৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

'ঈদ-উল-পূজহা'-র শুভেচ্ছা

শিশুকামী-নবীর অনুসারী ও গরুপূজারিদের জন্য ধর্মকারীর পক্ষ থেকে ঈদ-উল-পূজহা-র শুভেচ্ছা।

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৪১

লিখেছেন ওয়াশিকুর বাবু

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ৮১:
ইসলামের তথাকথিত ভালো দিকগুলো নিয়ে গলাবাজি করলেও প্রয়োগের ব্যাপারে মোল্লাদের আগ্রহ নেই। যেমন, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে মেয়ে সন্তানের অধিকার ছেলে সন্তানের অর্ধেক হলেও আমাদের দেশে তা তেমন মানা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের বঞ্চিত করা হয়। অথচ এ নিয়ে কারো উচ্চবাচ্য নেই।

দাঁতভাঙা জবাব:
আলেমদের দায়িত্ব হলো ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। তাঁরা তা করেছেন। কোনো মুসলিম যদি তা না মানেন তাহলে আলেমরা কী করতে পারেন? ইসলাম জোর জবরদস্তির ধর্ম নয়।


কটূক্তি ৮২:
হিল্লা বিয়ে, দোররা, পর্দা, মুরতাদ ঘোষণা এসব নিয়ে মোল্লারা এমন বাড়াবাড়ি করে কেন? তারা যা বলার বলেছে। যার ইচ্ছে পালন করবে, যার ইচ্ছে নেই পালন করবে না। মানুষের স্বাধীনতায় কেন হস্তক্ষেপ করা?

দাঁত ভাঙা জবাব:
দেখুন, ইসলাম কোন স্বেচ্ছাতারিতার ধর্ম নয় যে, যেভাবে ইচ্ছে চলা যাবে। অবশ্যই প্রত্যেককে ইসলামী নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে; না চললে তাকে বাধ্য করতে হবে। আলেমদের এখতিয়ার আছে প্রত্যেককে বাধ্য করা।

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

ক্বাবা: ইছলামী পূজামণ্ডপ - ০২


বানিয়েছেন ছাগলনাইয়ার বনলতা সেন




২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নবীজির ভাওতাবাজি

লিখেছেন নাঈমূল ইসলাম সজীব

মোহাম্মদের ইসলাম ধর্মের মূল কথা – আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় তার কোনো শরিক নেই। এখন দেখা যাক, মোহাম্মদ আপাতঃ এ কথা বলে সূক্ষ্মভাবে কী প্রচার করে গেছেন। 

কোরানে আছে:
বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
(সূরা আল-ইমরান, ০৩: ৩১)
বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।
(সূরা আল – ইমরান, ০৩: ৩২)
আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।
(সূরা আল – ইমরান, ০৩: ১৩২)
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যদি কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
(সূরা নিসা, ০৪: ১৩)
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
(সূরা নিসা, ০৪: ৫৯)
আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।
(সূরা নিসা, ০৪: ৬৯)
এরকম বহু আয়াতে একই কথা বলা হয়েছে। তা হলো – আল্লাহ ও তার রসুলের আনুগত্য কর। কিন্তু বাস্তবে রসুলের হুকুমই পালনই যে আল্লাহর হুকুম পালন, তার চুড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা যায় নিচের আয়াতে:
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল।
(সূরা নিসা, ০৪: ৮০)
এভাবে কোরানের বাণীর নামে মোহাম্মদ নিজেকে আল্লাহর আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।আল্লাহর বাণীর নামে নিজের বাণী প্রচার করে গেছেন ২৩ টি বছর। পৌত্তলিক ধর্মের পরিবর্তে একেশ্বরবাদী ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে পৌত্তলিকদের বহু আচার অনুষ্ঠান ইসলামে আমদানী করেছেন। যেমন,  কাবার ভিতরে অবস্থিত কাল পাথরের সামনে মাথা নত করে চুমু খাওয়া, হজ্জ করা, সাফা মারওয়ার পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করা, কাবা শরীফের চারপাশে সাতবার ঘোরা এসব। 

এর সবগুলিই ছিল পৌত্তলিকদের প্রথা ও আচার। প্রথমেই কাল পাথর বা হযরে আসওয়াদ নিয়ে কথা বলা যাক। 
ইবনে আব্বাস বর্ণিত নবী বলেছেন:
“কাল পাথর বেহেস্ত থেকে পতিত হয়েছে।যখন প্রথম দুনিয়াতে এটা পতিত হয় তখন এর রং ছিল দুধের মত সাদা কিন্তু আদম সন্তানদের পাপ গ্রহণ করার ফলে এর রং কাল হয়ে গেছে।”
(তিরমিজি, হাদিস- ৮৭৭)
ইবনে ওমর নবী কে বলতে শুনেছেন, 
“কাল পাথর ও আর রুখ আল ইয়ামানি-কে স্পর্শ করলে পাপ মোচন হয়।
(তিরমিজি, হাদিস-৯৫৯)
অথচ পাপ মোচনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে, কোনো পাথরের হাতে নয়। যা কোরানে পরিষ্কার বলা আছে। যেমন:
বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর এবাদত কর যে, তোমাদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? অথচ আল্লাহ সব শুনেন ও জানেন।
(সূরা মায়েদা-৫:৭৬)


বুজেন তাইলে!

কোরবানি স্পেশাল - ০১

কোরবানির বর্বরতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে গেলেই কিছু নির্মগজ প্রাণী প্রশ্ন তোলে: "আপনে তো ঠিকই মাংস খান, তাইলে কোরবানি নিয়া আপনার এতো চুলকানি ক্যান?" 

সত্যি বলতে, খাদ্যের অনিবার্য প্রয়োজনে লোকচক্ষুর আড়ালে নির্ধারিত কোনও স্থানে পশুবধ করা আর উৎসবের নামে এক দিনে পথে-ঘাটে-মাঠে লোকজনের (বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের) সামনে লক্ষ লক্ষ পশু জবাই করার পার্থক্য যারা বোঝে না, তাদের সি.টি.এন। 

বানিয়েছেন অবর্ণন রাইমস

বানিয়েছেন দিগম্বর পয়গম্বর

কাটামুণ্ডু বিষয়ে মা কালীর সংবাদ সম্মেলন

লিখেছেন নিলয় নীল

গত বেশ কয়েকদিন ধরে কাটামুণ্ডু নিয়ে সেলফি তুলে বিখ্যাত হয়ে গেছেন বেশ কিছু ইসলামী জঙ্গি। এই বিষয়ে স্বর্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করলেন মা কালী। মুসলিম নির্বোধগুলো তাকে অনুসরণ করছে দেখে মা কালী ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত হয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে মা কালী বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে আমার অনুসরণকারী না হয়েও আমাকে অনুসরণ করে বেশ কিছু স্লেচ্ছ, যবন মুসলিম কাটামুণ্ডু হাতে নিয়ে সেলফি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। হাজার হাজার বছর আগে আমিই প্রথম এই ধরনের সেলফি তুলেছিলাম, আর আজ আমাকে অনুসরণ করে মুমিনরা এই কাজ করছে, কিন্তু আমাকে কোনো কারটেসি না দিয়েই। কতো বড় সাহস তাদের! 


মা কালী বলেন, তাদের সেলফি আমার মতো আকর্ষণীয় ছিলো না, কারণ আমার গলায় কাটামুণ্ডু দিয়ে গাঁথা মালা ছিলো। তাছাড়া পোশাকের দিক দিয়ে আমি ছিলাম একেবারেই উন্মুক্ত আর খোলামেলা, অন্যদিকে তারা জামাকাপড় পরে সেলফি তুলছে। শুধু পোশাক পরেই নয়, এমনকি মুখ ঢেকেও অনেকে সেলফি তুলছেন। মুখ ঢেকে সেলফি তোলার সার্থকতা কোথায়, তিনি উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্ন করেন।

পোশাক পরা আপনাকে ভক্তদের পুজা করতে দেখা যায়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মা কালী বলেন, “ওরা ভক্ত নয়, ওরা ভণ্ড। আমি কখনোই পোশাক পরতে অভ্যস্ত ছিলাম না। প্রকৃতপক্ষে আমি ছিলাম আধুনিক ন্যুডিজমের আলোকবর্তিকা। কিন্তু যেহেতু আমি সর্বজ্ঞ, তাই বুঝতে পারি, ওরা আমাকে পোশাক না পরিয়ে আরাধনা করতে স্বস্তিবোধ করে না, আরাধনার চেয়ে বরং গোপন অভিসন্ধিই তাদের মধ্যে কাজ করে বেশি। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই পোশাক পরায়, তা মেনেও নেই। আবার অনেকে পোশাক না পরিয়েই করে, তাও মেনে নেই। কী করে? সাংবাদিকদের এমন অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তরে মা কালী বলেন, আমি আরাধনা করে সেটিই বুঝিয়েছি। 

মা কালী নিজেকে নারীবাদের পথপ্রদর্শক দাবী করে বলেন, আজকাল অনেকেই দেখি নব্য নারীবাদী হয়েছেন, কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে “স্ত্রীর পায়ের নিচে স্বামীর অবস্থান” তা আমিই প্রথম প্রমাণ করেছিলাম। এটা তৎকালীন সময়ে সহজ কোনো কাজ ছিলো না, তাই জিভ বের করে বিশাল একটা ভুল করেছি এমন একটা ভাব করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে জিভ বের করে আমি তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে ভেঙচি কেটেছিলাম। 

মা কালী উপস্থিত সভাসদদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, যারা কাটামুণ্ড দিয়ে সেলফি তুলে টুইট করেছে, তারা কি আমার থেকেও জনপ্রিয়? আমাকে কোটি কোটি মানুষ এখনো এই সেলফিতে মা মা বলে আরাধনা করে আর তাদেরকে নিন্দা করে। মানুষের কাছে তারা হলো জঙ্গি আর আমি হলাম মমতাময়ী মা।

ক্বাবা: ইছলামী পূজামণ্ডপ - ০১

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম





নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ১০৯

লিখেছেন কবীর উদ্দীন

৫৪১.
য়াব্রাহামিক ধর্মগুলির য়াব্বা ইব্রাহিম আঃ ছাগল চুরিতে ধরা পড়ে বলল, য়াল্যা তাকে তার ছেলেকে জবাই করে দিতে বলেছে।
- কী রে হারামজাদা ছাগল চোর! তোর য়াল্ল্যা তোকে তোর ছেলে জবাই করতে বললে তা না ক'রে অন্যের ছাগল চুরি ক'রে জবাই করলি কেন?

