাল? (সেক্যুলার ফ্রাইডে)
-  রজঃস্রাব হারাম। আর সেই রক্ত শরীরের ভিতর ধারণকারী নারী হালাল কেন? (অন্নপূর্ণা দেবী)
#
- ট্যাটু দুই ধরনের হইতে পারে - স্থায়ী আর অস্থায়ী। কিন্তু মেহেদী পুরাই অস্থায়ী। একমাত্র ঈমান ছাড়া স্থায়ী কিছু ধারণ করা এবং বিধর্মীদের চিহ্ন বহন করে, এমন সব কিছু পিছলামি মতে নিষিদ্ধ। (Mahmud Reza)

৯৯.
- কোরআনের বেহেশতের বর্ণনা আর চটির মাঝে পার্থক্য কী? (Neon Seven)
- একটা শরিয়তী চটি, অন্যটা রসময়গুপ্তের চটি। (ঈসামোঃ ব্যাসদেভ যুক্তিযুক্ত)

১০০.
- জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের সত্তর গুণ হবে| সেটা এতই ভয়াবহ যে, সে আগুনের রং হয়ে যাবে কালো! প্রশ্ন হইলো, কোন আগুনের ৭০ গুণ? কাঠের? বুনসেন বার্নারের? প্রাকৃতিক গ্যাসের? বিউটেনের? পেট্রোলের? নাকি অক্সি এসিটিলিন শিখার? উল্লেখ্য: কয়লার তাপমাত্রা ১৯০০ আর অক্সিজেন এসিটিলিন শিখার ৩৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তো কোনটার ৭০ গুণ? (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)
- যৌবনের আগুনের। (শাহরিয়ার কনক)

আগের পর্বগুলো:

চিত্রপঞ্চক - ১০৪


ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা উচিত নয়, তাই বাঙালি মুছলিমরা মাঝেমধ্যে মন্দির-মূর্তিতে আঘাত করে।
- দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর 'ফটো কনটেস্ট ২০১৪'-এর 'মানুষ' বিভাগে Honorable Mention পাওয়া ছবি। ভারতের অস্পৃশ্য হরিজন সম্প্রদায়ের লোকটির সারা শরীরে 'রাম' নামের উল্কি।

ফাকিস্তানে ইছলামীদের হামায় নিহত শিশুদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে পোস্টারে লেখা: "নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত ভারত, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ইনশাল্লাহ।

রাশিয়ার ছবি: "রাশিয়া যিশুর জন্য, যিশু রাশিয়ার জন্য" (পাঠিয়েছেন রাশিয়া-প্রবাসী মোকাম্মেল)

মধ্যরাতের ভিডিও - ০৪

১.
ফাক ক্রিসমাস। ক্রিসমাস শুরুর মুহূর্তে এই গানটির কথাই মনে আসছে সবচেয়ে বেশি। যতোবার শুনি, মনটা প্রফুল্লতর হয়ে ওঠে।

লিরিকস এমবেড করা আছে ভিডিওতে।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/FOg7aPNLLG0

২.
ক্রিসমাসের আইডিয়া ও উদযাপন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবেই খ্রিষ্টানদের চুরি করা। সংক্ষিপ্ত কাহিনী জেনে নিন।
http://youtu.be/rDckPDiotH4
(৪.২০ মিনিট)

৩.
বর্তমানে উপমহাদেশের মুছলিমদের ঊন-নবী জোকার নালায়েক অনেক আগে একবার বলেছিল, "প্রত্যেক মুছলিমের টেররিস্ট হওয়া উচিত।" কথাটা কিন্তু সত্যি। কোরান সঠিকভাবে মানলে টেররিস্ট না হওয়া সম্ভব নয়। যদি কেউ না দেখে থাকেন...
http://youtu.be/Bxk5AAA5FbI 
(০.৫৮ মিনিট)

৪.
"স্ত্রী হচ্ছে স্বামীর দাসী" - শিক্ষা দিচ্ছে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক।
http://youtu.be/5b1E1jvWGUs
(৫.১৭ মিনিট)

৫.
আইসিস-এর যোদ্ধাদের পচিয়ে বানানো ভিডিও। খুবই অপমানসূচক, তবু হাসি পেয়ে গেল দেখে।
http://youtu.be/JOaiP7ZbfbI
(১.০০ মিনিট)

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

কোরান কুইজ – ৫৩

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৬৩: ভিন্ন ধর্মানুসারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা কি উচিত?

