রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৩

ইসলামে বর্বরতা: নারী-অধ্যায় - ১৮


লিখেছেন আবুল কাশেম


মুসলিম মহিলাদের কী ধরনের মৌলিক অধিকার আছে?

ইসলামী আইন অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষ একজন ইহুদি অথবা খ্রিষ্টান মহিলাকে বিবাহ করতে পারবে। এজন্যে মহিলাটির ইসলাম গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয় - যদিও মহিলাটি ইসলাম গ্রহণ করলে ভাল হয়। অনেকে এর সাথে সাবি ও জরথুস্তদের মহিলাদেরও অন্তর্গত করেন। কিন্তু মুসলিম নারীরা কিছুতেই অন্য ধর্মের পুরুষকে বিবাহ করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই বিধর্মী পুরুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়। এইই হচ্ছে মুসলিম নারীদের প্রতি ইসলামী ন্যায় বিচার! ইসলামী পণ্ডিতেরা তাই প্রচার করছেন - ইসলাম মহিলাদেরকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে!

দেখা যাক কোরান কী বলে এই ব্যাপারে।
কোরান সূরা আল বাকারা, আয়াত ২২১ (২:২২১):
আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ্‌ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আচ্ছা মুসলিম মহিলাদের কি অধিকার আছে মিহি ও একটু স্বচ্ছ পোশাক পরার - যেমন নাইটি অথবা নাইলনের সূক্ষ্ম গাউন? ইসলামী আইন অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা এমন পোশাক পরতে পারবে না, যাতে তার অন্তর্বাস দেখা যেতে পারে এমনকি তা যদি শোবার ঘরে একান্ত নিভৃতেও হয়। এরকম করলে আল্লাহ্‌ নাকি নারাজ থাকেন। ভালো কথা - এখানে মহিলাদের একটু সম্ভ্রম-ভাবে রাতের পোশাক পরতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আপত্তি হচ্ছে, এ ব্যাপারে মুসলিম পুরুষদেরকে কিছুই বলা হয়নি। তারা চাইলে শুধুমাত্র জাঙ্গিয়া পরেও ঘুমাতে পারে - আল্লাহ্‌ তাতে নারাজ হবেন না।

দেখুন, হাদিস কী বলছে।
সহিহ মুসলিম, বই ২৪ হাদিস ৫৩১০:
আবু হুরায়রা বর্ণনা করলেন:
আল্লাহ্‌র রসুল (সাঃ) বলেছেন: “নরকের দুই অধিবাসী আমি যাদেরকে দেখিনি—তারা হল সেই সব ব্যক্তি যারা ষাঁড়ের লেজের মত চাবুক দিয়ে ঢোল পিটায় ও সেই সব মহিলারা যারা এমন পোশাক পরিধান করে যে তাদেরকে উলঙ্গই দেখা যায়। এই সব মহিলারা অশুভের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং তাদের স্বামীকেও অশুভের দিকে নিয়ে যাবে। এদের মাথা বখত উটের কুব্জের মত এক দিকে কাত হয়ে থাকবে। এরা স্বর্গে প্রবেশ করবে না বা স্বর্গের সুবাসও গ্রহণ করবে না যদিও স্বর্গের সুবাস অনেক দূর থেকেই পাওয়া যাবে। এরা তা থেকে বঞ্চিত হবে।
আজকের বিশ্বে আমরা এর উদাহরণ সর্বদাই দেখছি। টেলিভিশন খুললেই দেখছি কীভাবে তালিবানরা ইসলাম কায়েম করছে, কীভাবে সুদানে ইসলামী স্বর্গ তৈরি করা হচ্ছে। কীভাবে সোমালিয়ায়, ইরানে, পাকিস্তানে নারীদের প্রতি আচরণ করা হচ্ছে। চিন্তা করা যায় কি, বোরখার ভেতরে কেমন আরাম আছে? তার ওপর গ্রীষ্মের উত্তাপে? আমরা ১৯৭০-এর দিকে দেখেছিলাম, কেমন করে মাওবাদীরা জোরপূর্বক তাদের নির্দেশিত পোশাক, মাও কোট পরিয়ে দিচ্ছে ছেলে-মেয়ে সবাইকে। এই ব্যাপারে মনে হচ্ছে, ইসলামের সাথে কম্যুনিজমের বেশ মিল পাওয়া যাচ্ছে। উভয়ই স্বেচ্ছাচার ও একনায়কত্ব।

এখন আমরা দেখব মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে ইসলামী আইন কী রকম।
শারিয়া আইন এফ ৫.৬ (উমদাত আল সালিক, পৃঃ ১২২):
একজন মহিলাকে তার মাথা ঢেকে রাখতে হবে (খিমার দ্বারা); এছাড়াও শরীরের উপরে ভারি আচ্ছাদন পরতে হবে যা মহিলার সম্পূর্ণ দেহকে ঢেকে রাখবে। (O.কিন্তু এমনভাবে গায়ে জড়াবে না যাতে করে তার দাঁড়ান, উঠা, বসা করতে বাধা আসে অথবা নামায পড়তে অসুবিধা হয়। মহিলাটি নামায পড়ার সময় তিন পোশাকে পড়বে)।
শারিয়া আইন এম ২.৩ (ঐ বই, পৃঃ ৫১২):
অধিকাংশ আলেমদের মতে (n. হানাফিরা বাদে যার বৃত্তান্ত রয়েছে নিম্নের ২.৮ এ) কোন মহিলার পক্ষে মুখমণ্ডল অনাবৃত রেখে গৃহের বাইরে যাওয়া বে আইনি—কোন প্রলোভন থাকুক আর না থাকুক। যখন প্রলোভন থাকে (মহিলার উপর কোন পুরুষের) তখন আলেমরা একমত যে মহিলার মুখমণ্ডল আবৃত থাকতেই হবে। এখানে প্রলোভন বলতে বুঝানো হচ্ছে যৌন সঙ্গমের ইচ্ছা অথবা তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। তবে অগত্যায় পড়লে যদি মহিলার প্রয়োজন হয় তবে সে দৃষ্টি দিতে পারে, যদি প্রলোভনের সম্ভাবনা না থাকে।
শারিয়া আইন ডবলু ৫২.১ (১০৮) (ঐ বই পৃঃ ৯৭৩):
মহিলা পাতলা পোশাক পরতে পারবে না।
মহিলাদের পাতলা পোশাক পরা অপরাধ তুল্য। যে মহিলা পাতলা পোশাক পরে তার দেহের বৈশিষ্ট্য দেখাবে অথবা অন্যের প্রতি হেলে পড়বে অথবা অন্যকে তার দিকে হেলে পড়তে দিবে সেও এই পর্যায়ে পড়বে।
শারিয়া আইন ডবলু ৫২.১ (২৭২) (ঐ বই পৃঃ ৯৮ ৯৯):
মহিলাদের সুগন্ধি পরে গৃহের বাইরে যাওয়া অপরাধ, এমনকি তাতে স্বামীর অনুমতি থাকলেও।
শারিয়া আইন এম ২.৩ (এ) (ঐ বই, পৃঃ ৫১২):

কোন মহিলার বিবাহযোগ্য কোন পুরুষের নিকটে থাকা বে-আইনি। (A.নিজের স্ত্রী অথবা অ-বিবাহযোগ্য আত্মীয় ছাড়া কোন পুরুষের জন্যে অন্য কোন নারীর সাথে একাকী থাকা একেবারেই বে-আইনি। তবে যদি দুই নারীর সাথে পুরুষ একা থাকে তবে তা বে-আইনি হবে না।
(চলবে)

blog comments powered by Disqus