৫৪২.
মহাবদ ও আলি ছিল চাচাতভাই। আলি মহাবদকে ডাকতো বদভাই। 
ফাতেমা ছিল বদের মেয়ে, আলির ভাতিজি। ফাতেমা আলিকে ডাকতো আলিকাকা, বদকে ডাকতো বদাব্বা। 
আলি ও মহাবদ ফাতেমাকে ডাকতো মা-ফাতেমা। 
আবু তালেব ছিল আলির বাবা, মহাবদের কাকা, ফাতেমার দাদু। 
আবদুল্লাহ ও আমিনা ছিল মহাবদের বাবা-মা। আলি তাদের ডাকতো জ্যাঠা ও জ্যাঠি, ফাতেমা ডাকতো দাদা-দাদী। 
কিন্তু ফাতেমার সাথে আলির বিয়ের পর...
মহাবদ ও আলি হয়ে গেল পরস্পরের শ্বশুর-জামাই। 
ফাতেমা হয়ে গেল মহাবদের ভাবী, আলির বিবি। 
আলিকে এবার সে ডাকতে শুরু করলো স্বামীজি, বদকে ডাকতে শুরু করলো বদ-ভাসুর। 
আবু তালেব আলির আব্বা থেকে হয়ে গেল দাদা-শ্বশুর। 
নিজের বাপকে আলি ডাকতে লাগলো দাদুভাই, ফাতেমাকে মা থেকে জানু। 
আব্দুল্লাহ ও আমিনা মহাবদের বাপ-মা থেকে হয়ে গেল বেহাই-বেহান, এবং ফাতেমার আপন দাদা-দাদী থেকে হয়ে গেল জ্যাঠাশ্বশুর ও জ্যাঠিশাশুড়ি।

৫৪৩.
নবী বোরাকের পিঠে চড়ে মিরাজে গিয়েছিল। এটা নাকি অলৌকিক ব্যাপার। অলৌকিকের কী হলো এতে! আমিও তো মিরাজে গিয়েছি গরুর পিঠে চড়ে।

৫৪৪.
- য়াল্যার আকার নেই কেন?
- য়াল্যা সবকিছু বানিয়েছে। যেমন, মাটি দিয়ে মানুষ বানিয়েছে, আগুন দিয়ে জ্বিন বানিয়েছে, পানি দিয়ে পশু বানিয়েছে। তবে সবার আগে সে নিজেকে নিজে বানিয়েছে। সে নিজেকে নিজে বানানোর সময় নিজেকে বানানোর জন্য কোনো উপকরণ ছিল না। কারণ তার আগে আর কিছুই সে বানায়নি। তাই সে নিজেকে 'কিছু না' দিয়ে বানিয়েছে অগত্যা। যে 'কিছুই না' দ্বারা তৈরি, তার আকার থাকবে কীভাবে?

৫৪৫.
যারা খেতে পায় তাদের রিজিকের মালিক আল্যা। যারা অনাহারে মারা যায়, তাদের রিজিকের মালিক কিন্তু তিনি নন। নাফরমানরা সবক্ষেত্রে খালি আল্যাকে দোষারোপ করে।

ধর্মানুনুভূতি আহত হয়, কিন্তু কেন যে মরে না!



২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

হে মুসলিম আফুরা

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

তোমাদের লই খুব গবির ষড়জন্ত্র চইলতেছে মুসলিম আফুরা। তোমরা হয়তো লক্ষ্য কারাসো যে, ইদানিং নাস্তিকেরা ব্লগ ফেচবুকে তোমাদের উসকানি দেয়ার চেস্টা কইরতেছে। 

অরা তুমাদেরকে তোমাদের স্বাধিনতা অর্জন কইরতে বাদ্য কইরতেছে। 

ওরা চায়, তুমরা তুমাদের যোগ্যতা দিয়া স্বাধিনতা অর্জন করি লও। 

অরা সায় তুমরা ফুরুষের সমান সমান হই যাও, আল্লার বানীর বিরুদিতা করো।

অরা সায় তুমরা আল্লাপাকের রাস্তা সেরে নাস্তিক্যবাদের পত অনুসরন করো।

কারন তুমরা নাস্তিক হই গেলে তো ইসলামের বড় স্তম্ভই ভাঙি যাবে।

কারন যুগ যুগ ধরি ইসলাম ও মুসলিম ফুরুষেরা যেভাবে তুমাদের পুষা নারী বানিয়েছে, তা থেকে যদি তুমরা মুক্ত হইয়ে যাও, তাইলে আমাদের মতন হুজুর মুয়াজ্জিনেরা শষ্যক্ষেত্রের অভাবে এমনিতেই বিলুফত হই যাবে। তখন পেত্তিবিতে খাটি মুসলিম জন্ম দেবে কারা?

যদি তুমরা স্বাধিন ভাবে ফুরুষের মত চাকরি-ব্যবসা করো এবং আধুনিক হই যাও, তাইলে আমাদের মত হুজুর মোল্লা মুফতিদেরকে বিয়া কইরবে কারা? 

আমাদের পান বানায় খিলাই দিবে কারা?

আমাদের পানেরচিপ লাগানো দাড়িতে হাত বুলাই দেবে কারা?

আমাদের লুঙ্গি গামছা টুপি ধুইবে কারা?

কারা? কারা? কারা?

হে অউরাত, তুমরা কি চাও না আমাদের মত মুমিনদের আজিবন সেবা যত্ন করি অনন্তকাল বেহেস্তবাসী হইতে? যেইখানে তুমরা পাইবা ৭১ সখি রুপি সতিন। যাদের একজনের সাথে আমরা ছহবৎ করিবো কোটি কোটি বছর আর তাহা দেখিয়া কি তুমরা তৃপ্তি লইতে চাও না?

কিন্তু আমাদের খুশি না করিলে তোমরা কিছুতেই ভেস্তবাসী রমনী হুর হইতে ফারবা না। অতএব তুমরা আজি ইহুদি নাসারা শয়তানদের কারখানা স্কুল কলিজের ফত ছেরে আল্লার স্কুল মাদ্রাসার ফত অবলম্বন করো।

ফেচবুকে সব নাস্তিকে ভরি যাইতেছে, এবং তারা যুক্তিপুর্ন কথা বলি তুমাদের চুখ খুলি দিতি ফারে, তাই ফেচবুক বেবহার তুমাদের জন্য হারাম।

যেসব পুশাক দেকলে আমরা নিজেদের কন্ট্রল কইত্তে ফারি না, সেসব পুশাক ছেড়ে বোরকায় নিজেরে বন্দি করি নাও, নতুবা আমরা লালায় নিজেরে নিমজ্জিত করে ফেলতে পারি।

মনে প্রানে বিশ্বাস করিবে, তোমার ইমান্দার স্বামির অপর স্ত্রী কখনো সতিন হয় না, উহারা তুমাদের বোন বা সখি।

আধুনিক, শিক্ষিত, নাস্তিক ও কাফেরদের ছেড়ে আমাদের মত অসহায় মাদ্রাসার ছেলেপিলে এবং হুজুর মুয়াজ্জিনের সাতে ফ্রেমে ও সাদিতে লিপ্ত হউ। এবং যত পারো ঘরের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা দমন করি রাখো।

আমাদের দাবী গুলান মানিয়া লইলে তবেই তুমরা হইতে পারিবে খাটি বেহেস্তবাসী রমনী।



সুভানাল্লা।

চিত্রপঞ্চক - ৯১






স্পষ্টভাষ্য হয় প্রকাশ্য - ০২

লিখেছেন পৃথু স্যান্যাল

৪.
স্বাভাবিক মৃত্যু চাও?
যুদ্ধাপরাধী রাজাকার হয়ে যাও।
সরকারের যত্নে খুব স্বাভাবিকভাবে মারা যাবে।

৫. 
আমি অবাক হয়ে যাই, যখন দেখি, নৃবিজ্ঞান আর দর্শনের ছাত্রটি ধর্ষণের জন্য নারীটির পোশাক-পরিচ্ছদকে দায়ী করছে।

৬.
যখন মক্তবে জের-যবর, পেশ-নুক্তা শিখেছিলাম, তখন হিন্দু মহিলাদের ব্যাপারে আরেকটা কথা শিখেছিলাম:
"পেট খালি, পিঠ খালি, কপালেতে এক নুক্তা।"
মুসলমান শিশুরা এমন শিক্ষা নিয়ে বড়ো হলে এরা ধর্ষক হবে না তো শিখণ্ডী হবে?