১. না
২. হ্যাঁ

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

ক্রুশের ছবি – ১৪



আরও একটি ক্রুশের ছবি - অ্যাডাল্ট ও ব্ল্যাসফিমাস! খিয়াল কৈরা!

পাপ নামের আধ্যাত্মিক আবর্জনা

লিখেছেন ক্যাটম্যান

প্রায় সকল ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ মানব মন্ডলীকে নানা রকম বিষয়ে মুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে থাকেন। হিন্দুধর্মে পুনর্জন্মের একঘেয়ে চক্র থেকে মুক্তির প্রলোভন দেখানো হয়। খ্রিষ্টধর্মে যিশুর রক্তের বিনিময়ে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তির প্রলোভন দেখানো হয়। তেমনি ইসলাম ধর্মেও পাপ নামক এক প্রকার আধ্যাত্মিক আবর্জনা থেকে মুক্তির প্রলোভন দেখানো হয়। পাপ নামক এই আধ্যাত্মিক আবর্জনা প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীদের মাঝে নানামাত্রিক মুক্তির তাড়না সৃষ্টি করে থাকে। আধ্যাত্মিক মুক্তিপ্রাপ্তির মহাযজ্ঞে পাপ নামক আধ্যাত্মিক আবর্জনার ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মের প্রভুগণের স্বভাব-বৈশিষ্টে ভিন্নতা থাকলেও, আধ্যাত্মিক আবর্জনার যথাযথ ব্যবহারে কোনো ধর্ম ও ধর্মের প্রভুগণের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ স্বীয় ভক্ত, অনুসারীদের নিকট থেকে ভক্তি, পূজা ও ইবাদত পাওয়ার হীন উদ্দেশ্যে পাপ নামক এই আধ্যাত্মিক আবর্জনাকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। যেভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে মানুষ ও গবাদি পশুর মল-মূত্র থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়, তেমনি ধর্মের বায়োগ্যাসরূপী প্ল্যান্টে মানুষের পাপ নামক আধ্যাত্মিক বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে ভক্ত, অনুসারীদের মাঝে ভক্তি, পূজা, ইবাদতের ন্যায় বায়োগ্যাস উত্পাদন করে থাকেন ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ। 

প্রাথমিকভাবে মনে হতে, পারে ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ সকল আধ্যাত্মিক ধর্ম ও ধর্মের অনুসারীদের পরিচালনা করে থাকেন; বরং বাস্তবতা হলো, পাপ নামক আধ্যাত্মিক বর্জ্য এককভাবে সকল ধর্মের পরজীবী প্রভু ও মাথামোটা অনুসারীদের পরিচালনা করে থাকে। মূলত ধর্মের প্রাণ নিহিত আছে মানুষের পাপ নামক কাল্পনিক অথবা আধ্যাত্মিক বর্জ্যে। প্রায় সকল ধর্ম ও ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ মানুষের পাপ নামক আধ্যাত্মিক বর্জ্যের কল্যাণপুষ্ট । তাই ধর্মসমূহ ও ধর্মের পরজীবী প্রভুগণ মানুষের পাপমুক্তির বিষয়ে যতটা না আগ্রহী, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী মাথা মোটা মানুষের পাপকে চক্রবৃদ্ধি হারে ব্যবহারে। সে লক্ষ্যে মানুষের পাপমুক্তির ছদ্মাবরণে চলে পাপ চর্চার ধর্মীয় মহাসমারোহ। দিকে দিকে পাপচর্চা যত বৃদ্ধি পায়, ধর্মচর্চা তার সমান তালে বৃদ্ধি পায়। উল্টো করে বললে ধর্মচর্চা যত বৃদ্ধি পায়, পাপচর্চাও তত বৃদ্ধি পায়। ধর্ম ও পাপ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। 