মুছলিম মডারেট চরিত


একজন বেকুব নাস্তিক ও পরকালের গল্প: প্যাস্কেলের বাজি

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল 

এক বেকুব নাস্তিকের উপর আল্লাহর গজব পড়ছিলো। এক গজবে এক্কেরে হারামজাদার একিউট লিউকেমিয়া। হাসপাতালে মৃত্যুসজ্জায় শোয়া অবস্থায় মা বোন এসে পাশে বসে হা-হুতাশ করতেছে যে বেকুপ পোলায় নাস্তিকগিরি কইরা গজব খাইলি, ৭২ হুরীও লাগাইতে পারবি না। ডাক্তার বলছে, ৩-৪ মাসের মধ্যেই মারা যাবি, এখনো সময় আছে সুধরাইয়া যা।

নাস্তিক পোলার বোন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে, হিজাবী, অনেক বুদ্ধিসুদ্ধি। হেতি বেকুব নাস্তিকরে লজিক দিলো, "শোন, ভাইয়া, তুই তো নাস্তিক, তুই যদি সঠিক হস তাহলে মরার পর কিচ্ছুই হবে না, মরার পরেই সব শেষ। কিন্তু আমরা যদি সঠিক হই, তাহলে মরার পর আমি আর আম্মা তো জান্নাতে হুরীদের সর্দারনী হমু। কিন্তু তুই তো জাহান্নামে পুড়তেই থাকবি, আল্লাহ টর্চার করতেই থাকবে। চিন্তা করে দেখ, আল্লাহ না থাকলেও আমরা মুসলিমরা কোনো শাস্তি পাবো না, আবার আল্লাহ থাকলে পাবো জান্নাত। কিন্তু তুই নাস্তিক মরলে যদি আল্লাহ থাকে তখন জাহান্নামে যাবি। কোনটা বুদ্ধিমানের কাজ এইবার তুই বল নাস্তিক হওয়া না আল্লাহকে মানা?"

বেকুব নাস্তিকের অন্তরের তালা কেমনে যেন খুইলা গেল। সে বুঝতে পারলো যে, মুসলিম হইয়া গেলেই সবদিক থেকে লাভ। তো মরার আগ পর্যন্ত প্রায় ৪ মাস সে মনে প্রাণে জান-প্রাণ দিয়া মুসলিম হয়ে গেল। আল্লাহকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা শুরু করলো। সারা দিনরাত এর আগের নাস্তিকগিরির জন্য আল্লাহর কাসে কান্দি কাটি ক্ষমা চাইতো। নামাজ কালাম সব করে বেকুব নাস্তিকটা এবার হয়ে গেল বুদ্ধিমান মুমিন। সুবহানাল্লাহ।

তারপর ৪মাস পর একদিন পটাশ করে সে পটল তুললো, মানে অক্কা পেল। সে মরতে তার মা বোন কান্না করলেও একে অন্যরে সান্ত্বনা দিল যে, যা-ই হোক, ছেলেটা মুসলিম হিসাবে মরছে। আল্লাহ মহান, আল্লাহ অসীম দয়ালু, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে ক্ষমা করে বেহেশতে নসীব করবেন।

মরার পর... 

বেচারা প্রথম শকটা খাইলো তখন, যখন কবরে তার কাছে মুনকার-নাকীর আসলো না। সে ঘন্টার পর ঘণ্টা কবরের দমবন্ধ পরিবেশে অপেক্ষা করতে থাকলো, কখন আসবে মুনকার-নাকীর? কেউ আসে না... সে ভাবতে শুরু করলো, তাহলে কি বেকুব নাস্তিকরাই সঠিক? আসলেই ইসলাম ভুয়া?

তারপর আবার সে ভাবলো, ধুরো, না, কী উলটা পালটা ভাবছি, নাস্তিকরা সঠিক হইলে আমি কবরের ভিতর চিন্তা করতেছি কেমনে, অক্কা পাওয়ার সাথে সাথেই তো সব শেষ হই যাওয়ার কথা। যেহেতু মরার পর কবরের ভিতরে আমি চিন্তা করতেছি, তারমানে পরকাল আছে, ইসলামই সত্য।

মুনকার-নাকীরের একটু দেরি হচ্ছে হয়তো। দুইজন মাত্র ফেরেশতা তারা, আর পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে হাজারে হাজারে মানুষ মরতেছে, দুইজনে একলা কয়জনরে সামলাবে, ফেরেশতারাও তো মানুষ। তাই হয়তো একটু দেরী হচ্ছে। 

সে অপেক্ষা করতে থাকে, মুনকার-নাকীর আসবে, আল্লাহ আগে থেকেই সব জানেন। তবে জানা সত্বেও তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে কেন, ব্যাপারটা যদিও ঠিক ক্লিয়ার না।

নাউজুবিল্লাহ, এসব ভাবতে নেই... নিশ্চয়ই আসবে তারা।

দ্বিতীয় শকটা সে খাইলো তৃতীয় দিনে, 

তার ঠিক মাথার উপরে একটা সাদা আলো জ্বলে উঠলো। সে বেলুনের মত চুপসে শরীর থেকে বেরিয়ে গেল এবং সাদা আলোর গর্তে ঢুকে গেল। শরীর থেকে "আলাদা" হবার সময় সে কী ঠাণ্ডা।

এমন ঠাণ্ডার অস্তিত্ব সম্ভব বলে জানতো না সে। বিজ্ঞানীরা ভুল, -২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও তাপমাত্রা আছে, নিশ্চয়ই আছে।

আসমানে...

আসমানে পৌঁছাইয়া সে তৃতীয় এবং সবচাইতে চরম শকটা খাইলো। আসমানে দেখে, দাড়িওয়ালা সাদা চামড়ার এক বৃদ্ধ আর তার সাথে যিশু দাঁড়াইয়া আছে। পাশেই নেংটা গ্যাব্রিয়েল ডানা ঝাপাটিয়ে উড়তেছে।

নেংটা গ্যাব্রিয়েল কইলো, "বাহ বাহ বাহ, আরো একটা ছাগু আইছে।"

দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ বললো, "ওই দেখ আইছে, আরেকটা মুসলিম টেরোরিস্ট হারামজাদা। লুসি, ও লুসি, এদিকে আয়, তোর জন্য আরেকটা বখরা পাওয়া গেছে।"

বুদ্ধিমান মুমিন বললো, "দাঁড়াও দাঁড়াও দাঁড়াও, খ্রিষ্টান ধর্ম সঠিক ধর্ম?"

যিশু উত্তর দিল, "অফ কোর্স, তুমি কোনোদিন 'Scientific Miracle in Bible' গুগল সার্চ করো নাই? কত শত মিরাকেল সেইখানে, সেগুলাই প্রমান করে যে বাইবেলই সঠিক, এর পরেও কেমনে তুমি বাইবেলে অবিশ্বাস করে ওই ভুয়া কোরানে ঈমান আনলা?"

"কি কি কিন্তু বাইবেল তো বিকৃত হয়ে গেছে, মুহাম্মদ হইলো শেষ নবী, কোরানই শেষ আসমানী কিতাব। আল্লাহর কোনো পুত্র নাই, যিশু শুধু একজন নবী। বাইবেল বি বি বিকৃত তো..."

বুদ্ধিমান মুমিন কথা শেষ করার আগেই যিশু চেঁচিয়ে উঠলো, "কী! হারামজাদা তুই আমারে জারজ বলতে চাস, তুই বলতে চাস আমার কোনো বাপ নাই? গড হইলো আমার বাপ। তুই আমারে কোন সাহসে জারজ কস, হারামজাদা! মুহাম্মদ নামের ওই শিশুকামী যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষণকারী ওই মরুদস্যূ যা-তা কইছে, আর তুই বিশ্বাস করছোস? ওই ছাগলডা নাকি একটা ডানাওয়ালা গাধায় চইড়া আসমানে গেছিল, ডানাওয়ালা গাধা! এইটা কেমনে বিশ্বাস করলি রে, ছাগুর বাচ্চা ছাগু?"

গড একটু কাশি দিল, "যিশু... লেঙ্গুয়েজ!"

বুদ্ধিমান মুমিন উত্তর দিল, "কিন্তু কিন্তু যিশু তো কোনো উড়ন্ত গাধা ছাড়াই আসমানে উড়ে গেছিল, এইটা কীভাবে সম্ভব, উড়ন্ত গাধার সাহায্য ছাড়া Escape Velocity ঈভাবে লাভ করলো? ওইসময় তো স্পেস শাটলও ছিল না!"

যিশু চিল্লায় উঠলো, "চুপ হারামজাদা, তুই আমারে জারজ কইসোস। আমার নাকি বাপ নাই, কত বড়ো ব্ল্যাসফেমি। তার উপর বাইবেলরে বলোস বিকৃত।"।

অতঃপর লুসিফার তথা লুসি নামক অপূর্ব সুন্দর সেক্সি চেহারার এক রমণী উড়ে এল। সে দেখতে ঠিক মুহাম্মদের কল্পনার হুরীদের মত। অতঃপর গড নির্দেশ দিল, "নিয়ে যা একে, লুসি, পোড়া একদম সর্বনিকৃষ্ট নরকে।"

অতঃপর লুসি যখন বেকুব মুমিনকে নিয়ে যাচ্ছিল নরকে, সে মনে মনে ভাবলো, লুসি তো আসলেই দেখতে হুবুহু কোরান হাদীসের হুরীর মত, আসলে কি লুসিফার শয়তানই তাহলে মুহাম্মদকে ধোঁকা দিয়েছিল? কোরান কি তাহলে লুসিফারই জিব্রায়েল সেজে মুহাম্মদকে দিয়েছিল? যে কারনে সে প্রথমবারে ভয় পেয়ে গেছিল? ইসলাম কি তাহলে আসলে শয়তানেরই বানানো মিথ্যা ধর্ম! মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে ছড়ানো বিভ্রান্তি?

এসব ভাবতে ভাবতেই সে তার মাত্র ৩৮ বছরের জীবনের সীমিত সময়ব্যাপী "ভুল বিশ্বাস" এর জন্য অসীম সময় ধরে অনন্তকালের জন্য নরকে নির্যাতিত হতে থাকলো...

------০-----

আপনি যে-ধর্মের যে-বিশ্বাসেই বিশ্বাসী হন না কেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে অন্য কিছুতে।

পৃথিবীতে এত হাজারো ধর্মের মধ্যে প্রত্যেক ধর্মই তথাকথিত মিরাকল, সায়েন্স, প্রফেসী এসবের দাবি করে থাকে।

এত হাজারের মধ্যে আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে, আপনার ধর্মের আপনার সেক্টের বিশ্বাসটাই সঠিক?

গরু, তুমি কার?



২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৫০): আবু রাফিকে খুন - প্রতারণার আশ্রয়ে! ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – তেইশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯

বদর যুদ্ধে অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদেশ ও অনুমোদনক্রমে তাঁর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে অমানুষিক নৃশংসতায় কীভাবে অতি বৃদ্ধ ইহুদি কবি আবু আফাককে নৃশংসভাবে খুন; কোলের শিশুকে স্তন্যপান অবস্থায় কবি আসমা বিনতে মারওয়ান নামের পাঁচ সন্তানের এক জননীকে নৃশংসভাবে খুন; প্রতারণার আশ্রয়ে কাব বিন আল-আশরাফকে নৃশংসভাবে খুন; তারপর মদিনার ইহুদী গোত্রের ওপর মুহাম্মদের উন্মুক্ত আক্রমণের আহ্বান এবং মুহাম্মদের সেই উন্মুক্ত আদেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুহেইয়িসা নামক এক মুহাম্মদ অনুসারী কী ভাবে ইবনে সুনেইনা নামক এক সম্পূর্ণ নিরপরাধ ইহুদি ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছিলেন, তার আলোচনা গত চারটি পর্বে করা হয়েছে।

প্রতারণার আশ্রয়ে কাব বিন আল-আশরাফকে খুনের মতই মুহাম্মদ অনুসারীরা আবু রাফি নামক এক ইহুদিকে রাতের অন্ধকারে নৃশংসভাবে খুন করেন। এই খুনের ঘটনাটি ঠিক কখন সংঘটিত হয়েছিল, সে বিষয়ে আদি মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। আল-তাবারীর বর্ণনা মতে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল কাব বিন আল-আশরাফের খুনের ঘটনার অল্প কিছুদিন পরেই (নভেম্বর-ডিসেম্বর, ৬২৪ সাল); মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি মতে হিজরতের চতুর্থ বর্ষে (মে-জুন, ৬২৬ সাল) এবং মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে খন্দক যুদ্ধ ও বানু কুরাইজার গণহত্যাযজ্ঞ (ফেব্রুয়ারি-মার্চ, ৬২৭ সাল) সংঘটিত হওয়ার পর।

ঘটনাটি কখন সংঘটিত হয়েছিল এ ব্যাপারে মতভেদ থাকলেও মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল), আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ সাল), আল-ওয়াকিদি (৭৪৭-৮২৩ সাল), ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ সাল) প্রমুখ ইসলাম-নিবেদিতপ্রাণ আদি উৎসের দিকপাল মুসলিম ঐতিহাসিকরা মুহাম্মদের আদেশ ও অনুমোদনক্রমে তাঁর অনুসারীরা আবু-রাফি নামক এই ইহুদিকে প্রতারণার আশ্রয়ে অমানুষিক নৃশংসতায় রাতের অন্ধকারে কীভাবে খুন করেছিলেন, তার উপাখ্যান অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ:

সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েক (আবু রাফি) কে নৃশংসভাবে খুন

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা:

‘খন্দকের যুদ্ধ ও বানু কুরাইজার বিষয়টি সমাপ্ত হওয়ার পর যারা বিভিন্ন গোত্রকে আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে জড়ো করেছিল, তাদের বিষয়ে আলোচনা কালে সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েকের বিষয়টি উঠে আসে; লোকে তাকে চিনতো আবু রাফি নামে। যেহেতু আউস গোত্রের লোকেরা ওহুদ যুদ্ধের আগে আল্লাহর নবীর সাথে শত্রুতা ও লোকজনদের তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার কারণে কাব বিন আশরাফকে খুন করেছিল, খাযরায গোত্রের লোকেরা খাইবারে অবস্থানরত সাললামকে খুন করার অনুমতি চেয়ে আল্লাহর নবীর কাছে আবেদন করে এবং তিনি তা অনুমোদন করেন।

মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল জুহরী < আবদুল্লাহ বিন কাব বিন মালিকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সাপেক্ষে আমাকে [ইবনে ইশাক] জানিয়েছেন:

যে সমস্ত সম্ভার আল্লাহ তার নবীকে প্রদান করেছিলেন, তার একটি হলো এই যে, এই দুই গোত্র, আউস ও খাযরায, একে অপরের সাথে মদ্দা ঘোড়ার মত প্রতিযোগিতা করতো:

যদি আউস গোত্রের লোকেরা নবীর সুবিধার্থে কোনো কিছু করতো, তবে খাযরায গোত্রের লোকেরা বলতো, "আল্লাহর নবীর দৃষ্টিতে ও ইসলামের সেবায় তারা আমাদের চেয়ে উচ্চতর মর্যাদা কখনও পেতে পারে না" এবং তারা ওদের মতই কিছু একটা না করে স্বস্তি পেত না। যদি খাযরায গোত্রের লোকেরা সেরূপ কিছু করে, তবে আউস গোত্রের লোকেরা ও অনুরূপ ভাষা ব্যবহার করতো।

কাব বিন আশরাফের শত্রুতার কারণে যখন আউস গোত্রের লোকেরা তাকে খুন করেছিল, তখন খাযরায গোত্রের লোকেরা এমন ভাষা ব্যবহার করেছিল এবং নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করেছিল, এমন কোনো ব্যক্তি কি আছে যে কাবের মতই আল্লাহর নবীর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন? তখন তাদের খাইবারে অবস্থানরত সাললামের কথা মনে পড়ে এবং তারা আল্লাহর নবীর কাছে সাললামকে খুন করার অনুমতি প্রার্থনা করে এবং তিনি তা অনুমোদন করেন

খাযরায গোত্রভুক্ত বানু সালিমার পাঁচ জন লোক তাঁর কাছে যায়: আবদুল্লাহ বিন আতিক; মাসুদ বিন সিনান; আবদুল্লাহ বিন উনায়েস; আবু কাতাদা আল-হারিথ বিন রিবি; এবং খুজায়ই বিন আসওয়াদ, যে ছিল আসলামের মিত্র।

তারা চলে যাবার পর আল্লাহর নবী আবদুল্লাহ বিন আতিককে তাদের নেতা রূপে নির্ধারণ করেন এবং তাদেরকে মহিলা ও শিশু হত্যা করতে নিষেধ করেন।

তারা খাইবারে পৌঁছার পর রাত্রিকালে সাললামার বাড়ীতে যায়, তার বাসস্থানের সমস্ত দরজা বন্ধ করে। সে ছিল ওপরের তলায়, যেখান থেকে একটা মই ঝুলছিল। তারা তা বয়ে ওপরে উঠে দরজা পর্যন্ত যায় এবং ঘরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করে।

তার স্ত্রী বাহিরে আসে ও জিজ্ঞেস করে, তারা কারা। তারা তাকে বলে যে, তারা জোগান কাজের খোঁজে আসা আরব। সে তাদেরকে বলে যে, তাদের প্রয়োজনের মানুষটি সেখানে আছে এবং তারা ভেতরে আসতে পারে।