ধর্মের ভগবানেশ্বরাল্লাহ পাপ নামক আধ্যাত্মিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে আধ্যাত্মিক রি-সাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করেছেন। আধ্যাত্মিক পাপ-বর্জ্য রি-সাইক্লিং প্ল্যান্টকে ধর্মভেদে জাহান্নাম, নরক বা হেল নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। ধর্মের প্রভুগণ ভক্তি, পূজা ও ইবাদতের বিনিময়ে ভক্ত, অনুসারীদের জাহান্নাম বা নরকের আযাব বা শাস্তি থেকে মুক্তি দেবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। 

তবে ধর্মসমূহ ও ধর্মের প্রভুগণের নিকট পাপ, পাপ থেকে মুক্তি ও পাপ জনিত নরকের শাস্তি থেকে মুক্তির বিষয়গুলো যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মানুষের নিকট পাপ ও মুক্তির চেয়েও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয় সব সময়। প্রশ্নটি হলো, যদি ভগবানেশ্বরাল্লাহ তাদের হীন বান্দা, দাস, চাকর, ভৃত্য, গোলাম, খোদ্দাম, ভক্ত ও অনুসারীদেরকে ধর্ম পালনের পুরস্কারস্বরূপ নরকের শাস্তি থেকে মুক্তি দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে থাকেন; তাহলে তাদের মতো মহান স্রষ্টাবৃন্দের মানুষরূপী হীন বান্দা সমূহকে প্রথমে বন্দী করল কে? কারণ মুক্তির প্রথম শর্ত বন্দিত্ব। অর্থাৎ ধর্মের প্রভুগণের বোকা বান্দাসমূহকে যিনি বা যাঁরা প্রথমে হীন বন্দিত্ব আরোপ করেছেন, সার্বিক বিবেচনায় তিনি বা তাঁরা হলেন প্রাথমিক সমস্যা সৃষ্টিকারী। আর যিনি বা যাঁরা সমস্যার আদি কারণ, তাঁকে বা তাঁদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় না তুলে মহান ভগবানেশ্বরাল্লাহ বোকা বান্দাসমূহকে বহুমাত্রিক বন্দিত্ব থেকে মুক্তির টোটকা দাওয়াই স্বরূপ ভক্তি, পূজা ও ইবাদতের মাধ্যমে ধর্ম পালনের হীন পরামর্শ দান করেছেন।

আর উক্ত প্রশ্নটির উত্তর যদি হয়, শয়তান বা আসুরিক কোন প্রতিপক্ষ ভগবানেশ্বরাল্লাহর বান্দাসমূহকে বহুমাত্রিক সীমায় বন্দী করেছে; সেক্ষেত্রে আমাদের জিজ্ঞাসা, স্রষ্টা হিসেবে প্রভুগণের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না? যে প্রভুগণ তাঁদের স্বীয় বান্দাসমূহকে শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে অপারগ, যে প্রভুগণ তাঁদের নালায়েক বান্দাসমূহকে শয়তান আরোপিত বন্দিত্ব থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন; তেমন অযোগ্য ভগবানেশ্বরাল্লাহর প্রতি বান্দার পক্ষ থেকে ভক্তি, পূজা ও ইবাদতের অর্ঘ্য নিবেদন করা উচিত হবে কি? যেহেতু অযোগ্য ভগবানেশ্বরাল্লাহর বোকা বান্দার প্রতি শয়তান বন্দিত্ব আরোপ করেছে, সেহেতু বোকা বান্দা সকলের উচিত হবে স্বীয় মুক্তির লক্ষ্যে পুরাতন মনিব ভগবানেশ্বরাল্লাহকে পাল্টে মাননীয় শয়তানকে নতুন মনিব হিসেবে গ্রহণ করা; আর ব্যর্থ ভগবানেশ্বরাল্লাহ প্রদত্ত মুক্তির টোটকা দাওয়াই বর্জন করে শয়তান প্রদত্ত স্বস্তির প্যারাসিটামল গ্রহণ করা ।