(তারা জানিয়েছে), “আমরা ভেতরে ঢোকার পর তার সামনেই দরজার খিল লাগিয়ে দিই, যাতে তার ও আমাদের মাঝখানে অন্য কেউ আসতে না পারে। তার স্ত্রী তীক্ষ্ণ চিৎকার দেয় এবং তাকে [সাললাম] আমাদের খবর দিয়ে সতর্ক করে, তাই আমরা তলোয়ার নিয়ে দৌড়ে তার বিছানার কাছে যাই, কারণ সে ছিল বিছানায়। অন্ধকারে যে একমাত্র জিনিসটি আমাদের পথ দেখায়, তা হলো মিশরি কম্বলের মত তার শুভ্রতা। যখন তার স্ত্রী তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়ে ওঠে, আমাদের এক সদস্য তাকে আঘাত করার জন্য তরবারি উঁচিয়ে ধরে; তারপর আল্লাহর নবীর দেয়া মহিলা ও শিশুকে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা মনে পড়ায় সে তার হাত নিচু করে; তা না হলে সেই রাত্রেই তার ভবলীলা সাঙ্গ হতো।

যখন আমরা আমাদের তলোয়ার দিয়ে তাকে কোপাচ্ছিলাম, আবদুল্লাহ বিন উনায়েস তার তলোয়ার তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে চাপ দিতে থাকে যতক্ষণ না তা তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে, যেমনটি সে বলেছিল কাতনি কাতনি - অর্থাৎ এটাই যথেষ্ট।

আমরা বাইরে ফিরে আসি। আবদুল্লাহ বিন আতিক চোখে কম দেখত, সে মই থেকে পড়ে যায় এবং তার বাহু (অথবা পা) মারাত্মকভাবে মচকে যায়, তাই আমরা তাকে বহন করে নিয়ে আসি, যতক্ষণ না আমরা তাদের এক পানির নালার কাছি আসি এবং তার মধ্যে ঢুকে পড়ি।

লোকজন বাতি জ্বালিয়ে সব দিক দিয়ে আমাদের খুঁজতে শুরু করে এবং আমাদেরকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয়ার পর তারা তাদের মনিবের কাছে ফিরে যায় এবং তার চারিপাশ ঘিরে দাঁড়ায়, তখন সে মৃত্যুপথযাত্রী। 

আল্লাহর শত্রু যে সত্যিই মারা গিয়েছে, তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, এ ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করি। আমাদের মধ্যে একজন সেখানে গিয়ে দেখে আসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হতে রাজী হয়। তাই সে ফিরে যায় এবং লোকজনদের মধ্যে মিশে যায়।”

সে জানিয়েছে,

‘আমি দেখলাম যে তার স্ত্রী এবং সাথে কিছু ইহুদি তার চারিপাশ ঘিরে আছে। তার হাতে ছিল একটা বাতি যার আলো তার মুখের ওপর পড়েছিল এবং সে তাদের কে বলছিল, “আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আবদুল্লাহ বিন আতিকের কন্ঠস্বর শুনেছি। তারপর আমি স্থির করি যে, আমি নিশ্চয়ই ভুল করছি এবং চিন্তা করি, ‘ইবনে আতিক এ জায়গায় কীভাবে আসতে পারে?’” তারপর সে তার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়, তার মুখের দিকে চায়, এবং বলে, 'হায় খোদা, সে মারা গেছে!' আমি তার এই বাক্যের চেয়ে মধুর বাক্য জীবনে আর কখনো শুনি নাই।’

তারপর সে আমাদের কাছে ফিরে আসে ও আমাদের এই খবরটি জানায়। আমরা আমাদের সঙ্গীকে উঠিয়ে নিই এবং তাকে নিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে আসি ও তাঁকে বলি যে আমরা আল্লাহর শত্রুকে খুন করেছি।

কে তাকে খুন করেছে, এ নিয়ে তাঁর সামনে আমরা নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু করি, আমরা প্রত্যেকেই দাবি করে যে, কাজটি আমার।

আল্লাহর নবী আমাদের তলোয়ার তাঁকে দেখানোর জন্য হুকুম করেন এবং সেগুলো দেখার পর তিনি বলেন, "আবদুল্লাহ বিন উনায়েসের তলোয়ারেই সে খুন হয়েছে; আমি তাতে খাবারের কিছু আলামত দেখেছি। (আল-তাবারী, পৃ:-১৩৮১: আমি তাতে হাড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি)।"' [1][2]

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা:

সহি বুখারী: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নম্বর ৩৭১ 

'আল-বারা বিন আজিব হইতে বর্ণিত: 

আল্লাহর নবী আনসারদের মধ্য থেকে কিছু লোক ইহুদি আবু রাফিকে (হত্যার) জন্য পাঠান এবং আবদুল্লাহ বিন আতিককে তাঁদের দলনেতা রূপে নির্বাচন করেন। 

আবু রাফি আল্লাহর নবীকে কষ্ট দিত এবং তাঁর শত্রুদের তাঁর বিরুদ্ধে সাহায্য করতো। হিজাজ ভূমিতে অবস্থিত এক দুর্গে সে বসবাস করতো।

সূর্যাস্তের পর যখন ঐ লোকগুলো (সেই দুর্গের) নিকটবর্তী হয় এবং অন্যান্য লোকেরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বাড়ী ফিরছিল। আবদুল্লাহ (বিন আতিক) তাঁর সহকারীদের উদ্দেশে বলেন, "তোমরা যেখানে আছো, সেখানেই বসে থাকো। আমি যাচ্ছি এবং আমি দারওয়ানের সাথে চাতুরী করার চেষ্টা করবো যাতে আমি (দুর্গের মধ্যে) ঢুকতে পারি।"

তারপর আবদুল্লাহ দুর্গের দিকে অগ্রসর হন এবং যখন তিনি গেটের নিকটবর্তী হন, তখন তিনি তার কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে এমন ভান করেন যে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। সেখানের অধিবাসীরা ভেতরে প্রবেশ করে এবং দারওয়ান (আবদুল্লাহর ধারণা, লোকটি ছিল ঐ দুর্গের চাকরদের একজন) তাকে সম্বোধন করে বলে, "এই যে আল্লাহর দাস! যদি চান ভেতরে প্রবেশ করেন, কারণ আমি দরজা বন্ধ করতে চাচ্ছি।”

আবদুল্লাহ তার বিবরণে যোগ করেন, "তাই আমি ভেতরে (দুর্গের) প্রবেশ করি এবং নিজেকে লুকিয়ে রাখি। যখন অধিবাসীরা ভেতরে ঢোকা শেষ করে, দারওয়ান দরজা বন্ধ করে এবং চাবিটি একটা নির্দিষ্ট কাঠের খোঁটায় ঝুলিয়ে রাখে। আমি উঠে দাঁড়াই ও চাবিটি নিয়ে নিই এবং দরজা খুলে ফেলি। 

কিছু লোক আবু রাফির সাথে তার কক্ষে অনেক রাত্রি পর্যন্ত মনোজ্ঞ খোশ গল্পে মশগুল ছিল। যখন তার আপ্যায়িত রাতের অতিথিরা প্রস্থান করে, আমি তার নিকট আরোহণ করি এবং যখনই একটা দরজা খুলি, তখনই তা ভেতর থেকে বন্ধ করি। আমি নিজেকে নিজেই বলি, 'যদি লোকগুলো আমার উপস্থিতি টেরও পায়, তাকে খুন করার আগে তারা আমাকে ধরতে সক্ষম হবে না।' 

তারপর আমি তার কাছে পৌঁছোই এবং দেখি যে, সে তার পরিবারের সাথে এক অন্ধকার বাড়িতে ঘুমাচ্ছে। সেই বাড়িতে আমি তার অবস্থান ঠাহর করতে পারি নাই।

তাই আমি চিৎকার করি, "এই আবু রাফি!' 

আবু রাফি বলে, "কে ওটা?"

আমি তার গলার আওয়াজ অনুসরণ করে তার কাছে আসি এবং তলোয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করি, কিন্তু জটিলতার কারণে আমি তাকে খুন করতে ব্যর্থ হই।

সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে, আমি বাড়ির বাইরে আসি ও কিছু সময় অপেক্ষা করি। 

তারপর আমি পুনরায় তার কাছে যাই এবং বলি, "এই আবু রাফি, এটা কার গলার আওয়াজ?"

সে বলে, "আমার বাড়িতে লোক ঢুকেছে এবং আমাকে তার তলোয়ার দিয়ে আঘাত করেছে!"