আর বান্দাকে বন্দিত্ব আরোপের বিষয়টি যদি স্বয়ং ভগবানেশ্বরাল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে; তাহলে বুঝতে হবে তামাশা করার হীন উদ্দেশ্যে হীন প্রভুগণ তাদের বোকা বান্দাসমূহকে পাপ-বর্জ্যের অথৈ সাগরে ফেলে পুনরায় তাদেরকে উদ্ধার করার মহৎ নাটক সাজিয়েছেন, যে-নাটক মানুষরূপী বান্দার জন্য বড্ড পীড়াদায়ক। তবে নাটকের এই ঘৃণ্য পর্বে অংশগ্রহণ না করে হীন তামাশাকারী ভগবানেশ্বরাল্লাহকে ঘৃণাভরে বর্জন করা আত্মবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে উচিত কর্তব্য নয় কি?

হা-হা-হাদিস – ১১৯

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing

http://www.nowdownload.ch/dl/da441c35c51a0

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

মডারেশনের ভালো যে-দিক

লিখেছেন আসিফ আল আজাদ

আরব ভূখণ্ড, আশেপাশের অঞ্চল, আরবি ভাষাভাষী ও অনান্য দেশের আরবি জানা মুসলিমদের থেকে আমাদের দেশীয় সাধারণ মুসলিমরা অনেক উন্নত মানসিকতার, অনেক বেশি মডারেট, অনেক বেশি আধুনিক ও অনেক বেশি মানবিক।

এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা প্রধান কারণ - আরবি না জানা, জানতে না চাওয়ার প্রবণতা। এর কৃতিত্ব অনেকটাই দিতে হবে সেইসব ওলি-আউলিয়াদেরই, যারা (মুলত পারস্য থেকে) এই উপমহাদেশে ইসলামকে এনেছিল। তাদের প্রচারিত ইসলাম আর আরবের মূল ইসলামের মধ্যে ছিল (এবং এখনও আছে) আকাশ-পাতাল ব্যবধান। এই উপমহাদেশের জনগণ আরবি জেনে, কুরান-হাদিস পড়ে বা ইসলামি কিছু জেনে মুসলিম হয়নি (এবং এখনও জানতে চায় না); এরা মুসলিম হয়েছে ঐসব ওলি-আওলিয়াদের ব্যক্তিত্ব দেখে, কর্মকাণ্ড দেখে। এছাড়া আরো অনেক কারণ আছে। যেমন, একটা উদাহরন দেওয়া যায়: তাদের ইসলামে গান-বাজনা হারাম ছিল না, বরং হিন্দু ও স্থানীয় ধার্মিকদের আকর্ষণ করতে তাদের প্রার্থনার রীতি অনুযায়ী গান-বাজনা ছিল, যা এখনও শুধুমাত্র এই উপমহাদেশের বিভিন্ন মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যেই কেবল দেখা যায়।

ইসলামের জন্ম থেকে প্রসারের ইতিহাস যুদ্ধে ভরা, জিহাদে ভরা (খ্রিষ্টানদেরও তাই, বরং আরো বেশি); কিন্তু এই উপমহাদেশে ইসলাম কিন্তু যুদ্ধের মাধ্যমে প্রচার প্রসার হয়নি, হয়েছে সম্পূর্ণ অন্যভাবে, যা অনেকেই জানেন, এ বিষয়ে নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তারা ইসলামকে তাদের মত করে এই উপমহাদেশে না আনলে হয়তো স্বাভাবিকভাবেই অর্থাৎ জিহাদের মাধ্যমে বা ঐ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই এখানে ইসলাম আসতো, অথবা আমরা এখানকার আদি ধর্মগুলো নিয়েই থাকতাম বা খ্রিষ্টান আগ্রাসনের কারণে খ্রিষ্টান হয়ে যেতাম।