আমি তাকে আবার খুব জোরে আঘাত করি কিন্তু খুন করতে ব্যর্থ হই। তখন আমি তলোয়ারের চোখা আগাটা তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিই (এবং ভিতরে চাপ দিতে থাকি) যতক্ষণ না তা তার পিঠে গিয়ে পৌঁছে, এবং আমি বুঝতে পারি যে, তাকে আমি খুন করেছি।

তারপর আমি একটা একটা করে দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে আসি, সমতল মাটিতে পৌঁছেছি মনে করে আমি পা বাড়াই ও নিচে পড়ে যাই এবং চাঁদনি রাতে আমার পা টা ভেঙ্গে যায়। আমি আমার পাগড়ির কাপড় দিয়ে পা-টা বেঁধে ফেলি এবং দরজার কাছে গিয়ে বসে পড়ি ও নিজেকে বলি, 'আমি তাকে খুন করেছি কি না, নিশ্চিত না হয়ে বাইরে যাব না।' 

তারপর যখন (খুব সকালে) মোরগ ডাকে, দুর্ঘটনা কবলিত লোকেরা দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেয়, 'আমি আবু রাফির মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করছি, তিনি ছিলেন হিজাজের এক ব্যবসায়ী'। তখন আমি আমার অনুসারীদের কাছে যাই এবং বলি, 'এসো আমরা নিজেদের রক্ষা করি, কারণ আল্লাহ আবু রাফিকে খুন করেছে।'

তারপর আমি (আমার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে) আল্লাহর নবীর কাছে আসি এবং তাঁকে সমস্ত বৃত্তান্ত খুলে বলি।

তিনি বলেন, 'তোমার (ভাঙা) পা টা প্রসারিত করে দাও।'

আমি তা প্রসারিত করি এবং তিনি তা মালিশ করেন ও তা এমন ভাবে ঠিক হয়ে যায় যে, আমার মনে হয়, আমি কখনোই কোনোরূপ অসুস্থ হইনি।"' [3] [4]

অন্য আর এক উৎসের রেফারেন্সে আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা:

'মুসা বিন আব্দুর রাহমান আল-মুসরুকি ও আব্বাস বিন আবদুল আজিম আন-আনবারি  < জাফর বিন আউন < ইবরাহিম বিন ইসমাইল < ইবরাহিম বিন আব্দুর রাহমান বিন কাব বিন মালিক < তাঁর পিতা < তাঁর মাতা, যিনি ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উনায়েসের কন্যা < আবদুল্লাহ বিন উনায়েস  হইতে বর্ণিত:

আল্লাহর নবী আবি আল-হুকায়েক [আবু রাফি]-কে খুন করার জন্য যে-সঙ্গীদল পাঠিয়েছিলেন, তারা হলেন আবদুল্লাহ বিন আতিক, আবদুল্লাহ বিন উনায়েস, আবু কাতাদা, তাদের মিত্রদের একজন এবং একজন আনসার। তাঁরা রাত্রিকালে খাইবারে পৌঁছান।

আবদুল্লাহ বিন উনায়েস জানিয়েছেন,

"আমরা তাদের দরজার কাছে যাই, বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করি এবং চাবিটি নিয়ে নিই, যাতে তারা ভেতরে তালাবন্ধ থাকে। তারপর আমরা চাবিটা সেচ খালের মধ্যে নিক্ষেপ করি এবং ওপর তালার ঘরে যেখানে ইবনে আবি হুকায়েক শয়ন করছিল, সেখানে যাই। আবদুল্লাহ বিন আতিক ও আমি সেখানে যাই আর আমাদের বাকি সঙ্গীরা দেয়ালের পাশে বসে থাকে।

যখন আবদুল্লাহ বিন আতিক ঘরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চায়, তখন ইবনে আবি হুকায়েকের স্ত্রী বলে, 'এটি আবদুল্লাহ বিন আতিকের কণ্ঠস্বর'।

ইবনে আবি হুকায়েক বলে, 'তোমাকে কি মা মরা শোকে পেয়েছে! আবদুল্লাহ বিন আতিক থাকে মদিনায়। কীভাবে সে এই সময়ে তোমার কাছে থাকবে? দরজাটা খোল! কোনো সম্মানিত মানুষই এই অসময়ে কোনো অতিথিকে তার দরজা থেকে বিদায় করে না।'

তাই তার স্ত্রী উঠে আসে ও দরজা খুলে দেয় এবং আমিও আবদুল্লাহ ইবনে আল হুকায়েকের ঘরে ঢুকি।

আবদুল্লাহ বিন আতিক বলে, 'তুমি তার স্ত্রীকে সামলাও।'

আমি খাপ থকে তলোয়ার খুলে তা দিয়ে তাকে আঘাত করতে উদ্যত হই, কিন্তু সে সময় আল্লাহর নবীর হুকুম মহিলা ও শিশুদের হত্যা না করার নির্দেশের কথা আমার মনে পড়ে এবং আমি বিরত হই।

আবদুল্লাহ বিন আতিক গিয়েছিল ইবনে আল হুকায়েকের কাছে। সে জানিয়েছে,

'আমি তার দিকে নজর দিই। ওপরের অন্ধকার ঘরে তার চামড়ার চরম শুভ্রতা আমার নজরে আসে। যখন সে আমাকে ও আমার তলোয়ারটিকে দেখতে পায়, সে একটি বালিশ আঁকড়ে ধরে তা দিয়ে আমাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। আমি তাকে তলোয়ারের আঘাত হানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই, তাই তার পরিবর্তে আমি তা দিয়ে তাকে বিদ্ধ করি। 

তারপর আবদুল্লাহ বিন উনায়েস এসে আমার সঙ্গে যোগ দেয় এবং বলে,
'আমি কি তাকে খুন করবো?'  আমি বলি, 'হ্যাঁ।" তারপর সে তাকে সাবাড় করে। ---"[ 5]

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

The Killing of Sallam Ibn Abu'l-Huqayq (Abu Rafi)
The narrative of Muhammad Ibne Ishaq (704-768 AD):
‘When the fight at the trench and the affair of the B. Qurayza were over, the matter of Sallam b. Abu'l-Huqayq known as Abu Rafi` came up in connexion with those who had collected the mixed tribes together against the apostle. Now Aus had killed Ka`b b. al-Ashraf before Uhud because of his enmity towards the apostle and because he instigated men against him, so Khazraj asked and obtained the apostle's permission to kill Sallam who was in Khaybar.
Muhammad b. Muslim b. Shihab al-Zuhri from `Abdullah b. Ka`b b. Malik told me: One of the things which God did for His apostle was that these two tribes of the Ansar, Aus and Khazraj, competed the one with the other like two stallions: if Aus did anything to the apostle's advantage Khazraj would say, "They shall not have this superiority over us in the apostle's eyes and in Islam" and they would not rest until they could do something similar. If Khazraj did anything Aus would say the same.
When Aus had killed Ka'b for his enmity towards the apostle, Khazraj used these words and asked themselves what man was as hostile to the apostle as Ka'b? And then they remembered Sallam, who was in Khaybar and asked and obtained the apostle's permission to kill him.
Five men of B.Salima of Khazraj went to him: 'Abdullah b.`Atik; Mas`ud b. Sinan; `Abdullah b. Unays; Abu Qatada al-Harith b. Rib'i; and Khuza`i b. Aswad, an ally from Aslam. As they left, the apostle appointed `Abdullah b.`Atik as their leader, and he forbade them to kill women or children.
When they got to Khaybar they went to Sallam's house by night, having locked every door in the settlement on the inhabitants. Now he was in an upper chamber of his to which a ladder led up. They mounted this until they came to the door and asked to be allowed to come in. His wife came out and asked who they were and they told her that they were Arabs in search of supplies. She told them that their man was here and that they could come in.
When we entered we bolted the door of the room on her and ourselves fearing lest something should come between us and him. His wife shrieked and warned him of us, so we ran at him with our swords as he was on his bed. The only thing that guided us in the darkness of the night was his whiteness like an Egyptian blanket. When his wife shrieked one of our number would lift his sword against her; then he would remember the apostle's ban on killing women and withdraw his hand; but for that we would have made an end of her that night.
When we had smitten him with our swords `Abdullah b. Unays bore down with his sword into his belly until it went right through him, as he was saying Qatni, qatni, i.e. it's enough.
We went out. Now `Abdullah b.`Atik had poor sight, and fell from the ladder and sprained his arm (or his leg) severely, so we carried him until we brought him to one of their water channels and went into it. The people lit lamps and went in search of us in all directions until, despairing of finding us, they returned to their master and gathered round him as he was dying.
We asked each other how we could know that the enemy of God was dead, and one of us volunteered to go and see; so off he went and mingled with the people. He said, "I found his wife and some Jews gathered round him. She had a lamp in her hand and was peering into his face and saying to them 'By God, I certainly heard the voice of `Abdullah b.`Atik. Then I decided I must be wrong and thought, "How can Ibn`Atik be in this country?"'
Then she turned towards him, looking into his face, and said, 'By the God of the Jews he is dead!' Never have I heard sweeter words than those."
Then he came to us and told us the news, and we picked up our companion and took him to the apostle and told him that we had killed God's enemy. We disputed before him as to who had killed him, each of us laying claim to the deed.
The apostle demanded to see our swords and when he looked at them he said, "It is the sword of `Abdullah b. Unays that killed him; I can see traces of food on it. (Al-Tabari, page 1381: ‘I can see marks left by bones on it’)”. [1][2]

The narrative of Imam Bukhari (810-870 AD):

Sahi Bukhari: volume 5, Book 59, number 371

‘Narrated By Al-Bara bin Azib: Allah's Apostle sent some men from the Ansar to ((kill) Abu Rafi, the Jew, and appointed 'Abdullah bin Atik as their leader. Abu Rafi used to hurt Allah's Apostle and help his enemies against him. He lived in his castle in the land of Hijaz. When those men approached (the castle) after the sun had set and the people had brought back their livestock to their homes. Abdullah (bin Atik) said to his companions, "Sit down at your places. I am going, and I will try to play a trick on the gate-keeper so that I may enter (the castle)." So 'Abdullah proceeded towards the castle, and when he approached the gate, he covered himself with his clothes, pretending to answer the call of nature. The people had gone in, and the gate-keeper (considered 'Abdullah as one of the castle's servants) addressing him saying, "O Allah's Servant! Enter if you wish, for I want to close the gate." 'Abdullah added in his story, "So I went in (the castle) and hid myself. When the people got inside, the gate-keeper closed the gate and hung the keys on a fixed wooden peg. I got up and took the keys and opened the gate. Some people were staying late at night with Abu Rafi for a pleasant night chat in a room of his. When his companions of nightly entertainment went away, I ascended to him, and whenever I opened a door, I closed it from inside. I said to myself, 'Should these people discover my presence, they will not be able to catch me till I have killed him.' So I reached him and found him sleeping in a dark house amidst his family, I could not recognize his location in the house. So I shouted, 'O Abu Rafi!' Abu Rafi said, 'Who is it?' I proceeded towards the source of the voice and hit him with the sword, and because of my perplexity, I could not kill him. He cried loudly, and I came out of the house and waited for a while, and then went to him again and said, 'What is this voice, O Abu Rafi?' He said, 'Woe to your mother! A man in my house has hit me with a sword! I again hit him severely but I did not kill him. Then I drove the point of the sword into his belly (and pressed it through) till it touched his back, and I realized that I have killed him. I then opened the doors one by one till I reached the staircase, and thinking that I had reached the ground, I stepped out and fell down and got my leg broken in a moonlit night. I tied my leg with a turban and proceeded on till I sat at the gate, and said, 'I will not go out tonight till I know that I have killed him.' So, when (early in the morning) the cock crowed, the announcer of the casualty stood on the wall saying, 'I announce the death of Abu Rafi, the merchant of Hijaz. Thereupon I went to my companions and said, 'Let us save ourselves, for Allah has killed Abu Rafi,' So I (along with my companions proceeded and) went to the Prophet and described the whole story to him. "He said, 'Stretch out your (broken) leg. I stretched it out and he rubbed it and it became All right as if I had never had any ailment whatsoever."’ [3][4]

Another narrative of Al-Tabari (839-923 AD):

‘According to Musa b. Abd al-Rahman al-Musruqi and Abbas b. Abd al-Azim an-Anbari <Jafar b. Awn <Ibrahim b. Ismail < Ibrahim b. Abd al-Rahman b. Ka’b b. Malik <his father <his mother, the daughter of Abd Allah b. Unays < Abd Allah b. Unays:

The company whom the Messenger of God sent to Ibne Abi al-Huqayk to kill him comprised Abd Allah b. Atik, Abd Allah b. Unays, Abu Qatadah, one of their confederates and a man of the Ansar. They reached Khaybar at night.

Abd Allah b. Unays said,
‘We went to their doors, shut them from the outside, and took the keys, so that they were locked in. Then we threw the keys into an irrigation ditch and went to the upper room where Ibn Abi al-Huqyak was lying. Abd All b. Atik and I went up there while our companions sat down by the wall.

Abd Allah b. Atik asked permission to enter, and then Ibn Abi al-Huqayq’s wife said, “That is Abd Allah b. Atik’s voice”.

Ibn Abi al-Huqayq said, “May your mother be bereaved of you! Abd Allah b. Atik is in Yathrib. How could he be with you at this hour? Open the door! No honourable man turns vistors from his door at such an hour.” So she got up and opened the door and I and Abd Allah went in to Ibn al-Huqayq.

Abd Allah b. Atik said,
“You take care of her!” So I unsheathed my sword against her and I was going to strike her with it, but I remembered that the Messenger of God had forbidden the killing of women and children, and I desisted.

Abd Allah b. Atik went up to Ibn al-Huqayq. “I looked at him”, he said, “At the extreme whiteness of his skin in a dark upper room. And when he saw me and saw the sword, he took the pillow and tried to fend me off with it. I made to strike him, but was unable to do so, and instead pierced him with it.

Then Abd Allah b. Unays came out to join me and said, ‘Shall I kill him?’ I said, ‘Yes’. So he went in and finished him off.  -------’. [5]

>>> বরাবরের মতই মুহাম্মদের আদেশে তাঁর অনুসারী ঘাতকরা রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র মানুষকে কীরূপে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করেছিলেন তার সু-নির্দিষ্ট প্রাণবন্ত বর্ণনা!

বরাবরে মতই আবু রাফি নামক এই লোকটি মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কাউকেই কোনোরূপ শারীরিক আঘাত করেছিলেন, এমন ইতিহাস কোথাও নেই। 

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা

 [1] সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৪৮২-৪৮৩

[2] অনুরূপ বর্ণনা:  “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৭, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-88706-344-6 [ISBN 0-88706-345-4 (pbk)], পৃষ্ঠা (Leiden)–১৩৭৮ -১৩৮১
১৩৭৫-১৩৮৪


[3] সহি বুখারী: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নম্বর ৩৭১



অনুরূপ হাদিস:
সহি বুখারী: ভলিউম ৪, বই ৫২, নম্বর ২৬৪
সহি বুখারী: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নম্বর ৩৭০, ৩৭২


[4] অনুরূপ বর্ণনা: Ibid- আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৭৫-১৩৭৮

“According to Harun b, Ishaq al-Hamdani < Musab bin Miqdam <Isra’il < Abu Ishaq <al-Bara ---.”


[5] অন্য আর এক উৎসের রেফারেন্সে আল-তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনা:



 Ibid- আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৮১-১৩৮৩  

দুষ্টু যাজিকারা - ১৭



কোরান কুইজ – ৪৩

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৫৩: কোরান কি সকলের জন্য সহজবোধ্য করে নাজিল করা হয়েছে?

১. হ্যাঁ
২. না

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.

উত্তর ৫৩: 
দুটো উত্তরই সঠিক।
১. হ্যাঁ (সুরা ১১:১)
২. না (সুরা ৩:৭, ২:১ )

পরম বিনোদনের ব্যাপার এই যে, একজন খাছ মুছলিম কোরানের অজস্র পরস্পরবিরোধী বাণী ও অগণ্য ভুল নিজে চোখে দেখলে বা অনুধাবন করলেও অবলীলায় দাবি করে - এই কিতাবখানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, যা সম্পূর্ণরূপে নিখুঁত, যাতে কোনও অসামঞ্জস্য নেই। এই জাতীয় চোখ-থাকিতেও-অন্ধ মানুষদের সম্পর্কে রিচার্ড ডকিন্স বলেছিলেন: a disgrace to the human species.

* কোরানের ছয়টি ভিন্ন অনুবাদ একসঙ্গে পাওয়া যাবে এখানে

** কৃতজ্ঞতা: আবুল কাশেম

হা-হা-হাদিস – ১০৭

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

ধর্মবিদ্রূপানন্দ - ১৪

লিখেছেন Mosammot Rinee Khatun

৪০.
কোরান শরীফ আমল করা আর শস্যক্ষেত্রে আজল করা - দুটোই উত্তেজনা থেকে সৃষ্ট এবং অনুৎপাদনশীলতায় সমাপ্ত।

৪২.
ইসলামের পাঁচখানা খাম্বা কোথায় পেয়েছেন? কোরান-হাদিস ঘেটে কেউ দেখাতে পারবেন? এগুলো ইহুদি-নাসারার ষড়যন্ত্র!
বাস্তবে ইসলামের খাম্বা অগুনতি। প্রচলিত পাঁচটির সঙ্গে যে খাম্বাগুলো যোগ করা যেতে পারে:
১. মানুষ মারানি জেহাদ
২. আজাইরা ফতোয়াবাজি
৩. বেদ্বিনদের জোরজবরদস্তি করে দ্বীনের পথে নিয়ে আসা। 
৪. হামবড়ামো মানে নিজ ধর্মকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করা, প্রকাশ করা।
৫. ইত্যাদি, প্রভৃতি, অগুনতি... আপনারাও যোগ করতে পারেন।

৪৩.
জোকার নায়েকের মেহফিলে যখন হিন্দুরা মজাদার বালখিল্য প্রশ্ন করে ইসলামকে জাতে তোলার সহায়তা করে, তখন তাদেরকে গৃহপালিত পাঁঠার লাহান লাগে।

চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া



২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

চিন্তা-প্রতিচিন্তা - ১৫

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

৪৩.
শুক্কুরবার। আইজ মুমিনেরা তাহাদের দাড়ি-গোফ-বাল-চুল আল্লারে উৎসর্গ কইরা দো-জাহানের অশেষ নেকি হাসিল কইরা ৭২ উন্নত বক্ষওয়ালা হুরি লাগানোর খায়েশে মসজিদের মইধ্যে ঢঙ্গের কান্দা কাইন্দা আল্লার চামচামিতে মশগুল হইবে।
সুভানাল্যা।

৪৪.
অনেকেই বলে, এমনকি আমিও বলতাম যে, নারীদের বোরকা পরিয়ে তাদের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। আসলে আমি ভুল!

যেসব দেশে গিগা-কামুকের মেগা-কামুক উম্মতেরা থাকে, সেখানে নারীদের বোরখা বাধ্যতামূলক। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ হায়নার রাজ্যে হরিণকে খাঁচায় বন্দী করে রাখাই শ্রেয়।

অন্তত আর যা-ই হোক, হরিণেরা প্রানে বাঁচবে।

৪৫.
কোরানের প্রত্যেক পৃষ্ঠায় প্রত্যেক অক্ষরেই জ্ঞান আর জ্ঞান।
তাইলে মুমিন ও মুমিনের পোলা-মাইয়ারা লাখ লাখ টাকা খরচ কইরা স্কুল কলেজের বই পড়ে ক্যারে, মুমিন?