এখানে ওলি-আউলিয়াদের ইসলাম আসার পর খুব বেশিদিন হয়নি, এখন আরবি ভাষা মাদ্রাসায় ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। তারপরেও এটা শুধুমাত্র মাদ্রাসাগুলোতেই। মাদ্রাসার আরবি জানা ছাত্রদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার আর কতইবা! জামাত-শিবিরের উত্থানও খুব বেশি আগের কথা নয়।

এখন জরিপ করলে দেখা যাবে, এ দেশে যত জঙ্গি তৈরি হয় এবং জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে, তার ৯৮% ই মাদ্রাসা থেকে তৈরি অথবা জামাত-শিবিরের। কোনো জঙ্গী হামলা, মানুষ মরলে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটলে সাধারণ জনগণ অর্থাৎ সাধারণ মুসলিমদের প্রায় সবাইই সমস্বরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন, "ইহা সহি ইসলাম নয়।"

গুড। আসলেই, ইহা ওলি-আউলিয়াদের সহি ইসলাম নয়, যে-ইসলামকে দেখে আমাদের পূর্বপুরুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং আমাদের ইসলাম সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিল। এই মডারেশন বা পরিবর্তিত চিন্তাধারা নিঃসন্দেহে ভাল। ওলি-আউলিয়াদের ইসলামে সামান্য যেটুকু আপত্তিকর বিষয়গুলো ছিল, যেমন মোঘল আমলে জুম্মার নামাজের পর মোনাজাতে শত্রুর বিরুদ্ধে অভিশাপ দেওয়া হত, এই বিষয়গুলো এখন অনেকটাই কম। শিক্ষার কারণে এবং আরো অনেক কারনেই মানুষের মানবিকতা আগের থেকে উন্নত হচ্ছে।

একটু লক্ষ্য করলে খুব ভাল করে বোঝা যাবে যে, বর্তমানে ছোট্ট একটা গোষ্ঠীই মূল ইসলামের পথে এগোচ্ছে। মাদ্রাসায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরবি জেনে, বুঝে, শিখে, কোরান-হাদিস শিক্ষা করেই তারা সঠিক ইসলামের দিকে এগোচ্ছে। আর আরবি ও মূল ইসলাম না জেনে না বুঝে মডারেট মুসলিমরা তাদের বিরোধিতা করছে। বলছে, "ইহা সহি ইসলাম নয়।"

একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, ইসলামের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মনীষী/বিজ্ঞানীর জন্ম হয়েছে যাদের প্রায় সবাই ইরানের এবং ৭৫০ থেকে ১১০০ সালের মধ্যে। তার মধ্যে ইবনে সিনা ও আল রাজি প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বেঁচেছিল। অন্যদের অবস্থাও খুব একটা ভাল ছিল না। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালামকে অমুসলিম ঘোষণা করে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করেছিল পাকিস্তানের সরকার। মক্কা-মদীনায় কোনো বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক তৈরি হয়নি, আর হবে বলেও কোনো সম্ভাবনা নেই। ইসলাম আর জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি ধারা। খ্রিষ্টান সমাজে যে সমস্যা সব থেকে ভয়াবহ ছিল, তারা তা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে গেছে বলতে হয়, আর সেখানে ইসলাম বারবার মোড় নিচ্ছে পেছনের দিকে। বর্তমানে মডারেশন যেটুকু আছে (অনেকটাই আছে) সেটাই একমাত্র ভরসা। এইটুকু না থাকলে হয়তো মুসলিমদের একেবারে আদিম অবস্থাতেই থাকতে হত। সবাইই হতো জঙ্গি বা জঙ্গিদের সমর্থক।

জয় মডারেশনের জয়।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১০১

ভারতীয় বিতর্কিত গুরু রামদেবকে সরকারের পক্ষ থেকে Z শ্রেণীর নিরাপত্তা (অর্থাৎ ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী ও একটি গাড়ি) দেয়া হয়েছে, ফলে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে, ভগবান-টগবান রক্ষাকর্তা আসলে নয়।


বিধাতার নির্বুদ্ধিতা

লিখেছেন তানজিমা আহসান তুলি

Deconstruction Theory বা বিনির্মাণ তত্ত্বের আলোকে ধর্মগ্রন্থের বাক্যগুলি মধ্যযুগীয়। এসবের গঠন দুর্বল। এগুলিকে লিঙ্গুইস্টিকে বলে "উইক টেক্সট"; মানে একাধিক ব্যাখ্যা হতে পারে। মানবিকেরা মানুষের মতন, অমানুষেরা অমানুষের মতন ব্যখ্যা করবে ।এই "ডিকনস্ট্রাকশন"-জনিত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মকে মানবিক বা যুগোপযোগী করে তোলার চেষ্টাকে বলে “উইক থিওলজি” বা “দুর্বল ধর্মতত্ত্ব”। 

এজন্য দেখা যায়, ইউরোপের ইংরেজি ভার্শনের কুরান অনুবাদে তুলনামূলক উদার শব্দচয়ন করা হয়। বাংলা অনুবাদে আরবির সাথে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি বা মান্দারিন যা-ই হোক না কেন, ব্যাখ্যা একই। জাকির নায়েকের মত ধর্মব্যবসায়ীরা এই সুযোগটা মোক্ষমভাবে কাজে লাগায়! ধর্ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব "জোকার নায়কদের" কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে সারা বিশ্বে।

ফলে ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করাটা খুব ভয়ংকর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। যেমনটা ঘটছে পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে, সিরিয়ায়। কারো মতে এটা ধর্মসম্মত, আর কারো মতে - ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা।

আল্লা বা ঈশ্বরকে যতোই বুদ্ধিমান দাবি করা হোক না কেন, একটি গ্রন্থের মধ্যে দিয়ে তার বক্তব্যকে পৃথিবীতে পাঠানোর মতন বোকামী আর হতে পারে না! কারণ সেই বইয়ের হাজার হাজার ভাবার্থ হতে পারে, ফলে আল্লা বা ঈশ্বর ঠিক কী চাইছেন, তা কোনোদিনই জানা সম্ভব না। অর্থাৎ হীরক রাজার দেশের অবস্থা – "ব্যাখ্যার কোনো শেষ নাই > ব্যাখ্যার চেষ্টা বৃথা তাই"।

সুতরাং একজন চোর, ডাকাত, মাস্টারমশাই, ব্যবসায়ী, যোদ্ধা একই বই পড়লেও এদের কাছে কোরানের ব্যাখ্যা হবে আলাদা। মোদ্দা কথা, ১৫০০ মিলিয়ন মুসলিম কোরান পড়ে ১৫০০ মিলিয়ন ব্যাখ্যা তুলে নিয়ে আসতে পারে, যার অনেকগুলিই পরস্পরবিরোধী হবে, কিছু মিলও থাকবে। এবং সেটাই বাস্তব।

আল্লা বা ঈশ্বর বুদ্ধিমান হলে বইয়ের মাধ্যমে ইনস্ট্রাকশন পাঠানোর মত মানবীয় স্থূল জ্ঞানের কাজটি করতেন না। তিনি তো সৃষ্টির মা-বাপ। একদম মানুষের মস্তিস্কের মধ্যে কোরানটাকে জেনেটিক্যালি ওয়ারড করে পাঠিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যেত! 

আল্লা কী চান? তার আইনের সাম্রাজ্য? সেটা তো মানুষের জেনেটিক কোডে ঢুকিয়ে দিলেই অনায়াসেই হয়ে যেত! তিনিই তো মানুষ তৈরি করেছেন! অথচ জেনেটিক কোড ব্যবহার না করে বইয়ের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা বা আইনের কথা জানানোর মতো গাধামো কেন তিনি করলেন, তা সত্যই খুব গোলমেলে! 