এক জোড়া পোস্টার


Catholic > ক্যাথলিক > ক্যাটহোলিক

ইসলাম - সাম্রাজ্যবাদী মরু-সংস্কৃতি

লিখেছেন Secular Friday

সংগঠিত ধর্ম মাত্রই একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান বা জীবনধারণ পদ্ধতি।

চরিত্রগতভাবেই এই সংগঠিত ধর্মগুলো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ধর্মীয় আঙ্গিক, আধ্যাত্মিক আঙ্গিক, সামাজিক আঙ্গিক, রাজনৈতিক আঙ্গিক, জ্ঞানচর্চার আঙ্গিক, অর্থনৈতিক আঙ্গিক ও আইনি আঙ্গিকের প্রেক্ষাপটকে নির্দিষ্ট করে। 

জীবনধারনের এই পদ্ধতিগুলো কালোত্তীর্ণ নয়, এবং স্থির ও বদ্ধ চিন্তা থেকে উদ্ভুত বলেই পূর্ব নির্ধারিত। আর সে কারণে কোন ধরনের নতুন চিন্তার জন্য এগুলো আর উপযোগী নয়; শুধুমাত্র প্রবল চেষ্টায় অতি কষ্টে টিকে আছে বর্তমানের সাথে সমন্বয়বিধানের চেষ্টা করে, অতীতমুখিনতায়।

ইসলামও একটি জীবনবিধান; তবে এই জীবনবিধানটি তার প্রমত্ত রাজনৈতিক চরিত্রের কারণে আজ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চরিত্র হারিয়ে মরু-সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারায় পর্যবসিত হয়েছে।

সাম্রাজ্যবাদী চিন্তার প্রাবল্যের কারণেই কোনো অঞ্চলে সংস্কৃতির নামে চলমান কোনো আচারকেই ইসলাম ধর্ম তার সংস্কৃতির অংশ বলে মেনে নেয় না, বরং তীব্র বিরোধিতা করে চলে।

সংস্কৃতি হচ্ছে একটা অঞ্চলের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভাষা, আচার, ব্যবহার, সাহিত্য, আনন্দ অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক, জীবিকা ইত্যাদির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জীবন বোধ ও অভিব্যক্তি। একটি অঞ্চলের মানুষ সেই অঞ্চলের সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়েই নিজ নিজ সুকুমারবৃত্তিকে পরিশীলিত করে।

প্রচলিত ইসলামী সংস্কৃতি মানুষের জীবন ধারনকে বিকশিত করবার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত করে। ইসলাম যে শুধু কে কয়বার কিভাবে নামাজে দাঁড়াবে, হাত কিভাবে বাঁধবে, রুকু সেজদা কীভাবে দেবে সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন দাবি করে, তা-ই না, বরং কোন অনুষ্ঠানটি পালন করা যাবে, কোনটা যাবে না; জীবিকার জন্য কী পেশা গ্রহণ করা যাবে, কোনটা যাবে না; কোন খাদ্য গ্রহণ করা যাবে, কোনটা যাবে না; কাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে, কাকে যাবে না; বিয়ে-শাদীর উৎসব কীভাবে হবে, আনন্দ অনুষ্ঠানের পরিধি কী হবে, চিত্ত বিনোদন কীভাবে হবে, এমনকি মলমুত্রত্যাগ বা সঙ্গম কীভাবে হবে, তার সবই নির্ধারণ করে দেয়।

প্রচলিত ইসলামের বিচারে ইসলামী সংস্কৃতি পালনের সামান্যতম বিচ্যুতিতে কথিত আল্লাহ রুষ্ট হন এবং ব্যক্তির দোজখ-বেহেশত সহ সকল পারলৌকিক প্রাপ্তি এই সব সংস্কৃতি পালনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

সর্বগ্রাসী ইসলামী সংস্কৃতি আজ সকল শুভবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চায় শরিয়া আইন প্রবর্তন করে, দারুল ইসলাম বানিয়ে, খেলাফত প্রবর্তন করে।

ইসলাম কেন মরু-সংস্কৃতি, তা সহজেই অনুমেয়।
১. ইসলামের জন্ম ও বিকাশ কোথায়? আরবের মরুভূমিতে।
২. ইসলামের ভাষা কি? আরবি।
৩. ইসলামের নবী কাদের জন্য, কাদের মধ্যে এসেছেন? আরবের উম্মিদের জন্য [সূরা জুম'আ, আয়াত ২]
৪. ইসলাম মুলত কাদের জন্য নাজেল হয়েছিল? মক্কা ও তার আশপাশের লোকদের জন্য [সূরা আশ শুরা - ৪২: ৭]
৫. ইসলামে খলিফা হওয়ার অধিকার কাদের? শুধুমাত্র কুরাইশদের [সহিহ বুখারী, খন্ড ৯, অধ্যায় ৮৯, হাদিস ২৫৪]
৬. ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হজ্ব কোথায় হয়? মক্কায়।
৭. একজন মুসলমানের জন্য জিহাদ, হজ্জের চাইতেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। [রিয়াযুস স্বা-লিহীন, বই ১২, হাদিস ১২৮৫]; এমনকি নবী নিজেও মাত্র একবার হজ্জ করেছেন (বিদায় হজ্জ ১০ম হিজরী), কিন্তু যুদ্ধ করেছেন ন্যুনতম ঊনিশবার। [সহিহ মুসলিম, বই ১৯, হাদিস ৪৪৬৫]
৭. সেমিটিক সভ্যতায় প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠানের বহির্ভূত কোনো আচার-অনুষ্ঠানই ইসলামে স্বীকৃত নয়।
কোরআনের কয়েকটি সুরা পড়লেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ইসলাম মরুসংস্কৃতি হিসেবেই আবির্ভূত। উদাহরন স্বরুপ:
(৬.৯২) এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পার্শ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তারা স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।
(১০.৪৭) আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন আর তাদের উপর জুলুম হয় না।
(১৪.৪) আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
(৪৩.৪৩) অতএব, আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়, তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সরল পথে রয়েছেন।
(৪৩.৪৪) এটা আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্যে উল্লেখিত থাকবে এবং শীঘ্রই আপনারা জিজ্ঞাসিত হবেন।
(৪৮.২৩) এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।
আল্লাহ নিজেই বলছেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নবী আছেন এবং আল্লাহর এই রীতিতে কোনো পরিবর্তন হয় না। সব পয়গম্বরকে তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করা হয়, এবং কোরআন এমন গ্রন্থ, যা অবতীর্ন করা হয়েছে পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য এবং মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্য।

সেই একই গ্রন্থ কোরআনেই বলা আছে:
(২৬.১৯৮) যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম
(২৬.১৯৯) অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
আয়াত দু’টোতে আল্লাহ নিজেই বলছেন যে, আরবি কোরান ঠিকঠাকভাবে পড়ে শোনালেও অনারব (বা আরবি জানে না) এমন ব্যক্তিরা তা প্রত্যাখ্যান করবে, সেটাই আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এর মানে, আল্লাহ নিজেই মনে করেন, আরবি কোরানে বিশ্বাস করা অনারব (বা আরবি জানে না) এমন মানুষদের জন্য উচিত নয়।

কাজেই এটা স্পষ্ট যে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেই:
১. ইসলাম ও কোরআন এসেছে আরব ভাষাভাষীদের জন্য, মুলত মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদের জন্য;
২. আল্লাহ এটাও বলছেন, কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য, তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ, এবং বিশ্ববাসীর জন্যে এক উপদেশ। ইসলামে বর্ণিত এই উপদেশ থেকে শিক্ষা নেয়াটা বিশ্ববাসীর জন্য প্রযোজ্য হলেও ইসলামের সংস্কৃতি শুধুমাত্র আরবদের জন্য প্রযোজ্য;
৩. আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রসূল প্রেরন করেন এবং তিনি সে জাতির ভাষাভাষী হিসেবেই আসেন।
স্পষ্টতই ইসলামের এই শিক্ষা আজ দু'টি প্রধান ধারায় বিভক্ত।

প্রথমটি নবী মুহাম্মদ প্রচারিত এবং দ্বিতীয়টি নবীর মৃত্যু পরবর্তীকালে তাঁর অনুসারীদের প্রবর্তিত।

প্রথমটি ছিল প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে একটি সমাজ পরিবর্তনের ধারা, যা ইসলাম প্রচারে ও আরব জাতীয়তা বিকাশে অনন্য ভুমিকা রেখেছে, দ্বিতীয়টি রাষ্ট্র ক্ষমতা সংহত করার সেই জাতিগত পরিচয়কে ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের ধারার জন্ম দিয়েছে। ইসলামকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার অপচেষ্টায় পরিণত হয়েছে মরু-সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদে। আজ সেই দ্বিতীয় ধারাটিই হয়ে উঠেছে মুখ্য।

ধর্মের ছায়ায় এই মরু-সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারার প্রসার অবশ্যই বর্জনীয়।