একবার ভেবে দেখুন। একটি প্রতিষ্ঠিত আইনেরও হাজার ব্যাখ্যা হয় - আইন-বাক্যটি কিন্ত বদলায় না। যেমন, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধী আইনের কথা বলা যায়: আইন একই, কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে আলাদা ব্যাখ্যা। সুতরাং কিছু আইন সংকলন করে ছেড়ে দিলেই আইনের সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয় না, সামাজিক বিবর্তনের সাথে সাথে সেই একই আইনের ব্যাখ্যাও বদলে যায়। 

সুতরাং একটি গ্রন্থের মাধ্যমে সর্বকালীন সার্বজনীন একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠার করার ধারণাটাই ডাঁহা ভুল। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর বা আল্লার যদি সত্যিই অস্তিত্ব থাকত, ধর্মরাজ্য বানাতে ধর্মগ্রন্থ বাজারে ছাড়ার মতন বোকামি তিনি করতেন না। জেনেটিক কোডে সামান্য রদ-বদল করে তিনি তার ধর্ম রাজ্য বানাতে পারতেন! ধর্মগ্রন্থ বাজারে ছেড়ে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার খোয়াব আসলে মানবিক ক্রিয়া-কলাপ। এ কারণে ধর্মের ব্যাখ্যামূলক বিতর্কগুলি অর্থহীন জঞ্জালের সৃষ্টি করছে। কারণ কোনো ব্যাখ্যাই আসলে কোনো না কোনোভাবে বেঠিক না। কারণ ওই রকম দুর্বল বাক্যের একটি মাত্র ভাবার্থ থাকতে পারে না।

সুতরাং যারা কোরানে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ড এবং নৃশংসতা পাচ্ছে, তারাও যেমন ঠিক, আবার যারা ফুল-ফলের শোভিত গন্ধ পাচ্ছে, তারাও ঠিক।

অথচ দেখুন, বিজ্ঞানের ভাষা হয় একক ব্যাখ্যার। ভিন্ন ব্যাখ্যার কোনো সুযোগই নেই। তবুও কেউ যদি কোরানে বিজ্ঞান আছে বলে গর্বিত বা খুুশি হয়, তাতে কী যায় আসে।

মোদ্দা কথা, আল্লা নিজের ভেলকি বা কেরামতি দেখাতে চাইলে মানুষের জেনেটিক কোডেই সেটার ব্যবস্থা করতে পারতেন - বইয়ের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টাটা আমাদের মতন নশ্বর মানুষের কাজ!

ভালো তালিবান খারাপ তালিবান


আগে প্রকাশিত প্রায় প্রাসঙ্গিক আরেকটি কার্টুন:


২২ ডিসেম্বর, ২০১৪

নাস্তিকীয় ওহী

লিখেছেন জল্লাদ মিয়া

১.
ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়েছে - ঈশ্বর আছে। তাই মুক্তচিন্তা করার সময়ও অনেকের মনে হয়, ঈশ্বর থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। 

২.
হিন্দু ধর্মের কৃষ্ণ আর রাধার সাথে কুকুরের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে। তারা যত্রতত্র রতিক্রিয়া সম্পাদন করত!

৩.
এদেশের মানুষ বাংলাদেশকে মাতৃভূমি এবং বাংলাকে মাতৃভাষা বললেও ইসলামকে মাতৃধর্ম বলে না।

৪. 
কোনো আস্তিকের দ্বারাই কোনো বিষয়কে নিরপেক্ষভাবে বিচার করা সম্ভব নয়। ধর্মবাণীকেই নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে গেলে যে কেউ নাস্তিক বনে যাবে।

৫.
সকল ধর্মই অগণতান্ত্রিক। কোনো ধর্মই অন্য ধর্ম তথা ভিন্নমতকে সমর্থন করে না।

ইছলামী ইতরামি: শিশুরাও জিহাদে

ইছলামী জঙ্গিরা শিশু-কিশোরদের ছোট বলে অবহেলা করে না মোটেও, এবং করে না বৈষম্যমূলক আচরণও। প্রাপ্তবয়স্কদের তারা যেভাবে হত্যা করে, শিশু-কিশোরদের বেলায়ও সেটার ব্যত্যয় হয় না। তারপর দেখুন, জিহাদের পথে এসে যুদ্ধ করবে শুধু বড়োরা? তা কেন! সেই সুযোগ থেকে শিশু-কিশোরদের বঞ্চিত করা কি উচিত? না, সেটা করেও না ইছলামী জঙ্গিরা। তারা নানান কৌশলে শিশু-কিশোরদের নিয়ে আসে জিহাদের পথে, তাদেরকে ব্যবহার করে যুদ্ধে, রণক্ষেত্রে, আত্মঘাতী বোমা হামলায়। 

এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট, ভিডিও ও ছবি:

১.
তালিবানরা কীভাবে শিশু-কিশোরদের গড়ে তোলে আত্মঘাতী বোমারু হিসেবে, সে বিষয়ে বিবিসি-র বিশদ রিপোর্ট


২.
সিরিয়ার আর ইরাকে যুদ্ধ করার জন্য আইসিস শিশু-কিশোরদের প্রলুব্ধ করে কী উপায়ে, তার বিস্তারিত কাহিনী এখানে


৩.
আল কায়েদাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন! তারা এমনকি চার বছরের শিশুকেও গুলি চালানোর শিক্ষা দেয়। শিশুযোদ্ধাদের কাহিনী পড়ুন।

৪. 
আইসিস শিশুদের গড়ে তুলছে জিহাদী হিসেবে।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/sLXJeAVPRG4

৫. 
মগজধোলাই বা ঘুষ দিয়ে কাজ না হলে অপহরণ - এই হচ্ছে আরেক ইছলামী জঙ্গিদল আল শাবাব-এর শিশুযোদ্ধা নিয়োগ-পদ্ধতি।


৬.
বোকো হারাম (মতান্তরে বোকাচোদা হারামজাদা) নামের ইছলামী জঙ্গিদল শিশুদের ব্যবহার করে শুধু গুপ্তচর হিসেবেই নয়, অনেক সহিংস কাজেও।


৭.
বিশেষ যুদ্ধশিক্ষা ক্যাম্পে যোগ দিতে শিশুদের প্রলুব্ধ করে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেয় ইছলামিক স্টেট। 

৮.
যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দুই কিশোরের জবানবন্দি হিউম্যান রাইট ওয়াচ-এর ভিডিওতে।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/yUN2g-T-Oog

৯.
কোরান পাঠ থেকে শুরু করে যুদ্ধ - সবকিছু শেখার ব্যবস্থা রেখেছে আইসিস। একটি বিস্তারিত রিপোর্ট


১০.
ছয় বছর বয়সী শিশুদেরও ইছলামীরা দিচ্ছে আত্মঘাতী বোমারু হবার প্রশিক্ষণ। অন্যদের ব্যবহার করছে মানবঢাল হিসেবে।

১১.
শরিয়াসম্মতভাবে শিরশ্ছেদ করার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ছয় বছর বয়সী শিশুদেরও। এছাড়া কালাশনিকভ চালানোর প্রশিক্ষণ তো আছেই।


১২.
আইসিস-এর পক্ষে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থনকারী রুশ মুছলিমরা একেবারেই শিশুদের মগজধোলাই করছে নানান প্রক্রিয়ায়, কিশোরদের হাতে-কলমে ধারণা দিচ্ছে অস্ত্র সম্পর্কে। ভিডিওটি রুশ ভাষায় হলেও ঘটনা বুঝে উঠতে অসুবিধে হয় না।

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/4VHgaKtmm1c

১৩.
ইছলামী জিহাদীরা আইসক্রিম ও খেলনার প্রলোভন দেখিয়ে হত্যাশিক্ষা দিচ্ছে শিশুদের। তিন বছর বয়সী শিশু বলতে শিখছে: "কাফের? তাহলে আমি বলছি, তাদের হত্যা করা হবে।"